বাংলাদেশে এসে আম খেতে চেয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার শততম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে ১৮ই জুলাই, যে দিনটি নেলসন ম্যান্ডেলা দিবস বলে ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ।

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেলসন ম্যান্ডেলা বাংলাদেশে এসেছিলেন ১৯৯৭ সালের ২৫শে মার্চ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজত জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকেসহ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাত আর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সুলেমান ডেমিরেল।

সেটাই ছিল বাংলাদেশে তার প্রথম এবং শেষ সফর

ঢাকায় হোটেল শেরাটনে নেলসন ম্যান্ডেলাকে গান শুনিয়েছিলেন ফকির আলমগীর

ঢাকায় হোটেল শেরাটনে নেলসন ম্যান্ডেলাকে গান শুনিয়েছিলেন ফকির আলমগীর

ফিলিস্তিন আর তুরস্কের দুই নেতার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলা বাংলাদেশে আসেন ১৯৯৭ সালের ২৫শে মার্চ সকালে।

তিনদিনের সেই সংক্ষিপ্ত সফরে তিনি ছিলেন ঢাকায় তখনকার হোটেল শেরাটনে, যা এখন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল নাম নিয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির তখন ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব। মি. ম্যান্ডেলার সঙ্গে তাঁর হোটেল কক্ষে দেখা করতে গিয়েছিলেন মি. জমির।

তিনি বলছেন, নেলসন ম্যান্ডেলা জানতেন যে, আমি আসছি। তাঁর কক্ষে প্রবেশের পর তিনি উঠে দাঁড়িয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরেন। এর আগে বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার মুক্তির পক্ষে আমি অনেক কথা বলেছিলাম। সেগুলো স্মরণ করে তিনি আমাকে একজন বন্ধু বলে সম্বোধন করেন। তিনি আমাকে তার একটি ছবি উপহার দেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘মোহাম্মদ জমির, বেস্ট উইশেস টু আ ডিপেন্ডেবল ফ্রেন্ড।’

হোটেল কক্ষে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনেক বিষয় নিয়ে মোহাম্মদ জমিরের সঙ্গে নেলসন ম্যান্ডেলার কথা হয়।

 
হোটেল শেরাটনে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমিরের কাছে বাংলাদেশের আমের খোঁজ নিয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলাহোটেল শেরাটনে সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমিরের কাছে বাংলাদেশের আমের খোঁজ নিয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা

মি. জমির বলছেন, আলাপে তিনি অনেক গুরুত্ব দিলেন। তার একটি হচ্ছে দারিদ্র বিমোচন। তিনি বললেন, দরিদ্র যারা আছে, তারা শুধু আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে ভুগছে না, তাদের শিক্ষা আর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে হবে। আরো বললেন, যারা নিপীড়িত, তাদের সহযোগিতা দিতে হবে, যাতে তারা ঘুরে দাড়াতে পারে।

রাষ্ট্রদূত হিসাবে কিভাবে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করা যায়, তা নিয়েও মোহাম্মদ জমিরকে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা।

১৯৭১ সালের পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম নিয়ে কিছু করা হচ্ছে কিনা, সেসব জানতে চেয়েছিলেন মি. ম্যান্ডেলা।

২৬শে মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তন ও স্বাধীনতার স্তম্ভের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মি. ম্যান্ডেলা। তার আগে অপর দুই নেতার সঙ্গে সাভারে স্মৃতিসৌধে পুষ্প অপর্ণ করেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেয়া বক্তব্যে তিনি তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান মানুষের সংগ্রামের বর্ণনা তুলে ধরে বাংলাদেশ ও তাদের রাজনৈতিক, বাণিজ্য আর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন।নেলসন ম্যান্ডেলাকে সামনাসামনি দেখতে পাওয়া বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন ফকির আলমগীর

নেলসন ম্যান্ডেলাকে সামনাসামনি দেখতে পাওয়া বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন ফকির আলমগীর

হাজার হাজার মানুষের সেই সমাবেশে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ”স্বাধীনতা আর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের অনেক মিল রয়েছে। আজ আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, বাংলাদেশের মানুষকেও একসময় এরকম সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়েছে। একটি দূরের দেশ হওয়ার সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের মুক্তি সংগ্রামে আপনারা যে সমর্থন দিয়েছেন, সেজন্য আপনাদের প্রতি আমি তাদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই।”

নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে গান বেধেছিলেন বাংলাদেশের গায়ক ফকির আলমগীর।

ফকির আলমগীর বলেন, সেই গানের কথা জানতে পেরে তার সঙ্গে নিজে থেকেই দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন মি. ম্যান্ডেলা। সরকারি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তার সঙ্গে দেখা করে সেই গান শুনিয়েছিলেন মি.আলমগীর।

 
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ২৭ বছর কারাবাস করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলাবর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ২৭ বছর কারাবাস করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলা

ফকির আলমগীর বলছেন, ”তখনকার প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন আমাকে টেলিফোন করে হোটেল শেরাটনে আসতে বলেন। আমার স্ত্রীকেও নিয়ে আসতে বলেছিলেন। কারণ বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে (প্রেসিডেন্টের নিমন্ত্রণে) নিজের হোটেল কক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলা আমার সঙ্গে দেখা করবে।”

”তখন দ্রুত ছুটে গেলাম শেরাটনে। অনেকেই দেখা করবে বলে লবিতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু আমাকে সরাসরি তার রুমে নিয়ে যাওয়া হল। তিনি তখন বঙ্গভবনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। তিনি আমাকে নিয়ে নিচে নেমে এলেন। এবং নেমেই তিনি আমাকে বললেন, গানটা গাও। আমি যখন গানটা ধরেছি, তিনি আমার সঙ্গে আফ্রিকান ধরণে নাচতে শুরু করলেন, সেটা এখনো আমার চোখে লেগে আছে।”

