এই প্রথম ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ ব্যক্তির আয় কমেছে

:: এই চার্টটা দেখেন।
এই খানে A থেকে H কলামের ডাটা নেয়া হয়েছে, বাংলাদেশ হাউজহল্ড ইনকাম এবং কঞ্জাম্পশান সারভে থেকে। এবং কলাম I নেয়া হয়েছে, বিবিএসের ন্যাশনাল একাউন্টিং থেকে যা দিয়ে সরকারের জিডিপি মাপা হয়।

এই ডাটাটিতে প্রফেসর তাসলিম ২০০৫ থেকে ২০১৬ সালের খানা জরিপের ভিত্তিতে যে আয় বেড়েছে তাকে মুল্য স্ফিতির সাথে এডজাস্ট করেছেন, সেইটা দেখা যাচ্ছে, কলাম G তে। এবং কলাম I তে আমরা দেখতে পাচ্ছি, জিডিপি ডাটার হিসেবে আমাদের জনপ্রতি জাতীয় আয় বা জিএনআই।

জিএনআই জিডিপি থেকেই আসে কিন্ত জিডিপি থেকে একটু আলাদা। এই খানে, একটি ভুখন্ডের জিডিপির সাথে রেমিটেন্স যোগ করা হয় আবার দেশে কর্মরত বিদেশিদের উপার্জন যা তারা রেমিটেন্স আকারে নিজের দেশে পাঠাচ্ছে তা বিয়োগ দেয়া হয়। যার ফলে প্রকৃত আয় বের হয়ে আসে।

সেই খানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সালে, খানা জরিপ অনুসারে আমাদের ইনফ্লেশান এডজাস্টেড প্রকৃত আয় বেড়েছে ৪১৬ টাকা।
কিন্ত, খুব খেয়াল করবেন, খোদ বিবিএসের ডাটা বলছে ২০১০ থেকে ২০১৬ সালে ইনফেলেশান এডজাস্টেদ ব্যক্তি প্রতি আয় কমেছে, ২১ টকা কিন্ত একই সময়ে ব্যক্তি প্রতি জাতীয় আয় বা জিএনআই বেড়েছে ১১৪০ টাকা।

এই খানে উল্লেখ্য এই খানে দুইটি ডাটা যার উভয়ের সোরস ই বিবিএস।

এর মধ্যে খানা জরিপটা সব চেয়ে গ্রহণযোগ্য কারন এই ডাটাটা পলিটিক্সে কাজে লাগেনা।
এবং এই ডাটা বলছে
বাধীনতার পরে এই প্রথম ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ ব্যক্তির আয় কমেছে ।

কিন্ত বিবিএসের পলিটিকাল ডাটা এই সময়ে, ১১৪০ টাকা আয় বেড়েছে যা আমরা জাতীয় ভাবে খুজে পাচ্ছি না। কিন্ত যা আমাদেরকে এক ধাক্কায় মধ্যম আয়ের দেশ বানিয়ে দিয়ছে।

এই ডাটাটা আমার কাছে বাংলাদেশের জিডিপি ডাটার ম্যানিপুলেশানের স্মকিং গান প্রুফের মত লাগে। কোন দুর্নীতি হয় নাই, কিন্ত, পার কিমি রাস্তার দাম পৃথিবীর সর্বোচ্চ যেই ভাবে হয়, সেই ভাবে আমরা এই ডাটাটিকে দেখতে পারি।

এই যে পরিসকার বিসদৃশয় দেখা যাচ্ছে, সেইটা আমাদে ইকনমিস্টরা হাই লাইট করে না।
কেন করেনা ? কারন, তারা এখন অধিকাংসি সিস্টেমের অনুগ্রহ্ন নিয়ে পরে আছে। নাউ যার নুন খায় তার গুন তো গাইতেই হবে।

ভালো ভালো।

সূত্র : জিয়া হাসান ।

ক্ষতিপূরণের দাবিতে উত্তাল কুয়েট

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে নিহত হওয়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে আজ শনিবার বেলা দুইটা থেকে প্রশাসনিক ভবন চত্বরে ও ভবনের প্রতিটি তলায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।

