অনলাইন সাংবাদিকতা : খায়েশ বনাম পেশাদারিত্ব

:: আহমেদ জুয়েল
বাংলাদেশে অনলাইন গণমাধ্যমের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। বলতে গেলে এই গণমাধ্যমটি আঁতুড়ঘরের শেষ পর্যায়টি পার করছে মাত্র। কিন্তু এরইমধ্যে নতুন ধারার এ গণমাধ্যমের কপালে জুটেছে নানা ‘বদনাম’। অপেশাদারিত্ব ও আনাড়িপনা নিয়েও জমেছে কঠোর সমালোচনা। আছে একপেশে ও উস্কানিমূলক সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ, শ্লীল-অশ্লীল সংবাদ-ফিচার-ছবি নিয়েও আছে তর্কাতর্কি আর সাংবাদিকতার ‘এথিকস’ নিয়ে বুলি ছড়ানোর লোকের অভাব আগেও ছিল না, এখনো নেই।
জনপ্রতিনিধিসহ ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিরাও অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন সময়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এই ধারার গণমাধ্যমকে কঠোর নিয়মের মধ্যে রাখার কথাও তারা বলেছেন। এমনকি সরকারঘেঁষা সাংবাদিকরাও সে কথা সমর্থন করেছেন। শেষ পর্যন্ত তারা নীতিমালা তৈরিতেও হাত দিয়েছেন। তবে একসময় অনেক তোড়জোড় থাকলেও খসড়া নীতিমালা প্রকাশের পর নানা সমালোচনার মুখে তা আলোর মুখ দেখেনি এখনো। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এখন সে বিষয়ে আর কোনো কথাও বলেন না।
কিন্তু অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ কেন? পাঠকের সব ধরনের অভিযোগ কি সত্যি? প্রথম প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে স্বীকার করে নিতেই হবে, পাঠকের উত্থাপন করা সব ধরনের অভিযোগই সত্যি। তবে তা ‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে’ চাপানোর মতো অবস্থা আরকি। অপেশাদার পোর্টালগুলোর বদনামের পুরোটাই গিয়ে পড়ছে পেশাদার অনলাইনগুলোর ওপর। বিষয়টি অনলাইনের সব পাঠকের অবশ্যই জানা দরকার আর সমালোচনা যারা করেন, তাদের আরো বেশি করে জানা দরকার। ঢালাও অভিযোগ করে কখনো সমালোচনা হয় না। পাঠক যদি পেশাদার নিউজ পোর্টাল সম্পর্কে না জেনে ঢালাও অভিযোগ করতেই থাকেন, তাহলে নতুন যুগের নতুন এ সাংবাদিকতার ধারার সত্যিকার কর্মীদের বিরুদ্ধে অন্যায় করা হবে।
এখানে একটি প্রকৃত ও ‘ভয়াবহ’ তথ্য উত্থাপন করতে চাই আর তা হলো- বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা কমপক্ষে পাঁচ হাজার। এর মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং মোটামুটি পেশাদারিত্ব আছে এমন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা পাঁচ বা ছয়ের বেশি হবে না (টিভি ও দৈনিক পত্রিকার ওয়েবসাইট বাদে)। অর্থাৎ পাঁচ হাজারে পাঁচটা। শতাংশের হিসাবে তা ০.১ ভাগ। তার মানে হলো ৯৯.৯ ভাগ পোর্টালের পেশাদারিত্ব নেই। এই পোর্টালগুলো অন্য পোর্টালের সংবাদ নির্লজ্জভাবে চুরি করে কিছুটা পরিবর্তন করে বা হুবহু প্রকাশ করে থাকে। এগুলোতে কোনো বিনিয়োগ নেই। প্রয়োজনের তুলনায় নিজস্ব সংবাদকর্মী নেই। এদের একমাত্র মূলধন ওই চৌর্যবৃত্তি। মানে কপি এবং পেস্ট। কপি ঠেকানোর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে এ পোর্টালগুলোর জন্মের পরই মৃত্যু হতো। হয়তো জন্মই হতো না।
ওই ৯৯.৯ ভাগের দু’চারটাতে কিছুটা বিনিয়োগ থাকার কথা শোনা যায়। পেশাদারিত্ব নিয়েই সেগুলো এগোতে চায়। কিন্তু যোগ্য কর্মীর অভাবে সেগুলো এগোতে পারছে না। মালিক পক্ষেরও পরিকল্পনা আর লক্ষ্যের মধ্যে ঘাটতি থাকায় ভালো সংবাদ কর্মীরা সেখানে ভিড়তেও চাচ্ছেন না। অনেকের ধারণা, কয়েকটা ল্যাপটপ দিয়ে কয়েকজনকে বসিয়ে দিলেই একটা পোর্টাল চালানো যায়। এ জন্য শুরুর দিকে এ অনলাইন সাংবাদিকতাকে অনেকেই ল্যাপটপ সাংবাদিকতা বলে ব্যঙ্গ করেছেন। সংবাদ সংগ্রহের বিষয় সম্পর্কে আসলে তারা জানেন না কিছুই। অনেকেই এখনো জানেন, জেলা উপজেলা কিংবা প্রত্যন্ত এলাকার সাংবাদিকদের কোনো বেতন দিতে হয় না। একটা কার্ড দিলেই তারা চলতে পারে। কিন্তু সময় বদলেছে…।
অনেক প্রতিষ্ঠান গাঁটের পয়সা খরচ করে ওই খায়েশ পূরণের পোর্টাল চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন, ভবিষ্যতে ‘ভালো’ করার আশায়। কারণ তাদের উপলব্ধি- আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমই হবে অনলাইন গণমাধ্যম।
