ব্যাংক ডাকাত সরকারের কান্ড : সাড়ে তিনশ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের শাস্তি সতর্কতা দিয়ে দায়মুক্তি

ব্যবস্থাপনা পরিষদকে সতর্ক করে দেয়ার মাধ্যমে অফশোর ইউনিটের মাধ্যমে চার বিদেশি কোম্পানির নামে প্রায় সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের ঘটনায় আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংককে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে।

অর্থ স্থানান্তরের অনিয়মের দায়ে ব্যাংকটিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সতর্ক করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যেকোনো ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ঋণ প্রস্তাব পর্যালোচনা, পর্যাপ্ত জামানত সংরক্ষণ ও ঋণ বিতরন পরবর্তী মনিটরিংয়ে যথাযথ সকর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটি এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিদেশে স্থানান্তরিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

পাশপাশি তদন্ত কমিটির কাজের অগ্রগতি অতিদ্রুত কমিটিকে অবহিত করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংসদীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা অর্থমন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রিজওয়ানুল হুদা স্বাক্ষরিত উপস্থাপিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ এই অর্থ পাচার হয়েছে সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। যে চার বিদেশি কোম্পানির নামে টাকা নেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্লোবাল এমই জেনারেল ট্রেডিং ও সেমাট সিটি জেনারেল ট্রেডিং, সিঙ্গাপুরের এটিজেড কমিউনিকেশনস পিটিই লিমিটেড ও ইউরোকারস হোল্ডিংস পিটিই লিমিটেড।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে ‘ব্যবসা’ এবং ‘শিল্পকারখানা’ করার জন্য এ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ঋণ দেয়ার জন্য যে ধরনের বিচার বিশ্লেষণ ও নিয়ম আছে তা মানা হয়নি। এছাড়া যে উদ্দেশ্যে ঋণ নেয়া হয়েছে সেই উদ্দেশ্যের ছিঁটেফোঁটাও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঋণগুলোর প্রস্তাবের যথাযথ বিচার বিশ্লেষণ না করা, ইক্যুইটির তুলনায় বেশি পরিমাণ ঋণ মঞ্জুরি, অপর্যাপ্ত জামানত, ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বের বিষয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির অনুকূলে স্থানান্তর হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে দলের নিকট প্রতীয়মান হয়।

কমিটি সূত্রে জানা গেছে, টাকার অংকে দেশে ব্যাংকখাতে এর আগে আরও বড় ধরনের জালিয়াতি হলেও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে এটাই বড় ঘটনা।

অফশোর ব্যাংকিং হলো ব্যাংকের অভ্যন্তরে পৃথক ব্যাংকিং। বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ প্রদান ও বিদেশি উৎস থেকে আমানত সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে অফশোর ব্যাংকিংয়ে। স্থানীয় মুদ্রার পরিবর্তে বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব হয় অফশোর ব্যাংকিংয়ে। ব্যাংকের কোনো নিয়ম-নীতিমালা অফশোর ব্যাংকিংয়ে প্রয়োগ হয় না। কেবল মুনাফা ও লোকসানের হিসাব যোগ হয় ব্যাংকের মূল হিসাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট থেকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজেই ঋণ দেয়া হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণ নিচ্ছে তাদের অস্তিত্ব আছে কি না, তা দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। এ কারণে বাংলাদেশিরাই কাগুজে কোম্পানি তৈরি করে ঋণ সুবিধা নিচ্ছেন। অর্থ লোপাটের নতুন পন্থা হিসেবে অফশোর ব্যাংকিংকে বেছে নেয়া হচ্ছে।

বৈঠকে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন স্থগিতের ফলে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বাজেট বাস্তবায়ন বিশেষভাবে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থায়নের কৌশল ও চ্যালেঞ্জসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়। কমিটি নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর না হওয়ার কারণে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে তা পূরনের উদ্দেশ্যে ভ্যাটের আওতা বৃদ্ধি এবং বকেয়া আদায়ের মাধ্যমে তা পূরণ করার সুপারিশ করে।

