ঢাকা ট্যাক্সেস বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের বিপুল বিজয়ে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভিনন্দন

: ঢাকা ট্যাক্সেস বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে সভাপতি পদে এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান দুলালসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করায় প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) এক অভিনন্দন বার্তায় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “ঢাকা ট্যাক্সেস বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের বিপুল বিজয় নি:সন্দেহে এক অনন্য বিজয়। এ বিজয় সামগ্রিকভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রেরণা যোগাবে। আমি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের কর্মকর্তাবৃন্দসহ যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । তাঁদের সাফল্য কামনা করি”।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত অপর এক অভিনন্দন বার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা ট্যাক্সেস বার এ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে সভাপতি পদে এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান দুলালসহ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করায় তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের এই বিজয় প্রমান করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে। বিএনপি মহাসচিব নির্বাচিতদের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

সূত্র :  বিডিটাইমস রিপোর্ট

মালিতে পুঁতে রাখা মাইনে ৪ বাংলাদেশি সেনা নিহত

 

:: বুধবার মধ্য মালিতে রাস্তার পাশে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর পশ্চিম আফ্রিকা মিশনের চার সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন আরও চারজন। স্থানীয় সময় আড়াইটায় গাড়িতে করে দায়িত্ব পালন করার সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় রয়টার্স।

মালির শান্তিরক্ষা মিশন কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, নিহত শান্তিরক্ষীরা দেশটির মোপতি অঞ্চলের বনি ও দুওয়েন্টযা শহরের মধ্যবর্তী সড়ক দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে। এক দিন আগে সে স্থানে একই ধরণের ঘটনায় ছয় মালি সৈন্য নিহত হয়েছিলেন।

নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে তারা জানিয়েছে। নিহতদের জাতীয়তা ও পরিচয় সম্পর্কে তারা কিছু বলতে রাজী না হলেও জানা গেছে নিহত চারজনই বাংলাদেশি সেনা।

এদিকে বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হতাহতরা বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছে।

নিহতরা হলেন- সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল কালাম-পিরোজপুর (৩৭ এডি রেজি. আর্টি.), ল্যান্স কর্পোরাল আকতার- ময়মনসিংহ (৯ ফিল্ড রেজি. আর্টি.), সৈনিক রায়হান-পাবনা (৩২ ইবি) এবং সৈনিক (পাচক) জামাল-চাপাইনবাবগঞ্জ (৩২ ইবি)।

আহতরা হলেন- কর্পোরাল রাসেল- নওগাঁ (৩২ ইবি), সৈনিক রাশেদ-কুড়িগ্রাম (৩২ ইবি), সৈনিক নিউটন-যশোর (১৭ বীর), সৈনিক আকরাম-রাজবাড়ি (৩২ ইবি)।

আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

উল্লেখ্য, মালিতে কথিত ইসলামি সন্ত্রাসী দমন, সহিংসতা বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সেনাবাহিনীর সাথে কাজ করছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মিশনের প্রধান মাহমাত সালেহ আন নাদিফ বলেন, এ ঘটনার মধ্যে দিয়ে বুঝা যাচ্ছে যে বিদ্রোহীগোষ্ঠী এখন দিশেহারা। যে উদ্দেশ্য নিয়ে মিশন কাজ করে যাচ্ছে, তাতে কোন ধরণের প্রভাব ফেলতে পারবে না তারা।

