আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার দাবি, প্রত্যাবর্তনে কানাডাকে বিরোধিতা করার আহ্বান

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এতে ঠিক এই সময়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের যে কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করতে কানাডা সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গারা ফিরে গেলে তাদের নিরাপত্তায় ঘাতটি রয়েছে। প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সির উপস্থিতি নেই। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে অন্তর্বর্তীকালীন নতুন ক্যাম্পের আশঙ্কা রয়েছে। এ সব ক্ষেত্র উল্লেখ করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর প্রতি ওই আহ্বান জানিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কানাডা বিষয়ক পরিচালক ফরিদা ডায়িফ।

তিনি বলেছেন, শুধু শক্ত শক্ত কথা আর অর্থ দিয়ে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা যাবে না। এখনই সময় এ বিষয়ে কানাডার পদক্ষেপ নেয়ার। এতে তিনি কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অপরোধ আরোপ করতে। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যারা নৃশংসতা চালিয়েছে তাদের বিচার দাবি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। ১৯ শে জানুয়ারি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েব সাইটে ফরিদা ডায়িফ এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতি নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। এর প্রতিবাদে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে কানাডা। দিয়েছে উদার মানকিক সহায়তা। আগস্টের শেষভাগ থেকে কমপক্ষে সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এখানে আশ্রয় নিয়ে তারা বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচেছ। তবে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গা সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন  ট্রুডো সরকার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কিন্তু এই নৃশংসতার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচার নিশ্চিত করার কোনো দৃঢ় পদক্ষেপে তার অনীহা রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ক্রমাগত কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বিবেকবর্জিত অপরাধের নিন্দা জানিয়েছে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা। কিন্তু সেখানে নির্যাতনের শিকার মানুষদের জন্য ন্যায়বিচারের কোন দাবি নেই। বলা হয় নি ভবিষ্যতে মানবতার বিরুদ্ধে এমন নৃশংস নির্যাতনের বিরুদ্ধে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কানাডা ৫ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু অধিকতর জবাবদিহিতা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী সেনাবাহিনীকে নির্যাতন থামানোর জন্য চাপ দেয়ার বিকল্প হতে পারে না ওই ত্রাণ সহায়তা। ওই বিবৃতিতে মিয়ানমারে নিয়োজিত কানাডার রাষ্ট্রদূত কারেন ম্যাকআর্থুরের সমালোচনা করা হয়। তিনি নভেম্বরে ১২০ জন সরকারি কর্মকর্তা যোগ দিয়েছেন এমন একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে আলোচনা হয়েছে ‘ডাইভারসিটি ম্যানেজমেন্ট ইন দ্য এইজ অব গ্লোবালাইজেশন’ নিয়ে। মিয়ানমার সরকার যখন জাতি নিধনে ব্যস্ত তখন এমন সিম্পোজিয়ামে রাষ্ট্রদূরের অংশগ্রহণ নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। গত মাসে ২০১৭ সালের কর্মকা- সম্পর্কে একটি তথ্য প্রকাশ করে। তাতে মিয়ানমারে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নেতৃত্বকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। অন্য কোনো সময় হলে এটাকে একটি ফলপ্রসূ ইভেন্ট হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতো। কিন্তু সময়টা স্বাভাবিক নয়। কারণ, মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো ব্যাপকহারে নারী, মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। তারা জাতি নিধনযজ্ঞে মেতে উঠেছে। এ বিষয়গুলো প্রামাণ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অন্যরা। রাষ্ট্রদূত ম্যাকআর্থুরের স্বামী পিটার ম্যাকআর্থুরও কানাডার একজন রাষ্ট্রদূত। তিনি ইন্দোনেশিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন। পিটার ম্যাকআর্থুর জানুয়ারির শুরুতে টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন মিয়ানমার সমুদ্র সৈকতের। গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স নিশ্চিত করে বলেছে, তিনি সন্তানদের নিয়ে নতুন বর্ষবরণ করেছেন রাখাইন রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে। কিন্তু তাদের এই আনন্দযজ্ঞে অংশ নেন নি মিয়ানমারে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূত কারেন ম্যাকআর্থুর। তাই মিয়ানমারে যখন জাতি নিধন চলছে তখন সেখানকার সমুদ্র সৈকতে অবকাশ কাটাতে কানাডার রাষ্ট্রদূ ও তার স্বামী, যিনি একই রকম দায়িত্বে আছেনÑ তা থেকে এমন কোনো বার্তা দেয়া হয় না যে, মিয়ানমারে যা ঘটছে তা অস্বাভাবিক। এমনটা হতে পারে এটা কল্পনা করাও কঠিন। ফরিদা তার বিবৃতিতে আরো লিখেছেন, মিয়ানমার ইস্যুতে অক্টোবরে বিশেষ দূত বব রাই’কে নিয়োগ দেয়। এটাকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। এরপর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফরের ২ মাস পরে তিনি একটি অন্তর্বর্তী রিপোর্ট দেন। তিনি রাখাইন রাজ্যে প্রবেশের অনুমতি চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে সেই অনুমতি দেয়া হয় নি। তাই তার চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষায় না থেকে ট্রুডো সরকারের উচিত সামরিক বাহিনীর নৃশংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। ফরিদা ডায়িফ তার বিবৃতিতে আরো লিখেছেন, যদি মনে করা হয় বব রাই’কে রাখাইনে অবাধ প্রবেশাধিকার দেয়া হবে এবং সেই আশায় যদি থাকে কানাডা তাহলে তা হবে একটি ভুল। এক্ষেত্রে অং সান সুচি ও তার সরকারের সঙ্গে ‘ডেড-এন্ড ডিপ্লোম্যাসি’ চর্চা করতে সময় ক্ষেপণ করা উচিত হবে না কানাডা সরকারের। ফরিদা আরো লিখেছেন, কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের উচিত বিলম্ব না করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতায় জড়িত মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে টার্গেটেড অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা। এর মধ্যে থাকবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ। বিধিনিষেধ থাকবে সামরিক মালিকানাধীন উদ্যোগে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে মাত্রায় অপরাধ করা হয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে টার্গেটেড অবরোধ আরোপ করা গুরুত্বপূর্ণ। এটা এখন কমান্ড রেসপনসিবিলিটি অথবা অর্পিত দায়িত্ব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত কানাডা এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