কমিটির সভাপতি ড. মো. আবদুর রাজ্জাকের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুল ওয়াদুদ, নাজমুল হাসান, ফরহাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, মো. শওকত চৌধুরী এবং আখতার জাহান অংশ নেন। অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়াম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বাড্ডায় শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর বাড্ডা থানাধীন একটি টিনসেড বাসা থেকে তানহা (৪) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় বাড্ডার আদর্শনগর এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তানহা জামালপুর জেলার প্রাইভেটকার চালক মেহেদী’র মেয়ে।

বাড্ডা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, ওই বাসাতেই ভাড়া থাকতো তানহার পরিবার। বাসার বাথরুম থেকে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির গলায় দাগ আছে এবং দুই পায়ে রক্ত লেগে আছে। প্রাথমিকভাবে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গাজীপুরে পিস্তল-গুলিসহ আটক ২

গাজীপুরে একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলিসহ দুজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। আটককৃতরা হলো শরীয়তপুরের মালতকান্দি গ্রামের নুরু আকন্দের ছেলে সোলেমান আকন্দ (৩১) ও ভোলা সদরের রামনাগপুর গ্রামের জব্বার সর্দারের ছেলে মোসলেম সর্দার (৪৫)।

গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই সদানন্দ বৈদ্য জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে শ্রীপুরের ২নং সিএন্ডবি রোডে অভিযান চালিয়ে ওই দুজনকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে এক রাউন্ড গুলিভর্তি একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা তারা অস্ত্র কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত।

পাবনার হেমায়েতপুরে লুকিয়ে ছিলেন সেই কাউন্সিলর ও তাঁর মা

মেয়েকে ধর্ষণের পর মা-মেয়ের মাথা ন্যাড়া করার ঘটনায় বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকি ও তাঁর মা রুমি লুকিয়ে ছিলেন পাবনা শহরের হেমায়েতপুরে। আজ রোববার সন্ধ্যায় হেমায়েতপুরে পাবনা মেডিকেল কলেজের পাশের এক বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর রাতে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে যে, কাউন্সিলর রুমকি ও তাঁর মা রুমি পাবনা শহরের হেমায়েতপুরে পাবনা মেডিকেল কলেজের পাশে এক আত্মীয়র বাড়িতে আত্মগোপন করেছেন। এ খবরের ভিত্তিতে বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশের ছয় সদস্যের একটি দল মাইক্রোবাসে করে পাবনা পুলিশকে না জানিয়েই সন্ধ্যায় সরাসরি হেমায়েতপুরের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁদের নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয় তারা।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীর রাতে জানান, এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি তাদের আগে থেকে জানা ছিল না। যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর মামলা। তাই তাঁদের না জানিয়ে গ্রেপ্তার করায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে তিনি জানান।

এর আগে দুপুরে তুফান সরকার, তাঁর সহযোগী রুপম ও আলী আজমকে তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। দুপুর আড়াইটার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম শ্যাম সুন্দর রায় এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুপুরের দিকে তুফান সরকারসহ তিনজনকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি তুফান সরকার ও তাঁর সহযোগীরা এসএসসি পাস এক ছাত্রীকে ভালো কলেজে ভর্তি করার কথা বলে গত ১৭ জুলাই শহরের নামাজগড় এলাকায় তাঁদের বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গত শুক্রবার বিকেলে তুফান সরকারের স্ত্রী আশা ও তাঁর বড় বোন বগুড়া পৌরসভার সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর মার্জিয়া আক্তার রুমকিসহ কয়েকজন মিলে ওই ছাত্রী ও তাঁর মাকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেন। তাঁদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আজ হাসপাতালে মেয়ের মা বলেন, ‘আমরা সমাধানের জন্য কমিশনারের (কাউন্সিলর) কাছে গেছি। কমিশনার উল্টা মা আর মেয়ের চুল কেটে, এসএস পাইপ দিয়ে আমাদের মা-মেয়েকে মারছে। অনেক নির্যাতন করছে, পাঁচ মিনিট পরপর টর্চারিং, পাঁচ মিনিট পরপর আমাদের মাইর। কমিশনার (কাউন্সিলর), কমিশনারের মা ও তাঁর বোন আশা। এই তিনজনার চরম বিচার চাই, চরম শাস্তি হোক।’

