‘আটক শিক্ষার্থীদের না ছাড়লে সারাদেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়বে’

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার এবং আটককৃত শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দিলে সারাদেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেবির সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক রাশেদ খান বলেন, গ্রেফতার শিক্ষার্থীদের মুক্তি না দিলে এবং হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের বিচার না করলে বিকেল থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, আমরা পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বলতে চাই, যারা আন্দোলন করছেন, তারা আপনার ভাই বা সন্তানের মতো। তারা কারও বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন না। তারা অধিকারের প্রশ্নে আন্দোলন করছেন। তাই আজ দুপুরের মধ্যেই আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেন।
এ সময় সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।

ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই আন্দোলনকারীরা ভাঙচুর করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামানের বাসভবন। রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঘটনা ঘটে।
এ সময় উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়।উপাচার্যের বাসভবনের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাসভবনের আশপাশেও একাধিক মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। রাত ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এই তাণ্ডব চলে।
জানা যায়, রাত ১টার দিকে এক থেকে দুই হাজার বিক্ষোভকারী বাসভবনে প্রবেশ করে। তারা মূল গেট ভেঙে ফেলে এবং দেয়ালের তারকাঁটা ভেঙে বাসায় ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে রড, হকিস্টিক, লাঠি ও বাঁশ ছিল।তবে হামলায় উপাচার্যের পরিবারের কেউ আহত হননি।
প্রায় সব ঘরেই মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে কাঁচ। সোমবার সকালে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বাড়ি তছনছ হয়ে রয়েছে। আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। বিভিন্ন কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এখানে-ওখানে। গোটা বাড়ির বিভিন্ন ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে রয়েছে জানালার কাঁচের টুকরা। বাসভবনের সামনের চত্বর থেকে দোতলা পর্যন্ত প্রায় সবকিছুই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
গেটে প্রবেশ করার পর থেকে দুই পাশের চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ ভেঙে পড়ে রয়েছে।বাসভবনের মূল ভবনের ভেতরে ও বাইরের সব আসবাবপত্রও হামলাকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। এসি, টেলিভিশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি কাগজপত্র, চেয়ার টেবিল, সোফাসেট, কাচের জিনিসপত্র, ফুলের টব, ছবি- সবকিছুই মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
বাড়ির সামনের অংশে থাকা গাড়িতে আগুন দেয়া হয় ভিসির বাসভবনে দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও দুটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে রবিবার বিকাল থেকে শাহবাগ এলাকা অবরোধ করে রাখে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে রাত আটটার দিকে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং গুলিতে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে পুলিশের সদস্যও রয়েছেন।

রাজু ভাস্কর্যের সামনে আন্দোলনকারীরা, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল করেছে। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শাহবাগ হয়ে দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল ঘুরে শহীদ মিনারের সামনে দিয়ে পলাশী হয়ে মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে যায়। সেখানে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বাংলা একাডেমির দিক থেকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে।

বাঁশ দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা আন্দোলনকারীদের। ছবি: শেখ সাবিহা আলমবাঁশ দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা আন্দোলনকারীদের। ছবি: শেখ সাবিহা

আলমআন্দোলনকারীরা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘প্রশাসন যদি থাকে চুপ দেখবে আবার রুদ্র রূপ’, ‘কোটাধারী কামলা নয় মেধাধারী আমলা চাই’ স্লোগান দিচ্ছে। যত সময় গড়াচ্ছে সমাবেশে তত মানুষ জড়ো হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেল, শাহবাগ থেকে বাংলা একাডেমির দিকে যাওয়ার পথে বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া আছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। শাহবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রাস্তায় যানচলাচল খুবই সীমিত। নেই বললেই চলে। শাহবাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে রাস্তায় শিক্ষার্থীরা ডাবের ভ্যান, পানির ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে।

রাজু ভাস্কর্য এলাকায় প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনকারীরা। ছবি: শেখ সাবিহা আলমরাজু ভাস্কর্য এলাকায় প্ল্যাকার্ড হাতে আন্দোলনকারীরা। ছবি: শেখ সাবিহা

আলমআজ সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ টিএসসিতে অবস্থান নিয়েছিল। বেলা একটা ৫০ মিনিটের দিকে পুলিশ সেখান থেকে সরে বাংলা একাডেমির দিকে চলে যায়। টিএসসিতে থাকা রায়ট কারটিও সরে গেছে। বাংলা একাডেমির দিক থেকে পুলিশ রাজু ভাস্কর্যে থাকা আন্দোলনকারীদের দিকে টিয়ার শেল ছোড়ে।