এসব গানের কথা আগেই তাকে জানানো হয়েছিল বলে ফকির আলমগীর জানান।

এরপর তার গাড়ি বহরের সঙ্গেই বঙ্গভবনে যান ফকির আলমগীর। সেখানে ঢুকে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অতিথি কক্ষে যাওয়ার আগে তার দিকে হাত নেড়ে বিদায় জানান নেলসন ম্যান্ডেলা।

যদিও খাবারের ক্ষেত্রে পরিমিত ছিলেন মি. ম্যান্ডেলা। তবে কূটনৈতিক কর্মকর্তা মোহাম্মেদ জমিরের সঙ্গে অনেক আলাপের মধ্যে আমের প্রসঙ্গও তুলেছিলেন।

”আলাপচারিতার মধ্যে আমাকে একটি প্রশ্ন করলেন যে, আমি শুনেছি আপনি আমের কথা বলেছিলেন এক জায়গায়। তো কই, আম কই? আমি বললাম, এখন তো মার্চ মাস, এখন আম হবে না। আপনি যদি মে মাসে কি জুন মাসে আসেন, তাহলে আম খাওয়াতে পারি। তখন উনি খুব হাসলেন। আবার বললেন, তাহলে এ মাসে আর আম পাওয়া যাবে না?”

 
নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন করা হয়নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর বাংলাদেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোকপালন করা হয়

২৭শে মার্চ মি. ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে আবার ফিরে যান। এরপরে আর তার বাংলাদেশে আসা হয়নি।

নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তার মৃত্যুতে বাংলাদেশেও তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছিল, যাকে সবসময়েই বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু বলে সম্বোধন করা হয়েছে।

রাজধানীতে শিশুর হাতে শিশু খুন

রাজধানীর খিলগাঁও দক্ষিণ বনশ্রীতে আল আমিন হোসেন মুন্না (১০) নামের এক শিশু খুন হয়েছে। এই ঘটনায় সিজান (১১) নামে অপর এক শিশুকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টায় এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহত মুন্না সাতক্ষীরা জেলার দ্বেবহাট্টা উপজেলার আল মামুনের ছেলে। খিলগাঁও মেরাদিয়া পোড়াবাড়ি এলাকায় পরিবারের সাথে থাকত।
খিলগাঁও থানার (ওসি) মশিউর রহমান জানান, সিজানের বাবার নাম মিজানুর রহমান। ১০/১২ দিন আগে সিজান একই এলাকায় তার নানীর বাড়ি বেড়াতে আসে। কয়েকদিন আগে মুন্না সিজানকে মারধর করে। এর জেরেই বিকালে সিজান মুন্নাকে ডেকে দক্ষিণ বনশ্রীর ১২/৪ নম্বর রোডের ৬৪ নম্বর নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে মুন্নাকে সিজান ইট দিয়ে মাথায় থেঁতলে দেয়।
পরে স্থানীয় কয়েক যুবক দেখতে পেয়ে সিজানকে আটক করে। মুন্নাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর রাত ৮টায় কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সজ্জন ব্যবসায়ী থেকে যেভাবে আইএস জঙ্গি হলেন বাংলাদেশি সাইফুল

২০০০ সালের শুরু দিকে যুক্তরাজ্যে যান বাংলাদেশি তরুণ সাইফুল সুজন। সাবেক গ্লামারগন বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়তে গিয়েছিলেন তিনি। সাইফুল বাসা বাঁধেন যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের উত্তর কার্ডিফের পন্টিপ্রিড শহরে। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল, বিদেশ-বিভুঁইয়ে পায়ের নিচে শক্ত জমি খুঁজে পাওয়া। অথচ এর ১০-১৫ বছরের মধ্যেই ভয়ংকর জঙ্গিতে পরিণত হন এই বাংলাদেশি। ইসলামিক স্টেটের (আইএস) অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মৃত্যু হয় সাইফুলের।

যুক্তরাজ্যে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে কীভাবে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন সাইফুল। গড়ে তোলেন নিজের প্রতিষ্ঠান আইব্যাকস। পরে সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেই জঙ্গি কার্যক্রমে অর্থায়ন শুরু করেন তিনি। এ জন্য সাইফুল একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আইএসের উগ্রবাদে বিশ্বাসী জঙ্গিদের কাছে অর্থ পাঠানো হতো। এই অর্থ ব্যবহার করেই সন্ত্রাসী হামলার ছক হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে, হামলা হয়েছে বাংলাদেশেও!

২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আলোচনায় আসেন সাইফুল সুজন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন মুখপাত্র কর্নেল স্টিভ ওয়ারেন ভিডিওবার্তায় দেওয়া এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় চালানো ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসের ১০ জন জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন সাইফুল সুজন। বলা হয়, ওই বছরের ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ার রাকায় চালানো হামলায় নিহত হন এই বাংলাদেশি নাগরিক। কর্নেল ওয়ারেন বলেছিলেন, সাইফুল আইএসের প্রধান হ্যাকার ছিলেন এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটির অস্ত্রশস্ত্রের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতেন। এসব বিষয়ে আইএসের প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন সাইফুল। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রের চালানো নজরদারি ব্যবস্থা এড়ানোর বিষয়টিও দেখভাল তিনিই করতেন।

২০১৫ ও ২০১৬ সালে সাইফুলের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় প্রথম আলো। অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইফুলের পুরো নাম সাইফুল হক (সুজন)। যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার পরই আইএসের উগ্র মতবাদের সংস্পর্শে আসেন তিনি। একসময় পুরো পরিবারকেই আইএসের মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করে তোলেন সাইফুল। আইএসের জিহাদি মতাদর্শে জড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী-সন্তান, বাবা, ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তাঁর পরিবারের সদস্যরা কিছুদিন খুলনায় থাকলেও বেশ কয়েক বছর ধরে ঢাকাতেই থাকছিলেন।

