আপন জুয়েলার্সের ১৯ স্বর্ণ চোরাচালানি চিহ্নিত

ছেলের আলোচিত ধর্ষণ মামলার পর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমও এখন ধরাশায়ী। ফেঁসে যাচ্ছেন স্বর্ণ চোরাচালানের মামলায়। তার সব অবৈধ ব্যবসার গোমর ফাঁস হয়ে গেছে।

ইতিমধ্যে আপন জুয়েলার্সের অর্ধশতাধিক স্বর্ণ চোরাচালান এজেন্টের নাম-পরিচয়ের তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে। যুগান্তরের অনুসন্ধানে এ তালিকায় ১৯ জনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে।

এরা মূলত বেতনভুক্ত চোরাচালানি হিসেবে আপন জুয়েলার্সের জন্য সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও দুবাই থেকে চোরাইপথে স্বর্ণের বার নিয়ে আসে।

এদিকে ১৪ মণ স্বর্ণালংকার বাজেয়াপ্তের পর আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। এক কথায় বলা যায়, সেলিমের গ্রেফতার এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

সূত্র বলছে, স্বর্ণ চোরাচালান, অর্থ পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেফতার করা হবে। অবশ্য সূত্রটি বলছে, সেলিমকে গ্রেফতারের আগে আপন জুয়েলার্সের অবৈধ স্বর্ণ বারের গুদামের সন্ধান জানা প্রয়োজন। এ কারণে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান যুগান্তরকে বলেন, এসব বিষয় গভীরভাবে ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি যেহেতু এখনও তদন্তাধীন তাই এখনই গণমাধ্যমে সব তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম যুগান্তরকে বলেন, সম্পূর্ণ বৈধ উপায়ে সরকারকে ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তারা কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। আইনের প্রতি সব সময় তারা শ্রদ্ধাশীল।

চোরাচালানে হাজার কোটি টাকার স্বর্ণ : জানা গেছে, কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ব্যবসা করলেও আপন জুয়েলার্স গত ১০ বছরে এক তোলা স্বর্ণও বৈধ পথে আমদানি করেনি। অথচ আপনের বিশাল বিশাল শোরুমে শত শত ভরির স্বর্ণালংকার প্রদর্শন করা হচ্ছে। তাহলে এসব স্বর্ণালংকার আসছে কোথা থেকে?

এমন সন্দেহ থেকেই আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণের উৎসের অনুসন্ধান শুরু হয়। শোরুমে প্রদর্শিত স্বর্ণালংকার আমদানির কাগজপত্র তলব করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদফতর। কিন্তু তিন দফা সময় নিয়েও আপন জুয়েলার্স এসব স্বর্ণালংকার আমদানির বৈধতার সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্স বড় বড় স্বর্ণের বার চোলাচালানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সংগ্রহ করে। ফলে সরকার শত শত কোটি টাকার শুল্ক থেকে বঞ্চিত হয়।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য আপন জুয়েলার্সের শক্তিশালী সিন্ডিকেট আছে। নির্বিঘেœ স্বর্ণ চোরাচালানের জন্য তারা অর্ধশতাধিক বিশ্বস্ত লোককে বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এরা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণের বার নিয়ে আসে। পরে এসব বার গলিয়ে স্বর্ণালংকার তৈরি করা হয়।

সূত্র জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে আপন জুয়েলার্সের বেতনভুক্ত স্বর্ণ চোরাচালানিদের মধ্যে ১৯ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের কেউ কেউ মাত্র ৬ মাসে ১৮ বার পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণ করেন।

অনুসন্ধানে উঠে আসে এই অস্বাভাবিক বিদেশ ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের মজুদ গড়ে তোলে আপন জুয়েলার্স।

১৯ চোরাচালানি : এই ১৯ চোরাকারবারির নাম-ঠিকানা ও পাসপোর্ট নম্বরসহ বিস্তারিত পরিচয় জানা গেছে। এ সংক্রান্ত তালিকার একটি কপি সম্প্রতি যুগান্তরের হাতে আসে। এতে দেখা যায়, আপন জুয়েলার্সের নিজস্ব স্বর্ণ চোরাকারবারি দলের অন্যতম সদস্য হচ্ছেন জনৈক ফিরোজ।

