জি বাংলার সিরিয়ালে বাংলাদেশি জিঙ্গেলের সুর নকল!

কয়েক দিন ধরে কলকাতার জি বাংলায় একটি নতুন সিরিয়ালের ট্রেলার প্রচারিত হচ্ছে। ‘জয়ী’ নামের সেই সিরিয়ালের ট্রেলারে যে গান ব্যবহার করা হয়েছে, তা শুনে বাংলাদেশের অনেক দর্শক অবাক হয়েছেন। কিছুক্ষণ শোনার পর যে-কেউ বুঝতে পেরেছেন, গানটির সুর বাংলাদেশের দারুণ জনপ্রিয় একটি বিজ্ঞাপন চিত্রের জিঙ্গেল থেকে নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সুর নেওয়ার ব্যাপারে কারও কাছ থেকেই কোনো অনুমতি নেয়নি এবং আলোচনা করেনি ‘জয়ী’ সিরিয়াল কিংবা জি বাংলা কর্তৃপক্ষ।

গ্রামীণফোনের জন্য ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ শিরোনামের জিঙ্গেলটি তৈরি করেন হাবিব ওয়াহিদ। আজ দুপুরে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁর তৈরি জিঙ্গেলের সুর নকল করার বিষয়টি কিছুদিন আগেই জানতে পেরেছেন। তিনি নিজেও ওই সিরিয়ালের ট্রেলার দেখেছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি নিজে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। কারণ, যে প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি জিঙ্গেলটি তৈরি করেছিলেন, নিয়ম অনুযায়ী জিঙ্গেলের স্বত্ব এখন তাদের। এখন কলকাতার জি বাংলা আর সেই সিরিয়ালের কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে ওই প্রতিষ্ঠানকেই নিতে হবে।

‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার’ জিঙ্গেলে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি বিজ্ঞাপন চিত্র নির্মিত হয়েছে। হাবিব ওয়াহিদের সুর ও সংগীতায়োজনে প্রথম জিঙ্গেলে কণ্ঠ দেন মিলন মাহমুদ। দ্বিতীয়টি গেয়েছেন মিথুন চাক্রা। এ প্রসঙ্গে মিলন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দিন সবাই জেনে এসেছেন এপার বাংলার লোকেরাই কেবল ওপার বাংলাকে নকল করে। কিন্তু এখন তো ওপার বাংলাতেই আমাদের গান নকল হচ্ছে। তার মানে আমরা তাদের থেকে ভালো কাজ করছি। কিন্তু আইনের দিক বিবেচনায় যদি বলি, তাহলে এটি অবশ্যই অন্যায়। এভাবে কেউ অন্য কারও সৃষ্টি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করতে পারে না।’

হাবিব জানান, এই সিরিয়ালে যে সুরটি নকল করা হয়েছে, তাতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিথুন চাক্রা।

মিথুন চাক্রা এখন আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকে আজ সকালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘জিঙ্গেলটি আমার গাওয়া। আমি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল তালাত কামাল বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। লিগ্যাল বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জি বাংলায় আগামী ৯ অক্টোবর শুরু হচ্ছে নতুন সিরিয়াল ‘জয়ী’।

ব্যাংক ডাকাত জয়ের ৬০০ কোটি টাকার বাড়ি আবিষ্কার

ওয়াশিংটন প্রতিনিধি : জাতিসংঘ অধিবেশন শেষে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়েন শেখ হাসিনা। গন্তব্য- নিজের ব্যাংক ডাকাত পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বাসা। তবে জয়ের বাসা কোথায় ওয়াশিংটন নাকি ভার্জিনিয়া এ নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দলের অনেক নেতাকর্মী জানেন, জয়ের বাসা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায়। তবে শেখ হাসিনা কি জয়ের ভার্জিনিয়ার বাসায় উঠেছেন নাকি অন্য বাসায় এ নিয়ে সরকারী মহলে স্পষ্ট কোন বক্তব্য নেই। এ নিয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ম্যারিল্যান্ডে জয়ের ৬ ‘শ কোটি টাকার একটি বাড়ীর খোঁজ মিলেছে। পোটোম্যাকে জয়ের প্রাসাদোপম বাড়ীতেই উঠেছেন শেখ হাসিনা।
যেভাবেই হোক শেখ হাসিনা জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে রেখেছেন। ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রীর পদ। সুতরাং প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনা কোথায় থাকছেন এটি জানার অধিকার দেশের জনগনের রয়েছে। কিন্তু ইচ্ছে করেই সেটি জনগনকে জানতে দেয়া হচ্ছে না। সূত্র মতে, বর্তমান ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার জয়ের ওয়াশিংটন কিংবা ভার্জিনিয়ার বাসায় উঠেননি। তিনি উঠেছেন সজিব ওয়াজেদ জয়ের ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাক এর বাসায়। ওয়াশিংটন, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড প্রতিটি আলাদা আলাদা রাজ্য। প্রতিটি রাজ্যেই জয়ের আলাদা আলাদা বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে। তবে মেরিল্যান্ডের পোটোম্যাক এলাকায় জয়ের বর্তমান বাড়ীটি নতুন কেনা।
দেখা যায়, শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর পূনরায় জয়ের ভাগ্য খুলে যায়। লুট হতে থাকে দেশের ব্যাংক বীমা আর শেয়ার বাজার। এ সময়ই সজিব ওয়াজেদ জয় ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাক এলাকায় বর্তমান বাড়ীটি কেনেন।দেশে বিদেশে জয়ের নির্দিষ্ট কিছু ধনী ঘনিষ্ঠজন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে পোটোম্যাকের বাড়ীটির খবর অজানা। তাই শেখ হাসিনা এবার মেরিল্যান্ডে জয়ের পোটোম্যাক এলাকার বাড়ীতে উঠলেও পত্র পত্রিকার রিপোর্টে এটি গোপন রাখা হচ্ছে। । বরং পত্র পত্রিকার রিপোর্টে বারবার প্রচার করা হচ্ছে শেখ হাসিনা জয়ের ভার্জিনিয়ার বাসায় উঠেছেন ।