অনশন কর্মসূচি শুরুর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলার চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠক শুরু হলে তাঁরা প্রশাসনিক ভবনের নিচে ফাঁকা চত্বরে ও বাইরে অবস্থান নেন। সিন্ডিকেট সভায় প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং সিন্ডিকেট সদস্যদের কক্ষের ভেতরে অবরোধ করে রাখেন। বিকেল সাড়ে চারটায় সিন্ডিকেট সদস্যরা বের হয়ে যান। বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্য কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শনিবার থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়। পরে কালো ব্যাজ ধারণ করে দুপুর সাড়ে ১২টায় দুর্ঘটনার বিষয়ে করণীয় নিয়ে সিন্ডিকেটের সভা শুরু হয়।

আন্দোলনরত নিহত চার ছাত্রের একজন সহপাঠী বলেন, ‘আমাদের ওই চার সহপাঠীর পরিবারই হতদরিদ্র। সারা জীবনের সব উপার্জন খরচ করে তাঁরা ছেলেদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করিয়েছেন। এখন দুই বিধবা মা এবং অন্য ভাইবোনগুলোকে দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়েছি।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, নিহত চারজনের পরিবারই দরিদ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করার মতো কোনো সদস্যও পরিবারগুলোতে নেই। সিন্ডিকেট সদস্যরা পরিবারগুলোর সঙ্গে তামাশা করেছেন। রোববার বেলা একটার মধ্যে পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়া না হলে তাঁদের অনশন চলবে। রোববার বেলা একটায় তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

হাফিজুর রহমান, শাহীন মিয়া, দীপ্ত সরকার ও মাসুমহাফিজুর রহমান, শাহীন মিয়া, দীপ্ত সরকার ও মাসুম

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, ‘সামনে সমাবর্তন। এ ধরনের পরিস্থিতি কাম্য নয়। এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেই। আমি সিন্ডিকেটের সবাইকে নিয়ে করণীয় নিয়ে বৈঠক করেছি। সভায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাড়ির মালিক ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা জরুরি সহায়তা প্রদান, প্রতিটি পরিবার থেকে একজন সদস্যকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

উপাচার্য বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্টে (ইন্টার্নশিপ) পাঠানো হবে, তাদের ইনস্যুরেন্সের আওতায় আনার বিষয়েও সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয়ে ছাত্রদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তারা আমাদের কথা শুনছে না। কিন্তু এর বেশি কিছু করার ক্ষমতাও আমার নেই। ছাত্রদের বোঝানোর চেষ্টা চলছে।’

গত ২৪ মার্চ ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওই চার শিক্ষার্থী শিক্ষাজীবনের চূড়ান্ত পর্বে এক মাসের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্টের (ইন্টার্নশিপ) জন্য ময়মনসিংহে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় তৌহিদুল ইসলাম নামের এক ছাত্র ঘটনাস্থলে নিহত হন। গুরুতর দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাহীন মিয়া, হাফিজুর রহমান ও দীপ্ত সরকার।