সাইফুলের বড় ভাই আতাউল হক। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

সাইফুলের বড় ভাই আতাউল হক। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

বিবিসি ওয়েলস কয়েক মাস ধরে যুক্তরাজ্যে জঙ্গিবাদের বিস্তার নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে। শুধু যুক্তরাজ্য নয়, তিনটি মহাদেশজুড়ে চলেছে এই অনুসন্ধান। চলতি বছরের ১৬ জুলাই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ওয়্যার ডেভিস। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে জানা গেছে একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর আইএসের পৃষ্ঠপোষক হয়ে ওঠার পেছনের গল্প। ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য অর্থ পাঠাতেন সাইফুল, দিতেন হামলার নির্দেশনা।

তরুণ উদ্যোক্তা যেভাবে জঙ্গি হলেন
২০০৫ সালের পরপর সাইফুল হকের সঙ্গে পরিচিত হন রব রিজ। তাঁর বাড়ি কিনতে চেয়েছিলেন সাইফুল। রবের ভাষায়, সদ্যবিবাহিত স্ত্রীকে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আনতে চেয়েছিলেন সাইফুল। এ কারণে কার্ডিফে নিজস্ব একটি বাড়ি চাইছিলেন তিনি। তবে অর্থের সংকুলান করতে তাঁকে গলদঘর্ম হতে হচ্ছিল।

বিবিসিকে রব রিজ বলেন, সাইফুল ছিলেন শান্ত স্বভাবের পরিশ্রমী একজন মানুষ। তিনি বলেন, ‘সাইফুল এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর তাঁর কাঁধে হাত রাখার ইচ্ছা হবে আপনার। এ কারণেই আমি ও আমার স্ত্রী তাঁর জন্য সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছিলাম। সে (সুজন) বেশ দুর্বল ও অসহায় প্রকৃতির ছিল। মনে হচ্ছিল, কী করছে, সেই বিষয়ে সে ঠিক নিশ্চিত নয়।’

আত্মবিশ্বাসের অভাবে থাকা এই বাংলাদেশি তরুণই পরবর্তী কয়েক বছরে সফল উদ্যোক্তায় পরিণত হন। হয়ে ওঠেন পাকা ব্যবসায়ী। আইব্যাকস নামে একটি তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন সাইফুল হক। কার্ডিফের বিভিন্ন এশীয় খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া শুরু করে আইব্যাকস। ওয়েলস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সেও যোগ দেন সুজন। তিনি যুক্তরাজ্যের দক্ষিণ ওয়েলস থেকে বাংলাদেশে যাওয়া বিভিন্ন বাণিজ্য দলের সদস্য ছিলেন।

২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান সাইফুল হক। সেখানে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান সাইফুল হক। সেখানে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

বিবিসির অনুসন্ধান বলছে, ২০১০ সালের কাছাকাছি সময়ে ওয়েলসে আবির্ভূত হন সাইফুলের বড় ভাই আতাউল হক। দুই ভাই মিলে আইব্যাকসের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর কাজ করতেন। এশীয় খাবার প্রস্তুতকারী স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোয় সফটওয়্যার সলিউশন দেওয়ার পাশাপাশি চীন থেকে আনা বিল পরিশোধের যন্ত্র সরবরাহ করত আইব্যাকস। মূলত কার্ডিফের দক্ষিণ এশীয় রেস্তোরাঁগুলোতে আইব্যাকসের জমজমাট ব্যবসা ছিল।

ঠিক এই সময় থেকেই যুক্তরাজ্যের অন্যান্য শহরের মতো কার্ডিফেও উগ্র মতবাদের অনুসারী মুসলিম তরুণ-তরুণীর সংখ্যা বাড়ছিল। বিবিসি বলছে, ওই সময়ই জানা গিয়েছিল, কিছু ব্রিটিশ মুসলিম তরুণ-তরুণী দেশ থেকে পালিয়ে ইরাক-সিরিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে। ইসলামিক স্টেটের উগ্র মতাদর্শকে সমর্থন করে ভিডিওবার্তাও প্রকাশ করছিল তারা।

বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষের কাছে সাইফুলকে কখনোই ‘উগ্র বা গোঁড়া’ মনে হয়নি। নিজের কোনো কথাবার্তা বা লেখায় তিনি কখনোই ‘জিহাদি’ মনোভাব প্রকাশ করেননি। সুজনের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন থাকা স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁর মালিক এনাম উজজামান বলেন, ‘তাঁকে একেবারেই ধার্মিক মনে হতো না। বরং ব্যবসা ও রোজগার বাড়ানোতেই তাঁর মনোযোগ ছিল বেশি।’

বাংলাদেশে সাইফুলের বিয়ের অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন এনাম উজজামান। তিনি বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে রক্ষণশীলতার কোনো লক্ষণই ছিল না। এনাম বলছিলেন, ‘সেখানে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। এমন ছিল না যে নারীরা একদিকে, পুরুষেরা আরেক দিকে। দেশে আয়োজিত আর দশটা বিয়ের অনুষ্ঠান যেমন হয়, ঠিক তেমনি ছিল।’