 

স্থানীয় সুত্রগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে মেরিল্যান্ড রাজ্যের পোটোম্যাক সবচেয়ে দামি এবং বিলাসবহুল এলাকা হিসাবে পরিচিত। সাধারনত: এই এলাকায় দেশটির বিলিয়নিয়ররা বসবাস করেন। বিশাল এলাকা নিয়ে এই এলাকার প্রতিটি বাড়ীই ছবির এই বাড়িটির মতোই বিলাসবহুল। প্রতিটি বাড়ীর রয়েছে আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই এলাকায় সাধারনত: ১০০ কোটি টাকার নিচে কোন বাড়ি নেই। সূত্রমতে জয়ের পোটোম্যাক এলাকার বাড়িটির দাম প্রায় ৬শ কোটি টাকা। শেখ হাসিনা পোটোম্যাকের বাড়িটির কথা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। এই কারণে শেখ হাসিনা এবার তার ব্যাংক ডাকাত পুত্র জয়ের ম্যারিল্যান্ডের বাসায় গেলেও সবাই জানেন তিনি থাকছেন তার পুত্র জয়ের ভার্জিনিয়ার বাসায়। সুবীর-কবিরকে সেনাবাহিনীর পেছনে লাগিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা চেয়েছিলেন গণমাধ্যমসহ সবাই এই ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত থাকবে আর তিনি এ সুযোগে আত্মীয়স্বজন নিয়ে ম্যারিল্যান্ডের পোটোম্যাকে ছেলের প্রাসাদে আনন্দ ফুর্তিতে সময় কাটাবেন। কিন্তু কাথায় বলে, ‘আল্লাহ‘র মাইর – দুনিয়ার বাইর‘। তার এবারের চক্রান্ত বিফলে গেছে। কারণ সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে সুবীর-কবির চক্রের ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে মোকাবেলা করেছে অপরদিকে শেখ হাসিনার অসুস্থতার কারণে পোটোম্যাকে জয়ের গোপন বাড়ির সন্ধান বেরিয়ে পড়েছে। পোটোম্যাকের বাড়ীতে থাকার সময়ই শেখ হাসিনা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে পোটোম্যাকের বাড়ী থেকে গিয়েই শেখ হাসিনাকে গল ব্লাডারের অপারেশন করতে হয়।সে কারণে পোটোম্যাকে জয়ের বিলাসবহুল প্রাসাদের কথা কেউ কেউ জেনে যায়। পোটোম্যাকে জয়ের প্রাসাদের কথা ধামাচাপা দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার অপারেশন কোথায় হয়েছে এ নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিভিন্নরকম তথ্য এসেছে। তাই অনেক পাঠকের কাছেই স্পষ্ট নয় আসলে শেখ হাসিনা বর্তমানে জয়ের কোন বাসায় থাকছেন এবং কোথায় তিনি গলব্লাডার অপারেশন করিয়েছেন।

২৮ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টে বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গলব্লাডারে সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি হাসপাতালে স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় ২৬ সেপ্টেম্বর, সকাল ৬টা) তার এ অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, সফল অস্ত্রোপচারের পরে প্রধানমন্ত্রী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। চিকিৎ্সকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এখন বিশ্রামে রয়েছেন। প্রেস উইং আরো জানায়, এর আগে প্রধানমন্ত্রী হঠাৎ্ পেটে ব্যথা অনুভব করলে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্রোপচারের একদিন পরে প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটনে তাঁর আবাসস্থলে ফিরে আসেন“।
অপরদিকে পহেলা অক্টোবর দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকায় কলামিষ্ট বিভুরঞ্জন সরকার লিখেন “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গলব্লাডার অপারেশনের খবরে অনেকের মধ্যেই কিছুটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। তার এই অপারেশনের খবর কারো আগে জানা ছিল না। হঠাৎ অসুস্থ বোধ করায় তাকে ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে নেয়া হয় এবং সফল অস্ত্রোপচার হয়“।

অপরদিকে শেখ হাসিনার অপারেশন সম্পর্কে বৃহস্পতিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেন দেশে ব্যাংক ডাকাত হিসেবে পরিচিত সজীব ওয়াজেদ জয়। স্ট্যাটাসে জয় লিখেন,‘গত সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে মা’র গল-ব্লাডারের সার্জারি হয়। আমাদের পাশের হাসপাতালে আমার এক ডাক্তার বন্ধুই সার্জারিটি করেন। সার্জারিটি অত্যন্ত সফল ছিল। পরদিন সকালেই মা বাসায় ফিরে আসেন। তিনি এখন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন।’

প্রশ্ন হলো, শেখ হাসিনার অপারেশন আসলে কোথায় হয়েছে?। জয় বলছেন, “অপারেশন হয়েছে তাদের বাসার পাশের হাসপাতালে”। এই পাশের হাসপাতালটি কোথায়? ওয়াশিংটনে? ভার্জিনিয়ায় নাকি ম্যারিল্যান্ডে?
অপারেশন নিয়ে এ ধরণের বিপরীতধর্মী তথ্যের হেতু কি? একটি সূত্র বলছে, মেরিল্যান্ডে জয়ের কয়েক‘শ কোটি টাকার পোটোম্যাকের বাড়ীর তথ্য লুকোতে গিয়েই এ ধরনের বিপরীতধর্মী বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। এদিকে এ ব্যাপারে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে ওয়াশিংটনে থাকা শেখ হাসিনার তথ্য সচিব ইহসানুল করীম বলেছেন, তাকে যা জানানো হয়েছে সেটিই তিনি গনমাধ্যমে জানিয়েছেন।

