টিউলিপের মুখোশ উন্মোচন করলো Channel 4

:: ‘পারিবারিক কারণে বাংলাদেশ সরকারের নিষ্ঠুরতায় সমর্থন দিচ্ছেন টিউলিপ’

আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্টজন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আপন ভাগ্নি হওয়া স্বত্বেও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই বলে বার বার গণমাধ্যমের কাছে তা অস্বীকার করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। গেলো নভেম্বরে বৃটেনের জনপ্রিয় গণমাধ্যম চ্যানেল ফোরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশী নন। মানবাধিকার ইস্যুতে বৃটেনে টিউলিপের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো হলেও বাংলাদেশের গুম, বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডসহ ক্রম অবনতিশীল মানবাধিকার ইস্যুতে তার নির্লিপ্ততা সমালোচনা আর নিন্দার ঝড় তোলেছে গণতন্ত্রের তীর্থস্থান খ্যাত পুরো বৃটেন জুড়ে।

‘টিউলিপ সিদ্দিক: কোয়েশ্চন ওভার লিংকস উইথ বাংলাদেশি রুলিং পার্টি’ শিরোনামে বুধবার সচিত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রেস্টিজিয়াস গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর। প্রতিবেদনটিতে সর্বশেষ বিএনপি সরকারের আমলে ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করা মারুফ জামানের ৪ ডিসেম্বর গুম হবার প্রসঙ্গ এনে বাংলাদেশে অব্যাহত গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকান্ডসহ মানবাধিকার অবনতির চিত্র তোলে ধরা হয়। বৃটেনে মানবাধিকার লংঘন নিয়ে মাঠে-ময়দানে সরব থাকলেও নিজের বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে কেনো কোনো প্রশ্ন তোলেছেন না বা ভূমিকা রাখছেন তা নিয়ে বিষ্ময় ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক নবাধিকার কর্মীসহ বৃটেনের নেতৃস্থানীয়রা।

অ্যালেক্স থমসনের করা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বৃটিশ এমপি টিউলিপের খালা শেখ হাসিনা, যিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের অধীনে বাংলাদেশে জোরপূর্বক অপহরণ এবং গুম অব্যাহত রয়েছে। এটি যেন এখন নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তোলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ৪০০ এর বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছে। গত দুই বছরে গুম হয়েছে ১১৭ জন। ২৮ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছে ৩০ জনের বেশি। নিখোঁজ এবং গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ এসব আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।

বাংলাদেশের চলমান এ অবনতিশীল পরিস্থিতিতে পরিবারের সঙ্গে বৃটিশ এমপি টিউলিপ এমপির ঘনিষ্ট যোগাযোগ এখন সবার পর্যবেক্ষণে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়। সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও ক্ষমতাসীন দলের হয়ে তার লবি করার বিষয়টিও উঠে এসেছে উক্ত প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে গুম হওয়া সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের কন্যার সাক্ষাতকার এবং নভেম্বর মাসে চ্যানেল ফোর কর্তৃক আহমেদ বিন কাশেমের গুম হওয়া বিষয়ে টিউলিপকে প্রশ্ন করার বিষয়টি তোলে ধরা হয়। যেখানে টিউলিপ স্পষ্ট জানিয়ে দেন- গুম হওয়া ব্যক্তি তার আসনের কোন নাগরিক না। এমনকি টিউলিপ বলেন, যে তিনি বৃটিশ এমপি, বাংলাদেশেী নন। প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় সতর্ক হবার জন্যও বৃটিশ সাংবাদিকদের হুমকি দেন।

টিউলিপের বাংলাদেশের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাবার বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মিনাক্ষী গাঙ্গুলি চ্যানেল ফোরকে বলেন, অবশ্য তিনি (টিউলিপ) বৃটেনের নাগরিক এবং অন্যসব বৃটিশ এমপির মতো একজন এমপি। যেহেতু তিনি বৃটেনে মানবাধিকারসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলে থাকেন তাই তার উচিত বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়েও কথা বলা। বাংলাদেশ এবং দেশটির সরকারের সঙ্গে তার যোগসূত্র রয়েছে। দেশটিতে যেসব ঘটে যাচ্ছে তা নিয়ে তার কথা বলা উচিত।