প্রথম আলোর নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা যায়, একই পরিবারে বিয়ে করেছিলেন সাইফুল ও তাঁর বড় ভাই আতাউল। ২০০৫ সালে সাইফুল তাঁর স্ত্রী সায়মাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যান। বড় ভাই আতাউলের স্ত্রী সন্তান জন্মের সময় মারা যাওয়ার পর থেকে সাইফুল ক্রমেই ধর্মভীরু হয়ে ওঠেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, বড় ভাইয়ের স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনাই সাইফুলকে বদলে দেয়। অনুমান করা হয়, ২০১২ সালে এ ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে দাড়ি-গোঁফ কামানো সাইফুল লম্বা জোব্বা ও পাগড়ি পরতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে উগ্রপন্থার আর্থিক পৃষ্ঠপোষক ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহকারী হন সাইফুল হক।

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের অধিবাসী মোহাম্মদ এলসহিনাউয়িকে নিয়মিত অর্থ পাঠাত সাইফুলের কার্ডিফভিত্তিক কোম্পানি। মোহাম্মদ এলসহিনাউয়ির ছবিটি ফেসবুক থেকে নেওয়া

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোরের অধিবাসী মোহাম্মদ এলসহিনাউয়িকে নিয়মিত অর্থ পাঠাত সাইফুলের কার্ডিফভিত্তিক কোম্পানি। মোহাম্মদ এলসহিনাউয়ির ছবিটি ফেসবুক থেকে নেওয়া

সাইফুলের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ছক
যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদি কর্মকাণ্ড বিষয়ে তদন্ত করেছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ২০১৫ সালে জানতে পারে, বাল্টিমোরের অধিবাসী মোহাম্মদ এলসহিনাউয়ি নামের এক ব্যক্তিকে নিয়মিত অর্থ পাঠায় সাইফুলের কার্ডিফভিত্তিক কোম্পানি। সব মিলিয়ে আট হাজার ডলার পাঠানোর হিসাব পায় এফবিআই। তদন্তে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য এই অর্থ পাঠানো হতো। শুধু অর্থসহায়তাই নয়, সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হতো আইব্যাকসের পক্ষ থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটিতে কর্মরত শিক্ষাবিদ ও সন্ত্রাসবাদ বিশেষজ্ঞ সেইমাস হিউজ বিবিসিকে বলেন, মোহাম্মদ এলসহিনাউয়িকে হামলা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। এফবিআইয়ের এই তদন্ত নিয়ে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন সেইমাস হিউজ। তিনি বলেন, এলসহিনাউয়িকে দিয়ে বাল্টিমোরে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা হচ্ছিল।

এ ঘটনায় প্রায় দুই বছর ধরে তদন্ত চালিয়েছে এফবিআই। তদন্তে জানা যায়, এ সময় এলসহিনাউয়িকে ১৬টি ভিডিওচিত্র পাঠিয়েছিলেন সাইফুল হক। এসবের মধ্যে বোমা বানানোর নির্দেশিকামূলক ভিডিও ছিল। বাল্টিমোরের ফেডারেল আদালত ভবনে হামলার পরিকল্পনা ছিল এলসহিনাউয়ির। গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ আনা হয় এবং চলতি বছরের শুরুর দিকে আদালত তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সেইমাস হিউজ বলছেন, এলসহিনাউয়িকে উগ্রপন্থায় জড়াতে আইএস অভিনব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছিল। এর কেন্দ্রে ছিল সাইফুলের প্রতিষ্ঠান আইব্যাকস। বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ পাঠানো হতো। আর সেই অর্থ খরচ করা হতো সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনায়।

মোহাম্মদ এলসহিনাউয়ির মামলায় আদালতের নথি ও এফবিআইয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেছে বিবিসি। তাতে জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইএসের জন্য প্রযুক্তি সরঞ্জাম কিনত আইব্যাকস। সাইফুলের কোম্পানি সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য নজরদারি সরঞ্জাম কিনত। কেনা হতো ড্রোন সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিও। পরে জাহাজে করে তা পাঠানো হতো সিরিয়া ও ইরাকে।

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা সামরিক সরঞ্জাম আইব্যাকসের ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না। কারণ প্রতিষ্ঠানটি শুধু কেটারিং ব্যবসায় প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে থাকে।

এফবিআইয়ের তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে দুই ব্যক্তির নাম। তাঁরা হলেন সাইফুলের বড় ভাই আতাউল হক ও আবদুল সামাদ। দ্বিতীয়জন পেশায় একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ ও আইব্যাকসের কর্মী। এফবিআই বলছে, আবদুল সামাদ আইএসের সক্রিয় সমর্থক এবং সাইফুলের নির্দেশেই বাল্টিমোরে অর্থ পাঠাতেন তিনি। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় জড়িত ছিলেন সামাদ। আর এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন একজনই—তিনি হলেন সাইফুল হক (সুজন)।

আবদুল সামাদ। এফবিআই বলছে, আবদুল সামাদ আইএসের সক্রিয় সমর্থক এবং সাইফুলের নির্দেশেই বাল্টিমোরে অর্থ পাঠাতেন তিনি। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

আবদুল সামাদ। এফবিআই বলছে, আবদুল সামাদ আইএসের সক্রিয় সমর্থক এবং সাইফুলের নির্দেশেই বাল্টিমোরে অর্থ পাঠাতেন তিনি। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

আতাউল, সামাদ কোথায়?
প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেন্টাল কলেজে পড়াশোনা শেষ করতে না পেরে যুক্তরাজ্যে গিয়ে সাইফুলের ব্যবসায় যুক্ত হন সাইফুলের বড় ভাই আতাউল হক। পরে ঢাকায় আইব্যাকসের শাখা খোলার পর সেখানকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন আতাউল হক। তবে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ২০১৫ সালে স্পেনে চলে যান তিনি। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী স্পেনের নাগরিক।