সূত্র: পরিবর্তন

আইনের শাসন মানে, রাস্তায় ফেলে গলা টিপে ধরা নয়

:: আদর্শ কাগজে লেখা থাকে। কাজের সঙ্গে তার মিল থাকে না, তবে মুখে থাকে। প্রতিপক্ষের উদ্দেশে আদর্শের কথা বলেন, নিজে মেনে চলেন না। বলছি রাজনীতি ও রাজনীতিকদের কথা, বিশেষ করে বাংলাদেশের বড় দুটি রাজনৈতিক দল ও নেতাদের কথা। তারা একে অপরের ভুল, অন্যায়-অনিয়ম-অনৈতিকতা, দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন। অন্যকে যা বলেন, নিজে বা নিজেরা তা করেন না। সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জেল-জরিমানার প্রতিবাদে আন্দোলন করছে বিএনপি। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দিয়েছিল তারা। আজকের লেখা এই কালো পতাকা প্রদর্শন ও পুলিশি প্রতিরোধ বা তাণ্ডবকে কেন্দ্র করে।
১. পাঁচ বছরের দণ্ড মাথায় নিয়ে খালেদা জিয়া কারাগারে। ধারণা করা হয়েছিল, এর প্রতিবাদে বিএনপি মারদাঙ্গা কর্মসূচি দেবে। হরতাল, ধর্মঘট, গাড়িতে আগুন, ভাঙচুর হবে। আক্রমণ হবে পুলিশের ওপরও। রায় ঘোষণার কয়েকদিন আগে তার আলামতও পাওয়া গিয়েছিল। হাইকোর্টের সামনে বিএনপি কর্মীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল পুলিশ বাহিনির সদস্যরা। বিএনপি নেতৃবৃন্দের দাবি, তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এমন ছিল না। বিএনপির ভেতরের একটা ক্ষুদ্র অংশ বিশেষ সংস্থার প্রযোজনায় পুলিশকে আক্রমণ করে বসে। সেদিন পুলিশ বেশ রহস্যজনকভাবে পরিচিত মারমুখী অবস্থান না নিয়ে, নীরবে মার হজম করে। খালেদা জিয়ার রায়ের পরে বিএনপি আরও মারমুখী কর্মসূচি দেবে, অনেকেই এমনটা ভাবছিলেন। সরকার, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনি সেভাবেই প্রস্তুত ছিল। ২০১৪ সালের সহিংসতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনি সফল হয়েছিল। তাদের এই আত্মবিশ্বাস ছিল যে সহিংস কর্মসূচি দুই চারদিন চলার পরই তা বন্ধ করে দেওয়া যাবে। বিএনপি সহিংস, প্রায় জঙ্গি দল একযোগে এমন প্রচারণা শুরু করা যাবে। ২০১৪-১৫ সালের মতো আবারও ইমেজ সংকটে পড়বে বিএনপি।
কিন্তু সরকারসহ আর অনেককে হতাশায় ডুবিয়ে, আক্রমণাত্মক সহিংস কর্মসূচির পথে হাঁটল না বিএনপি। কারাগারে যাওয়ার আগে বেগম খালেদা জিয়া কড়া নির্দেশনা দিয়ে গেলেন, কোনও প্রকার সহিংসতা নয়।

বিএনপি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বা নিতে পারলো? বিএনপি ২০১৪ সালের অবরোধের কর্মসূচি এবং তার প্রেক্ষিতে সহিংসতার বিষয়টির আত্মমূল্যায়ন করেছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, সব সহিংসতা, পেট্রোলবোমায় মানুষ তারা পোড়ায়নি। কিন্তু পুরো দায় নিতে হয়েছে। সরকারকে বিপদে ফেলা গেলেও সফল হওয়া যায়নি। সাময়িক বিপদে পড়লেও, কঠোরভাবে সহিংসতা দমন করে সফল হয়েছে সরকার। গুলি করে হলেও সহিংসতা দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনি বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছে। ফলে পুরনো সেই সহিংস কর্মসূচির ধারে কাছে দিয়ে যায়নি বিএনপি। এমন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বিএনপি নিয়েছে, যা প্রতিরোধ বা বাধা দেওয়ার যুক্তি খুঁজে পায়নি পুলিশ বা সরকার।

২. শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে, কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি দেয় বিএনপি। বিএনপি নেতাকর্মীরা হাতে কালো পতাকা নিয়ে জড়ো হয়েছিল, পল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। যুদ্ধক্ষেত্র বা প্রায় রণাঙ্গনের প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশ তা প্রতিরোধ করেছে।

প্রশ্ন হলো, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে, কালো পতাকা প্রদর্শন করা যাবে না কেন? সমাবেশের জন্যে পুলিশের অনুমতির বিষয়টি মেনে নেওয়া যায়। সেটাও সমতাভিত্তিক হওয়া দরকার। আওয়ামী লীগ অনুমতি চাইলেই পাবে, ছাত্রলীগের জন্যে অনুমতিরও দরকার হবে না। অনুমতি শুধু বিএনপি বা বিরোধীদের জন্যে। এমন আইন তো নেই, সরকার রীতি করে নিয়েছে।

বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার কোনও কারণ ছিল না। যদিও বড় রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি বা সমাবেশ মানে জনগণের চরম ভোগান্তি। বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে তো আর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়নি। কারণ, জনভোগান্তির উপলক্ষ সরকার বা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনই বেশি ঘটায়।

বিএনপি বা বিরোধীদের কর্মসূচির সময় সরকার হঠাৎ করে জনবান্ধব হয়ে ওঠে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা কালো পতাকা প্রদর্শনের জন্যে জড়ো হয়েছিলেন ফুটপাতে। সংখ্যা বাড়ায় তা রাস্তায় চলে আসে। যদিও তখন পর্যন্ত পুরো রাস্তা বন্ধ হয়নি। রাস্তা বন্ধ করা ঠিক নয়।কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাস্তা বন্ধ করাটাই সবচেয়ে স্বাভাবিক ঘটনা। রাস্তা বন্ধ করতে দেওয়া হবে না, এমন উদ্যোগ নিলে তা হবে প্রশংসনীয়। তা প্রয়োগ করতে হবে সব দলের ক্ষেত্রে। শুধু বিরোধীদলের জন্যে নয়।

৩. কালো পতাকা প্রদর্শনের নামে রাস্তা বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল, এ কারণে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।

কয়েকশ’ মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নামে পুলিশ, জলকামান- রঙ্গিন পানি- গরম পানির ব্যবহার করেছে। একজন কালো পতাকা প্রদর্শনকারীকে, সাদা পোশাকের পাঁচ সাতজন পুলিশ মাটিতে ফেলে গলা টিপে ধরেছে। সরকার প্রতিদিনই মুখে মুখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে ফেলে। যে আইনের শাসন মানে, একজন রাজনৈতিক কর্মীর গলা টিপে ধরবে সাতজন পুলিশ। যে আইনের শাসনে বাংলাদেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্র। কালো পতাকা প্রদর্শনের জন্যেও সেই রাষ্ট্রে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে। তা প্রযোজ্য হবে শুধু বিরোধীদলের ক্ষেত্রে, এবং বিরোধীরা অনুমতি চাইবে কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাবে না। রাস্তায় নামলেই গলা টিপে ধরা হবে।

৪. বাংলাদেশের রাজনীতিতে কৌতুককর কিছু উপাদান সব সময়ই থাকে। মন্ত্রিত্ব হারিয়ে হাছান মাহমুদ সেই স্থানটি গত কয়েক বছর দখল করে রেখেছেন। এখন তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। খালেদা জিয়া কক্সবাজার গেলেন। ওবায়দুল কাদের বললেন, অরাজকতা তৈরির জন্যেই খালেদা জিয়া সড়ক পথে গেছেন। কেন তিনি সড়ক পথে গেলেন? ঠিকই তো, খালেদা জিয়া কেন সড়ক পথে যাবেন! যেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি যান হেলিকপ্টারে!

কালো পতাকা প্রদর্শনে পুলিশি তাণ্ডবের পর ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে, ঘরের ভেতরে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করার উপদেশ দিয়েছেন। স্বৈরাচারী শাসনে তেমন নজিরই ছিল। ওবায়দুল কাদের কি স্বীকার করে নিচ্ছেন, এখন বাংলাদেশের মানুষ তেমন শাসনেই আছে?

৫. সরকার বিনাভোটের নির্বাচনে গঠিত হলেও, সরকারের পরিচয় তো গণতান্ত্রিকই। মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। আইন করে তা বন্ধ করা হয়নি। এখনকার আওয়ামী লীগের বক্তব্য, রায় দিয়েছে আদালত, সরকার নয়। আদালতের রায় মানতে হবে, আদালতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যাবে না।

কী চমৎকার বক্তব্য! আদালতের বিরুদ্ধে লাঠি মিছিলের কথা হয়তো মানুষ ভুলে গেছে। কিন্তু ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের প্রসঙ্গ তো মানুষ ভুলে যায়নি। আদালত, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের কথা কি আওয়ামী লীগ এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেল? জনগণ তো ভোলেনি। প্রধান বিচারপতিকে এত নাটক আয়োজন করে বিদেশে পাঠানো হলো। তার বিরুদ্ধে নাকি ১১টি সুনির্দিষ্ট গুরুতর অভিযোগ। সব অভিযোগ বক্তব্যে থাকল, বিদেশে পাঠানোর আগে পর্যন্ত। দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বিচার নয়, বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া! এর নামও আইনের শাসন।

