জাসদের ভ্রান্ত রাজনীতি, ক্ষমতা লিপ্সু তাহের এবং বলির পাঁঠা হাজারো তরুন

:: স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে শাসক দলের স্বজনপ্রীতি, লুণ্ঠন আর অনিয়মের বিরুদ্ধে যখন কেউ কথা বলতে সাহস পাচ্ছিল না, তখন এগিয়ে আসেন দাদা ভাই খ্যাত রাজনীতির রহস্যমানব সিরাজুল আলম খান। যদিও শেখ মনির সাথে নেতৃত্ব দ্বন্দ্বের কারণে তিনি আলাদা হয়ে যান, তথাপি যুব সমাজের অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত এবং গ্রহণযোগ্য গ্রুপটি তাঁকে সমর্থন জানায়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের মধ্যেও নেতৃত্ব দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারন করে এবং আসম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজরা আলাদা প্লাটফর্ম গঠন করেন।
ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের পেছনে সিরাজুল আলম খানের অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিব বাহিনী গঠন তার পরিকল্পনাতেই হয়। শেখ মনি পরিশ্রমী এবং নেতৃত্বগুণ থাকলেও সার্বিক যোগ্যতায় সিরাজুল আলমের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিলেন। কেবলমাত্র শেখ মুজিবের ভাগিনা হিসেবে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে যান।
শেখ মুজিব নিজেও যোগ্যতা মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হন। এর ফলে ছাত্রলীগ যুবলীগের আসন্ন ভাঙ্গন ঠেকাতে কোন উদ্যোগ নিতে সক্ষম হননি।
তাই মনি – তোফায়েলদের বিরুদ্ধে সিরাজুল – রব গ্রুপ যখন পাল্টা সমাবেশ ডাকেন, তখন তিনি নিরপেক্ষ না থেকে ভাগিনার পক্ষাবলম্বন করেন। অথচ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মনিদের চাইতে পল্টনে সিরাজুল – রব গ্রুপের জনসভায় অনেক বেশি ছাত্র- যুবক সমাবেত হন।
যে আদর্শ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, স্বাধীন দেশে তা বাস্তবায়িত না হয়ে অনেক দূরে সরে যাওয়ায় দেশবাসী হতাশ হন। তবে সবচাইতে বেশী হতাশ হয় ছাত্র- যুব সমাজ। আবার যোগ্য কোন প্লাটফর্ম না পাওয়ায় তারা প্রতিবাদ জানাতেও পারছিল না। সিরাজুল আলম খান – মেজর জলিল – আসম আব্দুর রবের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব যখন এই প্লাটফর্মের পুরোভাগে থেকে নেতৃত্বদান করেন, দলে দলে ছাত্র – যুবক এগিয়ে আসেন প্রতিবাদ মিছিলে।