প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর মার্কিন বিমান হামলায় সাইফুল নিহত হওয়ার দুদিন আগে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ টাকা উদ্ধার করে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থ আদান-প্রদানের কাজে প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগে এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই আতাউলের ওপর নজরদারি করেছে স্পেনের পুলিশ। সাইফুলের কোম্পানি আইব্যাকসের মতো একই ধরনের একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেনে গড়ে তোলেন আতাউল। প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘আইসিংকটেল’।

স্প্যানিশ তদন্ত সংস্থার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানিয়েছেন, আতাউলের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রচলিত নিয়মে বৈধ ছিল। কিন্তু সাইফুলের মতো তারও উদ্দেশ্য ছিল আইএস-কে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া। আইএসের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন আতাউল। ধারণা করা হয়, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠিয়েছিলেন আতাউল এবং সেখানে সন্ত্রাসী হামলা চালানোই ছিল এর উদ্দেশ্য।

বিবিসির বলছে, গত বছর থেকে আইএস ড্রোন প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। সাইফুল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নিহত হওয়ার পর আইএসের প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহের কাজে জড়িত ছিলেন আতাউল। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর তাকে আটক করে স্পেনের পুলিশ। বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন তিনি। চলতি বছরের শেষের দিকে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হতে পারে। অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই অস্বীকার করেছেন আতাউল।

আতাউল হককে আটক করেছে স্প্যানিশ পুলিশ। এখন কারাগারে আছেন আতাউল। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

আতাউল হককে আটক করেছে স্প্যানিশ পুলিশ। এখন কারাগারে আছেন আতাউল। ছবি: বিবিসির সৌজন্যে

স্প্যানিশ তদন্তকারীদের দাবি, উগ্রপন্থায় যেসব ব্যক্তি প্রকাশ্যে তা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন, তাদের তুলনায় আতাউল ও সাইফুল অনেক বেশি বিপজ্জনক। এই দুজনের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে নিষ্ক্রিয় করতে লেগেছে ছয়টি বছর এবং চারটি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়েছে।

অন্যদিকে এফবিআইয়ের তদন্তে সাইফুল হকের সহযোগী হিসেবে যে আবদুল সামাদের নাম বারবার উঠে এসেছে, তিনি এখনো আছেন যুক্তরাজ্যে। ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর সিরিয়ায় সাইফুলের ওপর ড্রোন হামলা চালানোর দিনই যুক্তরাজ্যে আটক করা হয় সামাদকে। কিন্তু কিছুদিন পর ছাড়া পান তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।

এ বিষয়ে আবদুল সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বিবিসি ওয়েলস। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহযোগিতার অভিযোগ সম্পর্কে সামাদ বলেন, তিনি কোনো অপরাধে যুক্ত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নন। তাঁর দাবি, কোম্পানির জন্য বৈধ যন্ত্রপাতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনেছিলেন তিনি।

বিবিসির দাবি, ২০১৭ সালে সাইফুলের বড় ভাই আতাউলকে নতুন কোম্পানি খোলার বিষয়ে সহায়তা করেছিলেন সামাদ। তবে সামাদ বারবারই সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করছেন। বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত বছর আতাউল গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুদিন আগে আইসিংকটেল গড়ে তোলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, আইএস-কে অর্থ সহায়তা ও প্রযুক্তি সরঞ্জাম সরবরাহ করাই এর মূল কাজ।

বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ওয়্যার ডেভিস বলছেন, সাইফুল হক (সুজন) যে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিলেন, সুজন নিহত হওয়ার পরও তা অকার্যকর করতে দুই বছর সময় লেগেছে। এর প্রকৃতি দেখেই বোঝা যায়, এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত ও জটিল ছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তারেক রহমানকে বাজে মন্তব্য করায় মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার কে এই বাংলাদেশি পং পং

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় মালয়েশিয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে পং পং।

মালয়েশিয়া প্রবাসী পং পং দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় বাংলাদেশের বহু রাজনৈতিক নেতকর্মীকে নিয়ে লাইভ করে আসছেন। এবং সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে সিলেটের মেয়েদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

সর্বশেষ খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের নামে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় লাইভে মন্তব্য করেন।

তার বাড়ি বরিশাল জেলায় বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় প্রবাসী।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। যা নিয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের মাঝে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।

এ নিয়ে গত দুইদিন আগে মালয়েশিয়া বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মামুন বিন আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে আইসিটি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মালয়েশিয়া পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আসাদুজ্জামান আসাদ ওরফে পং পংকে গ্রেফতার করে।

নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ঢাবির শিক্ষকরাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীর পদত্যাগ দাবি করেছেন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে তারা ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার স্থিরচিত্রসহ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১৪ ছাত্রলীগ নেতার নাম উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

নিরাপদ ক্যাম্পাস ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে আলাদাভাবে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিন দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান। ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষকরা।

এগুলো হল- বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) বেলা ১১টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে শিক্ষকদের সংহতি সমাবেশ; ২৩ জুলাই কলাভবনের সামনের বটতলায় নিপীড়নবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কাছে শিক্ষক লাঞ্ছনার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য অবিলম্বে পত্র প্রেরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্বতা রক্ষা, একাডেমিক মান সমুন্নত রাখা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের উদ্যোগে শিগগিরই স্মারকলিপি প্রদান। ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের অব্যাহত হামলা ও লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেন নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয়ে ভিসি কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

এ সময় প্রক্টরের পদত্যাগসহ কয়েক দফা দাবিতে ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দেন তারা। স্মারকলিপি দেয়ার সময় সেখানে প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিটি পড়ে শোনান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু রায়হান।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ধ্বংস করে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে লাগাতার প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করা হলে সেখানে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। বারবার হামলা ও নিপীড়নে অংশ নেয়া সন্ত্রাসীদের ছবি ও ফুটেজ গণমাধ্যমে এলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের অব্যাহত ব্যর্থতায় তাদের প্রতি আর বিন্দুমাত্র আস্থা রাখতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। তাই তারা অবিলম্বে প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করেন। এতে আরও বলা হয়, প্রতিনিয়ত নিপীড়ক সন্ত্রাসী বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে টহল দিচ্ছে। নানা জায়গায় ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও লাঞ্ছিত করছে।

তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের পাঁয়তারা করছে, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামহানি করছে। একই সঙ্গে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিক নিষ্ক্রিয়তা শিক্ষার্থীদের সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশে নিরাপদে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা আশা করছি, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছাত্র-শিক্ষকদের অসন্তোষ ভবিষ্যতে পরিস্থিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে, ধারণা করছি।

শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন : এদিকে শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রাজ্জাক খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক বলেন, শহীদ মিনারে সমাবেশের পরে হামলার বিষয়ে আমরা যখন প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তখন আমাদের বলা হল, আমরা কেন সমাবেশ করার আগে অনুমতি নিলাম না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩’র অধ্যাদেশের কোথাও ক্যাম্পাসে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি নিতে হবে- এমনটা বলা আছে বলে মনে হয় না। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমাদের সমাবেশের আগে আরও একটি সমাবেশ হয়েছে। তাদেরও কোনো অনুমতি ছিল বলে মনে হয় না। তানজীমউদ্দিন খান বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশের আগে আমরা প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। হামলা ও লাঞ্ছনার পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়।

শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনে শিক্ষকদের কোনো ইন্ধন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা স্বাধীন। তাই যার ইচ্ছা হবে ক্লাস করবে, যার ইচ্ছা হবে না, সে করবে না। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। তাদের ক্লাস বর্জনে আমরা কোনো সমর্থন বা ইন্ধন দিচ্ছি না। আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, ছাত্রলীগ কর্তৃক লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি আমাদের খোঁজ নেয়নি।

উল্টো প্রক্টর আমাদের বিভিন্ন ব্লেম দিচ্ছেন। যারা আমাদের ওপর হামলা করেছে, তারা ছাত্রলীগের গুণ্ডা বাহিনী। তারা কোথায় পড়াশোনা করেছে, তা জানি না। তাদের ভাষা খুবই খারাপ। ছাত্রলীগ তাদের ঐতিহ্য জানে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবে ছাত্রলীগ এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

যদি এখনই কিছু করা না যায়, তবে ছাত্রলীগের এমন গুণ্ডামি থামানো যাবে না। ছাত্রলীগের কমিটি নেই বলে যারা ছাত্রলীগের ওপর হামলার দায় দিতে চান না, তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সামিনা লুৎফা বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার আন্দোলন নিজেদের ইচ্ছামতোই করেছে। কিন্তু যখন তারা ছাত্রলীগের আক্রমণের শিকার হল, তখন শিক্ষক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর যখন হামলা হয়েছে, তখন আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আমরাও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছি। আমাদের বিভিন্ন ব্লেম দেয়া হয়েছে, গালাগাল দেয়া হয়েছে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরাই শুধু নয়, আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ সময় তিনি নিপীড়নবিরোধী শিক্ষকদের পক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মানববন্ধন : এদিকে গত কয়েকদিন ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের অব্যাহত হামলা ও শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে মোকাররম ভবন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় তারা নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের লেখা সংবলিত প্লাকার্ড ধারণ করেন।

তারা বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যেসব অন্যায়-অত্যাচার হচ্ছে, তার বিচার দাবির অধিকার আমাদের আছে। সেই স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না।’ এ সময় এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘২ জুন আমাদের বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মিঠুকে শাহবাগ ওভার ব্রিজের ওপর থেকে ধরে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েরই কিছু সন্ত্রাসী পাবলিক লাইব্রেরির মধ্যে নিয়ে মারে। সে এখনও অসুস্থ। তার চিকিৎসার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় বহন করছে না।’

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এসএম শাহরিয়ার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করেছে। তারা কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এমনকি তারা শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করতেও দ্বিধা করেনি। আমরা ক্যাম্পাসে অনিরাপদ বোধ করছি। আমরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ নেতাদের বিচার চাই।

একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ আনার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই। প্রক্টরকে হুমকির অভিযোগ : এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। যুগান্তরকে তিনি জানান, তার আরেক সহকর্মী সহকারী প্রক্টর লিটন কুমার সাহার মুঠোফোনে এক অডিও বার্তা পাঠিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি শাহবাগ থানায় একটি জিডি করবেন বলেও জানান।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জিরাফের মৃত্যু

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম গাজীপুরের শ্রীপুরস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে কমন ইল্যান্ডের আক্রমণে জিরাফের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। মারা যাওয়া মাদি জিরাফটি কমন ইল্যান্ডের আক্রমণে ২/৩ দিন আগেই গুরুত্বর আহত হয়। পরে জিরাফটি মারা গেলেও ঘটনাটি প্রকাশ পেয়েছে সোমবার। মারা যাওয়ার অনেক আগে একটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল।
সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন নিজাম উদ্দিন জানান, আফ্রিকান সাফারিতে জিরাফ, জেব্রা, অরিক্স, ব্লেজবার, গ্যাজেল, ব্লেজবাগ, ব্লু ওয়াইল্ড বিষ্ট ও কমনইল্যান্ড একত্রে বাস করে। ধারণা করা হচ্ছে, গত ১১ জুলাই বুধবারের যেকোনো সময়ে কমন ইল্যান্ড জিরাফটিকে আক্রমন করে থাকতে পারে। এ সময় ধারালো শিংয়ের গুতায় জিরাফটির পেটের নিচে কেটে গিয়ে মারাত্বক আহত হলে প্রচুর রক্তপাত হয়। ঘটনার প্রায় ৪৮ঘণ্টা পর পার্ক কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসলে আহত জিরাফটিকে বিশেষ ব্যবস্থায় সার্জারি করেও জিরাফটিকে বাঁচানো যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানান, মাত্রাতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে বাঁচানো যায়নি।
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও চিকিৎসা বোর্ডের সদস্য ডা. মো. রফিকুল আলম জানান, বড় প্রাণীকে অচেতন করা বেশ কঠিন কাজ। তাই অচেতন করতে সময় লাগায় চিকিৎসা দিতে বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কমন ইল্যান্ডগুলো আলাদা বেষ্টনীতে স্থানান্তর করা উচিত।
পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন জানান, খুব শিগগিরই কমন ইল্যান্ডগুলো আলাদা স্থানে সরানো হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধ : মৌলভীবাজারের ৪ আসামির ফাঁসি