প্রশ্ন ফাঁসের জন্য সামাজিক মাধ্যম তৈরী

প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা ও সরকারের প্রস্তুতিএইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী সোমবার (২ এপ্রিল)। বিগত পরীক্ষাগুলোয় ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরীক্ষার শুরু প্রায় সাত দিন আগে থেকে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। তবে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে প্রশ্ন সরবরাহেরও। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপ ঘুরে তেমন চিত্রই দেখা গেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন,এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে সেটকোড ব্যবহারের নির্দেশনার এসএমএস যাওয়ার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ১
পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার শেষ সময়ের পাঁচ মিনিট পর এসএমএস -এর মাধ্যমে জানা যাবে কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না— এমন একটি মোবাইল সেট ব্যবহার করতে পারবেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এছাড়া আরও যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সব সেট প্রশ্নপত্রই যাবে কেন্দ্রে। প্রত্যেক কেন্দ্রে প্রতি বিষয়ের/পত্রের প্রতিটি সেটের জন্য একটি খাম থাকবে। খামগুলো সিকিউরিটি টেপ দিয়ে আটকানো থাকবে। জেলা প্রশাসকরা পরীক্ষা শুরুর আগে যেকোনও দিন ট্রেজারিতে এই কাজ সম্পন্ন করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিকিউরিটি টেপ লাগাতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ২
প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। ট্রেজারি বা থানা থেকে কেন্দ্র সচিবসহ পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছাতে হবে। সেটকোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত সেটকোডে পরীক্ষা নিতে হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে।
এমন আরও অনেক ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে। তবে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নানামুখী পদক্ষেপের পরও প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে প্রশ্ন সরবরাহের। ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপে ইতিমধ্যে সয়লাব হয়ে গেছে প্রশ্নের বিজ্ঞাপনে। PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center, PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center 18+19+20+21BD সহ বেশ কয়েকটি গ্রুপে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ দিন আগে থেকেই চলছে প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কিছু প্রশ্নের ছবি। পুরো ছবির কিছু অংশ ঘোলা করে দিয়ে শুধুমাত্র ওপরের অংশ পরিষ্কার দেখার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ৩
অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিযোগিতা করে খোলা হচ্ছে গ্রুপ। HSC 2k, HSC 2018 সব নানা নামে তৈরি এসব গ্রুপের অ্যাডমিনরা এর আগেও এসএসসি পরীক্ষার সময়ে আন্তর্জাতিক নম্বর ব্যবহার করে খুলেছিলেন গ্রুপ। সেখানে প্রতিদিনই সরবরাহ করা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন। নাম ও নম্বর দিয়ে এসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও এরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফাঁসের গুজবের সঙ্গে জড়িত ১৫৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এসএসসিতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ৪
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এরই মধ্যে অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। যারা এসব বিজ্ঞাপন দেয় বেশিরভাগই রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সিমকার্ড দিয়ে প্রচারণা চালায়। তাই এদের খুঁজে বের করা একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষার আইন সংস্কারের সুপারিশ করেছেন পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় মনিটরিং কমিটির সদস্য ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম। তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালের পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্টে আসামিকে এক-দুই দিনের বেশি রিমান্ডেও নেওয়া যায় না। এজন্য প্রশ্নফাঁসকারী একটি চক্রের পাঁচ স্তরের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতার করতে পেরেছি,কিন্তু বাকি স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো যায়নি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ৫
এর আগে তিনি এক সম্মেলনে তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘কেউ কাউকে চেনে না, অথচ তার কাছ থেকেই সে প্রশ্ন কিনেছে। আদিকাল থেকেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এখন ডিজিটালাইজড হওয়ায় আমরা সবাই তা জানতে পারছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার বিষয়ে বিটিআরসি’র সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেসবুক মনিটরিং করার যন্ত্রও আমাদের নেই।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, একটি শ্রেণি ফেসবুকে প্রশ্নপত্রের প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে হেয় করার জন্য মিথ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে কেউ কেউ আর্থিক লাভের জন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণাও করছে বলে জানান তিনি। এসব ফাঁদে পা না দিতে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