একপর্যায়ে জাসদে যোগদান করেন লে:কর্নেল(অব:) আবু তাহের বীর উতম। যুদ্ধে পঙ্গুত্ববরণ করায় আর্মির চাকরী হতে অবসর দিয়ে তাঁকে আভ্যন্তরীণ নৌ- পরিবহণ সংস্থায় নিয়োগ দেয়া হয়। সরকারী চাকুরীজীবীদের রাজনীতি করা নিষিদ্ধ হলেও তাহের এসব নিয়মনীতিরর তোয়াক্কা না করে জাসদের রাজনীতি শুরু করেন।
তাহেরের যোগদানের সাথে সাথে জাসদের রজনীতিতে আমূল পরিবর্তন ঘটে! নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পরিবর্তে শুরু হয় শ্রেণী শত্রু খতম নামের সশস্র রাজনীতি। একদিকে বেসামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় গণবাহিনী , অন্যদিকে সামরিক বাহিনীতে গঠিত হয় বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা । গণবাহিনী সমাজের বিত্তশালী এবং পুঁজিবাদী নির্মূলের জন্য আর বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা আর্মিতে অফিসার নির্মূলের লক্ষ্যে গঠিত হয়।
যখন সরকারী দল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জাসদ শ্রেণী খতম অভিযান শুরু করে, সরকারও বসে থাকেনি। রক্ষীবাহিনী লেলিয়ে দিয়ে পাল্টা অভিযান শুরু করে। এভাবে খতম – পাল্টা খতমে উভয় পক্ষে হাজার হাজার নিহত হয়।
জাসদের দাবী মতে তাদের ৩০ হাজার নেতাকর্মী নিহত হয়, আর আওয়ামী লীগের অভিযোগ তাদের ২০ হাজার নেতাকর্মীকে জাসদ হত্যা করে।
সেসময় ছাত্র -যুবকদের স্বার্থান্বেষী এবং পেশীশক্তি গ্রুপটি সরকারী ছত্রছায়ায় থেকে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে নানা অনিয়ম – দুর্নীতির আশ্রয় নেয়।
অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত এবং মেধাবী ছাত্র-যুবকেরা জাসদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। পতঙ্গ যেমনের আগুন দেখে ছুটে আসে এবং পরিশেষে পুড়ে মরে ; এসব মেধাবী তরুণ সমাজ সমাজ পরিবর্তনের আশায় জাসদের যোগ দিয়ে বলির পাঁঠা হিসেবে জীবন বিলিয়ে দিতে থাকে!
যখন সদ্য স্বাধীন দেশ গড়ার জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন, তখন বিভেদের দেয়ালে পারস্পরিক হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে সবাই ধ্বংস হয়ে যায়!
এসবের জন্য দায়ী জাসদের লক্ষ্যবিহীন রাজনীতি , তাহেরের হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং সরকারী দলের হিংসাত্মক প্রতিশোধগ্রহণ।
আওয়ামী লীগকে উৎখাত করতে গিয়ে নিজেরা যেমন একদিকে দলে দলে মরেছে, অন্যদিকে নিজেদের কর্মীদের বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ায় ক্রমশ কর্মীশূণ্য হয়েছে!
১৫ অগাস্টের ঘটনা না ঘটলে জাসদ হয়তো কোন চুড়ান্ত পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যেত। তাই ১৫ অগাস্টের ঘটনাকে তারা নিজেদের বিজয় বলে দাবী করে এবং কোন কোন নেতা মিষ্টি বিতরণ করে। একনেতা ফারুকের ট্যাঙ্কের উপর চড়ে নৃত্যগীত করার ঘটনাও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছেন।
পরবর্তীকালে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ ক্যু করার প্রেক্ষিতে জাসদ ক্ষমতা দখলের ছক সাজায়! ৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে এবং জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা, লে: কর্নেল হায়দারের মতো বীব মুক্তিযোদ্ধা। সে সময় বিপ্লবী সিপাহীরা চেইন অব কমাণ্ড ভেঙ্গে ফেলে এবং শ্লোগান দেয় ” সিপাহী সিপাহী ভাই ভাই, অফিসারের রক্ত চাই “!
তাদের হাতে লেডি ডাক্তার, হকি খেলোয়াড় সহ ১৮ জন নিরীহ অফিসার নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হন যার দায়ভার জাসদ তথা তাহের কোনভাবেই এড়াতে পারবেন না।
তাদের এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে অকালে ঝরে গিয়েছে হাজার হাজার তরুণ প্রাণ, ঝরে গিয়েছে অসংখ্য অফিসার- সৈনিক।
যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল প্রবল সম্ভাবনাময় এবং অধুনিক গতিশীলতার লক্ষ্যে, তা অচিরেই মুখ থুবড়ে পড়ে লক্ষ্যবিহীন পদচারণা, হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং হত্যার রাজনীতির মাধ্যমে।