অনলাইন সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী ও কর্মী হিসেবে যেটুকু অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে বলতে পারি, অনলাইন নিউজ পোর্টালের সব পাঠকই যে অভিযোগ তোলেন তা কিন্তু নয় বরং অভিযোগকারীর সংখ্যা খুব একটা বেশিও নয়। যারা অভিযোগ করেন, তাদের একদল না বুঝেই তা করেন, অরেকদল বুঝে শুনেই করেন। এই ‘না বুঝে’ আর ‘বুঝে শুনে’ সমালোচনার বিষয়টি অনেক বড় বিষয়। কারণ ‘বুঝে শুনে’ সমালোচনার জন্য প্রথমেই বাংলাদেশে পেশাদার অনলাইন নিউজ পোর্টাল সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। আগেই বলেছি, দেশে অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। তাহলে এটা মনে করা কি ঠিক হবে যে সব পোর্টালই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করবে! দেশে কাগজের দৈনিক পত্রিকার সংখ্যাও হাজার তিনেকের কম নয়। শুধু রাজধানীতেই বোধহয় শ তিনেক দৈনিক কাগজ বের হয়। এর সব সংবাদ কি পাঠযোগ্য? অবশ্যই না। কাগজের পত্রিকার বিরুদ্ধে পাঠক কি ঢালাওভাবে অভিযোগ তোলেন? তোলেন না। তাহলে অনলাইন নিউজ পোর্টালের ক্ষেত্রে কেন তোলা হয়?
এখানে একটি কারণ স্পষ্ট আর তা হলো ১০-১৫ বা ২০টা কাগজ কিনে পড়ে সংবাদের মান যাচাই করা কোনো পাঠকেরই সম্ভব নয়। পাঠক ইচ্ছেমতো নিজের পছন্দের কাগজ বেছে নেন। তাছাড়া একজন পাঠক যে কাগজটি পড়েন, তিনি সারা বছর ওই কাগজের মধ্যেই থাকেন।
কদাচিৎ অন্য কাগজ হয়তো পড়েন। অনেক পাঠক অবশ্য একাধিক কাগজ পড়েন। কিন্তু অনলাইন নিউজ পোর্টালের ক্ষেত্রে যেটা হয় তাহলো, ইচ্ছে হলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে পোর্টাল থেকে পোর্টালে ঘুরে একটা নিউজ যাচাই করে নেয়া যায় আর ফেসবুকে লাইক দেয়া থাকলে সব পোর্টালের নিউজ না চাইলেও সামনে চলে আসে আর তাতেই একশ্রেণির পাঠক বুঝে যান কারা বস্তুনিষ্ঠ, কারা একপেশে আর কারা অপেশাদার।
কিন্তু অখ্যাত কোনো পোর্টালের উস্কানিমূলক বা অনৈতিক কোনো সংবাদ পড়ে যারা অনলাইন সাংবাদিকতার চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করেন, তারাই না বোঝার দলে। কারণ তারা নির্দিষ্ট পোর্টালের নামে অভিযোগ না করে অনলাইন গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপান।
সমালোচনা করার আগে পাঠককে অবশ্যই জানতে হবে- খায়েশ আর পেশাদারিত্ব এক জিনিস নয়। অন্যান্য গণমাধ্যমের মতোই অনলাইন গণমাধ্যমেও বিষয়গুলো আছে। কেন আছে সে বিষয়টিও অনেক পাঠক জানেন। বলা হয়ে থাকে- রাষ্ট্র যদি গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরে তাহলে যেমন গণমাধ্যম নষ্ট হয়ে যায়, ঠিক তেমনি রাষ্ট্র যখন যারে তারে গণমাধ্যমের মালিক হওয়ার ঢালাও সুযোগ দেয়, তখনো গণমাধ্যম নষ্ট হয়ে যায়। নিম্ন রুচির লোকজনও গণমাধ্যমের মালিক বনে যায়। তারা বাজারে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে আর সেই দুর্গন্ধের দায় বইতে হয় ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকেও।
টিভি স্টেশন করার জন্য সরকারের অনুমতি লাগে। যদিও রাজনৈতিক বিবেচনায় তা দেয়া হয়, তারপরও একটা অনুমতির দরকার হয়। পত্রিকা করতে গেলেও রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। কিন্তু ‘তুঘলকি’ একটি বিষয় হলো-বাংলাদেশে যে কেউ ইচ্ছে করলেই একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের মালিক বা সম্পাদক হয়ে যেতে পারেন। এ জন্য কোনো অনুমতিরও প্রয়োজন পড়ে না আর পোর্টালগুলো কী প্রকাশ করবে না করবে তার কোনো জবাবদিহিতার ব্যাপারও নেই। এর ফলে ৯৯.৯ ভাগের অরুচি, অপসাংবাদিকতা, অশ্লীলতা বা উস্কানির দায় বহন করতে হচ্ছে ০.১ ভাগ নিউজ পোর্টালকে। কারণ ওই গরিষ্ঠসংখ্যার অনলাইনগুলোকে মানুষ চেনে না। চেনে লঘিষ্ঠসংখ্যার পোর্টালগুলোকেই।