এদিকে ওপর একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যমতে, যেদিন শেখ হাসিনা অসুস্থতা বোধ করেন সেদিন দপুরেই শেখ হাসিনার পুত্রবধু ক্রিস্টিনার সঙ্গে জয়ের কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ক্রিস্টিনা স্থানীয় পোটোম্যাক পুলিশ প্রিসেন্টে ৯১১ নাম্বারে ফোন করেন। তবে সেদিন জয় এবং ক্রিস্টিনার তর্কবিতর্কের কথা সূত্রটি স্বীকার করলেও ক্রিস্টিনা স্থানীয় পুলিশে ফোন করেছিলেন কিনা তা নিরপেক্ষ সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি। যদিও ঘটনাটি শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই একজন জেনে যান। এ সময় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানাও ওই বাড়িতে ছিলেন বলে জানা যায়। সূত্র মতে, শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত সবাইকে এই বাড়িতে রাখা হয়নি। কারণ পোটোম্যাক এলাকাটি ভিভিআইপি এলাকা হিসাবে বিবেচিত হওয়ায় ওই এলাকাটির সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা যেকোন এলাকার চাইতে বেশি। চাইলেই এই এলাকায় যে কেউ সহজে ঢুকতে পারেন না। এমনকি শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সবাইকে ওই বাড়ীতে রাখা হয়নি। বরং তাদের কাউকে কাউকে ভার্জিনিয়া, ওয়াশিংটন কিংবা মেরিল্যান্ডের হোটেলে রাখা হয়। ভার্জিনিয়ায় বসবাসকারি একজন ব্যবসায়ী এই প্রতিবেদককে বলেছেন, শেখ হাসিনা অসুস্থ না হয়ে পড়লে সজিব ওয়াজেদ জয়ের পোটোম্যাকের বিলাসবহুল বাড়িটির কথা অনেকের কাছেই অজানা থেকে যেতো।

উল্লেখ্য, চলতি বছর আমেরিকাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইন্ট্রিগ্রিটি -জিএফআই’ তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘গত একদশকে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে ছয় লাখ কোটি টাকা’। দেশের ব্যাংকগুলো পরিণত হয়েছে ব্যাংক ডাকাতদের নিরাপদ অর্থলুটের কেন্দ্রে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টদের অভিমত, ব্যাংকিং খাতের লুটেরাদের সঙ্গে সরাসরি শেখ হাসিনা-শেখ রেহানা এবং তাদের পুত্র পরিজনদের যোগসাজশ রয়েছে। এসব কারণে কোনো ঘটনায় বিচার হয়না। এর প্রমান, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যাবহার করে ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফান্ডের আটশো দশ কোটি করি লুট করা হয়। এ লুটের সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পৃক্ততা নাভাবেই উঠে এসেছে। জয়কে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। বরং দেখা যায়, রিজার্ভ ফান্ড লুটপাটের ঘটনা ধামাচাপা দিতে জয় তার বন্ধু ভারতীয় নাগরিক রাকেশ আস্তানার হাতে ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। এমনকি রিজার্ভ লুটের ঘটনা শেখ হাসিনা এবং তার ব্যাংক ডাকাত পুত্র জয় ধামাচাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করেছে।


অপরদিকে, ২০১৫ সালে ১৫ মার্চ নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা পত্রিকায় “জয়ের ব্যাংক ব্যালেন্সসহ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের তথ্য এফবিআই এবং বিএনপির হাতে” এই শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিজভী আহমেদ নামে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন মার্কিন নাগরিক দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই”র এজেন্টকে ঘুষ দিয়ে এ তথ্য বের করে আনে। তবে ঘুষ দেয়ার বিষয়টি বেআইনি বিধায় ঘুষ লেনদেনের অপরাধে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিক রিজভী আহমেদ এবং এফবিআই’র সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালত আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়। তবে আদালতে উপস্থাপিত এফবিআই’র নথিতে জয়ের ব্যাংকে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আদালত মিথ্যা কিংবা ভিত্তিহীন বলেনি। সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই’র তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজন আসামি। জয়ের বিরুদ্ধে এফবিআই দপ্তরে ফাইল রয়েছে কিন্তূ শেখ হাসিনার ব্যাংক ডাকাত সরকার কিংবা দুদক সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করছেনা।

বিচারক নয়, আয়োজকের পছন্দে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’!

বিচারকদের রায়ে নয়, আয়োজকের পছন্দে নির্বাচন করা হলো ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’! আয়োজকের এমন কাণ্ডে এরই মধ্যে এই প্রতিযোগিতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। জান্নাতুল নাঈম নামের যে প্রতিযোগীকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি নাকি বিচারকদের পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। যাচাই-বাছাই শেষে বিচারকেরা ভোট দিয়ে যাঁকে প্রথম নির্বাচিত করেছেন, আয়োজকের নির্দেশে উপস্থাপক তাঁকে দ্বিতীয় ঘোষণা করতে বাধ্য হন। এমন কাণ্ডে বিস্মিত হয়েছেন গ্র্যান্ড ফিনালের ছয় বিচারক।

এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আর তা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয় গত জুলাই মাসে। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য তখন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজক প্রতিষ্ঠান অন্তর শোবিজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ হাজার আগ্রহী নাম নিবন্ধন করেন। তাঁদের মধ্য থেকে কয়েকটি ধাপে বাছাই করা হয়েছে সেরা ১০ জনকে। এই ১০ জন হলেন রুকাইয়া জাহান, জান্নাতুল নাঈম, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা দত্ত, ফারহানা জামান, জান্নাতুল হিমি ও জেসিকা ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রী হলে এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালেতে অংশ নেন তাঁরা। যিনি সেরা হয়েছেন, তিনি ১৮ নভেম্বর চীনের সানাইয়া শহরে অনুষ্ঠেয় ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন।

‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক ছিলেন জুয়েল আইচ, শম্পা রেজা, বিবি রাসেল, চঞ্চল মাহমুদ, রুবাবা দৌলা ও সোনিয়া বশির কবির। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শিনা চৌহান।

জান্নাতুল নাঈম

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন বিচারক আজ শনিবার সকালে বলেন তাঁদের মতে, ‘এটা খুব অন্যায় হয়েছে। আমাদের সবার কাছে যে প্রথম হয়েছে, তাকে প্রথম করা হয়নি। যাকে প্রথম করা হয়েছে, সে আমাদের প্রথম তিনজনের তালিকায়ও ছিল না। যেহেতু এটা একটা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, তাই আমরা এমন একজন প্রতিযোগীকে বাছাই করতে চেয়েছি, যে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবে। আমরা একবাক্যে জেসিকা ইসলামকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নির্বাচিত করি। গতকাল রাতে যা ঘটল, তা আমাদের জীবনে খুব খারাপ একটা অভিজ্ঞতা হয়ে থাকল। এত বড় একটা অন্যায় এভাবে হবে, ভাবতেও পারিনি।’

ক্ষুব্ধ এই বিচারকেরা বলেন, ‘আয়োজকেরা যদি নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তাহলে তো বিচারক হিসেবে আমাদের রাখার প্রয়োজন ছিল না। আমাদের জন্য এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। নাম ঘোষণার ওই মুহূর্তে এত মানুষের সামনে আমরা আয়োজকদের অপমান করতে চাইনি। এখন মনে হচ্ছে, তখন আমাদের এই কাজটি করা উচিত ছিল।’

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে অন্তর শোবিজ ও অমিকন এন্টারটেইনমেন্ট। বাংলাদেশে এবারই প্রথম ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর ফ্র্যাঞ্চাইজি নিয়ে এসেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী এই ঘটনা স্বীকার করে আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা আসলেই একটা মিসটেক (ভুল) হয়ে গেছে।’

তবে বিকেলে একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান স্বপন চৌধুরী। এখানে তিনি বলেন, ‘আসলে দুজনের নাম প্রায় একই হয়ে যাওয়ায় সমস্যাটা হয়েছে। লাইভ টেলিকাস্টের কারণে আমরা হুট করেই জানতে পারি, আমাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় রয়েছে। তখন তাড়াহুড়ো করতে হয়েছে। ভারতীয় উপস্থাপক শিনা চৌহান ঠিকঠাক সব চালিয়ে নিলেও মূল নাম উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছেন। এমন ভুল অস্কারের মতো আসরেও হয়। এরপরও আমরা এ ধরনের ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এটাই চূড়ান্ত ফল, এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য নিহত

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল কাশেম ভদু নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য নিহত হয়েছেন।

আজ শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন।

জানা গেছে, আবুল কাশেম ভদু নাচোল থেকে মোটরসাইকেলযোগে ফিরছিলেন। এ সময় ওই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

জীবন্ত মূর্তি হয়ে ৩২ বছর কাটিয়ে দিলেন এই ব্যাক্তি

এই গোটা বিশ্বে পেটের তাগিদে অনেক মানুষ অনেক পেশায় নিয়োজিত। এর মধ্যে অনেক মানুষ অনেকে এমন আছেন যাদের পেশার কথা শুনলে আপনার চোখ চড়ক গাছ হয়ে যাবে।

এমনই এক বিচিত্র পেশার মানুষের মধ্যে রয়েছে ভারতেরই একজন। তার নাম আব্দুল আজিজ।ঘটনার সূত্রপাত ১৯৮৫ সালের শুরুর দিকে। বেকার আব্দুল আজিজ কাজের সন্ধানে ঘুরছেন ভারতের চেন্নাই শহরের পথে পথে। কোথাও কিছু না পেয়ে শেষে দারোয়ানের চাকরি নিলেন ভিজিপি গোল্ডেন বিচ রিসোর্টে। চাকরি পেয়ে সময়টা ভালোই কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই রিসোর্ট মালিকের মাথায় খেয়াল চাপলো লন্ডনের রানীর বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসের গেটের রক্ষীরা যেমন পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকে দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার জন্য তার রিসোর্টের গেটে আব্দুল আজিজেরও সেভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

প্রস্তাব শুনে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো আজিজের মাথায়। কিন্তু চাকরি চলে যাবার ভয়ে মালিকের মুখের ওপর কিছু বলারও সাহস পাননি তিনি।

অগত্যা তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিলেন। সাহসে বুক বেঁধে দাঁড়িয়ে গেলেন ভিজিপি গোল্ডেন বিচ রিসোর্টের মূল দরজায়। সেই থেকে শুরু। টেমস নদীর জলও বয়ে গিয়েছে অনেকদূর কেটে গিয়েছে ৩২ বছর।দীর্ঘ এই সময়ে জীবন্ত মানুষ আব্দুল আজিজ মূর্তির অভিনয় করে চলেছেন। দিনে ছয় ঘণ্টা তাকে অবিকল পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। খাওয়া-ঘুম তো দূরের কথা, এ সময়ের মধ্যে তিনি মল-মুত্র ত্যাগের মতো প্রাকৃতিক কর্মেও সাড়া দিতে পারেন না। এটাই তার পেশা এবং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

আব্দুল আজিজের এই অবিশ্বাস্য দক্ষতা তাকে ‘মূর্তিমানব’র খ্যাতি এনে দিয়েছে। কিন্তু খ্যাতিতে কি আর পেট ভরে? দিনে ছয় ঘণ্টা, মাসে ত্রিশ দিন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে পান মাত্র দশ হাজার টাকা। তাইতো নিজের ছেলেদের তিনি এই পেশায় আনতে চান না। তবে আয় অল্প হলেও নিজের পেশা নিয়ে খুশি আজিজ এবং দ্রুত এই পেশা থেকে অবসরের কথাও ভাবছেন না তিনি।