লেখক : মুসাফির খান ।

বার্মিজ সেনাদের দ্বারা নির্যাতিতা হাজারো নারীর একজন

:: মায়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে চলমান মুসলিম (রোহিঙ্গা) বিরোধী অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি নির্যাতিতা হয়েছেন অসংখ্য নারী। মুসলিম প্রধান গ্রামগুলো ঘেরাও করে হত্যা, অগ্নিসংযোগ করে অধিবাসীদের বিতারিত করার পাশাপাশি সেনা এবং উগ্রবাদী বৌদ্ধদের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অসংখ্য কিশোরী, তরুণীদের। তাদের দিনের পর দিন আটক রেখে চালানো হয় অকথ্য নির্যাতন। এদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে হত্যা শিকার হন। অতি ভাগ্যবান কেউ কেউ পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। এদের একজন কোহিনুর বেগম।
মংডু শহরের কাছে তিনি ধরা পড়েন বার্মিজদের হাতে। প্রায় ২০ দিন আটক থাকার পর তিনি পালিয়ে আসেন। এরপর স্বজাতীদের সহায়তায় তিনি নৌকায় চড়ে পালিয়ে আসেন টেকনাফের শাহপরী দ্বীপে।
এরপর তাকে যখন তাকে টেকনাফে নিয়ে আসা হয়, অবস্থা তখন মৃতপ্রায় ।
বিজিবি এবং সেনা সদস্যদের সহায়তায় তাকে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়।
বার্মিজদের হিংস্রতা আর অমানবিকতার বিরুদ্ধে বিশ্ব বিবেক জাগ্রত হবে কবে!

লেখক : মুসাফির খান ।

মেদ কমাতে যেসব ফল খাবেন

শরীরের ওজন কমাতে কতজন কতকিছুই না করে থাকেন। শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে কেউ কেউ খাওয়া-দাওয়াই কমিয়ে দিয়েছেন।
মেনে চলছেন অনেক বিধি-নিষেধ। তারপরও কমছে না ওজন। তবে প্রতিদিনের খাবার সম্পর্কে একটু সচেতন থাকলেই শরীরে বাড়তি মেদ জমবে না। দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে ফলের বিকল্প নেই। নিচে ওজন কমাতে সহায়ক ৭টি ফল নিয়ে আলোচনা করা হলো :

আপেল : আপেলের পেকটিন ফাইবার পেট ভরানোর পাশাপাশি দেহে মেদের পরিমাণও কমাবে। ভারী খাবার খাওয়ার আগে আপেল খাওয়া তাই উপকারী।

তরমুজ : তরমুজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ওজন ঝরাতে সাহায্য করে। দিনে একটা তরমুজ খিদে কমিয়ে দেওয়ার সঙ্গে মেদ জমতেও দেবে না।

লেবু : লেবুতে আছে ভিটামিন সি ও সাইট্রিক অ্যাসিড। যা ওবেসিটির পরিমাণ কমায়।

নারকেল : নারকেল যকৃতের বিপাক হার বাড়িয়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে প্রকারান্তরে নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন।

বেদানা : বেদানা দেহে লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের হার কমায়। খিদের হার কমায়।

পেঁপে : পেঁপে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয়। রক্তে শর্করা ওবেসিটির লক্ষণ।

কমলালেবু : কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন ও ফাইবার থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ফলে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ব্রেকফাস্টে মাশরুম

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্টই মোক্ষম দাওয়াই তা মোটামুটি আমরা জেনে গিয়েছি। স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্ট করেও কি অফিসে গিয়ে কাজের চাপে কিছুক্ষণ পর খিদে পেয়ে যাচ্ছে? এই সমস্যা দূরে করতে এ বার ব্রেকফাস্টে মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক জোয়ান স্লেভিন জানাচ্ছেন, মাশরুম পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি অনেক ক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে সারা দিন আমাদের খিদে নিয়ন্ত্রণে থাকে ও ক্যালোরি খাওয়ার প্রবণতা কমে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, পেট ভরা রাখতে ও শরীরের ঘাটতি মেটাতে সবচেয়ে উপকারী উপাদান প্রোটিন। সকাল বেলা অন্যান্য প্রোটিন শরীরের জন্য ভারী হলেও মাশরুম অনেক সহজপাচ্য। অথচ পুষ্টিগুণ প্রাণীজ প্রোটিনের থেকে বেশি। গবেষকরা ১০ দিন ব্রেকফাস্টে প্রাণীজ প্রোটিন ও অ্যাগারিকাস বিসপোরাস মাশরুম (হোয়াইট বাটন মাশরুম) রেখে পুষ্টিগুণ তুলনা করে দেখেছেন প্রাণীজ প্রোটিন থেকে যেখানে শরীর ২৮ গ্রাম সুষম প্রোটিন পেয়ে থাকে, মাশরুম থেকে সেখানে শরীর পায় ২২৬ গ্রাম সুষম প্রোটিন। সেই সঙ্গেই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, ব্রেকফাস্টে মাশরুম খেলে তাদের অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকছে ও খিদে কম পাচ্ছে।