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৌলভীবাজারের রাজানগর উপজেলার সাবেক মাদ্রাসা শিক্ষক আকমল আলী তালুকদারসহ চারজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ মার্চ প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন।

এ মামলার আসামিদের মধ্যে আকমল আলী তালুকদার (৭৩) এ সময় আদালতে উপস্থিত থাকলেও বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিরা হলেন- মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার আব্দুন নূর তালুকদার ওরফে লাল মিয়া, আনিছ মিয়া ও আব্দুল মোছাব্বির মিয়া।

প্রসকিউশনের পক্ষে এ মামলায় যুক্তি উপস্থাপন করেন সৈয়দ হায়দার আলী। তার সঙ্গে ছিলেন শেখ মুশফিক কবীর ও সায়েদুল হক সুমন।

আর আসামি আকমলের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে ছিলেন আইনজীবী আবদুস সোবহান তরফদার। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান যুক্তি উপস্থাপন করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন, গুম, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরের ৭ মে অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ওই দিনই রাজনগরের পাঁচগাঁও গ্রাম থেকে আকমল আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মৌলভীবাজার টাউন সিনিয়র কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত এই উপাধ্যক্ষকে পরে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ চার আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর গত বছরের ৭ মে অভিযোগ গঠন হয়। সূচনা বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ৪ জুলাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ভুতুড়ে কাণ্ড

‘ছিল রুমাল, হয়ে গেল একটা বেড়াল’। সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল-এর সেই ভুতুড়ে কাণ্ড বাস্তবেও ঘটে। আর তা ঘটেছে খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেই। ছিল সোনা, হয়ে গেছে মাটি। জমা রাখা হয়েছিল ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের সোনার চাকতি ও আংটি, তা হয়ে আছে মিশ্র বা সংকর ধাতু। ছিল ২২ ক্যারেট সোনা, হয়ে গেছে ১৮ ক্যারেট।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ ভয়ংকর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। দৈবচয়ন ভিত্তিতে নির্বাচন করা বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত ৯৬৩ কেজি সোনা পরীক্ষা করে বেশির ভাগের ক্ষেত্রে এ অনিয়ম ধরা পড়ে। প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড হয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। গত জানুয়ারিতে কমিটি শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রতিবেদন জমা দেয়। গত ২৫ জানুয়ারি প্রতিবেদনটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়। পরিদর্শন দল ভল্টে রাখা সোনার যাচাই-বাছাই শেষে বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। তার মধ্যে প্রথম পর্যবেক্ষণ ছিল একটি সোনার চাকতি ও আংটি নিয়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৩ আগস্ট কাস্টম হাউসের গুদাম কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ গোলাকার কালো প্রলেপযুক্ত একটি সোনার চাকতি এবং একটি কালো প্রলেপযুক্ত সোনার রিং বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই চাকতি এবং আংটি যথাযথ ব্যক্তি দিয়ে পরীক্ষা করে ৮০ শতাংশ (১৯ দশমিক ২ ক্যারেট) বিশুদ্ধ সোনা হিসেবে গ্রহণ করে প্রত্যয়নপত্র দেয়। কিন্তু দুই বছর পর পরিদর্শন দল ওই চাকতি ও আংটি পরীক্ষা করে তাতে ৪৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ (১১ দশমিক ২ ক্যারেট) সোনা পায়। আংটিতে পায় ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ সোনা (৩ দশমিক ৬৩ ক্যারেট)। ধারণা করা হচ্ছে ভল্টে রাখার পর এগুলো পাল্টে ফেলা হয়েছে। প্রতিবেদন বলছে, ভল্টে থাকা সোনার চাকতি এবং আংটি পরীক্ষার পর দেখা গেল এগুলো সোনার নয়, অন্য ধাতুর মিশ্রনে তৈরি। এতে সরকারের ১ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিদর্শন দল প্রতিটি রসিদের অনুকূলে জমা হওয়া সোনা যাচাই করেছে। তাতে দেখা গেছে, সোনার অলংকার এবং সোনার বারে ক্যারেটের তারতম্য করা হয়েছে। ২৪ থেকে ২০ ক্যারেটের ৯৬০ কেজি সোনার বেশির ভাগের ক্ষেত্রে ভল্টে ১৮ ক্যারেট হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। কম ক্যারেটে নথিভুক্ত থাকায় নিলাম বা অন্য উপায়ে বিক্রির সময় অতিরিক্ত ক্যারেটের বিপরীতে প্রাপ্য টাকা থেকে সরকার বঞ্চিত হবে। সোনার ক্যারেটের তারতম্য ঘটানোর কারণে সরকারের ১ কোটি ৯০ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৬ টাকা ৬৭ পয়সা ক্ষতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