সামরিক শক্তি বাড়াতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থব্যয় না করে সামরিক শক্তিবৃদ্ধির দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস মাটিস।

নতুন প্রস্তাবিত সামরিক নীতি ঘোষণার পর জেনারেল ম্যাটিস বলছেন, চীন বা রাশিয়ার মত পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হতে পারে- তাই তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে সামরিক শক্তি বাড়ানো উচিত। খবর- বিবিসির।

নাইন ইলেভেনের পর থেকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচালিত মার্কিন অভিযানকে আর মূল বিষয় হিসেবে দেখতে চায় না ট্রাম্প প্রশাসন।

নতুন প্রতিরক্ষা নীতি মার্কিন সামরিক নীতির বড় পরিবর্তন হিসাবে দেখা হচ্ছে।

জেমস ম্যাটিস বলছেন, “আমরা ক্রমেই রাশিয়া এবং চীনের মতো ক্ষমতাধর দেশগুলি থেকে হুমকির মুখোমুখি হচ্ছি। তারা স্বৈরাচারী মডেলের সাথে মিল রেখে একটি বিশ্ব তৈরি করতে চায় যা কিনা অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করবে।”

মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য আরো বরাদ্দ দেয়া আর অকারণ কাটছাঁট বন্ধের জন্য কংগ্রেসের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ম্যাটিস।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজ বলছেন, ”তাদের এই নীতি স্নায়ুযুদ্ধের সময়কালের মতো। এর ফলে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে হয়তো, কিন্তু টানাপড়েন শুরু হবে। একপ্রকার প্রক্সি ওয়ার শুরু হবে। আবার যেসব দেশগুলো সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রয়েছে, তাদের সাথে সম্পর্ক কি হবে, সেটাও প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ওয়াশিংটনের এমন নীতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পরিবর্তে সংঘর্ষের মাধ্যমে বিশ্বে তাদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

চীন একে স্নায়ুযুদ্ধের মানসিকতা বলে উল্লেখ করেছে।

বিজিএমইএর হটলাইনে অভিযোগ শূন্য

প্রচারের অভাবে কাজে আসছে না শ্রমিকদের জন্য করা হটলাইন বা অভিযোগ কেন্দ্র। শ্রমিকদের যেকোনো অভিযোগ শোনার জন্য তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ এই হটলাইন (০১৭৩০৪৪২২১১) চালু করলেও বেশির ভাগ শ্রমিক এ সম্পর্কে কিছু জানেন না।
গত পাঁচ বছরে এই নম্বরে ফোন করে কোনো শ্রমিক অভিযোগ জানাননি। অথচ বিভিন্ন জরিপে বলা হচ্ছে, তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকেরা, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অনেকেই কর্মক্ষেত্রে শারীরিক, মানসিক এমনকি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হচ্ছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বিচার পাবেন না ভেবেই তাঁরা কোথাও অভিযোগ করেন না। সেই সঙ্গে চাকরি হারানোর ভয় তো রয়েছেই। অন্যদিকে, বিজিএমইএ বলছে, অভিযোগ পাওয়া মাত্র তারা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পোশাকশিল্প কারখানার চার শ্রমিক প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। কিন্তু সে অনুযায়ী অভিযোগ করেন খুব কম। কারখানার কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও মজুরি সমস্যার বাইরে শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়া এই খাতের একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের ভাষায়, তাঁদের কথা শোনার কেউ নেই। এক শ্রমিক বলেন, ‘প্রতিদিনই কাজের খুঁত ধরে। কেউ কেউ যা-তা বলে গালি দেয়। অনেক সময় মারধরও করে।’

তাহলে অভিযোগ করেন না কেন? প্রশ্ন করলে এক শ্রমিক বলেন, ‘দেখা গেল, অভিযোগ করলাম কিন্তু বিচার পাইলাম না। উল্টা চাকরিই চইলা গেল। তখন কী করব?’