‘উঠে দাঁড়িয়ে’ বিক্ষোভ ফেটে পড়ুন

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দলের নেতাকর্মীদেরকে ‘উঠে দাঁড়িয়ে’ বিক্ষোভ ফেটে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শনিবার রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত আলোচনায় এই আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
সরকার উৎখাতে দেশবাসী মুখিয়ে আছে বলেও মনে করেন ফখরুল। বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপিকে সভা সমাবেশ করতে বাধা দেয়া হয়। তারপরও মানুষের ঢল নামে। মানুষ অপেক্ষা করছে সুযোগের জন্য। সুযোগ পেলে তারা চিরতরে এদের উৎখাত করে দেবে।’
আলোচনায় বিএনপির নেতারা আন্দোলনের মাধ্যমে কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার প্রত্যয়ের কথা বলেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে খালেদা জিয়ার। এরপর থেকে তার মুক্তির দাবিতে রাজপথ এবং উচ্চ আদালতে বিএনপির সব চেষ্টা এখন অবধি ব্যর্থ হয়েছে। হাইকোর্ট গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দিলেও আপিল বিভাগ সে আদেশ আটকে দিয়েছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সবাই উঠে দাঁড়ান, ফেটে পড়ুন। কোনো বিকল্প নেই।’
‘আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন। আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। এর আগে কোনো বিষয় চিন্তা করব না।’
আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতির বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। প্রত্যেকের ঘরে ঘরে চলে যেতে হবে।’
‘নিজের অধিকার আদায় করার জন্য বুকের উপর চেপে বসে থাকা দানব সরকারকে সরাতে হবে। এজন্য সবাইকে দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।’
আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতা দখল করে রেখে স্বাধীনতার চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফখরুল। বলেন, ‘বন্দুক, অস্ত্রের জোরে তারা জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। এটা আওয়ামী লীগের চরিত্র।’
১৯৭১ সালের পর ক্ষমতায় এসেও আওয়ামী লীগ জনগণকে জিম্মি করেছিল, গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিল বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।
ফখরুল বলেন, ‘কোনো বিরোধী মত তারা সহ্য করতে পারছে না। গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে তারা কারাবন্দি করে রেখেছে।’
বিএনপির তিন এজেন্ডা: মওদুদ
আলাচনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনার কথা বলেন।
মওদুদ বলেন, ‘আমাদের তিনটি মূল এজেন্ডা। প্রথমটি হলো: বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আমরা নেত্রীকে ফিরে পেতে চাই। তাই যত কলাকৌশল করুন, ষড়যন্ত্র করুন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যতই টেনে ধরুন। তাকে আমরা মুক্ত করে আনব।’
‘এজন্য শুধু আইনি লড়াই নয়, জনমত তৈরি করতে হবে। আমাদের আন্দোলন করতে হবে। তাহলে তিনি মুক্ত হয়ে আসবেন।’
‘দ্বিতীয়টি হলো: নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। এরজন্য যে আন্দোলন চলছে এটা চলবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে।’
‘তৃতীয় এজেন্ডা হলো: আমরা গণতান্ত্রিক দল। তাই গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। এজন্য আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নিতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’
‘তাই আমাদের এখন থেকেই সবাইকে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক ব্যাপার। যে কোনো সময় নির্বাচন হতে পারে’- বলেন মওদুদ।
অন্যান্য বছর এই আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তবে তিনি কারাগারে থাকায় আজকের আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইমলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, শাহজাহান ওমর, ফজলুর রহমান প্রমুখ আলোচনায় বক্তব্য রাখেন।

তন্নিকে ধর্ষণের পর রেললাইনে ফেলে হত্যা করা হয়েছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া রেললাইনে খণ্ড-বিখণ্ড হওয়া সেই শিক্ষার্থীর পরিচয় মেলেছে। গত দু’দিন ধরে ফেসবুকে ওই শিক্ষার্থীর রেলে কাটাপড়ার ছবি ভাইরাল হয়। ওই শিক্ষার্থীর নাম তন্নি (২৪)। তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অনার্স ফাইনাল বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিলেন।
গত ২৮ মার্চ মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় নগর রেল ক্রসিং এলাকা থেকে তন্নির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তন্নিকে ধর্ষণের পর রেললাইনে ফেলে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। কারণ তন্নির পরনের বোরকা ও হাতে পরীক্ষার ফাইল রেললাইনের পাশেই পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থী তন্নি কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামের আনোয়ারুল হকের মেয়ে ও কমলগঞ্জের পতনউষার গ্রামের রাসেল আহমদের স্ত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ মার্চ) রাতে গোপালনগর রেল ক্রসিংয়ের পাশে রেললাইনের ওপর এক নারীর খণ্ড-বিখণ্ড মরদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকার সংবাদ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে প্রথমে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এবং শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠায়।
কমলগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) নজরুল ইসলাম জানান, এক নারীর দেহ, দুই পা এবং মাথা রেললাইনের ওপর পড়ে রয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটিনাস্থলে গিয়ে তন্নির পরিচয় নিশ্চিত করেছে। এ সময় রেললাইনের পাশে তার ব্যবহৃত পরীক্ষার কাগজপত্র, বোরকা, পায়ের জুতা ও মোবাইলফোন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড বলেই ধারণা করছে পুলিশ।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই দাবি করেছেন, তন্নিকে পরিকল্পিতভাবেই ধর্ষণের পর রেললাইনে শুইয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কারা কেন এই কাজ করেছে সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কিছু বলতে পারছে না। আসামিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা করে কিশোরীর মরদেহ হাওরে ফেলে দেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর মধ্যে ওই ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ফের নিশি পার্টির ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত

ফের নিশি পার্টির ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কিশোরগঞ্জ শহরের ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রে নিশি পার্টির সশস্ত্র হামলার পর থেকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সন্ত্রাসীদের রামদা ও চাপাতির আঘাতে দোকান মালিক বাবা-ছেলেসহ ৩ জন গুরুতর আহত হন।
আহতরা হলেন, মিতালী বডিংয়ের কর্ণধার ওসমান গনি (৬০), তার ছেলে মো. আরমান (২৭) ও ভাতিজা শওকত (২৫) । এদের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গলা ও শ্বাসনালি কেটে যাওয়া গুরুতর আহত আরমান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে গৌরাঙ্গ বাজারের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মিতালী বডিংয়ে (লেপ-তোশকের দোকান) এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে ব্যবসায়ীরা শিগগিরই ধর্মঘটসহ হরতালের মতো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে জানান বাজার ব্যবসায়ী সমিতির একটি সূত্র।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সের সংঘবদ্ধ ৩০-৪০ কিশোর-যুবক অতর্কিত মিতালী বডিংয়ে হানা দিয়ে ৫-৭ মিনিট তাণ্ডব চালায়। এ সময় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে অন্য ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুশামা মো. ইকবাল হায়াত যুগান্তরকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে এখনও কোনো মামলা রুজু না হলেও পুলিশ ঘটনার পর থেকেই সন্ত্রাসীদের আটকের অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
প্রসঙ্গত, নিশি পার্টি হিসেবে পরিচিত ওই সন্ত্রাসী চক্র গত বছর শহরের ৩২, বড়বাজার, পুরান থানা ও নগুয়াসহ বেশ কয়টি স্পটে একই কায়দায় হামলা চালিয়ে দোকানপাট ও বাসাবাড়ি ভাঙচুরের মতো তাণ্ডব চালায়। এ সময়ও তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ব্যবসায়ী, পথচারীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে কোনো রকমে প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনার আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটায় শহরবাসীর মধ্যে নতুন করে নিশি পার্টির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমাতে চায় বাংলাদেশ

:: দেশের তরুণদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সময়সীমা কমিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ। এজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ভিত্তিক অ্যাপগুলোতে প্রবেশাধিকারের মূল্য বৃদ্ধি করা হবে। বৃহসপতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েকটি অ্যাপে প্রবেশাধিকার সীমিত করে দেয়া হবে। এ সময় ওই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ভিত্তিক ওই অ্যাপগুলোকে ‘ডিজিটাল আফিম’ বলে বর্ণনা করেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
খবরে বলা হয়, ফেসবুকসহ অন্যান্য জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অত্যধিক পরিমাণ সময় ব্যয় করার কারণে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে দূরে ছিটকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশের টেলিকম নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ তরুণদের উদ্দেশে বলেন, তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্মার্টফোনে ব্যয় করে। এটা তাদের সামাজিক ও শিক্ষা জীবনের ক্ষতি করছে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকে ‘ডিজিটাল আফিম’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
পৃথিবীর অন্যান্য অংশের মতন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। যদিও দেশের মাত্র অর্ধাংশের মতো জনগণের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুক তাদের প্ল্যাটফর্মের একটি সীমিত ভার্সন বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। এতে করে দেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারে। কর্তৃপক্ষ ফেসবুকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে মাহমুদ বলেন, বিটিআরসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন অ্যাপে প্রবেশাধিকারের মূল্য বৃদ্ধি করবে। তিনি জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক, ব্যবসায়িক ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট যেন আক্রান্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। তিনি বলেন, আমরা এই পদক্ষেপ কিভাবে বাস্তবায়ন করবো সে বিষয়ে একেবারে ক্ষুদ্র পর্যায়ে পরিকল্পনা করছি। এটা এখন শুনতে নিষেধাত্মক শোনালেও, দীর্ঘ মেয়াদে এটা দেশের জন্য ব্যবহারিকভাবে বেশ সুফল বয়ে আনবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য। এছাড়া তিনি নতুন একটি পদ্ধতি প্রবর্তনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। যার মাধ্যমে, তরুণরা স্মার্টফোনে কি কি ‘কনটেন্ট’ ব্যবহার করতে পারবে তা ফিল্টার করা হবে। কিন্তু তিনি জানিয়েছেন, পুলিশের জন্য এমনটা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে।
বেশিরভাগ বাংলাদেশিই স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। গত মাসে, দেশের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ‘থ্রি জি’ থেকে ‘ফোর জি’ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালের শুরুর দিকে, বিরোধীদলীয় বিক্ষোভের মুখে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ওপর একটি তিন সপ্তাহব্যাপী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