৬. সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ার উদ্যোগ না নিলে, যত সময় যাবে তত বেশি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে হবে। পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম করে ক্ষমতায় হয়তো থাকা যাবে, জনসমর্থন পাওয়া যাবে না। জনসমর্থন ছাড়াও ক্ষমতায় থাকা যায়, এমন নজির পৃথিবীর বহু দেশে আছে, ছিল। কোনও কোনও কট্টর একনায়ক শাসিত দেশও সমৃদ্ধ হয়েছে। নজির আমাদের আশপাশেও আছে। সেসব দেশের একনায়কদের সময়ে আর্থিক অসততা বা অনিয়ম ছিল না। তাদের কারও জামানায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোনও ব্যাংক লুটপাট হয়ে যায়নি, নিয়ম করে প্রতি বছর দেশ থেকে ৭৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়নি। ৩০০ কোটি টাকার একটি ফ্লাইওভারের বাজেট ১২০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১৫০০ কোটি টাকা করে, ১২০০ কোটি টাকা চুরি করা হয়নি। লুটপাটকারীরা ক্ষমতা বলয়ের কাছাকাছি থাকার সুযোগ পায়নি।

কাগজের ‘উন্নয়ন’র গল্পের সঙ্গে দেশের সাধারণ জনমানুষের তেমন কোনও সম্পর্ক নেই। ক্ষমতা বলয়ের কাছের অল্প কিছু মানুষের আয় বাড়ছে, অনিয়ম- দুর্নীতি করে। দেশের অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষের আয় আরও কমছে। ‘উন্নয়ন’র এত গল্পের মাঝে সরকারি পরিসংখ্যানও তেমনটাই বলছে।

মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি জঙ্গি কায়দায় প্রতিরোধ করলে, সহিংসতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কৌশল কি তেমনটাই!

গোলাম মোর্তোজা

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক

শীর্ষ ২৫ ঋণ খেলাফীর কাছেই পাওনা ১০ হাজার কোটি টাকা

:: ব্যাংকিং খাতে শীর্ষ ২৫ ঋণখেলাপির কাছে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১০ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

তবে কমিটির পক্ষ থেকে শীর্ষ ২৫ ঋণখেলাপির নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

এ সময় বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক রিপোর্ট দেয়ার সুপারিশ করা হয় বৈঠক থেকে।

বৈঠকে জানানো হয়, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে কি কি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, কী উপায়ে সেগুলো দূর করা যায়, ঋণখেলাপি বন্ধে আইনের কি সংস্কার প্রয়োজন, উচ্চ আদালতের করণীয় ইত্যাদি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে ওই কমিটিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে জানানো হয়, কার্যকরী ও সুষ্ঠু শেয়ারবাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক সার্ভিলেন্স সিস্টেম সংযোজন এবং সুপারভিশন ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার ফলে শেয়ারবাজারের বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা নেই।

সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে নতুন জনবল নিয়োগ প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকায় নিয়মিত পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

এছাড়া দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নামে বেনামে নানা ধরনের সার্ভিস চার্জ আদায়, ক্রেডিট কার্ডে অতিরিক্ত সুদহার, সুপ্ত চার্জ আদায়সহ গ্রাহকদের নানা ধরনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে আগামী বৈঠকে প্রতিবেদন দেয়ার সুপারিশ করা হয় বৈঠকে। পাশাপাশি বাজারে চালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্ত্রণালয়কে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য নাজমুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ হোসেন এবং আখতার জাহান অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : যুগান্তর ।

প্রধানমন্ত্রীর একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়: রওশন

বিরোধী দলের নেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর একার পক্ষে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তারপরও উনি যে চেষ্টা করছেন এটা যদি জনগণ জানতে পারে তাহলে তারা শান্তি পায়। আমাদের দেশের মানুষের চাহিদা অনেক কম। কিন্তু আমরা কি সেটা পূরণ করতে পারছি? চালের দাম বেশি। এর সঙ্গে মাছ, মাংসের দাম অনেক বেশি। এখন মানুষ ভাতের সঙ্গে আলু ভর্তা খেতে পারে। কিন্তু ভর্তা দিয়ে কতদিন খাবে।