নির্যাতনের শিকার শ্রমিকেরা যেন অভিযোগ জানাতে পারেন, সে জন্যই হটলাইন চালু করে বিজিএমইএ। উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয়ভাবে শ্রমিকদের এসব অভিযোগ সম্পর্কে শুনে সে ব্যাপারে যেন ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তবে শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যেই এই বিষয়ে কোনো প্রচার নেই। শ্রমিকদের বেশির ভাগই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা এই হটলাইনের খবর জানেন না। যাঁরা জানেন, তাঁরাও অভিযোগ করলে কাজ হবে কি না, বিচার পাবেন কি না, সেই ভরসা পান না।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের পর কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের নানা অসন্তোষের বিষয় সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য হটলাইনে ফোন করার আহ্বান জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত ওই হটলাইনে শ্রমিকেরা অভিযোগ করেননি।

ওই হটলাইনে অভিযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিজিএমইএর অতিরিক্ত সচিব (শ্রম) রফিকুল ইসলাম গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত পাঁচ বছরেও নারী-পুরুষ কোনো শ্রমিকই এখানে কোনো অভিযোগ জানাননি।’

বিষয়টি নিয়ে প্রচারের অভাব রয়েছে কি না, তা জানতে রফিকুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর ২০১৩ সালে সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বিজিএমইএ এই হটলাইন চালুর ঘোষণা দেয়। তবে তৃণমূল পর্যায়ে হটলাইন প্রচারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে পোশাকশিল্প কারখানার নারী শ্রমিকদের নানা বেদনার কথা উঠে এসেছে। এতে নারী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে মৌখিক, শারীরিক ও যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়। আইসিডিডিআরবির সহায়তায় ‘মেজারিং দ্য অ্যাফেক্ট অব হাররেসপেক্ট: এন ইন্টারভেনশন অ্যাড্রেসিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট ফিমেল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ইন ফোর ফ্যাক্টরিজ অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকার চারটি কারখানার নারী শ্রমিকদের ওপর এই জরিপ চালানো হয়।

গবেষণায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশে পোশাকশিল্প কারখানা শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ নারী নানাভাবে হয়রানির শিকার হন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা কারখানার মধ্য ও নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার হাতে নির্যাতনের শিকার হন।

এত-সংখ্যক কর্মক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হলেও হটলাইনে কোনো নারী শ্রমিককে যোগাযোগ করার কথা শোনা যায়নি।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার দাবি করেন, পোশাকশিল্প কারখানাগুলোয় শ্রমিকেরা নানা চাপের মধ্যে কাজ করেন; বিশেষ করে নারী শ্রমিকেরা। তাঁরা কারখানায় মৌখিক, শারীরিক ও যৌন হয়রানির শিকার হন হরহামেশা। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ তো নিত্যনৈমিত্তিক। প্রথম আলোকে এই নেত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক নারী শ্রমিক কারখানায় হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানান। প্রকাশ্যে তাঁরা কিছু বলতে ভয় পান।’

এসব নিয়ে বিজিএমইএর হটলাইনসহ কারখানাগুলোয় কোনো অভিযোগ করা হয় কি না, তা জানতে চাইলে তাসলিমা আখতার বলেন, হটলাইন নিয়ে কোনো প্রচার নেই। তা ছাড়া এসব ক্ষেত্রে এত সহজে চাকরি চলে যায় যে বেশির ভাগই অভিযোগ করার সাহস পান না। আবার অনেকে ‘হয়রানি’ বিষয়টি সম্পর্কেও ভালো বোঝেন না। তাঁরা মনে করেন, কারখানায় কাজ করলে গালিগালাজ শুনতেই হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মতে, আগে ননকমপ্লায়েন্স কারখানাগুলোতে মধ্যপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে শ্রমিক লাঞ্ছনার কথা শোনা যেত। গত এক যুগে এ অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন ননকমপ্লায়েন্স কারখানার সংখ্যা হাতে গোনা। কারখানায় বায়ারদের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের অবস্থা বুঝতে হুটহাট পরিদর্শন করা হয়।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিক হয়রানির তথ্য পেলে কারখানাই চলবে না। নারী শ্রমিকদের বিষয় তো আরও সংবেদনশীল। তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের খারাপ ব্যবহার করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা আছে।’