তিনি ২০১৩ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ’১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ বার বিদেশ ভ্রমণ করেন। এছাড়া মো. আনিস নামের আরেক চোরাচালানি মাত্র ৬ মাসে বিদেশে যাতায়াত করেন ১৮ বার। তার ভ্রমণকাল ছিল ’১৪ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ৮ মে পর্যন্ত।

এছাড়া গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকা আপন জুয়েলার্সের অন্য সন্দেহভাজন চোরাচালানিরা হচ্ছেন ফারুক আহমেদ, সোহেল রানা, সুমন সারোয়ার, ওয়াহেদুজ্জামান।

এরা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে বিদেশে যাতায়াত করেন যথাক্রমে ৭ বার, ৩ বার, ৬ বার ও ১২ বার। এছাড়া খলিল রহমান ও মনির আহমেদ নামের দুই ব্যক্তি পর্যটকের ছদ্মবেশে ২০১৪ সালের প্রথম ৭ মাসে বিদেশে যাতায়াত করেন যথাক্রমে ৫ বার ও ৩ বার।

ওয়াহিদ মিয়া নামের এক চোরাকারবারির ওপর জোরেশোরে নজরদারি চলছে। কারণ তিনি ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সময়ে ৮ দফা বিদেশে যান। চোরাকারবারিদের তালিকায় আছেন ১ মাসে ৬ বার বিদেশ ভ্রমণকারী জনৈক ফারুক মিয়া ও ৭ বার ভ্রমণকারী মনজুর হোসেন।

এছাড়া সামসুল হুদা, মো. হানিফ, আবদুল আওয়াল, মো. ইসলাম শেখ, মো. রুবেল, তাজুল ইসলাম ও ফারুক নামের সন্দেহভাজন চোরাকারবারির ওপর ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে এদের সবাইকে আপন জুয়েলার্সের নিজস্ব বেতনভুক্ত স্বর্ণ চোরাকারবারি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এসব সন্দেহভাজন বিদেশ ভ্রমণকারীদের সঙ্গে আপন জুয়েলার্সের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা অস্বীকার করেননি। তবে তারা দাবি করেন এরা সবাই সাধারণ যাত্রী। বিভিন্ন সময় তারা স্বর্ণ এনে আপন জুয়েলার্সের কাছে বিক্রি করেছে।

তাদের কাছ থেকে স্বর্ণ কেনার প্রমাণ চাওয়া হলে আপন জুয়েলার্স কয়েকটি ব্যাগেজ রসিদ উপস্থাপন করে। তবে এসব ব্যাগেজ রসিদ ‘অরিজিনাল’ নয় বলে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। যাত্রীবেশী এসব স্বর্ণ চোরাকারবারির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রমাণ হল তারা আপন জুয়েলার্সের কাছে স্বর্ণের বার বিক্রি করেন। কিন্তু তারা বিদেশ থেকে স্বর্ণবার কেনার রসিদ দেখাতে পারেননি।

সূত্র বলছে, এমন গোঁজামিল দিতে গিয়ে আপন জুয়েলার্স নিজেই আরেক দফা ফেঁসে গেছে। কারণ তারা প্রতি বছর নিয়মিত আয়কর ও ভ্যাট বিভাগে তাদের কাছে মজুদ স্বর্ণের পরিমাণ ঘোষণা দেন।

তদন্তে তাদের সেই ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব মজুদের আকাশ-পাতাল ফারাক পাওয়া গেছে।

ম্যানেজ ইমিগ্রেশন : এই ১৯ জন ভ্রমণকারীর সঙ্গে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার গোপন আঁতাতের বিষয়টি এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট।

কারণ তারা সন্দেহজনকভাবে হাতেগোনা কয়েকটি দেশে স্বল্প সময়ে বারবার যাতায়াত করলেও ইমিগ্রেশনে তারা বাধা পাননি।