দশম জাতীয় সংসদের ১৯তম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে রওশন এরশাদ এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, অংক কষে কষে আমরা অনেক কিছু দেখাতে পারি। কিন্ত জনগণ দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে চায়। ব্যাংকিং খাতগুলোর কি অবস্থা তা সবাই জানেন। অর্থনীতির খাতে ধস নেমেছে। শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। অর্থমন্ত্রীর মতো এরকম যোগ্য মন্ত্রী থাকা অবস্থায় ব্যাংকে এত বড় ধরনের ধস নামলো কেন? শিক্ষা খাত ও শেয়ার বাজার দেশের জনগণের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গুরুত্ব সহকারে এ বিষয়গুলোর সমাধান করার আহবান জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

তিনি বলেন, শিক্ষা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ খাত। সেখানে দেখেন কিভাবে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অনেক কম অনুদান দেয়া হয়। এতে উদাসীন থাকলে শিক্ষার উন্নয়ন হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁস লেগেই আছে। সৌদি আরব থেকেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে। এ ধরনের অবস্থা দেশে বারবার কেন হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন করে শিক্ষা খাতে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কি হবে? এটা বন্ধ হবে কবে? সরকার কেন এটা বন্ধ করতে পারছে না? এখানে শিক্ষা মন্ত্রীকে যদি এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয় উনি কি জবাব দেবে? সরকার যদি এক্ষেত্রে না পারে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দিয়ে চেষ্টা করতে পারে। তারা কি এটা পারবে না? সাধারণ লোক তো প্রশ্নপত্র ফাঁস করে না। যারা প্রশ্নপত্র তৈরি করে তারা এটা ফাঁস করছে।

তিনি বলেন, দেশের জনগণ শান্তি চায়। শান্তিতে থাকতে চায়। আমাদের সেই শান্তি দিতে হবে। এটা করতে হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব এটা করতে হবে। জনগণের কাজ নেই বলে দেশে মাদকের বিস্তার লাভ করছে বেশি। এতে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এটা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ে এটা একটি বড় ধরনের দুর্যোগ বলে মনে করি। দেশের সমস্যাগুলে যদি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান করা যায় তাহলে আমরা এখনই উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে পারবো।

এসময় রওশন এরশাদ বলেন, দেশে কিছু কিছু বিষযে সমস্যা আছে। প্রধানমন্ত্রী অনেক স্নেহশীল নারী। মায়ের দরদ দিয়ে সবকিছু সমাধানের চেষ্টা করেন। সে কারনে আমি কিছু কথা বলি।

রওশন এরশাদ পদ্মাসেতুকে সরকারের উন্নয়নের মাইলফলক উল্লেখ করে বলেন, পদ্মা সেতু অবশ্য আমাদের অবকাঠামোগত বড় মাইলফলক। এটার কাজ শুরু হয়েছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এখন এর বরাদ্দ হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। এত টাকা বরাদ্দ কেন? কিছুদিন পর পর যদি বরাদ্দ বাড়ানো হয় তাহলে কি করে হবে?

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, টকশোতে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু তারা জানেন না যে আমরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে অনুসরন করছি। তাদের পার্লামেন্ট সিস্টেমে সরকারকে সহযোগিতা করে বিরোধী দল। কিন্তু তারা এটা না বুঝে বিরোধী দলের সমালোচনা করছে।

তিনি আরও বলেন, এই সংসদ প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। সবার মনে আছে কি অবস্থায় কোন সময় আমরা নির্বাচন করেছি। জাতীয় সংকট উত্তরনের জন্য আমাদের দলই তখন এগিয়ে এসেছিলো দেশ ও দেশের জনগণকে সাহায্য সহযোগিতা করতে। অতীতে যেসব সংসদ শেষ হয়েছে কোনবার কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়নি। এবার শান্তিপূর্ণভাবে সংসদ শেষ হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সরকার চায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে যেন অংশগ্রহণ করতে পারেন। নির্বাচনের মাঠে সবাইকে নিয়ে লড়াই করতে চায় আওয়ামী লীগ।