চাওয়া একটা অ্যাপল ম্যাক

অধিকাংশ কম্পিউটারপ্রেমীরই একটি ম্যাকের মালিক হওয়ার লোভ থাকে, তবে দামটা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সবার ইচ্ছাপূরণ হয় না। কিন্তু ম্যাক কম্পিউটারের প্রতি সবার এ আকর্ষণের কারণ কী, বিশেষ কী কী সুবিধা আছে এতে—এসব নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন মিজানুর রহমান

ম্যাক, কারো কারো কাছে শুধুই একটা কম্পিউটার, তবে অনেকের কাছে এটি একটি ‘অনুভূতি’। কেউ ভাবেন—দাম এত চড়া কেন? কারো কাছে এত স্টাইল স্টেটমেন্ট, দাম তো একটু বেশিই হবে।

তবে এসব ছাপিয়ে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটারের বিশাল বাজারে অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটার অনন্য! যেখানে অন্যান্য ব্র্যান্ড লাভ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত সেখানে অ্যাপল প্রযুক্তির বাজারে নতুন পরিবর্তন এনে ব্যবহারকারীকে সর্বোচ্চ ‘ইউজার এক্সপেরিয়েন্স’ দিতে মগ্ন। ম্যাকিন্টোশের বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি না হওয়ায় একবার স্টিভ জবসকে অ্যাপল ছেড়েও যেতে হয়েছিল। 

ম্যাকই লাগবে

যে কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—পিসি কেনার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড আপনাকে কতটা প্রভাবিত করে? যে জবাবটি পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে প্রবল তা হচ্ছে, ভালো ব্র্যান্ডের যেকোনো পিসি হলেই চলবে। তবে ম্যাকের বিষয়টি এমন নয়। ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য ম্যাকই লাগবে। অর্থাৎ অ্যাপলের পিসি বা ল্যাপটপ। ম্যাক ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অ্যাপলের একটি পণ্য মানে কেবল একটি পণ্য নয়, একটি অনুভূতি। আপনার ধরে দেখতে ইচ্ছে করবে। তাই একজন ম্যাক ব্যবহারকারীদের জন্য অন্য পিসি ব্যবহার করা একটু কষ্টকর বটে।

আর ম্যাকের প্রতি এই অনুভূতির প্রমাণ মেলে যখন একটি অ্যাপল পণ্য ধরে দেখার জন্য অ্যাপল স্টোরগুলোতে লম্বা লাইন পড়ে। আর মানুষের এই ভালোবাসার জন্যই অ্যাপল হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ড। কদিন আগেই তাদের আমানত ৮০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ধারণা করা হচ্ছে, বছর শেষে বিশ্বের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপলের আমানত এক ট্রিলিয়ন ডলার ছোঁবে। 

কেন আলাদা!

প্রথমেই চিন্তা করুন তো আমরা কেন তুলনা করার সময় ম্যাক বনাম পিসি বলি? সবই তো পারসোনাল কম্পিউটার বা পিসি! এর পেছনে প্রধান কারণ ‘স্বকীয়তা’। ম্যাক পিসির জগতে নিজেকে এতটাই আলাদা করে রেখেছে যে ব্যবহারকারীরা এটিকে পিসি বা ল্যাপটপ বলতে নারাজ। তারা ম্যাক বা ম্যাকবুক বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। আর এ কারণেই ম্যাক বা ম্যাকবুক ব্যবহারকারীরা নিজেদের সবার চেয়ে আলাদা করার সুযোগ পান।

যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টার কালচার জেনারেশনের ক্ষ্যাপাটে তরুণ স্টিভ জবস স্বপ্ন দেখেন ব্যক্তিগত কম্পিউটারের। স্টিভ ওয়াজনিয়াকের প্রকৌশলবিদ্যা আর স্টিভ জবসের উচ্চাভিলাষ একত্র হয়ে প্রযুক্তি বিশ্বকে চমকে দেয় ১৯৭৬ সালে। সেই থেকে স্টিভ জবসের হাত ধরেই বদলে যায় ব্যক্তিগত কম্পিউটারের জগৎ। প্রতিবছর নতুন নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় তারা। একবার অ্যাপলের একজন পণ্য নকশাকার বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করি আগেরটির তুলনায় ভালো কিছু তৈরি করতে। আর তা যদি না পারি, তাহলে আমরা সেটা বাজারেই ছাড়ি না। এই মানসিকতাটিও অ্যাপলে এসেছে স্টিভ জবস সূত্রে। ’

প্রতিটি পণ্য তৈরির আগে স্টিভ জবস তাঁর দলকে বলতেন—এমন কিছু নির্মাণ করো, যা তোমার নিজের ব্যবহার করতে ইচ্ছা করবে। আর ‘থিংক ডিফারেন্ট’ বা আলাদা কিছু ভাবার বিষয়টি তো আছেই। আলাদা ভাবনার বিষয়টি অ্যাপলের সাফল্যের অন্যতম সেরা মন্ত্র। বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা কম্পানি ফোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ড একবার বলেছিলেন, ‘যদি আমি মানুষকে জিজ্ঞেস করতাম তাদের কী লাগবে, তারা বলত তাদের আরো দ্রুতগতিসম্পন্ন ঘোড়া লাগবে। ’ এই কথার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যদি তিনি প্রচলিত ধারার মধ্যে থাকতেন, তাহলে আমরা হয়তো গাড়িই পেতাম না। অ্যাপলের মধ্যেও সবাই এই মন্ত্রে বিশ্বাসী যে প্রচলিত ধারায় গা ভাসিয়ে দিলে কখনো ‘ভালোবাসা’ পাওয়া যাবে না। তাই প্রতিবার তারা চায় এমন কিছু তৈরি করতে, যা দেখার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ এর প্রয়োজন বুঝতে পারে। যেমন মাউস। অ্যাপল যখন পারসোনাল কম্পিউটারে মাউসের ব্যবহার শুরু করে তখন পর্যন্ত কেউ অনুভবই করেনি এমন একটা জিনিস দরকার আছে। বাজারে আসার পর সবার মনে হলো—এটাই তো আমি চেয়েছিলাম।

