ট্রেনে ভিড়েও স্বস্তি, ৫টি বিলম্বে

ট্রেনে ঈদযাত্রার পঞ্চম দিনে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখী মানুষের প্রচণ্ড ভিড় দেখা গেছে। যাত্রী ওঠা-নামা ও বিলম্বে আসার কারণে পাঁচটি ট্রেন স্টেশন থেকে দেরিতে ছেড়ে গেছে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আজ শেষ কর্মদিবস হওয়ায় অনেকেই এক দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলেছে, আজ ভোর থেকেই যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। তবে বেলা বাড়তেই সেই চাপ কমে আসে। বিকেল নাগাদ যাত্রীর এই চাপ বাড়বে।

সকালে কমলাপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোয় ঘুরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন অনেকে। ট্রেন একটু দেরিতে ছাড়লেও ক্ষোভ নেই কারও। বরং সড়কের যানজটে পড়তে হবে না বলে অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করলেন।

স্টেশনে ট্রেন আসতেই সবাই হুড়মুড়িয়ে পড়ছেন। ট্রেনের কামরায় জায়গা না পেয়ে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ছাদেও উঠছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ভোর থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ২৬টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। সারা দিনে ছেড়ে যাবে ৬৭টি ট্রেন। এর মধ্যে চিলাহাটিগামী নীলসাগর ট্রেনটি আড়াই ঘণ্টা, রংপুর এক্সপ্রেস দুই ঘণ্টা, ধূমকেতু এক্সপ্রেস এক ঘণ্টা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস দেড় ঘণ্টা দেরি করে ছেড়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন গন্তব্যের কয়েকটি ট্রেন ১৫ থেকে ২০ মিনিট দেরি করে স্টেশন ছেড়ে গেছে।

স্টেশনের সাত নম্বর প্ল্যাটফর্মে কথা হয় আবদুল মোমেনের সঙ্গে। পরিবারের চার সদস্যকে নিয়ে তিনি নীলফামারীতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। ট্রেন আড়াই ঘণ্টা দেরির কথা জানালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সময়ের গাড়ি সময়ে না এলে একটু তো খারাপ লাগেই। যা-ই হোক, রাস্তার মতো জ্যামে তো আর পড়তে হবে না। এতেই শান্তি।

স্টেশন ব্যবস্থাপক সিতাংশু চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ট্রেন বিলম্বে আসার কারণেই স্টেশন ছেড়ে যেতে দেরি হচ্ছে। এখন যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়। যাত্রী ওঠাতে ও নামাতে অনেক সময় লাগে। ১০ থেকে ১৫ মিনিট লেগে যায়, যেখানে বরাদ্দ মাত্র দুই মিনিট। এটা কিন্তু সময়সীমায় অন্তর্ভুক্ত নয়।

ছাদে ওঠার প্রসঙ্গে স্টেশন ব্যবস্থাপক বলেন, ‘ছাদে না ওঠার বিষয়টা আমরা বারবার বলি। প্রতিবারই বলি। নিরাপত্তা দিয়ে তাদের নামানোর চেষ্টা করি। এর অতিরিক্ত তো কিছু নয়। যাত্রী যদি নিজেরই সচেতন হওয়া উচিত।’

বৃষ্টির পরই কমল গরুর দাম

রামপুরার আকাশ সাহেব গরু কিনতে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় আসেন আফতাবনগর হাটে। এসে দেখেন, গরুর বাজার বেশ চড়া। পুরো হাট ঘুরে দেখতে থাকেন তিনি। এর মধ্যেই ১০টার দিকে শুরু হয় বৃষ্টি।

আকাশ সাহেব দেখলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর বাজারে গরুর দাম বেশ কমে গেল। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ৫৪ হাজার টাকায় একটি দেশি গরু কিনলেন তিনি। আকাশ বললেন, সকালে বাজার অনেক চড়া ছিল। এখন দাম কিছুটা কমেছে। গরু কিনে তাই খুব খুশি।

সরেজমিনে আফতাবনগর গরুর হাটে দেখা গেল, প্রচুর গরু বেচাকেনা হচ্ছে। রাস্তার দুপাশ দিয়ে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা, অধিকাংশ গরুই ছোট আকারের দেশি গরু।

বিক্রেতারা জানালেন, এবারে দেশি গরুর বেচাকেনা অনেক বেশি। ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মধ্যে দেশি জাতের ছোট গরু বিক্রি বেশি।