শ্রমিকেরা চাকরি হারানোর ভয়ে কারখানায় অভিযোগ করেন না, এমনকি বিজিএমইএর হটলাইনেও যোগাযোগ করেন না—এর কারণ কী? জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আগের মতো পরিস্থিতি নেই বলেই হয়তো অভিযোগ কম। তাই হয়তো তাঁরা অভিযোগ করেন না। তবে কেউ অভিযোগ করলে তাঁদের চাকরি হারানোর ভয় নেই। এখন শ্রমিক সংগঠনগুলোও অনেক শক্তিশালী। শ্রমিকদের বিষয়টি খুব সচেতনভাবে খেয়াল রাখা হয়।

১০ বছরে দেড় লাখ ভূমিকম্প, নিহত সাড়ে ৪ লাখ

ভূমিকম্পে কাঁপছে পৃথিবী। গত ১০ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় লাখ ভূমিকম্পের আঘাতে প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

উইকিপিডিয়ায় গত ১০ বছরে বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে ২০০৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভূমিকম্পের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ১০ বছরে এক লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৫টি ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

আর এসব ভূমিকম্পের ফলে নিহত হন চার লাখ ৪৮ হাজার ৪৩২ জন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি হাইতিতে অনুভূত রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে। এতে তিন লাখ ১৬ হাজার মানুষ নিহত হন।

এ ছাড়া ২০০৮ সালের ১২ মে চীনের সিচুয়ান প্রদেশে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮৭ হাজার ৫৮৭ জন প্রাণ হারান। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১২ হাজার ৮৬০টি ভূমিকম্পে প্রায় এক হাজার ২৩২ জন, ২০১৬ সালে ১৪ হাজার ৪২০টি ভূমিকম্পে এক হাজার ৩৩৯ এবং ২০১৫ সালে ১৪ হাজার ৭৯৫টি ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৬৩৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।

২০১৪ সালে ১৫ হাজার ১২১টি ভূমিকম্পে ৭৭৫ জন, ২০১৩ সালে ১১ হাজার ৩৪১টির আঘাতে ১৫৩৮ জন, ২০১২ সালে ১২ হাজার ৫৪৮টির আঘাতে ৭২০ জন এবং ২০১১ সালে ১৫ হাজার ৭৯৮টির আঘাতে ২২ হাজার ৫৩ জন প্রাণ হারান।

এ ছাড়া ২০১০ সালে ১২ হাজার ৩০০টির আঘাতে তিন লাখ ২০ হাজার ৬২৭ জন, ২০০৯ সালে ৮ হাজার ৮৬২টি ভূমিকম্পে এক হাজার ৭৯০ জন, ২০০৮ সালে ১৪ হাজার ২৪০টিতে ৮৮ হাজার ১১ জন এবং ২০০৭ সালে ১৪ হাজার ৩৫০টি ভূমিকম্পে ৭১২ জন নিহত হন।

লেকের বরফ ঠাণ্ডা পানিতে পুতিনের গোসল পরিবর্তন ডেস্ক

:: লেকের বরফ ঠাণ্ডা পানিতে পুতিনের গোসল

সাইবেরিয়ার ঠাণ্ডার প্রভাবে রাশিয়ার তাপমাত্রা এখন মাইনাস ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। মানুষের চোখের পাতায় পর্যন্ত বরফ জমে যাচ্ছে দেশটির কোন কোন এলাকায়।

এমন তীব্র শীতের মধ্যে বরফজমা পানিতে খালি গায়ে ডুব দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তার এ কর্মকাণ্ড তাক লাগিয়ে দিয়েছে প্রচণ্ড শীতে বিপর্যস্ত রাশিয়ায় জুড়ে।

বৃহস্পতিবার অর্থোডক্স খ্রিস্টানদের ধর্মীয় উৎসব এপিফ্যানি উদযাপন উপলক্ষে দেশটির রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৪শ’ কিলোমিটার উত্তরে সেলিজার লেকের বরফ ঠাণ্ডা পানিতে ওই ডুব দেন পুতিন। সেখানে তাকে ঘিরে উপস্থিত ছিলেন খ্রিষ্টীয় ধর্মনেতারা।

রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পুতিনের এ গোসল এবং ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের দৃশ্য সম্প্রচার করে। এতে দেখা যায়, শীতের পোষাক পরিহিত অবস্থায় লেকের দিকে হেঁটে যান পুতিন। এরপর গায়ের লম্বা মোটা কোট এবং বুট জুতো খুলে পরে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে বরফজমা ঠাণ্ডা পানিতে নেমে পড়েন, সেইসাথে ডুব দিয়ে গোসল সাড়েন।

এরআগে প্রকাশ পাওয়া পুতিনের খালি গায়ে মাছ ধরা ও ঘোড়ায় চড়ার দুইটি ছবি আন্তর্জাতিক মাধ্যমে আলোচিত হয়েছিল। সূত্র: বিবিসি

মহানায়কের জন্মদিন

:: একজন ব্যক্তি, মাত্র একজন ব্যক্তি যে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে চিহ্নিত একটি দেশকে মাত্র ৫ বছরেই পাল্টে দিতে পারে, শক্ত ভিতে দাঁড় করাতে পারে। এটা কোন স্বপ্ন নয়, নয় রূপকথার কোন গল্প ; অতি বাস্তব একটি উপাখ্যান। আর সেই ক্ষণজন্মা মহানায়ক আর কেউ নন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম।
স্বাধীনতার পর যখন দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার কথা, দেশপ্রেম দিয়ে সদ্যস্বাধীন দেশের সীমাবদ্ধতা পূরণ করার কথা ; তখন শুরু হয় অনিয়ম আর লুটপাট! এর প্রেক্ষিতে ৭৪ সালে হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ! সারাবিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় হয় তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে!