অথচ এভাবে সন্দেহজনক ভ্রমণকারীদের ‘অতি ভ্রমণকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা। অভিবাসন আইনে এমন সন্দেহভাজন ‘অতি ভ্রমণকারীদের’ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলা আছে।

কিন্তু রহস্যজনক কারণে সকাল-সন্ধ্যা কোনো কারণ ছাড়াই একই দেশে বারবার যাতায়াত করলেও ইমিগ্রেশন থেকে তাদের কাছে কোনো কৈফিয়ত চাওয়া হয়নি। যেমন এ চক্রের অনেকে সকালে সিঙ্গাপুর গিয়ে রাতেই ফিরে এসেছেন।

নিয়মানুযায়ী এসব যাত্রীর ওপর পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট দেয়ার বিধান থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আপন জুয়েলার্সের বেতনভুক্ত এসব চোরাকারবারিদের সঙ্গে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অনৈতিক যোগাযোগ বেশ পুরনো।

এই যোগাযোগের ভিত্তিতেই বিদেশে থেকে বড় বড় স্বর্ণের চালানসহ তারা নির্বিঘেœ ইমিগ্রেশন পার হয়ে গেছে।

গ্রেফতার হচ্ছেন সেলিম : বড় ধরনের স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগের তথ্য বেরিয়ে আসার পর এখন আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিমকে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে আজকালের মধ্যে দুটি মামলা করা হবে। এর একটি হবে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে। অন্যটি চোরাচালানের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা।

শুল্ক আইনে চোরাচালান পণ্য বাজেয়াপ্ত ও জরিমানার কথা বলা হয়েছে। তবে ফৌজদারি আইনে দায়েরকৃত মামলায় আসামি গ্রেফতারের বিধান আছে।

সূত্র জানায়, আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগের সপক্ষে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই শুধু দিলদার হোসেন সেলিম একা নন, ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে তার অপর দুই ভাইকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

স্বর্ণ বারের গুদামের অনুসন্ধান চলছে : ধারণা করা হচ্ছে, আপন জুয়েলার্সের বাজেয়াপ্ত হওয়া ১৪ মণ স্বর্ণালংকার শুধু তাদের শোরুমগুলোতে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছিল। এসব স্বর্ণালংকার তৈরির জন্য বড় ধরনের কারখানাও আছে।

যেখানে সুরক্ষিত থাকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার। এ কারণে এসব স্বর্ণ কারখানার অনুসন্ধান চলছে। সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে তাদের দুটি কারখানা নজরদারিতে আনা হয়েছে।

ভাসছে চট্টগ্রাম শহর

জোয়ার ও টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয়েছে যানজটেরও। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে ঢুকেছে পানি। এমনকি হাসপাতালের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ ভবনেও পানি ঢুকে পড়েছে। চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতার চিত্র আজ বুধবার ক্যামেরাবন্দী করেছেন জুয়েল শীল

.জলাবদ্ধতার কারণে হাঁটাপথ যেতেও অতিরিক্ত টাকায় রিকশা ভাড়া করতে হচ্ছে। ছবিটি আগ্রাবাদ এক্সেস রোড থেকে তোলা।

.অনেকে কলাগাছ দিয়ে ভেলা তৈরি করে নিয়েছেন। আগ্রাবাদ এক্সেস রোড থেকে তোলা ছবি।

.চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। .আগ্রাবাদ এলাকার চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগেও ঢুকেছে পানি।

.আগ্রাবাদের সিডিএ এলাকার অলিগলিতেও জমেছে পানি।

.আগ্রাবাদের অনেক ঘরবাড়িতে পানি হাঁটুসমান।

.জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ রাখতে হচ্ছে দোকানপাটে, বিপাকে ব্যবসায়ীরা। আগ্রাবাদ এলাকার ব্যাপারীপাড়া থেকে তোলা

.নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার উড়ালসড়কের নিচের সড়কে জমেছে পানি।