আজ দুপুরে মা ও মেয়েকে হাসপাতালে দেখতে যান বগুড়ার জেলা প্রশাসক নূর-ই আলম সিদ্দিক। এ সময় তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে তাঁদের চিকিৎসা ও পড়ালেখা খরচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলেও জানান।

সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘পরিবার থেকে আইনগত সাপোর্ট দেওয়ার যে জায়গাটি, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ওকে আইনগত যতটুকু সাপোর্ট দেওয়া প্রয়োজন এই মামলাটি পরিচালনা করার ক্ষেত্রে এবং ন্যায্য বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে, এই কাজটি আমরা করব। পুলিশের মতো করে আইজি রিপোর্ট, তদন্ত করে যাবে পুলিশ বিভাগ। আমরা একটি অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ ইনকোয়ারি করব- এটার সাথে যে জনপ্রতিনিধি জড়িত আছে, তার বিরুদ্ধে যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেই জায়গাটি আমরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব।’

গতকাল শনিবার ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে তুফান, রুমকি ও আশাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেয়েটির মা। শুক্রবার রাতেই পুলিশ মূল আসামি তুফান, তাঁর সহযোগী রূপম, আলী আজম ও আতিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে গতকাল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আতিকুর। আজ বাকি তিনজনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আজ বিকেল ৪টায় মা-মেয়ের ওপর ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শহরের সাতমাথা বীরশ্রেষ্ঠ স্কয়ারে সচেতন নাগরিক সমাজ, সুজন, প্রশাসনের জন্য নাগরিক ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়।

পুরোদমে চলবে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের অনুমোদিত নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিয়েছে ইরান। জবাবে বলা হয়, পুরোদমে চলবে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কার্যক্রম।

ইরানের দাবি, পরমাণু চুক্তি দুর্বল করতেই নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চলেছে মার্কিন প্রশাসন।

রবিবার (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বহরাম গাসেমি শনিবার বলেছেন, ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘শত্রুতামূলক, নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য’ মনে করছে তেহরান। তিনি বলেন, ‘ পরমাণু চুক্তি দুর্বল করার চেষ্টা থেকেই এটি করা হয়েছে।’

২০১৫ সালে ইরান ও ছয় বিশ্বশক্তির মধ্যে পরমাণু চুক্তি হয়। ইরানের সঙ্গে চুক্তিকারী দেশগুলো হলো : যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ইরান পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করবে। এর বদৌলতে এই ছয় দেশ ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে এ চুক্তি হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন তিনি। ইসরায়েল ও সৌদি আরবও একইভাবে ইরানকে হুমকি মনে করে থাকে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় বহরাম গাসেম জোর দিয়ে বলেছেন, ‘আমরা পূর্ণ শক্তিতে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম অব্যাহত রাখব। সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রগুলো… আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, এসবে হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য করার অধিকার অন্য কারো নেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: কলঙ্কজনক ঘটনায় ছি ছি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিনেট ভবনের বাইরে ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাকে অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএসএম মাকসুদ কামাল। তারা বলছেন, নজিরবিহীন এ ঘটনা পুরো শিক্ষা পরিবারের জন্য কলঙ্কজনক।

শনিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নির্বাচনের লক্ষ্যে সিনেট সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে শিক্ষার্থী এবং গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি না থাকার প্রতিবাদে এবং ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে সিনেট ভবনের বাইরের ফটকে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারা সিনেট ভবনের বাইরের ফটক ভেঙে ভেতরের ঢুকতে চাইলে এবং কিছু শিক্ষক তাদের বাধা দিতে গেলে হাতাহাতি এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