আফতাবনগর হাটের একজন কর্মী মো. সাগর জানান, বেচাকেনা অনেক বেড়েছে। ক্রেতারা আজ আসছেন। দামও বেশ নাগালের মধ্যে। তবে দেশি ছোট জাতের গরু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

সাগর আরও জানান, কাল শুক্রবার শেষ দিন। বাজারে পর্যাপ্ত গরু আছে, সময় যত গড়াবে, বেচাকেনা তত বাড়বে।

গরু বিক্রেতা আবদুর রহিম জানান, বৃষ্টির কারণে দাম একটু কমে গিয়েছে। তবে বৃষ্টি কমে গেলে বাজার অনেক চড়া হবে বলে আশা করছেন তিনি।

হাট ঘুরে দেখা গেল, সারি বেঁধে হাটে আসছেন ক্রেতারা। ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষিতে মুখর আফতাবনগর হাট। বাজার পুরোপুরি জমে উঠেছে।

ফুটবলার না হয়ে তিনি এখন সাকিবের ‘গুরু’

কোনো সমস্যায় পড়লেই শচীন টেন্ডুলকার ছুটে যেতেন তাঁর ছোটবেলার কোচ রামকান্ত আচরেকারের কাছে। তিনিই ছিলেন তাঁর ভরসা। স্পিনারদের বিপক্ষে খুব বেশি এলবি হচ্ছেন, চলে গেলেন আচরেকার স্যারের কাছে, অফস্টাম্পের বাইরের বলে পা ঠিকমতো যাচ্ছে না, আচরেকারই ভরসা। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে পর্যন্ত আচরেকারই যেন ছিলেন লিটল মাস্টারের ‘গাইড ও গডফাদার’। আমাদের সাকিব আল হাসানেরও আছেন তেমনি একজন ‘গুরু’। মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। টেন্ডুলকারের মতোই ‘খারাপ সময়ে’ সাকিবের মানসিক প্রশস্তি সালাউদ্দিনই।

তথ্যটা পুরোনো। গণমাধ্যমে সাকিবের ‘গুরু’ হিসেবে অনেকবারই এসেছে সালাউদ্দিনের নাম। কিন্তু নতুন তথ্যটা হলো, হালে দেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেট কোচ সালাউদ্দিনের নাকি ক্রিকেটের ধারেকাছে আসারই কথা ছিল না। ১৯৮৬ সালে বিকেএসপিতে ছাত্র হিসেবে ভর্তি হতে চেয়েছিলেন ফুটবলে। কিন্তু দেশের ফুটবলে তখন রমরমা অবস্থা। সবাই ফুটবলার হতে চায়। সালাউদ্দিন সুযোগ পেলেন না ফুটবলে। খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ভর্তি হলেন ক্রিকেটে। ফুটবলার হওয়ার শখ থাকলেও ক্রিকেটার হিসেবেই শুরু করলেন বিকেএসপি-জীবন।

খুব বড় ক্রিকেটার সালাউদ্দিন হতে পারেননি। কিন্তু কোচ হিসেবে দেশের অন্যতম সেরা। অনেক ক্রিকেটার তৈরি করেছেন নিজের হাতে। আজকের সাকিব গড়ে উঠেছেন তাঁর হাতেই। কেবল সাকিব নন, নাসির হোসেন ও মুমিনুল হকও তাঁর সরাসরি শিষ্য। রসিকতা করেই অনেকে বলেন, সালাউদ্দিন ফুটবলার হলে সাকিবকে না-ও পেতে পারত বাংলাদেশ।

সাকিব নিজে কিন্তু তাঁর গুরুকে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিতই সব সময়। একবার বলেছিলেন, ‘ছেলেবেলার শিক্ষকের কাছ থেকে শেখা সব সময়ই স্বাচ্ছন্দ্যের। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে, মানে অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায় থেকে সালাউদ্দিন স্যার আমাকে খুব ভালোমতো চেনেন, জানেন। তাই তাঁর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভীষণ দৃঢ়।’

১১ বছর বিকেএসপিতে খণ্ডকালীন কোচ হিসেবে কাজ করেছেন সালাউদ্দিন। তবে ফুটবলার হতে না পারার দুঃখটা এখনো পোড়ায় তাঁকে, ‘জানেন, বিকেএসপিতে যখন ফুটবলার হিসেবে ভর্তি হতে পারলাম না, তখন খুব দুঃখ পেয়েছিলাম। ক্রিকেটে ভর্তি হয়েও আশা ছিল ফুটবলের হয়তো চলে যেতে পারব। কিন্তু পারলাম না। ফুটবলার হতে না পারার দুঃখটা আমার কখনোই যাবে না।’