বুধবার রাজধানীর ওষুধ প্রশাসনের অধিদফতরের সম্মেলনক্ষে বাংলাদেশ এ্যাক্রেডিশন বোর্ড কর্তৃক ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন, ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট এম মোসাদ্দেক হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে এই উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান করতে জনগণ আগামীতে আবারও আওয়ামী লীগকেই ভোট দেবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারই আবার দরকার।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান করে আলোকিত বাংলাদেশ গড়ে তুলেছে। জঙ্গি উত্থান বন্ধ করেছে।  এক সময় বাংলাদেশ বাইরের দেশ থেকে ওষুধ আমদানি করতো। কিন্তু আজ আমাদের ওষুধ শিল্প দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে ১৫১টি দেশে ওষুধ রফতানি করছে।  বাসস

২৫ প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণ সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা

ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষ ২৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার ৬৯৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা (২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত)। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

আজ বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এসব প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা নিয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা যায়, শীর্ষ ২৫টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্সের খেলাপি ঋণ ৮৮৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের ৫৫৮ কোটি ৯ লাখ টাকা, জাসমির ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড ৫৪৭ কোটি ৯৫ লাখ, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস ৫২৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ৫১৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ঢাকা ট্রেডিং হাউস ৪৮৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা, আনোয়ার স্পিনিং মিলস ৪৭৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, সিদ্দিক ট্রেডার্স ৪২৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, ইয়াসির এন্টারপ্রাইজ ৪১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, আলফা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড ৪০১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, লিজেন্ড হোল্ডিংস ৩৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, হল-মার্ক ফ্যাশন লিমিটেড ৩৩৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল ৩৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, মুন্নু ফেব্রিক্স ৩৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স লিমিটেড ৩২২ কোটি ৪ লাখ টাকা, সাহারিশ কম্পোজিট টাওয়েল লিমিটেড ৩১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, নুরজাহান সুপার অয়েল লিমিডেট ৩০৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, কেয়া ইয়ার্ন লিমিটেড ২৯২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, সালেহ কার্পেট মিলস লিমিটেড ২৮৭ কোটি ১ লাখ টাকা, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড ২৭৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা, এসকে স্টিল ২৭১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, চৌধুরী নিটওয়্যার লিমিটেড ২৬৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, হেল্প লাইন রিসোর্সেস লিমিটেড ২৫৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা, সিক্স সিজন অ্যাপার্টমেন্ট লিমিটেড ২৫৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, বিসমিল্লাহ টাওয়েলস লিমিটেড ২৪৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, বৈঠকে খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে তা দূর করা, ঋণখেলাপি বন্ধে আইনি সংস্কারে করণীয় ঠিক করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে সংসদীয় কমিটি। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া খেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো কোন কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছে, তাদের পারিবারিক পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং আইনে দুর্বলতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। ব্যাংকগুলো বলে, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ আদালতে গিয়ে আবার অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেয়। এ জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও উচ্চ আদালতের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চিন্তা আছে সংসদীয় কমিটির।

এ ছাড়া কমিটির বৈঠকে শেয়ারবাজার নিয়েও আলোচনা হয়। আবদুর রাজ্জাক বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারত ও চীনের দুটি কনসোর্টিয়ামের বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে কমিটি।

আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য নাজমুল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, ফরহাদ হোসেন এবং আখতার জাহান বৈঠকে অংশ নেন।

ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার

কৃষিঋণ দেওয়ার বিনিময়ে নেওয়া ঘুষের টাকাসহ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের এক ঋণ কর্মকর্তাসহ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) তালেবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কৃষি ব্যাংকের বেগমগঞ্জ উপজেলার কাদিরপুর শাখার ঋণ কর্মকর্তা হাফিজ উল্যাহ ও নিরাপত্তাপ্রহরী আহছান উল্যাহ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ঘুষের আট হাজার টাকা জব্দ করা হয়। মো. তারেক নামের এক গ্রাহককে ৮০ হাজার টাকা কৃষিঋণ দেওয়ার বিনিময়ে তাঁরা ১০ শতাংশ হিসেবে ওই টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, কৃষি ব্যাংকের কাদিরপুর শাখার ঋণ কর্মকর্তা হাফিজ উল্যাহ দীর্ঘদিন ধরে কৃষিঋণ বিতরণের বিনিময়ে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ করে ঘুষ নিয়ে আসছেন। ব্যাংকের নিরাপত্তাপ্রহরী আহছান উল্যাহ এ কাজে মধ্যস্থতা করেন। এ বিষয়ে মো. তারেক নামের এক ঋণগ্রহীতা দুদকে লিখিত অভিযোগ করেন। এর ভিত্তিতে দুদকের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল আজ দুপুরে ওই শাখায় ওত পাতে।