স্যুপের ফ্লাস্কে ট্যাগ ছিল: বিএফসিসি

ভিয়েনা যাওয়ার সময় বাংলাদেশ বিমানে প্রধানমন্ত্রীর খাবারের মধ্যে স্যুপের দুটি ফ্লাস্কে নিরাপত্তা ট্যাগ লাগানোর ক্ষেত্রে কারও গাফিলতি আছে কি না, তা তদন্তে দুটি কমিটি হয়েছে।

দুদিনের সফরে গত সোমবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার একটি বোয়িংয়ে অস্ট্রিয়া যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর জন্য যে খাবার দেওয়া হয়, তার মধ্যে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) সরবরাহ করা স্যুপের দুটি ফ্লাস্কে নিরাপত্তা ট্যাগের সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে এসএসএফের লগবইতে থাকা সিরিয়াল নম্বর মেলেনি। ফলে এসএসএফ ওই স্যুপের ফ্লাস্ক দুটি ফেরত পাঠিয়ে দেয়। এরপর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিএফসিসির সহকারী ব্যবস্থাপক নুরুল মোমিন মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে খবর বের হয় যে প্রধানমন্ত্রীর খাবারের ফ্লাস্কে নিরাপত্তা ট্যাগ ছিল না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) উপমহাব্যবস্থাপক জামালউদ্দিন তালুকদার আজ বুধবার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরি স্যুপের দুটি ফ্লাস্কে ট্যাগ ছিল না, এ খবর ঠিক নয়। ট্যাগ ছিল, ট্যাগের ওপর নম্বরও লেখা ছিল। তবে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, রন্ধনশালাসহ বিএফসিসি ভবনে স্থাপিত ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করা যায়, আগামী শুক্রবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে।
বিএফসিসির একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) জন্য প্রস্তুত করা খাবার বিমানের চিফ মেডিকেল অফিসার, সিভিল সার্জন, বিমানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা খেয়ে পরীক্ষা করেন। এরপর এসব খাবার বিএফসিসির মিল কার্টে (খাবার রাখার বক্স) ভরে নিরাপত্তা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়। তারা তা সিলগালা করে ফ্রিজে রাখে। প্রতিটি সিলে একটি সিরিয়াল নম্বর দিয়ে তা এসএসএফের লগবইতে লিখে রাখা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের জন্য ওই দুটি ফ্লাস্কের একটিতে চিকেন কর্ন স্যুপ ও অন্যটিতে ভেজিটেবল স্যুপ ছিল। গত রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে খাবার পরীক্ষা করে একটি কক্ষে সিলগালা করে ফ্রিজে রাখা হয়। এরপর সকালে গাড়ি করে খাবারগুলো বিমানবন্দরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে খাবারগুলো বিমানে ওঠানোর সময় স্যুপের ফ্লাস্ক দুটির ট্যাগের সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে লগবইতে থাকা সিরিয়াল নম্বরের মিল না থাকায় সেগুলো ফেরত পাঠায় এসএসএফ।
বিএফসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কিন্তু কোনো কারণে বা ভুলে প্রথমে ওই দুটি ফ্লাস্কে সিলগালায় ট্যাগ লাগানো হয়নি। পরে ট্যাগ লাগিয়ে সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়। কিন্তু তা লগবইয়ের সঙ্গে মেলেনি।
বিমানের অন্য একটি সূত্র জানায়, ফ্লাস্কের স্যুপ পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় বিমানের উপমহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) মাকসুদুর রেজার নেতৃত্বে একটি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোস্তাকিন বিল্লাহ ফারুকীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
বিএফসিসি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও বিএফসিসি থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনস, ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারলাইনস, ড্রাগন এয়ার ও টার্কিশ এয়ারলাইনস খাবার নিয়ে থাকে। প্রতিদিন এসব বিমান সংস্থায় প্রায় আট হাজার যাত্রীর খাবার বিএফসিসির রন্ধনশালা থেকে সরবরাহ করা হয়। এখানে ৫৮৫ জন কর্মী কাজ করেন। সরাসরি রান্না করেন ১২০ জন শেফ। বিএফসিসি ভবনের বাইরে ও ভেতর মিলিয়ে ২৪টি গোপন ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বসানো আছে। এর মধ্যে রন্ধনশালার বিভিন্ন অংশে রয়েছে সাতটি ক্যামেরা।