 

নকশায় স্বাতন্ত্র্য

ম্যাকের স্বাতন্ত্র্যের আরেক কারণ—নকশা। অ্যাপল কেবল বিক্রয়ের জন্য পণ্য তৈরি করে না। তারা সব সময় এমন কিছু তৈরি করতে চায়, যা দেখেই ব্যবহারকারীরা মুগ্ধ হবে। অনেকটা ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’-র মতো। ব্যবহারকারী ধরে রাখতে অ্যাপলের আছে কয়েক ধাপের ব্যবস্থা। প্রথম অবশ্যই এক দেখাতে ভালো লাগা, এরপর একটু ছুঁয়ে দেখা আর সেটি সম্ভব হয় অ্যাপল স্টোরে। আরেকবার যখন কেউ ছুঁয়ে দেখে অ্যাপল চায়, সে যেন একেবারেই ভালোবেসে ফেলে। আর এই কাজটি করে সহজ ইউজার ইন্টারফেস। ম্যাক থেকে শুরু করে অ্যাপলের সব পণ্যের অন্যতম সেরা গুণ হচ্ছে এগুলো ব্যবহার সহজ। একজন সাধারণ মানুষের যা যা প্রয়োজন সব পাওয়া যাবে হাতের নাগালে। এটিই ব্যবহারকারীকে আটকে ফেলে। দাম নিয়ে একটু সমস্যা হলেও কারো সামর্থ্য থাকলে অ্যাপল স্টোর থেকে খালি হাতে ফেরেন খুব কমই!

 

পিসি বনাম ম্যাক

বিল গেটস ও স্টিভ জবস সমসাময়িক না হলে ‘পিসি বনাম ম্যাক’ বিতর্কেরই জন্ম হতো না। এই দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মধ্যে অনেক দিন ধরেই প্রবল প্রতিযোগিতা। স্টিভ জবস যখন ম্যাকিন্টোশ নির্মাণ করছেন তখন বিল গেটস কাজ করছেন উইন্ডোজ নিয়ে। ম্যাকিন্টোশ চলে কেবল অ্যাপলের আইম্যাক ও ম্যাকবুকে। আর উইন্ডোজ চলে বাকি সব কম্পিউটার ও ল্যাপটপে। যুগের পর যুগ এই দুটি অপারেটিং সিস্টেমকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে কম্পিউটার জগৎ।

 

অনুভূতি: একটি কম্পিউটার ব্যবহার শুরু করলে প্রথম যে বিষয়টির সঙ্গে আপনার পরিচয় হবে সেটি হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম। এটিই ঠিক করে দেয় কম্পিউটারটির ব্যবহার সহজ না জটিল হবে। টাচ বেজড অপারেটিং সিস্টেম নির্মাণের জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করা পিসি উইন্ডোজ এইটে ভোক্তাদের বিরক্তি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি বলে মনে করেন বিশ্বের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। যদিও উইন্ডোজ টেনে এসে তার কিছুটা দূর করতে পেরেছ মাইক্রোসফট। অন্যদিকে ম্যাক ওএস টেন পুরনো অনুভূতি ধরে রেখেছে। ম্যাক এখনো টাচ বেজড অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে আসেনি, তবে অ্যাপলের অত্যাধুনিক মাউস এবং ম্যাকবুকের টাচপ্যাড সেটির অভাব ভালোভাবেই দূর করতে পারছে।

 

অনন্য সমন্বয়: অ্যাপলের সব ডিভাইসে একই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম হওয়ায় কাজ অনেক সহজ হয়ে পড়ে। যেমন—আপনি আইম্যাকে যে লেখাটি শুরু করলেন তা চাইলে চলার পথে আইফোন বা আইপ্যাডেও শেষ করতে পারেন। অন্যান্য পিসি, মোবাইল, ট্যাবলেটের অপারেটিং সিস্টেম আলাদা হওয়ার কারণে এটি করা অতটা সহজ হয় না।

 

নকল এড়াতে: বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের পিসি আছে। ফলে এ ধরনের পণ্যের অনেক নকল ঢুকে পড়ে বাজারে। ম্যাক কম্পিউটারে এ সমস্যা নেই। বিষয়টি এমন—কম্পিউটার লাগবে? অ্যাপল স্টোরে গিয়ে কিনে নিয়ে আসুন। আপনাকে আর কিছু ভাবতে হবে না।

 

নিরাপত্তা: সাইবার নিরাপত্তা এখন বড় ইস্যু। সবাই চাচ্ছে তার ডিভাইসটি নিরাপদে থাকুক। বছরের পর বছর ধরে ম্যাকে সাইবার আক্রমণের সংখ্যা উইন্ডোজ পিসিতে সাইবার আক্রমণের পরিমাণের চেয়ে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কম। তাই ম্যাক কম্পিউটার ব্যবহার তুলনামূলক অনেক নিরাপদ।

 