বৃটেনের নাগরিক নন বলে আহমেদ বিন কাশেম ইস্যু নিয়ে কোন কথা বলা যাবে না বলে টিউলিপ যে মন্তব্য করেছেন তারি বিরোধীতা করেছেন বেশ কয়েকজন বৃটিশ এমপি। তারা চ্যানেল ফোরকে জানিয়েছেন এধরনের মন্তব্য- কান্ডজ্ঞানহীন। এমনকি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্য দুই বৃটিশ এমপিও ( রুশনারা আলী ও রুপা হক) বাংলাদেশের গুম নিয়ে মুখ খুলেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানবাধিকার ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রাখার জন্য বৃটেন এবং তার বাইরে বিশ্বপরিমন্ডলেও তার পরিচিতি রয়েছে। ইরানে আটক এক বৃটিশ মহিলা নাগরিকের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রভাব থাকা স্বত্তেও তিনি তা অস্বীকার করে যাচ্ছেন। বলছেন- বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, রাজনীতিতে তার কোন প্রভাব নেই। আর দেশটির মানবাধিকার লংঘন ইস্যুতে তিনি একেবারেই নিশ্চুপ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগসূত্রের বিষয়ে টিউলিপ ভোটারদের কাছে নানান মন্তব্য করে বেড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। লন্ডনে স্থানীয় একপত্রিকায় দেয়া সাক্ষাতকারকে উদ্ধৃত করে চ্যানেল ফোর জানিয়েছে, টিউলিপ বলেছেন, ‘আমার কখনোই রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না। আমি তার (শেখ হাসিনা) সঙ্গে শুধু পারিবারিক বিষয় নিয়েই কথা বলি। আমরা রাজনীতি নিয়ে কথা বলি না।’

প্রতিবেদনে প্রশ্ন করা হয় এই বলে যে, টিউলিপ মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তার খালা শেখ হাসিনার সফরসঙ্গি হয়েছেন। ওয়েস্ট মিনিস্টারে তার খালাকে নিয়ে ২০ বৃটিশ এমপির সঙ্গে দেখা করেছেন। একই জায়গায় স্পিকার ব্যাকোর সঙ্গে দেখা করেছেন শেখ হাসিনাকে নিয়ে। রুশনারা আলীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জুন মাসে মিলিত হয়েছেন। এরসবগুলো কি শুধু পারিবারিক কারণে?

চ্যানেল ফোর এ করা প্রতিবেদন প্রসঙ্গে মন্তব্য জানতে চাইলে টিউলিপ সাম্প্রতিক সময়ে বলেন, ‘আমার কোনো সামর্থ নেই এবং ইচ্ছাও নেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন প্রভাব রাখার।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপ রুটিনমাফিক ভাবেই ওয়েস্টমিনিস্টারে তার খালা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সময় দিয়ে যাচ্ছেন। এবং তার খালার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালে টিউলিপ যখন নতুন বৃটিশ এমপি হন তখন তার সংবর্ধনায় যোগ দিতে লন্ডন আসেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের আয়োজিত এই সংবর্ধনা সভায় টিউলিপ বলেন, ‘আপনাদের ( আওয়ামী লীগের) সাহায্য ছাড়া আমি কখনোই বৃটিশ এমপি হিসেবে এখানে দাঁড়াতে পারতাম না।’

২০১৭ সালে নির্বাচনে জিতেও টিউলিপ ওয়েস্ট মিনিস্টারে মার্চ মাসে আওয়ামী লীগের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আপনাদের ( যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের) সাপোর্ট ছাড়া আমি কিন্তু নির্বাচন জিততে পারতাম না’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবার দল থেকে এমপি নির্বাচিত হবার পূর্বেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে টিউলিপের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। ২০১১ সালের ৫ জানুয়ারি টিউলিপের টুইটের একটি স্ক্রীন প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়, যাতে লেখা আছে, আজকে আমি প্রধানমন্ত্রী অফিস এবং দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি অনুষ্ঠানে উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি। এবিষয়ে টিউলিপের মন্তব্য জানতে চাইলে তা পাওয়া যায়নি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশনও এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।

টিউলিপ বরাবরই বলে যাচ্ছেন তিনি তার আসনের বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে কথা বলবেন না। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারও গুম এবং হত্যাকান্ড সংঘটিত হবার বিষয়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে যাচ্ছেন।