রোববার ওই ঘটনা তদন্তে কমিটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তিন সহকারী প্রক্টরের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ফজলুর রহমানকে। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন রসায়নের অধ্যাপক আফতাব আলী শেখ এবং ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান।

অধ্যাপক মীজানুর রহমান এবং অধ্যাপক মাকসুদ কামাল

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমি মিডিয়ার খবরে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। এ ধরনের ঘটনা আসলেই দুঃখজনক। শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো শিক্ষা পরিবারের জন্যই এ ঘটনা অনভিপ্রেত।

এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয় মন্তব্য করে অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরষ্পরের প্রতি আস্থাশীল হতে হবে। তাদের পরষ্পরবিরোধী অবস্থান কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন: শিক্ষার্থীরা কেন গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকতে যাবে? বাইরে প্রতিবাদ করলেও পারতো। আবার যখন ঢুকেই পড়েছে তখন শিক্ষকরাই বা তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াবেন কেন? আর অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম কেন ক্ষুন্ন করলো সেটাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্ট অনুষদের এ ডিন।

হাতাহাতির ওই ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের নাম এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কাজী ফারুক হোসেন নামের ওই শিক্ষক তাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন এবং গায়ে হাত তোলেন।

ওই আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহদী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমরা সিনেট ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে বাইরের গেটেই আটকে দেয়া হয়। এরপর আমরা ভেতরে ঢুকতে চাইলে সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক আমাদের দিকে তেড়ে এসে গায়ে হাত তোলেন। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকও ছিলেন বলে আমরা পরে জানতে পারি।

নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ওই শিক্ষক সম্পর্কে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন: কেউ যদি আমাদের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জগন্নাথের শিক্ষক কাজী ফারুক হোসেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হাত তোলার ঘটনা ঘটেনি দাবি করে চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: আমি যখন দেখলাম কিছু বাম সংগঠনের নেতাকর্মী আমাদের শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলছেন, তখন আমি তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেছি মাত্র।

গোল চিহ্নিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী ফারুক হোসেন

ঘটনাস্থলে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন: সূর্যসেন হল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আমি একটি দলের মালিক। বিকেলে খেলা থাকায় আমি ওইদিন ক্যাম্পাসে আসি। সিনেট ভবনের সামনে দিয়ে আসার সময় দেখলাম কিছু শিক্ষার্থী গেট ঠেলাঠেলি করছে। একপর্যায়ে গেট খুলে তারা যখন শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলছে তখন আমি গিয়ে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি।

‘আমি নিজেও একজন শিক্ষক এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্র। আমার সামনে যখন আমার শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলা হয় তখন আমি তা প্রতিহত করার চেষ্টা করি। কারও গায়ে হাত তোলার ঘটনা ঘটেনি।’

জগন্নাথের ওই শিক্ষকের হয়ে কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ড. এএম আমজাদও।

চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: ওই শিক্ষক আমাদেরই ছাত্র। আইইআর এ এমফিল করছে। সে যখন দেখেছে তার শিক্ষকরা আক্রান্ত হচ্ছেন তখন হয়তো সে তা ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।

শিক্ষার্থীদের গায়ে শিক্ষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে ধস্তাধস্তিতে জড়াননি দাবি করে তিনি বলেন: শিক্ষকদের ঠেলে যাওয়ার সময় তাদের (শিক্ষার্থীদের) ঠেকাতে গেলে হয়তো তাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে কোন শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়াননি।

ওইদিন আসলেই কী ঘটেছিল তা তদন্ত করে বের করতেই কমিটি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘প্রথমবার আমি সিঙ্গেল, বেশ এনজয় করছি’: রণবীর