সূত্র : জিনিউজ।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার গাড়িবহরের পাশে পেট্রলবোমা

রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণ শেষে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর মহিপালে খালেদা জিয়ার বহরের কাছে দুটি বাসে পেট্রল বোমা মেরেছে দুর্বৃত্তরা। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা বলেন, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনীর মহিপাল অতিক্রম করছিল। এ সময় সেখানে একটি পেট্রল পাম্পের ৩০০ গজ দূরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি বাসে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে বাস দুটিতে আগুন ধরে যায়। তবে ঘটনার সময় বাস দুটিতে কেউ ছিল না বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

গত শনিবার ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর প্রবেশমুখে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের পেছনের দিকে থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের গাড়িতে হামলা হয়।

আজিজাকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় চাচি গ্রেফতার

সিলেটের বিশ্বনাথ এলাকা থেকে নরসিংদীর শিবপুরে স্কুলছাত্রী আজিজা খাতুনকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার চাচি বিউটি বেগম (২৬) ও তার এক সহযোগীকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সিলেটের বিশ্বনাথ থানাধীন মীরেরগাঁও গ্রাম থেকে ওই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার অপরজন হলেন সানোয়ারা বেগম (৫০)। তিনি হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি।

মঙ্গলবার সিলেট র‍্যাব-৯-এর গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯-এর একটি চৌকস দল গতকাল দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে মীরেরগাঁও গ্রাম থেকে দুজনকে গ্রেফতার করে।

দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

গত শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী স্থানে গাছের পাতা কুড়াচ্ছিল নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার খৈনকুট গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছোট মেয়ে আজিজা খাতুন (১৩)। ওই সময় চাচি বিউটি বেগম ও তার ভাই রুবেল মিয়া একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আজিজাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

ওই দুজন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির কাছে একটি উঁচু টিলায় আজিজার শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয়। পরে তারা দিয়াশলাই দিয়ে ওই কিশোরীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

স্থানীয় লোকজন আজিজার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আগুনে পুড়তে দেখেন। পরে তাঁরা পানি ঢেলে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। ততক্ষণে তার শরীরের বেশির ভাগ অংশই পুড়ে ঝলসে যায়।

গুরুতর অবস্থায় থাকা কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়।

লিখিত অনুমতি নিয়েই কেবল দ্বিতীয় বিয়ে!

সম্প্রতি বেড়ে গেছে দ্বিতীয় বিয়ের প্রবণতা। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই হরহামেশাই ঘটছে দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনা। তবে অনেক নারীর জানে না যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, আর বিয়ে যদি করতেই হয় তবে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি আবশ্যক। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করলে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে স্বামীকে।

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারা মতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। অনুমতির জন্য ফি দিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ের অনুমতি দিতে যেসব বিষয়ের প্রতি বিবেচনা করা হবে, তার মধ্যে অন্যতম হলো: ১. বর্তমান স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব, ২. শারীরিক মারাত্মক দুর্বলতা, ৩. দাম্পত্য জীবন-সম্পর্কিত শারীরিক অযোগ্যতা, ৪. দাম্পত্য অধিকার পুনর্বহালের জন্য আদালত থেকে প্রদত্ত কোনো আদেশ বর্জন, ৫. মানসিকভাবে অসুস্থতা ইত্যাদি।

দ্বিতীয় বিয়ে সম্পর্কে আইনে আসলে কী আছে। সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই বেশিরভাগ নারীদের। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে যুগান্তরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ও হাইকোর্টের সিনিয়ন আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু।

আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু বলেন, বিয়ে করতে হলে অবশ্যই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে যদি কেউ তা করে থাকে, তবে তার জন্য শাস্তি আবশ্যক।