কিন্তু মাত্র ৫ বছরেই কি এক জাদুর কাঠির স্পর্শে পাল্টে গেল সব!
দেশ হল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
এক ফসলা জমি দু’ফসলা এমনকি তিন ফসলায় পরিণত হল।
যেখানে কৃষি কর্মকর্তারা পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন না, সেখানে তিনি প্রমাণ করে দিলেন এদেশেও গম চাষ করে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব!
তিনি হাজামজা পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করেন।
প্রত্যেক বাড়িতে হাঁস- মুরগী, গরু- ছাগল পালতে বলেন।
বাড়ির আঙ্গিনা শাকসবজি চাষ করতে বলেন।
প্রত্যেক বাড়িতে ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছ লাগাতে বলেন।
নিজ হাতে কোদাল ধরে খাল খনন আর রাস্তা নির্মাণ করেন।
তিনি বয়স্ক শিক্ষা চালু করেন।
গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁতশিল্প উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন।
গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য পল্লী বিদ্যূতায়ন বোর্ড স্থাপন করেন।
গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থাপন করেন এলজিইডি।
বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান করার লক্ষ্যে জেলায় জেলায় স্থাপিত হয় ইয়ুথ কমপ্লেক্স।
শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থাপিত হয় শিশু একাডেমী।
শুরু হয় নতুন কুঁড়ি নামক প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান।
নারী শিক্ষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়।
পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে স্থাপন করেন বাংলাদেশ দুগ্ধ সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা)।
দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থাপন করেন ” বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন “।
স্থাপন করেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাসট্রিজ কর্পোরেশন।
ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ছিল পাট, চা এবং চামড়া।
তিনি নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেন।
যখন মানুষ এলসি কি বুঝত না, গার্মেন্টস শিল্প কি জানত না তখন
তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয় গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি।
শুরু হয় হিমায়িত চিংড়ীসহ নানা কৃষি ও কুটিরশিল্প পণ্য রপ্তানি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে শুরু করেন জনশক্তি রপ্তানি।
সারাবিশ্ব সফর করে বিভিন্ন উন্নয়ন মডেল প্রত্যক্ষ করে তা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণ করেন।
যে দেশের মানুষ রাষ্ট্রপতি দূরে থাক মন্ত্রী এমপিদের জীবন একবার দেখেছে কি না সন্দেহ, সেই দেশের মানুষ আবিষ্কার করল প্রেসিডেন্ট জিয়া তার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন!
মাইলের পর মাইল হেঁটে মানুষে সাথে কথা বলেছেন, কামার -কুমোর -তাঁতি -জেলে -কৃষক – শ্রমিকদের অসুবিধার কথা জানতে চেয়েছেন।
মন্ত্রী আমলা নির্ভর না হয়ে নিজেই উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিদিন ১৮ ঘন্টা পরিশ্রম করেছেন দেশের উন্নয়নকাজে।
তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলোর ক্ষেত্রে সর্বদা একটা কথা প্রচলিত আছে ” রাষ্ট্রপ্রধান যদি দেশপ্রেমীক এবং সৎ না হন, দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়!
ব্যক্তিজীবনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততা কিংবদন্তীতুল্য।
এত সাধাসিধে জীবন যাপন, নির্লোভ মনোভাব আর কঠোর সততা তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বজায় রেখে গিয়েছেন।
এই মহানায়কের জন্মবার্ষিকীতে জানাই লাখো সালাম।

লেখক : আশরাফুল আলম খান জুয়েল, রাজনীতিবীদ ।

স্বৈরাচারের হাতিয়ার বিচারক একজন মাকে শোকের দিনেও আদালতে রাখলো

:: ৭৩ বছর বয়সী একজন শোকাতুর প্রিয় কন্যা এবং মমতাময়ী মাতা কে যখন তাঁর জন্মদাত্রী মা এবং প্রিয় সন্তানের মৃত্যু দিবসেও আদালত কে ব্যবহার করে হয়রানি করা হয়, তখন বিচার ব্যবস্থার প্রতি আর কতটুকু আস্থা রাখা যায়? বিচারালয় থেকে যখন ন্যূনতম সূ-আচরন কিম্বা সৌজন্যবোধ না পাওয়া যায়, তখন সেখান থেকে সূ-বিচার পাওয়া যাবে এমনটা ভাববার বা প্রত্যাশা করবার সুযোগ কোথায়?

জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাষ্ট মামলাটি এখন শেষ পর্যায়ে। এ মামলার এখন যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন চলছে। ইতিমধ্যেই ‘ডিফেন্স লইয়ারগন’ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণ করেছেন যে, এটি একটি বানোয়াট, মিথ্যা ও হাস্যকর মামলা, যার সাথে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। অথচ এ ধরণের একটি ভিত্তিহীন মামলায় বিচার বিভাগ কে দিয়ে সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অবর্ননীয়ভাবে হয়রানি করে চলেছে।

মামলার শেষপর্যায়ে বিচারক ড. আকতারুজ্জামানের কঠোর অমানবিক আচরণ সম্পর্কে এ পর্যায়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হলোঃ

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বয়স এখন ৭৩ বৎসর। এই বয়সে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী, যিনি তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তাঁকে এ সপ্তাহে তিন বার (১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি ২০১৮) একটি অস্থায়ী আদালতে পূর্ন কার্যদিবস হাজির থাকতে বাধ্য করা হলো। বলা বাহুল্য যে, এই অস্থায়ী আদালত প্রাঙ্গনের অবকাঠামো মানসন্মত তো দূরের কথা – মহিলাদের জন্য কোন সাধারণ মানের ‘ওয়াশ রুমের’ও ব্যবস্থা এখানে নেই।

গত ১৮ জানুয়ারি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে তাঁর পক্ষে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আদালতকে বিষয়টি অবহিত করে ঐ এক দিনের জন্য আদালতের কার্যক্রম মুলতবী চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিচারক এ পর্যায়ে বিচার কার্যক্রম এক দিনের জন্য মুলতবীর আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে ঐ দিনের জন্য অব্যাহতি দিয়ে আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। বেগম খালেদা জিয়া বিচারকের অমানবিক আচরণ বুঝতে পারেন এবং তিনি যথারীতি আদালতে হাজিরা দেন।

বিচারক কোনরকম কথা বলার সুযোগ না দিয়েই পরবর্তী যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছেন ২৩, ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি ২০১৮। উল্লেখ্য যে, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু দিবস। সেদিনটিও তাঁকে বিশেষ আদালতে কাটাতে হবে। শুধু তাই নয়, এ সপ্তাহেও কার্য দিবসের পাঁচ দিনের ভিতর তিন দিনই তাঁর কাটবে বিচারকের কাঠ গড়ায়। এর চেয়ে অমানবিক নিপীড়ন আর কি হতে পারে?

সরকার প্রধান বিচার বিভাগ কে ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক আক্রোশ মেটাতে গিয়ে হয়তো ভুলে গেছেন একজন মানুষের প্রিয়জনের মৃত্যুর দিনটি কত বেদনাদায়ক, কত গুরুত্বপূর্ণ। উনি হয়তো ভুলে গেছেন, উনার স্বামীর মৃত্যুর পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগতভাবে ছুটে গিয়েছিলেন তাকে শান্তনা দিতে। শোকাতুর সরকার প্রধান কে জড়িয়ে ধরে শান্তনা দেবার সেই ছবি এখনো বিভিন্ন মিডিয়ায় পাওয়া যায়।

সরকার প্রধান হয়তো ভুলে গেছেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই উনাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন, উনার পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেবার পাশাপাশি কিস্তি পরিশোধ না করার কারণে বাজেয়াপ্ত হয়ে যাওয়া আজকের সুধাসদনও তিনি পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়ারই মহানুভবতায়। সেইসব মহানুভবতার প্রতিদান সরকার প্রধান দিচ্ছেন একজন ৭৩ বছর বয়সী শোকাতুর প্রিয় কন্যা এবং মমতাময়ী মাতাকে তার জন্মদাত্রী মায়ের মৃত্যু দিবসে এবং নাড়ী ছেঁড়া প্রিয় সন্তানের মৃত্যুদিবসে দোয়া খায়ের করার সুযোগ না দিয়ে আদালতে নিয়ে হেনস্তা করার মাধ্যমে!

এ কেমন নিপীড়ন, এ নির্যাতনের শেষ কোথায়? আর কত দিন বিচারের বানী নীরবে কাঁদবে? যা হোক, আদালতে যেহেতু বিচার নেই, বিচারক যেহেতু সরকারের আদেশে নিরুপায়, সেহেতু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ সব জুলুম নির্যাতনের বিচারের ভার দিয়েছেন জনতার আদালতে। দেশের আপামর জনসাধারনই একদিন এর বিচার করবে।

সূত্র : এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস  এর ফেসবুক থেকে ।

স্বাধীনতার ঘোষকের ৮২তম জন্মবার্ষিকী : ‘৭৬ সালের ৪ নভেম্বর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ দেন শহীদ জিয়া

বিশেষ রিপোর্ট : : ১৯ জানুয়ারী ২০১৮। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশের উন্নয়ন ও স্বার্থবিরোধীদের চক্রান্তে ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে শহীদ হন বাংলাদশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া। স্বল্প কর্মময় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিটি ক্রমেই সফল ও সার্থক ছিলেন জিয়াউর রহমান।
শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৫৩ সালে সে সময়ের পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এরপর নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ঘোষণার সময়টি শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানের জীবনে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনতার ঘোষণার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা জিয়াউর রহমান নিজেই লিখেছেন ১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ।

‘একটি জাতির জন্ম ‘ শিরোনামে জিয়াউর রহমান লেখা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় সে সময় সরকারি মালিকানাধীন অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’র বিশেষ সংখ্যায়। জিয়াউর রহমান লিখেন
….. ‘তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ। ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনো দিন ভুলবে না। কোনো-ন-দি-ন-না’। …….