অন্তর্বাসে স্বর্ণ লুকিয়েও শেষরক্ষা হলো না

অন্তর্বাসে স্বর্ণ লুকিয়ে আনার মজার দৃশ্যই বলতে হবে। মাস্কট থেকে গেল রবিবার চট্টগ্রাম শাহআমানত বিমানবন্দরে আগত এক যাত্রী নিজের অন্তর্বাসে লুকিয়ে রেখেছিলেন দুই পিস স্বর্ণবার।
ভাবলেন, কেউ টের পাবে না। কিন্তু চোখেমুখে অস্বাভাবিকতা। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পরই ধরা পড়লেন পেশাদার শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে।
মাত্র ৬০ হাজার টাকা শুল্ক ফাঁকি দিতে গিয়ে ১০ লক্ষ টাকার স্বর্ণ এখন রাষ্ট্রের হেফাজতে। প্যান্ট খুলে গোয়েন্দার দেয়া লুঙ্গি পরে নিজেই বের করলেন এই স্বর্ণ।

সংসদ‌ে প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল হাজ‌িরা

সংসদে ড‌িজিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দ‌িয়‌েছেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রিয়া সফর শেষে বুধবার সকালে দেশে ফেরার পর বেলা ১১টায় সংসদ বসার ঠিক আগে অধিবেশনে হাজির হন তিনি। এর আগে সরকারপ্রধান সংসদ সচিবালয় থেকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। নীল ফিতায় সবুজ রঙের নতুন ওই পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে বুধবারের প্রশ্নোত্তর পর্বে  অংশ ন‌েন শেখ হাসিনা।

সংসদ সদস্যদের হাজিরা গণনা ব্যবস্থা ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে নতুন এ পরিচয়পত্র আইনপ্রণেতাদের দিচ্ছে সংসদ সচিবালয়। এর আগে সংসদ সদস্যরা খাতায় স্বাক্ষর করে হাজিরা দিতেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকটি অধিবেশনে জিডিটাল পদ্ধতিতে হাজিরা দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। তবে এখন‌ো সব এমপি এ ডিজিটাল কার্ড পাননি। সংসদ কক্ষের প্রবেশ পথে বসানো ডিজিটাল কার্ড মেশিনে পাঞ্চ করে ঢুকতে হবে। একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের জন্য পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ইস্যু করা হচ্ছে। সব সদস্যদের হাতে এ পরিচয়পত্র পৌঁছে গেলেই পূর্ণাঙ্গভাবে ডিজিটাল হাজিরা চালু হবে।

সংসদের শব্দযন্ত্র বিভ্রাট

শব্দযন্ত্রের ত্রুটির কারণে বুধবার সংসদ সদস্যদের মাইক্রোফোনের মাধ্যমে কথা বলতে হয়েছে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সেন্ট্রাল সাউন্ড সিস্টেম চালু করা যাচ্ছে না। আমি নাম বলার পর নিজেরা নিজেদের মাইক্রেফোন অন করবেন। আমি এ ব্যাপারে সহযোগিতা করব।’

বিদ্যমান ব্যবস্থায় সংসদে স্পিকার কোন‌ো সংসদ সদস্যকে ফ্লোর দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মাইক চালু হয়ে যায়। স্পিকার তাকে বসতে বললে মাইক বন্ধ হয়ে যায়। এটা সংসদ সচিবালয় থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটা করা সম্ভব হয়নি।

মাইক্রোফোনের বিভ্রান্তির কারণে অনেক সদস্যকে নিজের আসন ছেড়ে অন্যের আসনে গিয়ে কথা বলতে হয়েছে। এতে এমপিদের বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নেতার মামলা

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।  সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদের মিছিল থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ‘আপত্তিকর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।  মামলার অপর আসামি হলেন স্লোগানে অংশগ্রহণকারী সনাতন উল্লাস।