সালিশি পরিষদের অনুমতি
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা পৌরসভার মেয়র দুই পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করে থাকেন। সালিশি পরিষদের লিখিত অনুমতি নিয়েই কেবল দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে। সালিশি পরিষদে যদি বর্তমান স্ত্রী অনুমতি না দেন, তাহলে কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না।

মামলা ও বিবাহবিচ্ছেদ
কোনো স্বস্বামী যদি প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করেন তবে প্রধম স্ত্রীর আশু বা বিলম্বিত দেনমোহরের সম্পূর্ণ টাকা তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া প্রথম স্ত্রী আদালতে মামলা করে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারেন।

প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ
দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে  প্রথম স্ত্রী যদি সন্তানদের নিয়ে আলাদাভাবে বসবাস করেন তবুও স্বামীকে প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে হবে। স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ দিতে স্বামী আইনত বাধ্য থাকিবে। ভরণপোষণ ছাড়াও স্ত্রী ও সন্তানরা উত্তরাধিকারীর অধিকার লাভ করবেন এবং  মোহরানার টাকা পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব আদায়ের মতো আদায় করা হবে।

এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা
দ্বিতীয় বিয়ের পরে স্বামী যদি তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব পালন না করেন এবং তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে এক বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

আবার দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে, স্বামী যদি স্ত্রীর জীবনকালে পুনরায় বিয়ে করেন, তবে সেই ব্যক্তি যে কোনো বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে, তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা উচিত, বহু বিয়ের মামলায় বাদীকে সফল হতে হলে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম বৈধ বিয়ের অস্তিত্ব ছিল।

বিসিবির পরিচালক পদে দুর্জয়-আশফাকুল-আলো নির্বাচিত

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে ২৫টি পরিচালক পদে বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসানের প্যানেলের ২২ জন আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাকি তিনটি পরিচালক পদে ঢাকা বিভাগ থেকে জয়ী হয়েছেন মানিকগঞ্জের নাঈমুর রহমান দুর্জয়, কিশোরগঞ্জের সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম এবং বরিশাল বিভাগ থেকে জয়ী হয়েছেন আলমগীর হোসেন আলো।

মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বোর্ডরুমে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন শুরু হয়। এরপর ভোট গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বুধবার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

হরতাল ডেকে মাঠে ছিল না বিএনপি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বিএনপির আধাবেলা হরতাল পালিত হয়েছে। তবে মঙ্গলবার হরতাল ডেকে মাঠে ছিলেন না বিএনপি নেতাকর্মীরা বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত এ হরতাল চলে।

এদিকে জনজীবনে হরতালের কোনো প্রভাব পড়েনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকানপাট খুলতে শুরু করে। যানবাহন চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওহাবের বিরুদ্ধে সোমবার দুদকের মামলায় ৮ বছরের সাজা ঘোষণা করেন যশোরের সংশ্লিষ্ট আদালত।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ হরতালের ডাক দেয়া হয়।

সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপজেলা শহরে হরতালবিরোধী মিছিল করে।

ঢাকার পথে খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরছেন।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ২টায় সড়কপথে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে গত শনিবার কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা থেকে রওনা হন খালেদা জিয়া।

সোমবার তিনি ময়নারগোনা, হাকিমপাড়া, বালুখালী-২ শরণার্থী শিবির এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) চিকিৎসা শিবির পরিদর্শন করেন।

সেখানে তিনি রোহিঙ্গা পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। এর আগে সোমবার সকালে ১০ হাজার পরিবারের জন্য ৪৫ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়া হয় বিএনপির পক্ষ থেকে।

বিকাল ৪টায় খালেদা জিয়া কক্সবাজার সার্কিট হাউসে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নেন।

এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি কক্সবাজার ত্যাগ করেন এবং রাত সাড়ে ১১টায় তিনি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছান।

আজ মঙ্গলবার সেখান থেকে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। পথে তিনি ফেনী অথবা কুমিল্লায় যাত্রাবিরতি  করতে পারেন।