২০০২ সালে সাকিবের প্রতিভা চিনেছিলেন সালাউদ্দিন। বিকেএসপির হোস্টেল থেকে বোলিং-ব্যাটিংয়ের যাবতীয় খুঁটিনাটি নিজের হাতে শিখিয়েছেন। মাঠে-নেটে দীর্ঘ সময় পার করতেন তাঁরা দুজন। প্রিয় শিষ্য সেই দিনগুলো কখনোই ভোলেনি। আজও অফ ফর্মে থাকলে ছুটে যান বিকেএসপিতে সালাউদ্দিনের বাড়িতে, নিজের সমস্যা অকপটে বলেন। পরামর্শ চান। ২০১৬ সালে আইপিএলে খুব বাজে করছিলেন। কলকাতা থেকে চট করে ছুটি নিয়ে দেশে এসে সালাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন—এটা একটা উদাহরণ। এমন ঘটনা বহু আছে। কেবল সাকিব নন, সালাউদ্দিন ‘মেন্টর’ দেশের অনেক সেরা ক্রিকেটারেরই। তারকাখ্যাতি সেখানে গিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় মাথা নত করে। তাঁর সঙ্গে নিজেদের সমস্যার কথা আলোচনা করে বর্তে যান তাঁরা।

কোচ হিসেবে কিন্তু সালাউদ্দিনের সাফল্যটা ঈর্ষণীয়। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০০১-০২, ২০০২-০৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। সর্বশেষ মৌসুমে তাঁর হাত ধরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সও পেয়েছে প্রিমিয়ারে শিরোপার স্বাদ। এক মৌসুম আগে তাঁর অধীনে বিপিএলে শিরোপা জিতেছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। কোচ হিসেবে দারুণ বায়োডাটা। কিন্তু সালাউদ্দিন নিজে মনে করেন, ফুটবল কোচ হলে তিনি নাকি আরও ভালো করতেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, ফুটবল কোচ হলে আমি ক্রিকেটের চেয়েও ভালো করতাম। ভবিষ্যৎটা আরও ভালো হতে পারত।’ বিকেএসপির ক্যাফেটেরিয়ায় বসে তিনি যখন এই কথাগুলো বলছেন, তাঁর হাতে তখন ফুটবল কোচিংবিষয়ক বই—‘নাইনটি মিনিটস ম্যানেজার’।

নিজের দুই ছেলের অন্তত একজনকে ফুটবলার বানাতে চান সালাউদ্দিন। হয়তো নিজে যা হতে পারেননি, ছেলের মাধ্যমে সেটিই পেতে চান। দেশকে উপহার দিয়েছেন সাকিব আল হাসানকে। তাঁর ছেলেও হয়তো কারও হাত ধরে হয়ে উঠবে দেশসেরা ফুটবলার—এমন স্বপ্ন মনের মধ্যে বয়ে বেড়ান সালাউদ্দিন।

রোহিঙ্গাদের আরও দুটি নৌকাডুবি, ১৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী আরও দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত দেড়টা ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে এই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এই দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ শিশু ও ৯ নারীর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় লোকজন। সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, রাত একটার দিকে ও সকাল সাতটার দিকে আরও দুটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। ওই নৌকা দুটিতে ধারণ ক্ষমতার চেয়েও ২২ থেকে ২৫ জন যাত্রী বেশি ছিল। রোহিঙ্গাদের নিয়ে নৌকাগুলো নাফ নদী পেরিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া ও মাঝারপাড়া কূলে ভেড়ানোর আগেই জোয়ারের ধাক্কায় নৌকা দুটি ডুবে যায়। বেশির ভাগ শিশু ও নারী সাঁতরে কূলে উঠতে না পারায় ডুবে মারা যায়। আজ সকাল ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ১৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নুরুল আমিন বলেন, নিহত ব্যক্তিরা মিয়ানমারের মংডু শহরের দংখালী ও ফাতংজা এলাকার বাসিন্দা বলে জীবিত উদ্ধার হওয়া লোকজনের কাছ থেকে জানা গেছে। লাশ উদ্ধারের বিষয়ে টেকনাফ থানার পুলিশ ও বিজিবিকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গতকাল বুধবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আরও তিনটি নৌকাডুবির ঘটনায় ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ওই ছয়জনের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনজন শিশু।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মইনউদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘নৌকাডুবির ঘটনার খবর পেয়েছি। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