বুধবার বাদী ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) কোর্টে এ মামলা করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ইমরান এইচ সরকারের প্রতি সমন জারি করেছেন। তাকে ১৬ জুলাই হাজির হতে বলা হয়েছে। সিএমএম কোর্টের হাকিম এসএম মাসুদুজ্জামান এ আদেশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে শাহবাগে গণজাগরণের মিছিলে ‘ছি ছি হাসিনা, লজ্জায় বাঁচি না’ স্লোগান ওঠে। বাদী মনে করেন এতে মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় দণ্ড বিধি ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার ছাত্রলীগের এক শাহবাগে মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এই ইমরান এইচ সরকারকে শাহবাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে যেখানে ইমরান এইচ সরকার ও সনাতনকে (সংস্কৃতিকর্মী) যেখানেই দেখা হবে, সেখানে কুত্তার মতো পেটানো হবে।’

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ২০১৩ সালে শাহবাগে গণজাগরণের আন্দোলনের সূচনায় অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে এর সমন্বয়কের দায়িত্ব নেন ইমরান। শুরুতে ছাত্রলীগ এই মঞ্চের সঙ্গে থাকলেও পরে সরে যায়।

১৫ ফেব্রুয়ারি ও ৫ জানুয়ারির মতো বয়কটের ভোট কেউ চায় না

০০৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো বয়কট করা নির্বাচন দেখতে চায় না কেউ। সেই জন্যই সবার চেষ্টা থাকবে। আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

বিস্তারিত আসছে …

জেনে নিন বিষণ্নতার গোপন চিহ্ন

বিষণ্নতা একটি রোগ। এটি পুরনো কথা। বিষণ্নতা নানাভাবে আমাদের মন ও দেহে ঘাপটি মেরে থাকে। প্রায়শ আমরা খেয়ালই করি না। বরং সমস্যাগুলোকে অতি সাধারণ শারীরিক সমস্যা বলেই মনে করা হয়ে থাকে। খেয়ালই থাকে না মানসিক স্বাস্থ্য শরীরকে প্রভাবিত করে।

এমন কিছু লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াও বিষণ্নতার লক্ষণ। মেজাজ নিম্নগামী হলে শারীরিক সক্রিয়তাও কমে যায়, যা প্রতিরোধ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। যদি আপনি প্রায়শ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে বিষয়টিকে কোনোভাবেই হেলা করবেন না।

ক্লান্তি ও অবসন্নতা

সারাক্ষণ শুধু ঘুমাতে ইচ্ছা করে। নিজেকে ঘুমকাতুরে ভেবে হয়তো মজাই পান। অল্প কাজে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এ দুটিই বিষণ্নতার গোপন লক্ষণ। যদি দেখেন খুব দ্রুতই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, তবে মুষড়ে পড়বেন না। কারণ শারীরিকভাবে নিস্ক্রিয় হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ দিকে যাবে। তাই দ্রুত নিরাময়ের ব্যবস্থা করুন।

কাজের প্রেরণা কমে যাওয়া

এটি বিষণ্নতার সুস্পষ্ট লক্ষণ। কোনো কাজ করতে ইচ্ছা না করা, লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা করতে না চাওয়া, নিজেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দেখা- সবই বিষণ্নতার লক্ষণ।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

দিনের বেলায় খেতে একদম ইচ্ছা করে না, অন্যদিকে রাতে খুবই খিদে লাগে। তবে সাবধান; অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বিভিন্ন ধরনের ইটিং ডিজঅর্ডারের জন্য দায়ী। এর সঙ্গে শরীরের ওজন ঝামেলা তৈরি করে। এর সবই বিষণ্ণতার কারণে হয়ে থাকে।

ইফতারে থাকুক সুস্বাদু হালিম

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে থাকা চাই পুষ্টিকর খাবার। যা সারাদিনের ক্লান্তিকে দূর করে দিবে। হালিম খেতে যেমন মজাদার তেমনি পুষ্টিকরও বটে।

জেনে নেই কিভাবে তৈরি করবেন মজাদার হালিম-

যা লাগবে-

মুগ, মাসকলাই ডাল, মসুর ডাল আর পোলাও চাল মিলে আধা কেজির মত নিন। এক কাপ পরিমাণ গম নিন। এসব কিছু গুঁড়ো করে নিন ব্লেন্ডারে বা পাটায়। সময় অনেক কম লাগবে।