কিন্তু অভিযোগের বেলায় ওই ‘বেয়াদব’ ‘চোর’ ‘দালাল’ পোর্টালগুলো নাম না নিয়ে অনলাইন গণমাধ্যমের শ্রাদ্ধ করা হয়। দেশে-বিদেশে বেশ কয়েক ধরনের বাংলা অনলাইন নিউজ পোর্টাল আছে। মোটা দাগে বলা যায়- ১. মূল ধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল ২. খায়েশ পূরণের নিউজ পোর্টাল। এই খায়েশ পূরণের নিউজ পোর্টালগুলোর কারণেই অনলাইন গণমাধ্যমের গায়ে দুর্নাম লেগে গেছে আঁতুড়ঘরেই।
আবার খায়েশ পূরণের পাঁচ ধরনের পোর্টালের নাম বলা যেতে পারে। ১. ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর মতাদর্শ প্রকাশের পোর্টাল ২. শখের পোর্টাল ৩. প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর পোর্টাল ৪. ধান্দাবাজির পোর্টাল ও ৫. প্রেস্টিজ প্রদর্শনের পোর্টাল।
এসব নিউজ পোর্টালের সংবাদ পড়েই পাঠক বিভ্রান্ত হন। বিরক্ত হন আর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হিসেবে পুরো অনলাইন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে। পাঠকের জানা দরকার তা হলো- ডেমেইনের দাম খুবই কম হওয়ায় যে কেউ একটি ছোট আকারের অনলাইন পোর্টাল তৈরি করে নিতে পারেন। বছরে একাকালীন একটা অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তাও খুব সামান্য। তাই অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রকাশক-সম্পাদক বনে গিয়ে নিজেকে জাহির করার একটা প্রবণতা অনেকের মধ্যেই আছে। তিনি বন্ধুমহলে বলতে পারেন, আমার একটি পোর্টাল আছে দেইখো… আমি ওইটার সম্পাদক এবং প্রকাশক। খোঁজ নিলে দেখা যাবে ওনার কোনো সংবাদ কর্মী নাই। একটি পেশাদার পোর্টাল চালাতে যে ইন্টারনেট বিল আসে, মাসে সেই টাকা খরচ করারও সাধ্য ওনার নাই। অবসরে উনি সংবাদ চুরি করে নিজের পোর্টালে আপলোড করেন অথবা একটু টাকাওয়ালা হলে দু’চারজন ছেলেকে রেখে নিউজ চুরি করে কীভাবে আপলোড করতে হয় তা শিখিয়ে দেন আর তা চলতে থাকে অনলাইন গণমাধ্যমের তকমা নিয়ে। হিট বাড়ানোর জন্য এসব অনলাইনেই আপ করা হয় বিতর্কিত সংবাদ, কুরুচিপূর্ণ ছবি।
ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর মতাদর্শ প্রকাশের অনলাইন পোর্টালগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কোনো প্রশ্নই আসে না। এগুলোও চলে অন্যের সংবাদ চুরি করে। যে সংবাদ তাদের মতাদর্শের সঙ্গে যায়, তারা শুধু সেসব সংবাদই প্রকাশ করে। অনেক সময় তারা একটি সংবাদকে ঘুরিয়ে দিয়ে নিজেদের মতো করে প্রকাশ করে থাকে। এতেই সাধারণ পাঠক বিভ্রান্তিতে পড়ে।
শখের নিউজ পোর্টালের মধ্যে নিজেকে জাহির করার একটা ব্যাপার আছে। এগুলোর কোনো অফিস বা সংবাদকর্মী নেই। একজন ব্যক্তি অথবা কয়েক বন্ধু মিলে এসব নিউজ পোর্টাল চালায়। হাতে সময় পেলেই তারা কিছু সংবাদ আপ করে থাকেন সাইটটি আপডেট রাখতে।
কিছু পোর্টাল আছে যেগুলো রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর কাজ করে সব সময়। এগুলোর মধ্যে দু’চারটির অফিস থাকলেও দু’চারজন কর্মী অন্যের সংবাদ চুরি করে পোর্টাল সচল রাখেন। অনেক পোর্টালের নিচে অফিসের ঠিকানা থাকলেও ওই ঠিকানায় আসলে কোনো অফিসই নেই, এমন প্রমাণ শত শত আছে আর ধান্দাবাজির নিউজ পোর্টালের কথা বলতে গেলে শুরুতেই বলতে হবে, এগুলোর বেশিরভাগের মালিক তথ্য-প্রযুক্তি জগতের লোক। তারা বিভিন্নভাবে এসব পোর্টাল থেকে ইনকামের পথ খোঁজেন। ইনকামের জন্য পাঠক বাড়ানো দরকার আর পাঠক বাড়াতে তারা হেন কোনো কাজ নেই যা করেন না। অনেক বানোয়াট, অসত্য ও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে যা অনৈতিক তাও এরা প্রকাশ করে থাকে।
অনেকে আবার ব্যক্তিগত প্রভাব আর নিজের ‘দাম’ বাড়ানোর জন্য পোর্টালের মালিক-সম্পাদক হয়ে গেছেন আর ওই প্রভাব খাটিয়ে তারা অনৈতিক কাজের মাধ্যমে নিজে লাভবান হওয়ার চেষ্টাও তাদের আছে। এদেরও একমাত্র পুঁজি চৌর্যবৃত্তি।
অল্প-বিস্তর টাকাওয়ালা কিছু মানুষও শুধু প্রেস্টিজ প্রদর্শনের জন্য অনলাইন পোর্টাল খুলে বসেছেন। তারা আসলে জানেনও না, কেবল পোর্টাল খুলে বসলেই হয় না, এর জন্য সংবাদকর্মী লাগে, তাদের বেতন দিতে হয়, আধুনিক সাংবাদিকতা জানতে হয়, একটা অফিস লাগে…।