শাহপরীর দ্বীপের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কমপক্ষে ৫০০ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। নাফ নদীর সীমান্তে বিজিবি টহল জোরদার থাকায় রোহিঙ্গারা বঙ্গোপসাগরের কূল দিয়ে অনুপ্রবেশ করে বিভিন্ন ঘরে অবস্থান করে। স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তারা শাহপরী দ্বীপে আসে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির খরব পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

রূপার লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী রূপা খাতুনের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া এই আদেশ দেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, রূপার লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্যবস্থা নিতে নিহত তরুণীর বড় ভাই হাফিজুল ইসলাম প্রামাণিক গতকাল বুধবার থানায় আবেদন করেন। তাঁর আবেদনটি আজ আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ। আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আদেশ দিয়েছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাশ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজন জানিয়েছেন, আজই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে রূপার লাশ উত্তোলন করা হবে।

গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করেন পরিবহনশ্রমিকেরা। পরে তাঁর লাশ টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে মধুপুর থানার পুলিশ রূপার লাশ উদ্ধার করে।

গত শনিবার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রূপার লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ওই দিনই টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে তাঁকে দাফন করা হয়।

গত সোমবার রূপার বড় ভাই হাফিজুল একটি পত্রিকায় বেওয়ারিশ লাশ দাফনের সংবাদ দেখে মধুপুর থানায় এসে বোনের লাশ শনাক্ত করেন।

টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে রূপার লাশ তুলে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। এ জন্য রূপার বড় ভাই পুলিশের কাছে আবেদন করেন।

এ ঘটনায় ওই বাসের চালক, সুপারভাইজার, সহকারীসহ পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা সবাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর রহমান (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) গতকাল আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আগের দিন বাসের তিন সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁরা পাঁচজনই ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

বাঙালিদের হাতে সম্ভ্রম খোয়ালো অস্ট্রেলিয়া!

পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ২০ রানে হারিয়ে দুই টেস্টের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

এই জয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যেমন দেশের মিডিয়ার প্রশংসায় ভাসছেন ঠিক বিদেশের মিডিয়াগুলোও সাকিব-তামিমদের এই লড়াইয়ের খবর প্রচার করেছে। প্রশংসা করেছেন টাইগারদের।

তবে অধিকাংশ মিডিয়াতে বাংলাদেশের এই জয়কে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সবগুলোর মিডিয়ার নজর কেড়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের শিরোনাম করেছে, ‘ক্রিকেটে আবার ব্যাঘ্র গর্জন, সাকিবদের হাতে অস্ট্রেলিয়া বধ।’ খবরে সাকিব-তামিমদের লড়াইয়ের ব্যাপক প্রশংসা করা হয়েছে।

ভারতের ট্যাবলয়েড এবেলা.ইন তাদের শিরোনাম করেছে, ‘কোহলিদের বিরুদ্ধে নামার আগেই বাঙালিদের হাতে সম্ভ্রম খোয়ালো ক্যাঙারুরা।’

বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান তাদের শিরোনাম করেছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে ঐতিহাসিক জয় ঘোষণা করল বাংলাদেশ।’

পাকিস্তানের ডন লিখেছে, ‘অস্ট্রেলিয়াকে অচেতন করে টেস্ট জিতল বাংলাদেশ।’

অস্ট্রেলিয়ার ফক্স স্পোর্টস লিখেছে, ‘ক্রিকেটের কোনো ছোট দলের কাছে ঐতিহাসিক পরাজয়ের শিকার হলো অস্ট্রেলিয়া।’

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই

বরেণ্য কন্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার আর নেই। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

গত সাড়ে ৩ মাস ধরে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এ কিংবদন্তি শিল্পী। গত শনিবার দুপুরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর থেকে তাকে হাসপাতালের  আইসিইউতে নেয়া হয়েছিল।

হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক দেবব্রত বণিক ওই সময় জানিয়েছিলেন, আবদুল জব্বারের দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়ছে। তার শরীর এখন আর কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করছে না।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠসৈনিক কালজয়ী এ শিল্পী কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘ওরে নীল দরিয়া’, ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’ এমন অসংখ্য কালজয়ি গান গেয়েছেন তিনি।