১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমানের দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটি পরবর্তীতে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র এবং দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরপর কয়েকদিন প্রকাশিত হয়। বাংলাদশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখেন জিয়াউর রহমান। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী মানুষের একচ্ছত্র নেতা। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী তৎকালীন স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের উপর হামলা করার পরও শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেননি। তিনি ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে বসে থেকে পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে বিনা প্রতিবাদে আত্মসমপর্ণ করেন। এ অবস্থায় দিকনির্দেশনাহীন স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথমে নিজেই ড্রাফট করেন এবং নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী ঘোষণায় তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামোল্লেখ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, যাতে করে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানিরা বিশ্বাস না করে কিংবা শেখ মুজিবের পাকিস্তানিদের সঙ্গে চলমান আপসরফার আর কোনো সুযোগ না থাকে।

১৯৭২ সালে ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। এরআগে ১০ এপ্রিল গৃহীত মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল থেকে মুজিব নগর সরকারের প্রেসিডেন্ট হন শেখ মুজিব। তাই দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিয়াউর রহমান। ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাটি নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের নামে দিলেও পরিবর্তী ঘোষণায় ‘অন বিহাফ অফ শেখ মুজিব’ উচ্চারণ করলেও সেই ঘোষণাও জিয়াউর রহমান রহমান দিয়েছেন ‘অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে। অর্থাৎ একটি দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হলে যেই নিয়মে দিতে হয় ঠিক সেইসব নিয়ম মেনেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি। সশস্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তিনি বীরউত্তম। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান প্রথমে সেনাবাহিনীর কুমিল্লা ব্রিগেডের কমান্ডার ও পরে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ২৫শে আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ‘সিপাহী জনতার বিপ্লবের’ মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান।

১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাসে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লিগসহ সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনরায় স্বনামে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিতে ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ বিধি জারী করেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান সেই সময় সেনা প্রধানের পাশাপাশি অর্থ-স্বরাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। জিয়াউর রহমানের জারি করা ‘রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ বিধি ‘র সুযোগে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ চায়। আওয়ামী লীগের আবেদন মঞ্জুর করে জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগ দেশে স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ দেন শহীদ জিয়া। অর্থাৎ শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সাংবিধানিকভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেন আর জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন জিয়াউর রহমান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি একুশের পদক প্রবর্তন করেন।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি এ এস এম সায়েম স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অপারগতা করলে ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশের উন্নয়নে ১৯ দফা
কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। সেইসব কর্মসূচির পক্ষে জনমত যাচাইয়ে তিনি ১৯৭৭ সালের মে মাসে ‘হাঁ’ ‘না’ ভোটের আয়োজন করেন। এই গণভোটে জিয়াউর রহমানের কর্মসূচির পক্ষে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণের ভোট পড়ে।

১৯৭৮ সালের ৩রা জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াউর রহমান জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। ওই নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিরোধী রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী। নির্বাচনে ৭৬.৬৭ শতাংশ ভোট পান জিয়াওর রহমান এবং ২১.৬৩ শতাংশ ভোট পান জেনারেল ওসমানী। আর বাকী ১.৭০ শতাংশ ভোট পান অন্য প্রার্থীরা।

১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ১৯ দফা কর্মসূচি সামনে রেখে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিএনপি পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনবার সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এছাড়া দুইবার বিরোধীদল হিসেবেও সংসদে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি এখন গনতন্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে রাজপথের আন্দোলনে। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রকে গুম করে রেখেছেন বাংলাদেশে প্রথম গণতন্ত্র হত্যাকারী বাকশালের জনক শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা।

রিটকারী নেতাকে নিয়ে আলোচনায় বসছে বিএনপি

ঢাকা উত্তর সিটিতে মেয়র পদে উপ-নির্বাচন স্থগিতের দাবি নিয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়া দলীয় নেতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বিএনপি। আর কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদলের আয়োজনে ‘ছবিঘর’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ফখরুল।

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আলোচিত ভোট বন্ধ হয়ে গেছে যে দুইজনের রিট আবেদনে তাদের মধ্যে একজন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি রাজধানীর ভাটারা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কোষাধ্যক্ষও।