হ্যাম্পস্টেড এর একজন সাবেক এমপি চ্যানেল ফোরকে বলেন, টিউলিপ তারা খালা (শেখ হাসিনা)’র নিষ্ঠুর সরকারের সঙ্গে পারিবারিক ঘনিষ্টতার কারণেই সমঝোতা করে নিয়েছেন।

সূত্র : বিডি পলিটিকো

অন্তত ৬ হাজার ৭শ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে

:: রোহিঙ্গা’দের ওপর চালানো নির্যাতনকে “ভয়ঙ্কর” বলে বর্ণনা করেছে এমএসএফ
মিয়ানমারে আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর এক মাসে অন্তত ৬ হাজার ৭’শ রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেদসঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে (এমএসএফ)।
বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থীদের ওপরে করা এক জরিপ শেষে এই তথ্য জানায় সংস্থাটি।
এমএসএফ বলছে, মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ পরিচালিত “ব্যাপক সহিংসতার স্পষ্ট ইঙ্গিত” এটি।
মিয়ানমার সেনাবাহিনী “সন্ত্রাসবাদী”দের ওপর সহিংসতার দায় দিয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবী করছে।

এমএসএফ’এর তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে ৬ লক্ষ ৪৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
সংস্থাটির জরিপে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ৯ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে মারা যায়।
মেদর্স সঁ ফ্রতিয়ের জরিপভিত্তিক পরিসংখ্যান
এর মধ্যে অন্তত ৬ হাজার ৭’শ মৃত্যুর কারণ সহিংসতা, যার মধ্যে পাঁচ অথবা তার চেয়ে কম বয়সের শিশু ছিল ৭৩০ জন।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বক্তব্যে, নিহতের সংখ্যা ৪০০ যাদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম জঙ্গী।

পাহাড়ে আওয়ামিলীগের নেতা কর্মী আতঙ্কে

::পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই দশক পূর্তির পর থেকে পাহাড়ে ঘটে যাওয়া একাধিক হত্যাসহ কয়েকটি পরিকল্পিত ঘটনায় প্রাণের ভয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে পহাড়ের আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। হত্যসহ নানা ভাবে অব্যাহত হুমকির মুখে অনেকেই পদত্যাগ করছেন আওয়ামলীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে। তৃনমূলে আওয়ামীলীগের এই বিশাল শক্তিকে ভাঙ্গতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি (জেএসএস)এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে’ এমন অভিযোগ করছেন সরকার দলীয় নেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ফেসবুক, মোবাইল ফোনের মাধ্যমেও মেসেজে দেয়া হচ্ছে হুমকি-ধমকি। তাই প্রাণভয়ে অনেকেই করেছেন পদত্যাগ।

জানা গেছে, এসব পদত্যাগকারিদের বেশির ভাগই রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলার। জুরাছড়িতে এপর্যন্ত দেড় শতাধিক ও বাকি উপজেলাগুলোতে পদত্যাগ করেছেন প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী।

সব মিলিয়ে পদত্যাগের দীর্ঘ সারি আর বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহাড়ের রাজনীতিতে ভাঙন ধরেছে আওয়ামীলীগের। আর পদত্যাগের এই দীর্ঘ সারির জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকেই দায় দিচ্ছেন আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা।

বিলাইছড়ি এবং জুরাছড়ি উপজেলার আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতারা জানান, তাদের স্থানীয় ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীরা এখন আতঙ্কে দিন গুনছে। বিশেষ করে এখানকার স্থানীয় আঞ্চলিক দলের কর্মী বাহিনী, আন্ডারগ্রাউন্ডে কাজ করা তাদের নেতাদের কাছে আমাদের নেতাকর্মীর নাম পৌঁছাচ্ছে। আর তাদের লোকজন আমাদেরকে হুমকি দিয়ে আসছে।

নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জুরাছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের পদত্যাগকারী এক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পদত্যাগ করার জন্য আমাকে একটি ‘ফেসবুক আইডি’ থেকে হুমকি দিয়েছে। তারা উদ্দেশ্য করে বলেছিল আমি যেন ১৬ ডিসেম্বরের আগেই পদত্যাগ করি। না হয় তারা আমার ক্ষতি করবে। আর যে আইডি থেকে আমাকে হুমকি দেয়া হয়েছিলো সেই আইডিটি একটি ফেইক আইডি, যে আইডিটির সাথে আমার কখনোই এড ছিলো না। পদত্যাগকারী এইনেতা আরও জানিয়েছেন, যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে বেশি সক্রিয় তাদেরকেই দেখে দেখে হুমকি দিচ্ছে গ্রুপটি। যার কারণে স্থানীয় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে যারা সংযুক্ত তারা অনেকেই আজ বাড়িঘর ছাড়া। প্রান ভয়ে আমিও আজ অন্য জায়গায় আশ্রয় নিয়েছি।

বিলাইছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উসাইমং মামরা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা বিলাইছড়িতে ছাত্রলীগের কারো পদত্যাগের কথা শুনতে পাইনি, আমাদের কাছে এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের কোন নেতাকর্মী পদত্যাগ পত্রও জমা দেয়নি। তবে আওয়ামীলীগের কিছু কর্মীর পদত্যাগ করার কথা শুনেছি। কিন্তু তারা কেউ আমাদের দলীয় পদে দায়িত্বে ছিলো না। সমর্থক ছিলেন আওয়ামীলীগের।’

জুরাছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রিকো চাকমার মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্ঠা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সাধারণ সম্পাদক ধন বিকাশ চাকমার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, জুরাছড়ির অবস্থা ভালো না, সবাইকে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। তাই আমরা অন্যত্র সরে এসেছি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, ‘ছাত্রলীগের তৃনমূলের নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে আঞ্চলিক দলের নেতারা। আমাদের তৃনমূলের ছাত্রলীগ নেতারা অনেকেই প্রাণভয়ের আতঙ্কে আছেন।

জেএসএস অবৈধ স্বশস্ত্র সংগঠন দাবি করে তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর চুক্তি অনুযায়ী আঞ্চলিক দল জেএসএস অস্ত্র জমা দিলেও তারা এখনো পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রনিয়ে চলাফেরা করছে। বর্তমান সময়েও তারা আমাদের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে। আর এসব সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে আমাদের নেতাকর্মীদের পালিয়ে থাকতে হচ্ছে।

জেলা ছাত্রলীগের এই নেতা আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের মধ্যে যারা যারা আমাদের নেতাকর্মীদের ফেসবুক কিংবা অন্যান্য ভাবে হুমকি দিচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে আমরা আইনি-ব্যবস্থা নিবো।’

বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহিদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, রাসেল মারমাকে হত্যাচেষ্ঠার পর এখানকার স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি সবাই আতঙ্কে আছে। বিলাইছড়িতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কারো পদত্যাগ পত্র গ্রহন করি নাই। আর সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত পদত্যাগের নিউজটি ভূয়া বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রবর্তক চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের বিলাছড়ির স্থানীয় আওয়ামীলীগই কেবল নয়, এখানকার স্থানীয় সাধারণ জনগণও এখন আতঙ্কে আছে। নেতাকর্মীদের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে জুরাছড়িতে প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছে এমন তথ্য পয়েছি। তবে আমার কাছে তেমন পদত্যাগ পত্র আসেনি। ’

জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি মুছা মাতব্বর পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের হাতে এখন পর্যন্ত কোন নেতাকর্মীর পদত্যাগপত্র আসেনি। আর পত্র হাতে পেলেও তা গ্রহণ করা হবেনা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র সজিব চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামীলীগ সঠিক ভাবে না জেনে, না বুঝে সব কিছুতেই জনসংহতি সমিতিকে দায় দিচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনাতে তারা চোঁখ ভুজে আমাদেরকেই দোষারোপ করছে।’

দুই উপজেলার সাথে নৌ-পথে নেই যোগাযোগ

গত তিনদিন ধরে (১২ ডিসেম্বর থেকে) রাঙামাটির দুই উপজেলা বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ির সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ-বোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে এ দুই উপজেলার সাথে যোগাযোগ বন্ধ আছে জেলা শহর রাঙামাটির, আর এ কারণে বিপাকে পড়েছে স্থানীয় উপজেলাগুলোর সাধারণ জনগণ। এছাড়া বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ির সাপ্তাহিক হাটেরদিন মঙ্গলবারেও বসেনি বাজার। বেঁচাকেনা না থাকায় অলস সময় পার করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিলাইছড়ির উপজেলার স্থানীয় একলোক বলেন, কেউ হরতাল কিংবা অবরোধের কোন ডাক দেয়নি, তবে আমাদের বিলাইছড়ি বাজারে সাপ্তাহিক বাজারবার মঙ্গলবারে বাজার বসলেও ক্রেতা না থাকায় তেমন বাজার মেলেনি।