পাওনাদারের চাপে আত্মহত্যা

:: বাগেরহাটের কচুয়ায় মান্নান সিকদার (৫৫) নামের এক মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের সাংদিয়া গ্রামের একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবারের লোকজনের ধারণা, পাওনাদারদের চাপে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

মান্নানের স্ত্রী পেয়ারা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী মাছের ব্যবসা করতেন। পাঁচ সদস্যের পরিবার। দুর্ঘটনায় বড় ছেলের পা ভেঙে যায়। তাঁর চিকিৎসা করাতে গিয়ে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে সবাই খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তিনি বাড়ির উঠানের গাছে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহিরুল হক বলেন, চিংড়ির রেণু পোনা বিক্রি করতেন তিনি। হঠাৎ করে ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

সিএনজি থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম রক্ষা

:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চলন্ত সিএনজি-অটোরিকশায় কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সিএনজি থেকে লাফ দিয়ে নিজের সম্ভ্রম বাঁচালেও ওই ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনার পর শুক্রবার ওই ছাত্রীর চাচা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলার মুন্সীবাজার জেনুইন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে পরানধর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মুন্সীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সফিকুর রহমান জানান, মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিপা চন্দ (১৯) জেনুইন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে কোর্স করতো। প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার ট্রেনিং সেন্টার থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজি-অটোরিকশায় চড়ে। এ সময়ে গাড়ির চালক মুন্সীবাজারের মইডাইল গ্রামের আব্দুল মতলিব (২৫) পূর্বপরিকল্পিতভাবে গাড়ির পেছনে বসে। আর গাড়ি চালাতে দেয় কমলগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ফায়ারম্যান হানিফ উল্ল্যাকে (৩০)।
গাড়ি কিছুদূর যেতেই আব্দুল মতলিব শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময়ে গাড়ি থামাতে হানিফ উল্ল্যাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি। এক পর্যায়ে সম্ভ্রম বাঁচাতে গাড়ি থেকে লাফ দিয় তিনি। তার হাত, মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে মৌলভীবাজার সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। খবর পেয়ে মহিলা পরিষদ মৌলভীবাজার জেলা ও কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার নেতারা হাসপাতালে যান এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মেয়ের মা দ্বিপালী রাণী চন্দ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ঘটনায় মেয়ের চাচা শিবুল শীল বাদী হয়ে শুক্রবার উল্লিখিত দু’জনকে আসামি করে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুকতাদির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

ছেলে হারিয়েও দাঙ্গা থামালেন ইমাম

:: স্থানীয় নূরানী মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ ইমদাদুল্লাহ। হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করলেন নিজের ছেলের ক্ষত-বিক্ষত লাশ। নখ উপড়ে নেয়া হয়েছে। ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের কোপ। লাশটি আধপোড়া, পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এরপরও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার যে নজির রেখেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের এই ইমাম তা কল্পনাতীত।

ইমামের ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার খবরে যাতে এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে না পড়ে, তাই নিজেই মাইক নিয়ে নেমে যান রাস্তায়। সবাইকে সহিংসতায় না জড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেন তিনি। দৃশ্যত এতে কাজও হয়েছে।