বাকি যা লাগবে-

– মুরগি একটা ১ থেকে দেড় কেজি ছোট পিস করে কাটা

– পেঁয়াজ ৪ টি কুচি করে বেরেস্তা করা

– পেঁয়াজ বাটা ২ টেবিল চামচ

– আদা বাটা ২ টেবিল চামচ

– রসুন বাটা ২ টেবিল চামচ

– হলুদ মরিচ গুঁড়ো মিলে ২ চা চামচ

– গরম মশলা পাউডার ১ টেবিল চামচ

– জিরা গুঁড়ো ২ চা চামচ

– ধনিয়া গুঁড়ো ২ চা চামচ

– ধনিয়া পাতা কুচি

– আদা কুচি

– তেল হাফ কাপ

– লবণ স্বাদমত

প্রণালি-

– প্রথমে মুরগির সাথে সব মশলা মিশিয়ে মেরিনেট করে রাখুন আধাঘণ্টা।

– এবার বড় হাড়িতে তেল দিয়ে তাতে মাখানো মুরগির পিসগুলা দিয়ে নাড়াচাড়া করে অল্প পানি রান্না করুন ২০ মিনিট। তেল উপরে উঠে আসলেই বুঝবেন এটা হয়ে গেছে।

– এবার এতে প্রথমে গুড়া করে রাখা সব রকম ডাল আর গম এর মিশ্রণটা দিয়ে নাড়াচাড়া করে ৫ কাপ গরম পানি দিয়ে দিন। ভালোভাবে পানি আর মশলার সাথে ডাল মিশিয়ে নিবেন।

– আঁচ মিডিয়াম করে রান্না করুন ১ ঘণ্টা। মাঝে মাঝে নেড়ে দিতে ভুলবেন না।

– ঘন হয়ে আসলে তেল উপরে উঠে আসবে।

– নামিয়ে হালিম এর উপরে ধনিয়া পাতা কুচি আর কুচি করা আদা ,কাঁচা মরিচ, বেরেস্তা দিয়ে পরিবেশন করুন।

নিখোঁজদের উদ্ধারে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌ-বাহিনীর তল্লাশি

বাংলাদেশের সীমানায় ভারতীয় নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে বলে ভারতীয়দের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোরা কক্সবাজার উপকূল পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ ত্যাগের একদিন পর এ অভিযানের খবর আসলো।
এই ঝড়ে সাত জনের মৃত্যুর খবর আসলেও বাংলাদেশীরা কেউ নিখোঁজ আছেন কি-না সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু জানায়নি। এখন ভারতীয় হাই কমিশনের তরফ থেকে বলা হচ্ছে চট্টগ্রাম থেকে ৯০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অভিযান চলছে এবং তারা মনে করছে আরো লোকজন সমুদ্রে ভেসে থাকতে পারে।
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতীয় নৌ-বাহিনীর জাহাজ আইএনএস সুমিত্রা এ অভিযান চালাচ্ছে মহেশখালী উপকূলে। ওই পোস্টে জাহাজটিকে ত্রাণবাহী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতীয় হাই কমিশন দাবি করছে মহেশখালী এলাকায় একটি মৃতদেহসহ অন্তত ৩৩ জনকে উদ্ধার করেছে আইএনএস সুমিত্রা। তাদের ধারণা এরা নৌকা ডুবে বা ঝড়ের তোড়ে বাড়িঘর থেকে ভেসে গিয়েছিলো। জীবিত আরও অনেকে সাগরে ভেসে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করে ফেসবুকের ওই পোস্টে বলা হয়েছে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।
উদ্ধার অভিযান শেষে বা বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী সেখানে কার্যক্রম শুরু করলে ভারতীয় জাহাজটি ত্রাণ হস্তান্তরের জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করবে। পোস্টটিতে অবশ্য উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশের নৌ-বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে । তবে বাংলাদেশ সরকার বা নৌ-বাহিনী কারও পক্ষ থেকে এ অভিযানের বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি। বিবিসি।