আব্দুল জব্বার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের গান গেয়ে উদ্বুদ্ধ করেন।

সেই দুঃসময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গেয়েছেন অসংখ্য গান। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শিল্পীর গাওয়া গান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে।

একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া শিল্পী আবদুল জব্বার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন গলায় হারমোনিয়াম ঝুলিয়ে কলকাতার পথে-প্রান্তরে সংগীত পরিবেশন করে যুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। ওই সময়ে তিনি প্রায় ১২ লাখ টাকা সংগ্রহ করে মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেন।

সড়কে গর্ত, যানজটে ত্রাহি অবস্থা ঢাকা উত্তর সিটি ওয়ার্ড-১৫

ভাষানটেক, ধামালকোট, মাটিকাটা, মানিকদী, বালুঘাট, লালসরাই, বাইগারটেক ও আলবদীরটেক এলাকা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত। দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস এই ওয়ার্ডে। এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ সড়কই ভাঙাচোরা। গর্তে ভরা। বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর সড়ক সংস্কার ও নালা নির্মাণের ঘোষণা দিলেও গত দুই বছরে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পূর্ব ভাষানটেকের বাগানবাড়ি সড়কটির অবস্থা একেবারেই বেহাল। দেখা যায়, বৃষ্টি ছাড়াই নোংরা পানিতে পুরো সড়ক সয়লাব হয়ে আছে। সড়কের বড় গর্তে যানবাহন পড়ে যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য এলাকার লোকজন বাঁশে লাল কাপড় বেঁধে গর্ত চিহ্নিত করেছেন।

সড়কের পাশের দোকানদার মনির মালতিয়া বলেন, এই রাস্তাটা বহুদিন ধরে এমন ভাঙা। ময়লা পানি জমে থাকে। মাঝে-মধ্যে গাড়ি উল্টে যায়। সকালে ভাঙা রাস্তায় যানজট লেগে যায়। এই রাস্তা জরুরিভিত্তিতে মেরামত করা দরকার।

এই ওয়ার্ডের মানিকদী আদর্শ বিদ্যানিকেতন, মানিকদী বাজার, বালুঘাট বাজার, বাইগারটেক, কালীবাড়ি মোড় সবখানেই সড়ক বেহাল। মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশন মোড় থেকে ভাষানটেক বাজার পর্যন্ত দুই পাশের সড়ক ও ফুটপাতের বেশির ভাগই ব্যবসায়ীদের দখলে। সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে দোকানপাট, বাজার। ফুটপাত না থাকায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের মূল সড়কে নেমে হাঁটতে হচ্ছে। দ্রুতগতির কোনো গাড়ি এলে দোকান কিংবা গ্যারেজের ভেতরে ঠাঁই নিতে হয় পথচারীদের।

ভাষানটেক এলাকায় রাস্তার দুইপাশে আছে ঢাকা ডেন্টাল কলেজ, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি), জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল ও হাসপাতাল, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাডেমিসহ বেশ কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান। সড়ক ও ফুটপাতে হাঁটার উপায় না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ পথচারীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

ধামালকোট এলাকার বাসিন্দা মিরাজ হোসেন বলেন, ফুটপাত আছে ঠিকই, কিন্তু হাঁটার মতো অবস্থা নেই। পাশ দিয়ে গাড়ি গেলে মনে হয় এখনই ধাক্কা লাগবে। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর বলেছিলেন সড়কে দোকান থাকবে না। কিন্তু যে অবস্থা তা-ই।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বেশ কিছু বস্তি রয়েছে। ওয়ার্ডে নিম্ন আয়ের লোকজনের সংখ্যাই বেশি। নির্বাচনের আগে কাউন্সিলর প্রার্থীরা বস্তির বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। ভাষানটেকের ধামালকোট এলাকার সোবহান রোড ১ ও ২ নম্বর বস্তি, সৌখিন রোড বস্তির একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দুই বছর পার হলেও তাদের অবস্থার কোনো উন্নয়ন হয়নি। বস্তিগুলোর বিদ্যুত্ সংযোগের বেশির ভাগই অবৈধ। পানির কিছু বৈধ সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ অবৈধ। বস্তিতে নেই গ্যাসের সংযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই বস্তির সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মশার উত্পাতে তারা অতিষ্ঠ। বস্তি থেকে শুরু করে আবাসিক ভবন সবখানেই মশার যন্ত্রণা। ওয়ার্ডের আলবদীরটেক ও বাইগারটেক এলাকায় রয়েছে গ্যাসের সমস্যা।