জুরাছড়ি উপজেলায় খোঁজ নিয়েও একই কথা জানাযায়। নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জুরাছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ‘জেএসএস ঘোষনা না দিলেও তাদের পক্ষ থেকে বাজার বয়কট করা হয়েছে। তা না হলে স্থানীয়রা বাজারে আসছে না কেন?’

রাঙামাটি জেলা লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দিন সেলিম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ১২ তারিখ থেকেই বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ির সাথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ির নৌ-চালকেরা ভয়ে, আতঙ্কে লঞ্চ চালাচ্ছে না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মুখপাত্র সজিব চাকমা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘ব্যাক্তিগত ভাবে আমি নিজেই বিষয়টি ফেসবুক থেকে জেনেছি। আর পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এখন পর্যন্ত এ ধরণের কোন কর্মসূচি দেয় নি।’

নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ থাকবে

:: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন সনদধারীদের নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ বহাল থাকবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদউল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। একই সঙ্গে মেধা তালিকার ক্ষেত্রে জেলা-উপজেলা কোটা বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে তালিকা তৈরি করে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন হুমায়ুন কবির, ইশরাত হাসান প্রমুখ।

পরে হুমায়ন কবির জানান, হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে নিবন্ধন সনদের মেয়াদ নির্ধারিত ৩ বছর নয়, নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ থাকবে। জেলা-উপজেলা কোটা পদ্ধতি নয়, জাতীয়ভাবে মেধা তালিকা প্রণয়ন করতে হবে, যেটা হবে সমন্বিত মেধা তালিকা। এ তালিকা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (এনসিআরসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। যেন সবাই দেখতে পারে। রায় পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় মেধা তালিকা প্রণয়ন করে রিটকারীদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দিতে হবে। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ না দিলে ম্যানেজিং কমিটি বাতিল হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নির্ধারণে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিধি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জামালপুরের সেলিম রেজাসহ ১৭২ জন নিবন্ধন সনদধারী। বিভিন্ন সময়ে আরও অনেক সনদধারী রিট করেন। আইনজীবীদের মতে এর সংখ্যা ১৫ থেকে ২০ হাজার হতে পারে। পরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন সনদধারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উপজেলা, জেলা কোটা পদ্ধতি বাতিল নিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিল চীন

:: জেরুজালেমকে রাজধানী করার বিষয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে চীন। দেশটি ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু ক্যাং বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর: হারেজৎ, আনাদুলু ও সাবাহ। গত ৬ ডিসেম্বর এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং দেশটির দূতাবাস তেল আবিব থেকে সেখানে স্থানান্তর করার ঘোষণা দেন।
.
এরপর ফিলিস্তিনে বিক্ষোভ শুরু হয়। গাজার প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস তৃতীয় ইন্তিফাদার ঘোষণা দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
বহুদেশে তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদুগান ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) প্রধান হিসেবে ইস্তাম্বুলে জরুরি সম্মেলন আহ্বান করেন।