খায়েশ পূরণের পোর্টালগুলো সম্পর্কে এই মুহূর্তে কারো কিছু করার নেই। সংবাদ চুরির বিষয়ে কারো কাছে অভিযোগ জানানোরও কোনো যুৎসই জায়গা বা উপায় নেই। তাই একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে বসার আগে কিছু শর্ত মানার বাধ্য বাধকতা জরুরি। তাহলেই কেবল খায়েশ পূরণের পোর্টালগুলো তলিয়ে যাবে অস্তর্জালের গহ্বরে। আবর্জনামুক্ত হবে আমাদের অনলাইন সাংবাদিকতা।
বাংলাদেশে আনলাইন সাংবাদিকতার শুরুটা ২০০৫ সালে হলেও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা না থাকায় ২০০৯-১০ সাল পর্যন্ত এ মাধ্যমের পাঠক ছিল হাতে গোনা। এরপর মানুষের হাতের নাগালে সহজে ইন্টারনেট আসতে থাকে। ফলে এ মাধ্যমের পাঠকও বাড়তে থাকে আর এ সময়ে কাগজের পত্রিকার চেয়ে অনলাইনের পাঠকই বেশি।
দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা আর যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের সবাই ফেসবুক ব্যবহার করেন, আর যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন তারা সবাই কোনো না কোনোভাবে অনলাইন নিউজ পোর্টালের পাঠক। কারণ ফেসবুক খুললেই কোনো না কোনোভাবে একাধিক নিউজ পোর্টালের লিংক এসে হাজির হয়।
তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে যতই সময় গড়িয়ে যাচ্ছে, মানুষ ততই সহজ উপায়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। মানুষের সে চেষ্টার সঙ্গে চলতেই আসলে অনলাইন সাংবাদিকতার শুরু। পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ কাগজের পত্রিকা কেনা কমিয়ে দিয়েছে। এরইমধ্যে কয়েকটি দেশে কয়েকটি কাগজের দৈনিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি মানুষ টিভি দেখাও কমিয়েছে। গত বছর বিবিসি ১০ হাজারের মতো কর্মী ছাঁটাই করেছে। কারণ মানুষ এখন আর আগের মতো টিভি দেখছে না বাসার ক্যাবল লাইন কেটে দিচ্ছে, ফলে বিবিসির আয় কমেছে।
এমন অবস্থায় অনলাইন গণমাধ্যমকেই ভবিষ্যতের নির্ভরশীল গণমাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাঠক সচেতন হচ্ছে। একটা সময় আসবে, যখন অনলাইনের বাইরে আর কোনো কিছুরই প্রয়োজন বোধ করবে না কেউ।
আমাদের দেশে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের অনেকেই এখনো অনলাইন সাংবাদিকতাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। খায়েশ মেটানোর পোর্টালগুলোর সংবাদের মান আর বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে তারা সন্তুষ্ট হতে না পেরে হয়তো অনলাইন নিউজপোর্টাল নিয়ে অবজ্ঞার সুরে কথা বলেন এখনো। আমি মনে করি, তারা না বোঝার দলে। এ গণমাধ্যমের কর্মীদের এখনো যথেষ্ট মূল্যায়ন করেন না সরকারের অনেক মন্ত্রী-আমলা। টিভি সাংবাদিকরা মাইক এগিয়ে ধরলেই তারা কথা বলে ওঠেন, কিন্তু অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিকদের কাছ থেকে তারা দূরে থাকার চেষ্টা করেন। তবে তাদের ভুল ধারণা ভাঙা শুরু হয়েছে। অনেক কর্তামশায়ই এখন পেশাদার পোর্টালগুলোতে এসএমএস পাঠিয়ে নিজের সংবাদের বিষয়ে জানতে চান। সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করেন।
বিজ্ঞাপনদাতারাও বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্র হিসেবে অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোকে গৌন অবস্থায় রেখেছে। ফলে পেশাদার পোর্টালের বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য যে পরিমাণ অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জন করা প্রয়োজন অনেক পোর্টালই তা না পেরে অফ লাইনে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
এ রকম চতুর্মখী সমস্যার মধ্যেও নতুন দিনের নতুন গণমাধ্যম আলোর পথে ছুটছে। খায়েশ পূরণের আবর্জনাগুলো পথে বাধার সৃষ্টি করছে বলে এ পথে একটুখানি বেশি পরিচর্যার দরকার। এর অংশ হিসেবে পূর্ণ সেটআপ ছাড়া নিউজ পোর্টালের অনুমতি না দেয়ার আইনও হওয়া দরকার। তাহলে আর ব্যাঙের ছাতার মতো পোর্টাল গজাবে না। মানুষের মধ্যে ছড়াবে না অবিশ্বাস, অস্বস্তি কিংবা আশঙ্কার বিষাক্ত বাতাস। হয়তো সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন সংবাদের জন্য মানুষ অনলাইনকেই প্রাধান্য দেবে। বুঝে নেবে পেশাদারিত্ব আর খায়েশ পূরণের নিউজ পোর্টাল কাকে বলে। মানবকণ্ঠ