সঙ্গেই সব সফটওয়্যার: উইন্ডোজ পিসির ক্ষেত্রে যেকোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করা যায়। কিছু ফ্রি কিছু কিনে ব্যবহার করা যায়। তবে উইন্ডোজের সঙ্গেই বলার মতো অসাধারণ কোনো সফটওয়্যার আসে না। এদিকে একটি ম্যাক কম্পিউটারের বাক্স খুললে অন করলেই আপনি ইনস্টল করা পাবেন ফটোজ, আইমুভি, গ্যারেজব্যান্ড, পেজেস, নাম্বারস,  কিনোট, ফেসটাইম, আইটিউনস, ম্যাপস। যেগুলো দিয়ে আপনি সঙ্গে সঙ্গে ছবি এডিটিং, গান তৈরি, ভিডিও এডিটিং করতে পারবেন। ম্যাক অ্যাপ স্টোরে আছে আরো অনেক ধরনের অ্যাপ, যা আপনার অন্যান্য প্রয়োজন পূরণ করবে।

 

মনিটর: বর্তমান রেটিনা ম্যাকবুক ও আইম্যাকে আছে রিফ্লেক্টিভ কোটিং। এসব ডিসপ্লের ডট পার ইঞ্চি বা ডিপিআই অনেক উচ্চ। কিছু দামি উইন্ডোজ ল্যাপটপেও অবশ্য এই ডিপিআই পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বিচারে ম্যাক যোজন যোজন এগিয়ে।

 

নির্মাণশৈলী: পণ্য নির্মাণের ক্ষেত্রে একেবারে খুঁটিনাটি বিষয়ে অ্যাপল অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়ে থাকে। যেকোনো ছোট পরিবর্তনের জন্য এটি বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে থাকে। অ্যাপল টু বাজারে আনার সময় কেবল একটি অডিও ক্লিপে সমস্যা হওয়ার কারণে স্টিভ জবসের রোষানলে পড়তে হয়েছিল পুরো টিমকে।

বাবার বকা খেয়ে বিষপানে কিশোরীর আত্মহত্যা

নগরীতে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন রোজিনা আকতার নামে এক কিশোরী। আজ বিকেলে নগরীর বায়েজীদ থানাধীন বালুছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রোজিনা ওই এলাকার ইউসুফ আলির মেয়ে।

পরিবারের বরাত দিয়ে চমেক হাসপাতালে পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানায়, পারিবারিক বিষয় নিয়ে রোজিনাকে বকা দেয় বাবা। এতে রাগ করে বিষপান করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহালের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের টের পেল পুলিশ!

সিলেট শহরতলির খাদিমপাড়ায় একটি মাছের খামারে লাশ ভাসছে- এমন খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সেখানে যায় পুলিশ। এরপর পুলিশ পুকুর থেকে লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন করার প্রস্তুতি নেয়।
ঠিক ওই সময় নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখে হাত দিয়ে দেখা গেল শ্বাস-প্রশ্বাস চলছে।

এরপর তাকে দ্রুত নেয়া হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শুরু হয় চিকিৎসা। চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় লোকটি এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে চিকিৎসকদের মতে, সে মানসিকভাবে অসুস্থ। ।

শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জ্ঞান ফেরার পর অনুমান ৩০ বছর বয়সের লোকটি তার নাম ইব্রাহিম মোল্লা ও ভাইয়ের নাম জুয়েল বলে জানান। বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায়। তবে শনিবার পর্যন্ত তার স্বজনদের কোনো খোঁজ মেলেনি বলেও জানান তিনি।

মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, লাশ ভেসে থাকার খবর পেয়ে উদ্ধারের পর অচেতন অবস্থায় লোকটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার পর রাতে তার চেতনা ফেরে। তবে পানিতে পড়ার ঘটনাসহ নিজের পরিচয় সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছেন না লোকটি। একেক সময় একেক রকম তথ্য দেয়ায় মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে লোকটির পরিচয় শনাক্ত করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে কর্তব্যরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফারুক জানান, ইব্রাহিম এখন সুস্থ আছে। হাঁটতে পারছে। পুলিশ সদস্যরা তার দেখাশোনা করছে। এ মুহূর্তে সে মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন। তবে তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু পূজার ছুটির কারণে তাকে মানসিক চিকিৎসা বিভাগে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।