আহা মুক্তি, আহা স্বাধীনতা, আহা গণতন্ত্র।

:: ১৪ই ডিসেম্বরে শহীদ বুদ্ধিজীবীরা গুম হয়েছিলেন প্রথমে, তারপরে কারো কারো গলিত মৃতদেহ রায়েরবাজারে পাওয়া যায় ঠিক শীতলক্ষ্যায় যেভাবে সাত খুনের শিকার মৃতদের গলিত দেহ ভেসে উঠেছিল সেভাবেই কারো চোখ বাধা কারো হাত বাধা কারো বুক খুবলে নেয়া। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একটা কাদা মাখা মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়েছিল। আজকেও নানা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। তুলে নেয়া হয় ছাত্র, রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষক, আইনজীবী, সমাজকর্মী, ব্যবসায়ী, সাবেক রাষ্ট্রদুত, কে নয়? ৭১ এ কার্ফুর মধ্যে অবরুদ্ধ নগরে এই গুমগুলো হয়েছিল, আর আজ হয় স্বাধীন দেশে, কখনো প্রকাশ্য দিবালোকেই। অল্প কয়েকজন ভাগ্যবান ফিরে আসে, ফিরে এসে কোন অজানা ভয়ে নিশ্চুপ হয়ে যান। বেশীরভাগই ফেরেনা। গত নয় বছরে এভাবেই গুম হয়েছে চারশোর অধিক মানুষ। একইভাবে ক্রস ফায়ারের নামে বিচার বহির্ভুত হত্যা হয়েছে আরো কয়েকশো মানুষ। কারো কারো গলিত মৃতদেহ পাওয়া গেছে। অনেকের কোন চিহ্নই হয়তো আর পাওয়া যাবেনা।

আমাদের শাসক বদলায়, রাজনীতির সংস্কৃতি বদলায় না। ৭১ এর ঘাতকেরা ইসলামের শত্রু নাম দিয়ে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল আর আজ চেতনার শত্রু নাম দিয়ে হত্যা করা হয়।

অথচ আমরা মনে করি আমরা স্বাধীন হয়েছি মুক্ত হয়েছি। আহা মুক্তি, আহা স্বাধীনতা, আহা গণতন্ত্র।

লেখক : পিনাকী ভট্টাচার্য

এক কেজি দুধের বদলে ৬০ কেজি আলু!

স্টোর খালি করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের হাওলাদার হিমাগারের মালিক আবদুস সালাম। তিনি ১ কেজি দুধের বদলে ৬০ কেজি আলু বিতরণ করছেন।
পরে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে ওই দুধ বিলিয়ে দিচেছন। আর এই ফ্রি দুধ নিতে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুরা হিমাগারে ভিড় জমাচ্ছেন।
এ নিয়ে ওই হিমাগার মালিক এলাকায় মাইকিং করেছেন। এ মাইকিং শুনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার গো-খামারিরা দুধ নিয়ে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে অবস্থিত হাওলাদার হিমাগারে জড়ো হয়। এই কৃষকদের ১ কেজি দুধের বদলে ৬০ কেজি আলু দেয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম ৪ কেজি দুধ নিয়ে আলু নিতে আসেন এই কোল্ড স্টোরে। তিনি বলেন, বাজারে গো খাদ্যের দাম চড়া। তাই কম দামে আলু নিতে এসেছেন গরুর খাবারের জন্য।
একই কথা জানালেন জেলা শহরের শাহপাড়া গ্রামের রুমি আক্তার। তিনি বলেন, আলুতে প্রচুর পুষ্টি রয়েছে। সিদ্ধ করে পরিমিত আলু খাওয়ালে গরুর স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং দুধ বেশি পাওয়া যায়। এই জন্য তিনি দুধের বদলে আলু নিতে এসেছেন।
হাওলাদার হিমাগারের মালিক আবদুস সালাম বলেন, বাজারে আলুর বিক্রি না হওয়ায় তার হিমাগারে পর্যাপ্ত আলু মজুদ রয়েছে। এ আলু কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তুলছেন না। স্টোর খালি করতে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে প্রায় ১০০ লিটার নিয়ে হাজির হন এলাকার শতাধিক কৃষক ও গো-খামারিরা।
ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ দুধের বদলে কৃষকের হাতে আলু তুলে দেন এবং সংগ্রহকৃত দুধ অসহায় দরিদ্র নারী ও শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন।
এ সময় হিমাগারের মালিক আব্দুস সালামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জেলার ১৮টি হিমাগারে কয়েক লাখ মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে।
উৎসঃ যুগান্তর

‘জহির রায়হান নিখোঁজ হননি, শহীদ হয়েছেন’

:: মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ঢাবিতে স্মরণচলচ্চিত্রকার জহির রায়হান নিখোঁজ হননি, তিনি শহীদ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন তার ছেলে অনল রায়হান। তিনি বলেন,‘আমার বাবার বড় ভাই শহীদুল্লাহ কায়সার বেঁচে আছেন! এই ভুল তথ্য দিয়ে রাজাকাররা বাবাকে ডেকে নিয়ে ঢাকার মিরপুরেই হত্যা করে!’
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) ‘স্মৃতি চিরন্তন’ চত্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ আয়োজিত মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভিনের ছেলে সুমন জাহিদ স্মরণসভায় বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। এর জন্য পাঠ্যপুস্তকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।’
স্মরণসভায় ঢাবির সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শহীদদের স্মরণ করে বলেন, ‘বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে রাজাকার চক্ররা, তাদের হত্যা করে পুরো বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জায়গায় বুদ্ধিজীবীদের ভাস্কর্য তৈরি করা হলে নতুন প্রজন্ম তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে পারবে।’
উৎসঃ বাংলা ট্রিবিউন

নির্যাতনের খবর সংগ্রহের অপরাধে বার্মায় সাংবাদিক আটক

:: মিয়ানমার পুলিশ দেশটিতে কর্মরত বার্তা রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। যদিও এর আগে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ওই দুই সাংবাদিক নিখোঁজ হয়েছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া দুই পুলিশ সদস্যকেও আটক করেছে পুলিশ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর দমনপীড়নের খবর সংগ্রহ করছিলেন ওয়া লান ও কিয়াও সোয়ে ওও নামের ওই দুই সাংবাদিক।

গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া দেশটির সেনাবাহিনীর সহিংস অভিযানের প্রেক্ষাপটে সাড়ে ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশে পালিয়েছে এসেছে। এ ছাড়া কয়েক হাজার রোহিঙ্গা মারা গেছে। হাজার হাজার নারী সেনাবাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় বৌদ্ধদের যৌন লালসার শিকার হয়েছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই নির্যাতনকে জাতিসংঘ জাতিগত নিধন বলে আখ্যায়িত করেছে। এ নিয়ে রয়টার্স অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যা দেশটির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আর সে কারণেই মিয়ানমার সরকারের খড়গ নেমে আসে তাদের ওপর।

মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওই দুই সাংবাদিক ও দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ উপনিবেশিক আমলের গোপন আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। ১৯২৩ সালের ওই আইন অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই সাংবাদিকরা বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ করছিল। আটকদের ইয়াঙ্গুনের একটি পুলিশ স্টেশনে বন্দি রাখা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সে্র পক্ষ থেকে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ওই দুই সাংবাদিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকে ডিনার করতে যাওয়ার পর তারা নিখোঁজ হন।

এদিকে, রয়টার্সের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সম্পাদক স্টিফেন জে আদলার এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবি করেছেন।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া মিয়ানমারে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে সরকারের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এ ছাড়া ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিয়ানমারের সাবেক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মিশন বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এ ছাড়া নিউইয়র্কভিত্তিক কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে) অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে ওই দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি করেছে।

রাজশাহীতে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

রাজশাহীর বাঘায় স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এরা হলেন, ওই গ্রামের আবদুল মান্নান (৪৮) ও তার স্ত্রী কাজলী বেগম (৪৪)।

স্থানীয়রা জানান, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের আবদুল মান্নান ও তার স্ত্রী কাজলী বেগম বুধবার রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কাজলী হঠাৎ চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এরপর পাশের ঘর থেকে আবদুল মান্নানের মা আফরোজা বেগম ও ছেলে সাব্বির হোসেন (১৩) গিয়ে দেখেন কাজলী বেগমের অবস্থা বেগতিক। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বাঘা থানা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর সকাল নয়টার দিকে বাড়ির পাশে একটি লিচু বাগানে ঝুলন্ত অবস্থায় আবদুল মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, আবদুল মান্নান ও কাজলী বেগমের দুই ছেলে রয়েছে। বড় ছেলে রিশন আহম্মেদ লালপুরে নানার বাড়ি থেকে মঞ্জিলপুকুর কলেজে লেখাপড়া করে।
ছোট ছেলে সাব্বির হোসেন কালিদাসখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।

ছেলে সাব্বির হোসেন জানায়, পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবা প্রথমে তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নিজেও গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এদিকে বাঘা থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হাসান রেজা বলেন, মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে নিহতদের ছেলে দাবি করেছে, তার মাকে প্রথমে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার বাবা আত্মহত্যা করেছে।