শহীদ জিয়া বীর উত্তম ছিলেন যুদ্ধাপরাধী : বয়ানে মিথ্যুক হাসিনা

বিডিটাইমস রিপোর্ট : : যশোর ঈদগাহ মাঠের জনসভায় রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকসাই শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী’ । শেখ হাসিনা তার ভেতরের কথাটা আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি। পাকিস্তান ভাঙার একটা ক্ষোভ সবসময়ই শেখ মুজিবের ছিল। শেখ মুজিবের মেয়ে হিসাবে তার পিতার স্বপ্নভঙ্গের জন্যবিভিন্ন সময়ে জিয়াউর রহমানের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান শেখ হাসিনা।
শেখ মুজিব কখনোই পাকিস্তানের বিভক্তি চাননি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান আর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। সুতরাং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভাঙার কারণে শেখ হাসিনার চোখে জিয়াউর রহমান ‘যুদ্ধাপরাধী’ এটাই স্বাভাবিক। শেখ মুজিবের স্বপ্নের ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান ভাঙার অপরাধে জিয়াউর রহমান অবশ্যই ‘যুদ্ধাপরাধী’ । জিয়া যুদ্ধাপরাধী কারণ এটি তিনি যুদ্ধ শুরু না করলে পাকিস্তান দুই ভাগ হতোনা।

ইতিহাস সাক্ষী, শেখ মুজিবের আন্দোলন ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের জন্য। তিনি চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের শাসক হতে। এ কারণে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কিংবা ২৫ মার্চেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব । এমনকি ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদাররা গণহত্যা শুরু করলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহণ করেননি বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমপর্ণ করেন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর কাছে।

অপরদিকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের উপর হামলা শুরু করলে তখনকার তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট ‘ বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সময় নষ্ট করে নিজেকে অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেই ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানী দখলদারবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা বোনের সম্মানেই বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামে জিয়াউর রহমান নিজে একটি নিবন্ধ লিখেন। এতে তিনি লিখেন….

” সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশে একটি ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলাম। ….. আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদেরকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা জানিয়ে নির্দেশ দিলাম স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিল। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম।

আর লিখেন .. .. .. ” তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল। রক্ত আঁখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটা দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে, ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনো দিন ভুলবে না। কো-ন-দি-ন না”।

জিয়াউর রহমানের নিজের এই লেখায়ও স্পষ্ট, তিনি ২৬ মার্চই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণাটি তিনি নিজেই ড্র্রাফট করেছেন। নিজের মত করেই দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পর পর কয়েকদিন প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং, ঐতিহাসিক সত্য হলো, জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তাদের চোখেই জিয়াউর রহমান ‘যুদ্ধাপরাধী’ যাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে শেখ হাসিনা ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ বাস্তবতা হলো, সারাজীবন পূর্ববাংলার স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক সময় মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি নেতৃত্ব গ্রহন করতে বার্থ হয়েছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও রহস্যময়। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পরও পাকিস্তান থেকে শেখ মুজিবের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফেরা ছিল বিতর্কিত। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারীশেখ মুজিব স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরেছিলেন পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে। যে কোন যুক্তিতেই হোক, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার পর অন্য দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করা মানে আইনের দৃষ্টিতে তিনি ওই দেশেরই নাগরিক।

বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পরও বিনাবাক্য ব্যয়ে সজ্ঞানে পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করে শেখ মুজিব পাকিস্তানের নাগরিকত্ব কবুল করেছেন। এটাই আইনের কথা।

অতএব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর তার নাগরিকত্ব আইনের দৃষ্টিতেই বিচার্য।

একজন পাকিস্তানী নাগরিক কেমন করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন শেখ মুজিব সেই প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরী ।

অর্থমন্ত্রীকে ড. কামাল ‘হীরক রাজার দেশের মন্ত্রী হয়েছেন?’

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণফোরামের কর্মসূচি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর। ছবি: হাসান রাজা।
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণফোরামের কর্মসূচি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর। ছবি: হাসান রাজা
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে উদ্দেশ করে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘নিজে ভুল করে গিয়েও সব ঠিক, সব ঠিক! আপনারা কি হীরক রাজার দেশের মন্ত্রী হয়েছেন?’

রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আজ শুক্রবার বিকেলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণফোরামের কর্মসূচি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আট হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। সে ব্যাপারে তদন্ত হলেও ফলাফল সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। ঘটনা ঘটার পর জনগণ জানতে পারছে যে ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক লুটপাটে যাঁরা দায়ী, তাঁদের সামনে আনা হচ্ছে না।

অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বয়স হলেই আবোলতাবোল বলতে হবে নাকি? বয়সের দোহাই দিয়ে দায়িত্ব এড়ানো যায় না। সংবিধানের কোথাও লেখা নেই যে মন্ত্রীদের কাজ হলো শুধু “সব ঠিক, সব ঠিক” বলা।’

বর্তমান সংসদের বেশির ভাগ সংসদ সদস্যই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, অনির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের দায়িত্ব নিয়েছেন। সেই সম্পদ উধাও হয়ে যাওয়ার পর, ওই ব্যাপারে জনগণকে জানানোরও কোনো আগ্রহ নেই। এ ধরনের দুঃসাহস ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন জনপ্রতিনিধিরা। দায়িত্ব থাকলে কিছু কর্তব্য থাকে, জবাবদিহিও থাকে।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, হত্যা-গুমের মাধ্যমে ভীত করার অপচেষ্টা চলছে। গুম হয়ে কেউ চার দিন, আবার কেউ চার মাস পরে ফেরত আসছে। ফেরত আসার পর সবাই নিশ্চুপ থাকছে। কোনো সভ্য দেশে এসব হতে পারে? রাষ্ট্রের এ ব্যাপারে জবাবদিহি করার আছে।

আলোচনা সভায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় উত্থাপিত রাজনৈতিক প্রস্তাব পড়ে শোনানো হয়। এ প্রস্তাবে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির লক্ষ্যে জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় করার কাজ শুরুর আহ্বান জানানো হয়। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, এর মূল লক্ষ্য হলো গণজাগরণ সৃষ্টি এবং জনগণকে সংগঠিত করা।

গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মিন্টু বলেন, বর্তমানে পত্রিকাগুলোর টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে। সরকারের নির্দেশিত পথে পত্রিকা, সাংবাদিক ও টেলিভিশনকে চলতে হয়। এখন প্রত্যেকটি জিনিস মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষে। দেশে লুটপাটের রাজত্ব চলছে।

সভাটি সঞ্চালনা করেন গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশতাক আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, আবদুল আজিজ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর প্রমুখ। সভায় গণফোরামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