কখনও দীপিকা পাড়ুকোন, কখনও বা ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে রণবীর কাপুরের। একেক সময় একেক জন নায়িকার সঙ্গে রণবীরের প্রেম নিয়ে গসিপ হয়েছে মিডিয়ায়।
সে সম্পর্ক ভেঙেও গেছে। ব্রেকআপের খবরে সরগরম ছিল বলিউড মিডিয়া। আবার নতুন গার্লফ্রেন্ডকে নিয়েও জল্পনা হয়েছে। এ সবের মধ্যে নতুন করে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস নিয়ে বোমা ফাটালেন রণবীর স্বয়ং।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রণবীর বলেন, ‘এই প্রথম বার আমি সিঙ্গেল। আর বিষয়টা বেশ এনজয় করছি। নিজের জন্য অনেকটা সময় পাওয়া যায়। কারও সঙ্গে দেখাও করছি না।’
রণবীর আরও জানান, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকেদের সঙ্গে কথা শুরু হলেই তারা নাকি নায়িকাদের নিয়ে কথা বলতে থাকেন। এই মুহূর্তে সেটা নায়কের একেবারেই পছন্দ হচ্ছে না!
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘জাগ্গা জসুস’ বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ার পরেও খুব বেশি হতাশ নন রণবীর। নিজেকে এভাবেই সান্তনা দিচ্ছেন কিনা-সেটাই নতুন প্রশ্ন।

ত্বকের যত্নে ৬ খাবার

তারুণ্যদীপ্ত ত্বকের জন্য বেশি কিছু করার দরকার নেই। আপনার নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস জারি রেখেই ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। এতে বেঁচে যাবে অনেকটা সময়। এই সময়টুকু কাটাতে পারেন বই পড়ে বা থ্রিলিং কোনো মুভি দেখে।

তেমন কয়েকটি খাবারের গুণাগুণ দেওয়া হলো-

দই

দই পছন্দ করে না এমন মানুষ কমই আছে। দইয়ে আছে দাঁতের জন্য উপকারী ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়াম। এই দুটি খনিজ দাঁতকে রোগ ও ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। একই সঙ্গে ত্বককে রাখে দীপ্তিময়। চাইলে ত্বকেও লাগাতে পারেন।

স্ট্রবেরি

এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি আছে। ভিটামিন সি ত্বককে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে। ঠাণ্ডা দই ও লেবুর রসের সঙ্গে স্ট্রবেরি চটকে ব্লেন্ডিং করে বানিয়ে নিতে পারেন মজাদার পানীয়। এটি ডার্ক স্পট দূর করতে সাহায্য করে। স্ট্রবেরির ভিটামিন সি ও ইলাজিক এসিড প্রচুর পরিমাণ কোলাজেন উৎপাদন করে। এটি এন্টিঅক্সিডেন্টের কাজ করে।

অ্যাভাকাডো

অ্যাভাকোডা সুন্দর ফলগুলোর একটি। এটি প্রয়োজনীয় এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি এসিডে সমৃদ্ধ। অ্যাভাকাডো ত্বককে দিতে নিটোল ও উজ্জ্বল গড়ন। সালাড ও নাস্তায় অ্যাভাকোডা রাখতে পারেন।

চা

দৈনন্দিন পানীয়ের তালিকা চা রাখেন না এমন লোক কমই আছেন। সব ধরনের চা ত্বকের জন্য ভালো। তবে সবুজ ও সাদা চা বেশি উপকারী। কারণ এগুলোতে কালো চায়ের দ্বিগুণ এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

বাদাম

বাদামে আছে উচ্চমাত্রার ক্যাটালাস। এই এনজাইম ত্বকের অনুজ্জ্বলতাকে দূরে সরিয়ে রাখে।

কফি

কফি ত্বককে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। এছাড়া ত্বককে বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষাকারী কোলাজেন ও ইলস্টিনের মতো উপদান কমে যেতে দেয় না। তবে সারাদিনে এক কাপের বেশি কফি পান না করাই ভালো।