আসানসোলের যে অঞ্চলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে দাঙ্গা শুরু হয়েছিল সেই চাঁদমারি আর কুরেশী মহল্লায় নূরানী মসজিদ। বৃহস্পতিবার খবর আসে, মসজিদের ইমাম মুহাম্মদ ইমদাদুল্লাহর নিখোঁজ ছেলের লাশ পড়ে আছে স্থানীয় হাসপাতালে।

আগের দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছেলেকে খুঁজেছেন ইমাম ইমদাদুল্লাহ। সেই সঙ্গে মহল্লার সব মানুষ। কোথাও পাওয়া যায়নি তাকে। ক্ষত-বিক্ষত লাশটি যখন মহল্লায় আনা হলো, পরিস্থিতি হয়ে উঠলো আরো অগ্নিগর্ভ।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমাম মুহাম্মদ ইমদাদুল্লাহ বুঝতে পারলেন এই প্রতিহিংসার রাশ টানতে হবে এখনই। নইলে আরো রক্ত ঝরবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চলে যাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রাণ যাবে আরো মানুষের।

একটা মাইক হাতে বেরিয়ে পড়লেন ইমাম। মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে সবার প্রতি আবেদন জানালেন, আপনারা শান্ত হোন।

ছেলে হারানোর কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে গেল ইমামের। তবে তার মধ্যেও বলছিলেন, ‘এই অবস্থাতেও আমি সবার কাছে আবেদন করতে রাস্তায় বেরিয়েছিলাম। সবাইকে বুঝিয়েছি- আমার যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা যেন আর কোনো বাপ-মায়ের না হয়।- কেউ যেন দাঙ্গা না বাঁধায় ছেলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।’

পুত্রশোকের মধ্যেও এলাকায় ঘুরে ছেলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অশান্তি না ছড়ানোর জন্য তার এই আবেদনে কাজ হলো। লোকজন ঘরে ফিরে গেল।

আসানসোলের চাঁদমারি আর কুরেশী মহল্লা মূলত মুসলমান প্রধান এলাকা। মহল্লার বাসিন্দা মুহম্মদ ফারহাদ মালিক বলেন, ‘ইমাম সাহেবের ছেলের মৃত্যুর ঘটনাটা শুনে প্রথমে সবারই মাথায় রক্ত চড়ে গিয়েছিল। এটা তো রক্ত গরম করে দেয়ার মতোই ঘটনা।’

ইমামের ১৬ বছরের ছেলে মোহাম্মদ শীবগাতউল্লাহ দাঙ্গা শুরুর পর দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রথম তার লাশের সন্ধান পান তারা।

ইমাম বলেন, ‘ছেলেটা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল, একই সঙ্গে নানা জায়গায় কোরআন পড়তেও যেত। বুধবার যখন অশান্তি শুরু হয়, তখন নেহাতই কৌতূহলবশে দেখতে গিয়েছিল। আমার বড় ছেলে খবর দেয় যে একদল লোক ওকে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন জানলাম, একটা মৃতদেহ পাওয়া গেছে- ওটাই আমার ছেলের দেহ।’

তিনি বলেন, ‘খুব যন্ত্রণা দিয়ে মেরে তো ফেলেছে ছেলেটাকে, তারপরে দেহটা জ্বালিয়েও দিয়েছিল। এটা কেন করল ওরা!’

এই নিদারুণ পুত্রশোক ভুলে ইমদাদুল্লাহ যে বলিষ্ঠ অবস্থান নেন, সেটি যেন আসানসোলকে আরো বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। এই ভয়ঙ্কর ঘটনার পরও তার এলাকায় আরো দাঙ্গা তথা সাম্প্রদায়িক অশান্তি রোধ করা গেছে।

ওই মহুয়াডাঙ্গাল এলাকারই বাসিন্দা প্রমোদ বিশ্বকর্মা বলেন, ‘ইমাম সাহেবকে যে কী বলে ধন্যবাদ দেব! ছেলে হারানোর পরেও রাস্তায় মাইক নিয়ে বলে বেরিয়েছেন যে সবাই যেন শান্তি বজায় রাখে।’