গুম নিয়ে জয়ের সাফাই

:: ‘গুম’ বিএনপির নাটক মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, তথাকথিত ‘গুম’ হওয়াদের ফেরত পাওয়া গেলে তাদের এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া উচিত। রোববার নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে প্রায় পাঁচ মাস নিখোঁজ থাকার পর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাদাত আহমেদের শনিবার গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টিও ইঙ্গিত করেন।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের ফেসবুক পোস্টটি তুলে দেয়া হলো-
আরেকজন বিএনপি কর্মী যিনি নাকি ‘গুম’ হয়েছিলেন তাকে পলাতক অবস্থায় খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। ফরহাদ মাজহার ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ভুয়া রিপোর্ট ফাইল করার জন্য মামলা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আসলে এই ‘গুম’ বিএনপির একটি নাটক। যার মাধ্যমে তাদের নেতাকর্মীরা, যাদের বিরুদ্ধে আছে অগ্নিসন্ত্রাসের বিভিন্ন মামলা, তারা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য গা ঢাকা দেন। কিন্তু সেই উছিলায় বিএনপি অসত্যভাবে দাবি করেন তাদেরকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গেছেন। এর মাধ্যমে তারা আমাদের সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করেন। যখনই এই ধরনের তথাকথিত ‘গুম’ হওয়াদের ফেরত পাওয়া যাবে, তাদের সকলের ও তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ভুয়া পুলিশ রিপোর্ট এর মামলা হওয়া উচিত।
উৎসঃ poriborton

সুপারমুন দেখা যাবে কাল

আগামীকাল অর্থাৎ নতুন বছরের প্রথম রাতে বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকবেন পৃথিবীবাসী। ১ জানুয়ারি রাতের আকাশে দেখা যেতে পারে সবচেয়ে বড় চাঁদ। যা ‘সুপারমুন’ হিসাবে পরিচিত। পৃথিবীর প্রায় সব স্থান থেকেই সুপারমুন দেখা যাবে।

সুপারমুন অন্য দিনের চাঁদের তুলনায় আলাদা। স্বাভাবিকের থেকে অনেক বড় দেখাবে চাঁদকে। মহাকাশ গবেষকরা বলছেন, স্বাভাবিক অবস্থা থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ বড় দেখাবে চাঁদকে। একইসঙ্গে, চাঁদকে আরও উজ্জ্বল গোলাকার থালার মত দেখতে লাগবে।

ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষেরা বছরের প্রথম দিনের পূর্ণিমাকে অশুভ বলে মনে করে থাকে। এই রাতে চাঁদের বুকে নীল রংয়ের ছায়া দেখা যাবে। এই ধরনের মহাজাগতিক ক্ষণকে সুপার ব্লু মুন বলা হয়ে থাকে।

তাদের মতে, এই রাতে ওয়্যার উলফ বা নেকড়ে মানবের আবির্ভাব হয়। যদিও বিজ্ঞান এসব ধারণাকে ভুল বলেই বরাবর জানিয়ে আসছে। পৃথিবীকে আবর্তনের সময় স্বাভাবিকভাবেই চাঁদ বিশেষ কিছু সময়ে খুব কাছে চলে আসে।

নেশার টাকা না দেয়ায় মা খুন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নেশার টাকা না দেয়ায় ছেলের হাতে বীথি বেগম (৪০) নামে এক মা খুন হয়েছেন।

শনিবার রাতে উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বীথি উপজেলা সাতুটিয়া গ্রামের মামুন মিয়ার স্ত্রী। এ ঘটনার পর থেকে ছেলে শিশির (২৩) পলাতক রয়েছেন।

কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন জানান, শনিবার সকালে মামুন মিয়া তার স্ত্রী ও ছেলেকে বাড়িতে রেখে ঢাকায় যায়।

রাতে বাড়ি ফিরে স্ত্রী বীথিকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি পুলিশে খবর দেন।

রাত ১০টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি কুড়াল ও ছেলে শিশিরের লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।

নেশার টাকা চাওয়া নিয়ে ঝগড়ার কারণে শিশির তার মাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে বলে ওসি জানিয়েছেন।

এমপিওভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশনে শিক্ষক-কর্মচারীরা

এমপিওভুক্তির দাবিতে টানা পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পর এবার আমরণ অনশনে নেমেছেন নন-এমপিও শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

রোববার সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ আমরণ অনশন পালন করছে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন।

গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা।

এ সময় তাদের হাতে এমপিওভুক্তি, সহকারী শিক্ষকদের মতো বেতন, বাসা ভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয় পাওয়াসহ বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন দেখা যায়।

ফেস্টুনে ‘আমরা শিক্ষক, বেতন দিন না হয় গুলি করুন’, ‘এমপিও চাই’ ‘করুণা নয়, নিজেদের অধিকার চাই’- এমন বিভিন্ন স্লোগান লেখা।

আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ শরীরের সাদা টি-শার্টে লিখে প্রেসক্লাবের সামনে বসে আমরণ অনশন করছেন।