ইলিশে ইলিশে সয়লাব বাজারগুলো

৩০শে সেপ্টেম্বর। ইলিশ ধরার শেষ দিন। ট্রলারের পর ট্রলার ভিড়ছে বরিশাল মৎস্য ঘাটে। শতশত মন ইলিশ নামছে ঘাটে। দামও সর্বনি¤œ পর্যায়ে। হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। রিকসাচালক থেকে উচ্চ বিত্ত। কেউ আসছেন গাড়িতে কেউবা সাইকেল চালিয়ে। যার যেরকম পুঁজি, তা দিয়ে কিনছেন ইলিশ। কেননা আজকের পর আর বাজারে মিলবে না অতি সুস্বাদু এই মাছ। আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা। তাই ব্যবসায়ীরাও ইলিশ ছাড়ছেন বাজারে। আজ বরিশালের মানুষ যেন হুমড়ি খেয়ে পড়ে পোর্ট রোর্ডের মৎস্য ঘাটে। সবার হাতে ইলিশ। কোনটার দাম ২০০ টাকা কেজি, ৫০০ গ্রামের উপরে ৪০০ টাকা, আর ১ কেজি সাইজের ৫০০- ৬০০ টাকা। কিনছেও দেদারছে। মিজানুর রহমান নামের এক ভদ্রলোক ২২টি ইলিশ কিনেছেন। তিনি জানান, ফ্রিজে রেখে খাবেন। বলা যায় না আবার কবে ইলিশ কিনতে পরবেন। রিকসা চালক কোব্বাত মোল্লাও কিনেছেন এক হালি। দাম ২৫০ টাকা। খুব খুশি। ছেলেমেয়েদের নিয়ে খাবেন। আবার আনোয়ার হোসেন নামের এক ভ্রদলোক ২০টি বড় সাইজের ইলিশ কিনেছেন। ঢাকা পাঠাবেন। মেয়ের বাড়ি। সূত্র মতে, গত কয়েক দিন ধরেই বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের অবতরণ কেন্দ্রে প্রচুর ইলিশ মাছ আসতে শুরু করেছে। জেলেরা সাগর ও নদী থেকে মাছ শিকার করে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এ মোকামে হাজির হচ্ছেন। আর এখানকার পাইকারী বিক্রেতারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন ইলিশ। মোকাম মালিকরা বলেছেন, ১লা অক্টোবর থেকে ২২শে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষেধ। তাই শুক্রবারই এখান থেকে অন্য জেলাতে ইলিশ সরবরাহের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শনিবার শুধু এখানকার লোকাল বাজারে ইলিশ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এখানকার পাইকারীদারদের অবতরণ কেন্দ্রে উপস্থিতি কমে গেছে। একারণে সস্তায় ইলিশ কিনতে সরাসরি ক্রেতারাই অবতরণ কেন্দ্রে আজ শনিবার সকাল থেকেই ভিড় জামাচ্ছেন। আর মধ্যসত্ত্বভোগীদের তৎপরতা এড়িয়ে তাজা মাছের স্বাদ নিতে অবতরণ কেন্দ্রে ছুটে আসা সব শ্রেনী পেশার মানুষরা ইলিশ কিনছেনও বেশ কম দামে। সেখানাকার মেসার্স ইয়ার উদ্দিন সিকদার আড়ৎ’র মালিক মো. কবির হোসেন জানান, গত কয়েক দিনের মতোই আজ একই দরে মাছ বেচা বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচড়া ক্রেতারা সস্তি পাচ্ছেন। কারণ আজ অবতরণ কেন্দ্রে পাইকারী ক্রেতা কম। ফলে সরাসরি খুচড়া ক্রেতারা ডাকে মাছ কিনতে পারছেন। তিনি আরো বলেন, আজ শনিবার ৪-৫ শত গ্রাম (ভ্যালকা) ইলিশ মনপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ হাজার, এলসি (সাড়ে ৬-সাড়ে ৮ শত গ্রাম) সাইজের ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা, বড় সাইজ (৯ শত থেকে ১ কেজি) ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আর এর উপরের সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৪ হাজার টাকায়। অবতরণ কেন্দ্রে আসা ক্রেতা শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন জানান, এতোদিন শুধু শুনেছি প্রচুর ইলিশ উঠছে। কিন্তু লোকাল বাজারে ঘুরে দেখেছি তুলনামূলক দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যসত্তভোগীরা মোকাম থেকে কমদামে ইলিশ কিনে তার আমাদের কাছ থেকে বেশী দরে বিক্রি করেছে। যার প্রমাণ আজ মোকামে এসে দেখলাম। তিনি বলেন, এখান থেকে আজ ৫শত গ্রাম সাইজের ৫ কেজি ইলিশ কিনেছি মাত্র ১৮শত টাকায়। যা লোকাল বাজারে দাম ২৫শত টাকা। আগামীকাল থেকে নিষেধাজ্ঞা থাকায় লোকল বাজারের বিক্রেতারা আজ আর মোকামে তেমন একটা দেখা যায় নি। বরিশাল মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল জানান, বর্তমান সরকারের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের কারণে বরাবরের মতো এ মৌসুমে ভাল মাছ পেয়েছি আমরা। আজ মোকামে লোকাল বাজারের বিক্রেতাদের উপস্থিতি কম থাকায় খুচড়া ক্রেতাদের ভিড় বেশী। তিনি আরো বলেন, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ২২ দিন ব্যাপী ইলিশ ধরা পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে বরাবরই আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মোকাম মালিক ও পাইকারীদার এবং জেলেদের সর্তক করা হয়েছে। বরিশাল জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, আজ রাত ১২টার পর থেকেই ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ। সরকারের এই আদেশ অমান্য করে ইলিশ মাছ আহরণ ও বিক্রি করলে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদ- বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দ- দেয়া হবে। সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা পালনে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

২১ হাজার ইয়াবাসহ তিন রোহিঙ্গা আটক

টেকনাফে ২১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মিয়ানমারের নাগরিক ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শনিবার সকাল ৬ টার দিকে মিয়ানমার হতে নৌকা যোগে নাফ নদ পেরিয়ে টেকনাফের বড়ইতলী সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হল- মিয়ানমারের আকিয়াব জেলার মংডু থানার আশিক্কা পাড়ার মো. ইউনুছ আলীর পুত্র মো. ফয়সাল (২০), নাইটার ডেইল গ্রামের ফয়েজ আহম্মদের পুত্র মোহাম্মদ আলী (২০), কাইয়ংখালী গ্রামের রশিদ আহমদের পুত্র মো. আব্দুল (২০)। আটকদের বিরুদ্ধে ইয়াবা বহন ও অবৈধভাবে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে টেকনাফ মডেল থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কাছ ইয়াবা ট্যাবলেট, হাতে চালিত কাঠের নৌকা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল এসএম আরিফুল ইসলাম জানান, ইয়াবার একটি চালান টেকনাফের বড়ইতলী (উঠনী) সংলগ্ন নাফ নদীর কিনারা দিয়ে পাচারের গোপন সংবাদে টেকনাফ বিওপির হাবিলদার মো. আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে একটি টহলদল কেওড়া বাগানে ওঁৎ পেতে থাকে। এসময় মায়ানমার হতে একটি হাতে চালিত নৌকা আসতে দেখে টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে ইয়াবা পাচারকারী ৩ জন নৌকা থেকে নেমে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে আটককৃত ইয়াবা পাচারকারীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নৌকার সাথে রশি দিয়ে বাধা অবস্থায় পানির নিচ হতে দুই প্যাকেট ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।