ইত্তেফাক

হিউস্টনে লুটপাট ডাকাতি ঠেকাতে কারফিউ

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হার্ভির প্রভাব মোকাবিলারত যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম শহর হিউস্টনে ডাকাতি ও লুটপাট ঠেকাতে রাতের বেলা কারফিউ জারি করা হয়েছে।

চার মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হার্ভির প্রভাবে শহরটিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে বন্যা দেখা দিয়েছে, ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে । হার্ভির ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেক্সাস পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার রাতে ঘূর্ণিঝড় হার্ভি যে এলাকা দিয়ে স্থলে আঘাত হানে মঙ্গলবার সকালে প্রথমে সেই এলাকার শহর কর্পাস ক্রিস্টিতে যান ট্রাম্প, এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও তার সঙ্গে ছিলেন। এদিন টেক্সাসে নেমেই ট্রাম্প জানান, তিনি চান ত্রাণ-কার্যক্রম এমন হবে যেন তা ঝড় মোকাবিলায় কিভাবে সাড়া দিতে হয় তার একটি উদাহরণ হয়ে থাকে। ‘আমরা চাই এটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হোক,’ বলেন তিনি। ‘ঝড়টি যা ঘটিয়েছে তা ব্যাপক, কিন্তু টেক্সাসে কি হয়েছে তা আপনারা জানেন এবং টেক্সাস যেকোনো কিছুই সামাল দিতে পারবে।’টেক্সাস পরিদর্শনে গেলেও বন্যাকবলিত হিউস্টনে যাননি তিনি। হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, হিউস্টনের জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে বিঘ্ন না ঘটাতেই সেখানে যাননি ট্রাম্প। হিউস্টনের মেয়র সিলভেস্টার টার্নার জানিয়েছেন, বিশাল এই শহরটিতে লুটপাট ঠেকাতে সান্ধ্য আইন জারি থাকা দরকার।

অনির্দিষ্টকালের জন্য রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে বলে ঘোষণায় বলা হয়েছে। ত্রাণকাজে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা, জরুরি উদ্ধারকারীরা এবং যারা কাজে যাবেন ও কাজ থেকে ফিরবেন, তাদের ক্ষেত্রে সান্ধ্য আইন প্রযোজ্য হবে না। খালি বাড়িগুলো থেকে মালামাল লুটপাট করা ও সম্ভাব্য অপরাধ তত্পরতা থেকে লোকজনকে বিরত রাখতে সান্ধ্য আইন সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন টার্নার। পুলিশ কর্মকর্তার ছদ্মবেশ ধরে অপরাধীরা লুটপাট ও ডাকাতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন শহরটির কর্মকর্তারা।

ইত্তেফাক

রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকারীরাই আমিনুরকে গুম করেছে

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি-রাষ্ট্রক্ষমতা জবর-দখলকারীরাই কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানকে গুম করেছে। দলীয় কার্যালয় থেকে বেরিয়ে তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। ওত পেতে থাকা গুপ্তবাহিনী তাকে কোথায় উঠিয়ে নিয়ে গেছে তা কেউ জানে না। বুধবার এক বিবৃতিতে একথা বলেন খালেদা জিয়া।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২৭ আগস্ট রাতে নয়াপল্টন থেকে সাভারের দিকে আমিনবাজারের নিজ বাসভবনে যাওয়ার পথে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খালেদা জিয়া।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই দেশকে গুম, খুন, অপহরণ, গুপ্তহত্যার লীলাভূমিতে পরিণত করেছে বর্তমান গণবিরোধী সরকার। অন্ধ, বন্ধ্যা দুঃশাসনের অচলায়তনে দেশকে বন্দী করে রেখেছে তারা। এরা বছরের পর বছর ধরে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকারে পরিণত করে গুমের হিড়িক বজায় রেখেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকার উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতেই এরা দেশকে বিরোধী দলশূন্য করার মহাযজ্ঞে মেতে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘গত সাতদিনে বিএনপি নেতা সৈয়দ সাদাত হোসেনসহ, ব্যাংকার, ব্যবসায়ী এবং সবশেষে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব গুম হওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের নাগরিকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এসবগুমের ঘটনায় সারা জাতি এখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।