আতাউর রাজধানীর ভাটারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। তার এলাকাটি গত জুলাইয়ে ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত হয়েছে। আতাউর নিজেও এই এলাকা থেকে কাউন্সিলর পদে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপির সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় ছিলেন। বিএনপি তাকে সমর্থন দেয়ার কথাও জানিয়েছিল।

আতাউরের সঙ্গে উচ্চ আদালতে রিট করেছেন আরেক ইউনিয়ন বেরাইদের চেয়ারম্যান। তিনি আবার আওয়ামী লীগ নেতা। বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তিনি।

হাইকোর্ট ভোট তিন মাস স্থগিত করার পর থেকেই বিএনপি এর পেছনে সরকারের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছে। ভোট ‘ভণ্ডুলে’র জন্য আজও  ফখরুল দায়ী করেছেন সরকারি দলকেই।

বিএনপির নেতা যে রিট করেছেন তার বিষয়ে আপনারা কী সিদ্ধান্ত নেবেন-এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘এই ব্যাপারে আমরা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে আলাপ-আলোচনা করে আমরা পরে জানাব।’

এর আগে ফখরুল ভোট স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের যোগসাজস থাকার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিত পরাজয় জেনে সরকার যোগসাজোস করে ডিএনসিসি (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন) নির্বাচন স্থগিত করেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘এটা নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা। নতুন ইউনিয়নগুলোকে সিটিতে আনা হয়েছে তার সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি, ভোটার তালিকা নিশ্চিত করা হয়নি। এতেই প্রমাণিত হয়, নির্বাচন কমিশন যোগ্য নয়।’

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব জিয়াউর রহমানের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। জিয়াউর রহমানের শাসনামল ও মুক্তিযুদ্ধকালীন ৭১টি ছবি টাঙানো হয় সেখানে।

সেনা প্রধান থাকা অবস্থায় জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল নিয়ে সমালোচনা আছে আওয়ামী লীগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসে যারা দল করে তাদের কাছ থেকে গণতন্ত্রের শিক্ষা তিনি নেবেন না।’

তবে ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমান অবরুদ্ধ বাংলাদেশকে মুক্ত করেছিলেন, অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষকে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন।’

জিয়াউর রহমানকে ‘মহান’, ‘কিংবদন্তী নেতা’ ও ‘ক্ষণজন্মা পুরুষ’ আখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তার যে দর্শন, তার যে আদর্শ, সেগুলো অনুসরণ করে, ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা শপথ গ্রহণ করছি।’

এই প্রদর্শনীর আয়োজন করায় ছাত্রদলের প্রশংসা করেন ফখরুল। বলেন, ‘তাদের (ছাত্রদল) প্রতি আমরা আহ্বান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে আদর্শ, তার যে দর্শন, সেটি ছড়িয়ে দিতে হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে।’

‘জিয়াউর রহমানের কালজয়ী দর্শনে তাদেরকে দীক্ষিত করে একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে হবে।’

নখ কাটার সঠিক উপায়

নখ ত্বকের অংশ এবং আমাদের শরীরের অতি ক্ষুদ্র অংশ। এই নখ দিয়ে মেয়েরা অনেক স্টাইল করতে ভালোবাসেন। নখ বড় ও চিকন হয়ে গেলে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ অবস্থায় আসার আগেই নখ কেটে ফেলা উচিত।

কীভাবে নখ কাটবেন : অনেকেই নখ কাটতে গিয়ে বিপত্তি ঘটায়। নখ এত গভীর ও চিকন করে কেটে ফেলে যে নখের নিচের চামড়া বের হয়ে যায়। এতে রক্তও ঝরতে পারে। নখ কাটার আগে কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ হাত ও পা ভিজিয়ে রাখলে নখ নরম হবে। নখ কখনোই খুব চিকন ও গভীরে কাটা ঠিক না।

ধারালো নেইল কাটার ব্যবহার করবেন, কখনোই ব্লেড দিয়ে নখ কাটবেন না। নখ শুকিয়ে যাওয়ার পর নেইল শেপার দিয়ে পছন্দ মতো শেইপ করে নিন।

নখ ভেজা থাকা অবস্থায় কখনও নেইল শেপার ব্যবহার করবেন না। এতে নখ খাঁজ কাটা হয়ে যাবে এবং শুকানোর পর নখ অমসৃণ ও ভেঙে যাবে। নেইল শেপার দিয়ে এমনভাবে শেইপ করতে হবে যেন নখের মাথা মসৃণ হয়।

বাচ্চাদের নখ দ্রুত বাড়ে, তাই প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত নখ কেটে দিতে হবে। নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া, নখের রং পরিবর্তন হওয়া, নখে ফাঙ্গাস বা ছত্রাক হওয়া সমস্যায় অনেকেই ভোগেন।

রোগের শুরু থেকেই সঠিক চিকিৎসা দরকার, না হলে রোগী দীর্ঘদিন সময় ধরে এ সমস্যায় ভুগতে থাকে।

ত্বক ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ, আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট, ঢাকা