শিক্ষক-কর্মচারী ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী বলেন, টানা পাঁচ দিন আন্দোলন চালিয়ে গেলেও আমাদের দাবি আদায় হয়নি। তাই আজ রোববার থেকে আমরা আমরণ অনশন পালন করতে বাধ্য হয়েছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেএমবির ৩ সদস্য আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন গায়েরে এহসার সদস্যকে জিহাদি বইসহ আটক করেছে র‌্যাব।

শনিবার মধ্যরাতের পর অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধোবরা মতিবাজার গ্রামের মৃত নেফাউর রহমানের ছেলে আজিবুল হক (৫৩), ধোবরা গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৫) ও লক্ষ্মীপুর মোবারকপুর গ্রামের আইনাল হকের ছেলে তাজামুল হক (৪৬)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে চারটি জিহাদি বই, দুটি মোবাইল ফোন, তিনটি সিমকার্ড, একটি টর্চলাইট, একটি গ্যাস লাইটার, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পানির বোতল উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৫ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর এএম আশরাফুল ইসলাম জানান, ভোররাত ৩টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় কামারদহ ছোট সাঁকোসংলগ্ন একটি আমবাগানে অভিযান চালানো হয়।

গোপন বৈঠক চলাকালে আজিবুল হক ও সাইফুল ইসলামকে আটক করে র‌্যাব।

এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালিয়ে যায়।

পরে আজিবুল হক ও সাইফুল ইসলামের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শিবগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর মোবারকপুর গ্রাম থেকে তাজামুল হককে আটক করা হয়। তারা জেএমবির গায়েরে এহসার সদস্য।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় হবে বলে জানান তিনি।

ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২, সরকারের হুশিয়ারি

সরকার বিরোধী বিক্ষোভে অশান্ত হয়ে ওঠেছে ইরান। ইতোমধ্যে বিক্ষোভে অন্তত দুজন নিহত হবার খবর দিয়েছে বিবিসি। ২০০৯ সালের পর ইরানের বিপ্লবী সরকারের বিরুদ্ধে এটি সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। এদিকে বিক্ষোভকে ‘অবৈধ’ দাবি করে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটির সরকার।
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দাবিতে তিনদিন ধরে ইরানে বিক্ষোভ চলছে। যা এখন সরকার বিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। দেশটির রেভ্যুলশনারি গার্ডের একজন কমান্ডার জানান, বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক স্লোগান দিচ্ছেন এবং জনগণের সম্পদ পুড়িয়ে দিচ্ছেন।
দেশটির খুরামাবাদ, জানযান ও আহবাজ শহরে বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ অথবা মৃত্যু দাবি করেছেন। তবে ১৯৭৯ সালে ইসলামী বিপ্লবের পর গড়ে ওঠা বিপ্লবী গার্ড দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এই ফোর্সই খামেনির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত। বিপ্লবী গার্ডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কাওসারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ইসনাকে জানিয়েছেন, যদি দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে মানুষ রাস্তায় নেমে থাকে, তবে তাদের রাজনৈতিক স্লোগান ও জনগণের সম্পত্তি ও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ বন্ধ করতে হবে।
এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘অবৈধ সমাগম’ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করে দিয়েছেন। ইরানের উত্তর পূর্বাঞ্চলের শহর মাসাদে গত বৃহস্পতিবার থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শুক্রবার তা অন্যান্য শহরেই ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার রাজধানী তেহরানেও কিছু বিক্ষোভকারী বিক্ষোভে অংশ নেয়। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। আবহার শহরে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনির ছবি সম্বলিত ব্যানা পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আরাক শহরে সরকারী বাসিজ মিলিশিয়া সদর দফতরে হামালও চালায় বিক্ষোভকারীরা। এক ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের পুলিশের একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিতে দেখা গেছে।
এ্দিকে শনিবার সরকার সমর্থকরাও রাজধানী তেহরানে সমাবেশ করেছে।

টোগোতে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে হাজার হাজার লোকের বিক্ষোভ

টোগোর রাজধানী লোমের রাজপথে শনিবার হাজার হাজার লোক প্রেসিডেন্ট ফাউরি গনাসিংবের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একের পর এক গণবিক্ষোভের এটি সর্বশেষ ঘটনা।
খবরে বলা হয়, গত আগস্ট মাস থেকেই প্রায় প্রতি সপ্তাহে দেশব্যাপী সরকার বিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। এসব বিক্ষোভ থেকে গনাসিংবেকে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার দাবি জানানো হচ্ছে। তিনি ১৫ বছরের বেশী সময় ধরে দেশ শাসন করছেন।
শনিবার লোমের বিক্ষোভে যোগ দেয়া এক ট্যাক্সি চালক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ক্ষমতা থেকে চলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা ক্ষান্ত হবো না।’ অপর এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা কেউ রাজপথ ছেড়ে যাবো না কারণ কারণ আমরা এই সরকারের পতন দেখতে পাচ্ছি। বাসস