সেই জোড়া শিশুর অস্ত্রোপচার মঙ্গলবার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের জোড়া শিশু তৌফা ও তহুরাকে (১০ মাস) আগামী পয়লা আগস্ট মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের চিকিৎসকরা। দীর্ঘ ১০ মাস প্রাথমিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে রাখার পর তৌফা ও তহুরার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার সাহনূর ইসলাম জানান, গত ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় রাজ মিয়া ও সাহিদা আক্তার দম্পতির এই জোড়া শিশুর জন্ম হয়।

তিনি জানান, গত বছরের ৭ অক্টোবর ৯দিন বয়সে জোড়া শিশু দুটিকে চিকিৎসার জন্য ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে এলে তাদেরকে ভর্তি রাখা হয়। পরবর্তীতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করে জোড়া শিশু দুটির প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করা হয়। তখন ছোট একটি অপারেশনের মাধ্যমে তাদের পায়খানার রাস্তা আলাদা করে দেওয়া হয়।

শিশু দুটির রক্তে সেপটিসেমিয়া ও ওজন ছিল সাড়ে ৪ কেজি। যা অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত ছিল না। এখন জোড়া শিশু ২টির ওজন ১০ কেজি। তাদেরকে অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে।

ডাক্তার সাহনূর ইসলাম জানান, শিশু দুটির অস্ত্রোপচারের জন্য শিশু সার্জারি, নিউরো সার্জারি, ইউরোলজি, রেডিওলজি (আল্টাসাউন্ড) ও প্লাস্টিক সার্জারিসহ আরো বেশ কয়েকটি বিভাগের চিকিৎসকের সমন্বয়ে ১৬ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ডাক্তার সাহনূর নিজেই এবং এই বোর্ডের মোট সদস্য সংখ্যা ৩০জন। মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী পয়লা আগস্ট মঙ্গলবার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডা. সাহনুর এই অস্ত্রোপচারের বিষয়ে শতভাগ আশা ব্যক্ত করেন এবং এজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এর পাশাপাশি শিশু দুটির মা সাহিদা বেগমকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলে, শিশু দুটির মা অত্যন্ত সচেতন, সঠিক সময়ে সঠিক নির্দেশনায় সে শিশু দুটিকে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে। এজন্য তাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

জোড়া শিশু দুটির অস্ত্রোপচারের বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান বলেন, শিশু দুটিকে অস্ত্রোপচার করার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অস্ত্রোপচারের জন্য উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে।

এই জোড়া শিশু দুটির জন্য তাদের মা সাহিদা বেগম সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। চিকিৎসকদের পাশাপাশি তিনিও আশাবাদী অস্ত্রোপচারের পরে তাদের আলাদাভাবে কোলে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে দুই শিশুকে আলাদাভাবেই দুই মুখ দিয়ে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়েছে এবং ৬মাস পরে স্বাভাবিক খাবারও দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসকরা আরো জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটা জিনিস আমরা জানতে পেয়েছি, তারা একে অপরের কোমরের সঙ্গে জোড়া লাগানো। এটি কিডনির সাথে যুক্ত নয়। আশা করি আমরা সফল হবো।

চারদিনের সফরে বুধবার ঢাকা আসছেন ওআইসি মহাসচিব

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব ড. ইউসুফ বিন আহমেদ চারদিনের সফরে আগামী বুধবার ঢাকা আসছেন।
ওআইসির মহাসচিব হিসেবে এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। তিনি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
ইউসুফ বিন আহমেদ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তার সম্মানে দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।
ওআইসি মহাসচিব রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের অবস্থা সরেজমিন দেখতে শুক্রবার কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরসহ আশেপাশের এলাকা পরিদর্শন করবেন। তিনি উদ্বাস্তুদের প্রতি ওআইসির পক্ষে সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করবেন। উদ্বাস্তু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর সাথে আলোচনা করবেন।
রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওআইসিতে বাংলাদেশের ভূমিকা ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই সফরের মাধ্যমে মহাসচিব বাংলাদেশের সঙ্গে পরিচিতি হওয়ার সুযোগ পাবেন।