ক্যারেটের তারতম্য হলে সোনার দামের কী পার্থক্য হয় সে বিষয়ে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্বাহী কমিটির সদস্য দেওয়ান আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ক্যারেটের মাধ্যমে সোনার মান নির্ধারিত হয়। আর মান অনুসারে সোনার দাম কমবেশি হয়। ২২ ক্যারেট বা ২১ ক্যারেটের সোনা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনার দামে বড় অঙ্কের পার্থক্য আছে।

শুল্ক গোয়েন্দা, কাস্টমসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক সোনা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করা হয়। কাস্টম হাউসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে যখন সোনা জমা রাখা হয়, তখন ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্বর্ণকার দিয়ে পরীক্ষা করে সোনার মান নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংক, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই সব সোনা মান নির্ধারণপূর্বক ব্যাংক গ্রহণ করে রসিদ দেয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এ-সম্পর্কিত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বিষয়টি জেনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এটি অকল্পনীয়। যারা কাস্টডিয়ান, তাদের হাতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিস্মিতই হতে হয়। ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ‘ব্যাংকে কাজ করার সূত্রে আমি জানি, এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকেন হাতে গোনা কয়েকজন। পরিদর্শন প্রতিবেদনে যে তথ্য এসেছে, সে তথ্য থেকে ঘটনার সময় যাঁরা দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বের হয়ে আসবে। ঘটনাটিকে ছোট ভাবার কারণ নেই। ভল্টের মতো উচ্চ গুরুত্বের জায়গায় এমন অনিয়মকে গুরুত্ব না দিলে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে আধা-সরকারি পত্র পাঠিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সামনাসামনি অনানুষ্ঠানিক আলোচনায়ও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র দেবাশীষ চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর মেইলে লিখিত প্রশ্ন পাঠালে নয় দিনেও তিনি জবাব দেননি। পরে তাঁর সঙ্গে আবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই অবহিত করার মতো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।’

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘আশা করি বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করবে এবং সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেবে। কী কী প্রক্রিয়ায় এটা করা হয়েছে, কারা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে, সেটা বের করা তাদের দায়িত্ব। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা করতে না পারলে তাদের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে, তাদের কর্মকাণ্ড প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

বিয়েই করবেন না সেলেনা!

জাস্টিন বিবার ও হেইলি ব্যাল্ডউইনের বাগদানের প্রভাব হয়তো সেলেনার মনে বেশ ভালোভাবেই পড়েছে। এ জন্যই সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গিয়ে বিয়ে প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে সেলেনা জানান, তিনি নাকি কোনো দিন বিয়েই করবেন না।

সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে মুক্তি পায় হলিউডের অ্যানিমেশন ছবি হোটেল ‘ট্র্যানসেলভেনিয়া থ্রি: সামার ভ্যাকেশন’। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন ডিজনি-কন্যা সেলেনা গোমেজ। সেই ছবির প্রচারে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন সেলেনা। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ভ্যাম্পায়ারের সঙ্গে সংসার করতে পারবেন, নাকি জীবনে বিয়েই করবেন না? তখন কোনো সময়ক্ষেপণ ছাড়াই সেলেনা বলে দেন, ‘কোনো দিন বিয়েই করব না।’

গত ৭ জুন সংগীতশিল্পী জাস্টিন বিবার ও হেইলি ব্যাল্ডউইন তাঁদের বাগদানের খবর প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেলেনার ভক্তরা বিবারের এই সাবেক প্রেমিকার অনুভূতি জানতে উন্মুখ হয়ে ছিলেন। সেলেনা গোমেজের সঙ্গে জাস্টিন বিবারের প্রেম সেই ২০১০ সাল থেকে শুরু। মাঝে বেশ কয়েকবার সেই প্রেম ভেঙেছে, আবার নতুন করে জোড়াও লেগেছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালের অক্টোবরে আবারও ঘনিষ্ঠ হন বিবার-সেলেনা। কিন্তু সেই সম্পর্ক এ বছরের মার্চ মাসে এসে আবারও ভেঙে যায়। এস শোবিজ

পানামা পেপার্স: হাসান মাহমুদ রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক

পানামা পেপার্সে নাম আসা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপপরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভূঞা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান, পানামা পেপার্সে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ইউনাইটেড গ্রুপের আরও তিনজনকে আজ জিজ্ঞাসবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।

তারা হলেন- কোম্পানির তিন পরিচালক খোন্দকার মঈনুল আহসান শামীম, আহমেদ ইসমাইল হোসেন ও আখতার মাহমুদ।

গত ৮ জুলাই এই চার জনের পাশাপাশি প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা তিন ব্যবসায়ীকে তলব করে আলাদা নোটিস পাঠায় দুদক।

প্যারাডাইস পেপার্সে নাম আসা তিনজন হলেন- ডব্লিউএমভি লিমিটেডের এরিক জোহান অ্যান্ডারস উইলসন, ইন্ট্রেপিড গ্রুপের ফারহান আকিবুর রহমান ও সেলকন শিপিং কোম্পানি মাহতাবা রহমান।

তাদেরকে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে প্রনব ভট্টাচার্য্য জানান।

দি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) ২০১৬ সালের মে মাসে পানামার ল’ ফার্ম মোস্যাক ফনসেকার বিপুল সংখ্যক নথি ফাঁস করে দেয়, যা পানামা পেপারস নামে পরিচিতি পায়।

বিশ্বের ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়ছেন সেই তথ্য বেরিয়ে আসে সেসব নথি থেকে।

পানামা পেপার্সে দেড় ডজনের মতো বাংলাদেশির নাম আসার পর দুদক তাদের বিষয়ে অনুসন্ধানের ঘোষণা দেয়। সেজন্য তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দলও গঠন করা হয়।