সূত্র জানায়, বেলা আড়াইটার দিকে ঋণগ্রহীতা তারেক ৮০ হাজার টাকা ঋণের জন্য নিরাপত্তাপ্রহরীকে আট হাজার টাকা দেন। নিরাপত্তাপ্রহরী ওই টাকা ঋণ কর্মকর্তাকে দেন। এ সময় দুদকের কর্মকর্তারা দুজনকে হাতেনাতে আটক করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের সামনে নিয়ে যান। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে দুদক কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

ঘটনাটি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচালক তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ভুক্তভোগী গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে ঘুষের আট হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কৃষি ব্যাংকের নোয়াখালী আঞ্চলিক শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বিজয় কৃষ্ণ দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকের এক কর্মকর্তাসহ দুজন দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পল্টনের জামান টাওয়ারে আগুন

রাজধানীর পল্টন এলাকায় জামান টাওয়ারের ১০তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩ ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মিজানুর রহমান জানান, বিকেলে পল্টন এলাকার জামান টাওয়ারে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তিনটি ইউনিট পাঠানো হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমানে কোকেন পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য!

আর্জেন্টিনার গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমানে কোকেন পরিবহন করার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ান বিমানের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের কোকেন পাচার করা হয়েছে। যার ওজন ছিল প্রায় ৩৮৯ কেজি। এ কোকেন আর্জেন্টিনা থেকে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে পাচার করা হয়।

সংস্থাটির অভিযোগ, এতে আর্জেন্টিনা অবস্থিত রাশিয়ান দূতাবাসের কর্মকর্তারা জড়িত ছিল। এমনকি কোকেন পাচারের কাজে রাশিয়ার একটি সরকারি বিমানও ব্যবহৃত হয়।

বিপুলসংখ্যক কোকেনের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে আর্জেন্টিনাতেই। সে সময় রাশিয়ান দূতাবাস সংলগ্ন একটি স্কুলে কোকেনগুলোর অবস্থান প্রথম নজরে পড়ে কয়েকজন গোয়েন্দার। এরপর সেই কোকেনে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে দেয় গোয়েন্দারা। যেন কোকেনগুলো কোথায় যায় এবং কাদের সহায়তায় যায়, তা জানা যায়।

তবে কোকেনগুলো যে একেবারে রাশিয়ার সরকারি ফ্লাইটে উঠে যাবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি গোয়েন্দারা। শেষ ১২টি সুটকেসে ভরা কোকেনগুলো সোজা মস্কোতে গিয়ে পৌঁছায়।

সে ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০১৬ সালে। এরপর কোকেনের ওপর নজরদারির স্টিং অপারেশন চলতে থাকে গোয়েন্দাদের। এক বছর পর কোকেনগুলো মস্কোতে পৌঁছায়।

রাশিয়াতে পৌঁছানোর পর সেই কোকেনগুলো আটক করা হয়। এগুলো পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে রাশিয়ান পুলিশ। আটকদের মধ্যে দুজন রাশিয়ান দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা ও একজন পুলিশ সদস্য এবং দুজন সেই কোকেন সংগ্রহ করতে আসা ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজনকে দলনেতা বলে মনে করছে পুলিশ।

সুটকেসবন্দি কোকেনগুলো দূতাবাসের প্যাকেটে রাশিয়ার সরকারি প্লেনে ওঠার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে আর্জেন্টিনার গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরকারি ফ্লাইটে কোকেন পাচারের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এছাড়া কোনো কূটনীতিক নয় বরং দূতাবাসের কর্মচারীরা এ কাজে জড়িত বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে অনেকে অবশ্য এ ঘটনাকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরেকটি মার্কিন অপপ্রচার বলেও দাবি করছেন।

গত সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ কোকেন উদ্ধারের সম্পূর্ণ বিষয়টির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এর আগ পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। এ ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর এর সঙ্গে আরো ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে মনে করছে অনেকেই। মাত্র পাঁচজন ব্যক্তি কিভাবে এতগুলো কোকেন নিয়ে মস্কোতে পাচার করল তাও প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছে।