তুই রাজাকার

“তুই রাজাকার ” ! বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দিত শব্দগুলোর মাঝে একটি । ৭১ এ ঘাতক পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী এ কুখ্যাতদের মানুষ রাজাকার বলেবে কিনা সেটাও ঠিক করে দিল আদালত । অভিযোগ প্রমাণ না হলে রাজাকার বলা যাবেনা । আমি বলব । পারলে বাংলাদেশের আদালত আমাকে সাজা দিন । সোজা বললেই হয় হাসিনা যে রাজাকারর পরিবারে মেয়ে বিয়ে দিয়েছে ; সেটা নিয়ে নির্বাচনের আগে কেউ যেন কথা না তোলে , পক্ষান্তর সেটাই নিশ্চিত করতে চেয়েছে আদালত । সিনেমা হলের মামলায় তত্বাবধায়ক সরকার তুলে দিয়ে দেশে ফ্যাসিষ্ট শাষণ কায়েম করেছে । বেগম জিয়াকে ফালতু মামলায় পারলে দৈনিক কোর্টে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । আদালত ব্যবহার হচ্ছে বিরোধী দমনে । পুলিশ ও বিচার বিভাগের এত নোংরামির উদাহরণ বিরল । আদালত থাকবে । বদল হবে বিচারক আর আসামি । সেদিন দুরে নয় । দুর্নিতীবাজ তোরাই নব্য রাজাকার ।

লেখক : আখতার মাহমুদ, সংবাদকর্মী, লন্ডন  ।

এভারেস্টে উঠতে গিয়ে পর্বতারোহী উয়েলি স্টেক নিহত

সুইস পর্বতারোহী উয়েলি স্টেক পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে এক অভিযানের সময় নিহত হয়েছেন।
চল্লিশ বছর বয়স্ক উয়েলি স্টেক পর্বতাারোহণের জন্য বহু পুরস্কার পেয়েছেন, এবং তিনি দ্রুতগতিতে পর্বতে ওঠার ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তাকে অনেকে ‘একজন কিংবদন্তী’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন এবং তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া সিনেমা নতুন প্রজন্মের অনেককে পর্বতারোহণের প্রতি আকৃষ্ট করেছে।
তিনি অক্সিজেন ছাড়াই নতুন একটি পথ দিয়ে এভারেস্ট শৃঙ্গে ওঠার অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন। সে সময় এক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন বলে জানিয়েছেন নেপালী পর্যটন অফিসের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে দুর্ঘটনার সময় তিনি একাই পর্বত বেয়ে উঠছিলেন, এবং সে সময় বরফের ঢাল থেকে পিছলে প্রায় ১ হাজার মিটার নিচে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু ঘটে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

মি. স্টেক ২০১২ সালে একবার অক্সিজেন ছাড়া মাউন্ট এভারেস্টে উঠেছিলেন।
এ ছাড়া ২০১৫ সালে ইউরোপের আল্পস পর্বতমালার ৮২টি শৃঙ্গে আরোহণ করেছিলেন মাত্র ৬২ দিনে।
পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গী এবং কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতার জন্য মি. স্টেককে অনেকে ডাকতেন ‘সুইস মেশিন’ বলে। তার কয়েকটি অভিযান নিয়ে চলচ্চিত্রও তৈরি হয়েছে।
তার মৃতদেহ হেলিকপ্টারে করে নামিয়ে এনে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ পর্বতারোহী কেনটন কুল তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে একজন ‘অনুপ্রেরণার উৎস’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ব্রিটিশ পর্বতারোহণ কাউন্সিল তাকে একজন কিংবদন্তী বলে বর্ণনা করে শোক প্রকাশ করেছে।

দোষ প্রমাণের আগে ‘রাজাকার’ বলা যাবে না

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ‘রাজাকার’ না বলার পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রবিবার নওগাঁ এবং জয়পুরহাট জেলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ৩ জনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্ত দল এবং প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে আবেদন দেয়া হলে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তপন কান্তি বল বলেন, তদন্ত দলের চিঠিতে অভিযুক্তদের নামের আগে ‘রাজাকার’ শব্দটি উল্লেখ থাকায় অভিযুক্তদের আইনজীবী এনিয়ে আপত্তি তোলেন।

প্রসিকিউসনের পক্ষ থেকে তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে তাদের নামের আগে ‘রাজাকার’ শব্দটি দেয়া হয়েছে বলে যুক্তি তুলে ধরা হয়। তখন বিচারকদের পক্ষ থেকে বিচার শেষ হওয়ার আগে ‘রাজাকার’ শব্দটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য একটি উপদেশ দেয়া হয় বলে জানান তপন কান্তি বল।

গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তপন কান্তি বল আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার নওগাঁর জামায়াত নেতা রেজাউল করিম মন্টু, ইসহাক আলী ও শহীদ মণ্ডলকে সেইফহোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছিল তদন্ত সংস্থা। ওই আবেদনে তিনজনের নামের আগে ‘রাজাকার’ শব্দটি থাকায় ট্রাইব্যুনাল বলেছে, কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া তাকে ‘রাজাকার’ বলা সমীচীন হবে না। ”

তবে তিনি জানান, এটি সম্পূর্ণ মৌখিকভাবে দেয়া হয়েছে এবং এবিষয়ে লিখিত কোন আদেশও নেই। যেকারণে এটিকে সরাসরি কোন নির্দেশনাও বলা যাচ্ছে না।

হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ান : পরী মণি

ঢাকাই চলচ্চিত্রে পরী মণি জনপ্রিয় একটি নাম। নিজস্ব অভিনয় দক্ষতা আর গ্ল্যামার দিয়ে তিনি এরই মাঝে চলচ্চিত্রে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এই নায়িকার নতুন ছবি ‘আপন মানুষ’। তবে তিনি ছবি দেখার আগে হাওরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনাসহ আশপাশের হাওর এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্থানীয়রা। তাই ওই অঞ্চলে ছবি নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকাটাকেই কর্তব্য মনে করছেন পরী। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে পরী জানিয়েছেন-

“আমার সিনেমাটা ‘আপন মানুষ’ এমন সময় মুক্তি পেয়েছে যখন সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার ও কিশোরগঞ্জ’র মানুষের ফসল অকাল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। স্বভাবতই এবারের আনন্দটা সেভাবে উদযাপন করতে পারছি না। তাদের জন্য অনেক বড় কিছু করতেও পারছি না। কতটুকুইবা করার থাকতে পারে আমার মতো মানুষের, তবুও আমার মতো করে চেষ্টা করছি। আমার স্বজন, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের এইবার আমার সিনেমা দেখার জন্য আহ্বান করার আগে বলব হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ান। তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ঝলক নিশ্চিত করে অতঃপর নিজে আনন্দের জন্য সিনেমা হলে আসুন। আমাদের আসল হিরো, হিরোইনদের রক্ষা করুন। আমরা তো প্রতীকী হিরো-হিরোইন।’

সমুদ্রের আরেক পৃথিবী ‘হারমোনি অব দ্য সিস’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজ কোনটি? প্রশ্ন করলে অনেকেরই হয়তো মনে পড়ে যাবে টাইটানিকের কথা। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে সবচেয়ে বড় যাত্রীবাহী জাহাজটির নাম হচ্ছে  ‘দ্য রয়াল ক্যারিবিয়ান’স হারমোনি অব দ্য সিস’।

২০১৬ সালের ২৯ মে জাহাজটি সমুদ্র পথে যাত্রা শুরু করে। জাহাজটির মালিক হচ্ছে রয়াল ক্যারিবিয়ান ক্রজ লিমিটেড। পরিচালনা করে থাকে রয়াল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল। আর জাহাজটি রুট হচ্ছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে, নাসাউ থেকে বাহামাস দ্বীপপুঞ্জ। এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের সেন্টারিস দ্য আটলান্টিক।

জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ১ হাজার ১৮৮ ফুট লম্বা, আর প্রস্থে ২১৫ দশমিক ৫ ফুট। বলা হয়ে থাকে এটিই বিশ্বের সবচেয়ে যাত্রীবাহী জাহাজ। রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ক্রু ছাড়াই ৬ হাজারেরও বেশি। তবে জাহাজের সকল কর্মকর্তা ও নাবিক সহ মোট ৮ হাজার ৮৮০জন মানুষ একসঙ্গে জাহাজটিতে সমুদ্র পাড়ি দিতে পারেন।

হারমোটি অব দ্য সিসের ক্যাবিনগুলোও বেশ বড়সড়। রয়েছে সবচেয়ে বড় ওয়াটার স্লাইডও। এছাড়া ৪০টি রেস্টুরেন্ট  ও বার সুবিধাও রয়েছে জাহাজটিতে।

রয়্যাল ক্যারিবিয়ানের কর্মকর্তাদের মতে, সমুদ্রে সবচেয়ে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধাও রয়েছে জাহাজটিতে। যেখানে যাত্রীরা অনায়াসেই ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, ইউটিউব ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন। রয়েছে অ্যাকুয়া থিয়েটার স্পেস, এক্রোবেটিকস স্পেস ইত্যাদি।

সূত্র: ফক্স নিউজ

‘সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আইন হলে বাতিল করবে সুপ্রিম কোর্ট’

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্রকুমার সিনহা বলেছেন, জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে ভবিষ্যতে সংবিধানের কোনো বিধান বা অন্য কোনো আইন সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে তা বাতিল করতে সুপ্রিম কোর্ট পিছপা হবে না।

রবিবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও প্রথম ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি দেখে দেশে আইনি শাসন হচ্ছে না। দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য ঐকমত্য হলেই সংবিধান সংশোধন করতে পারেন। শুধু দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যই নয়, পুরো সংসদ মিলে যদি সংবিধানকে পরিবর্তন করে দেয়, কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট যদি দেখে এতে সংবিধানের মূল ভিত্তি নষ্ট হয়ে গেছে, আইনের শাসনও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে ও জনগণের অধিকারের ওপর আঘাত করেছে তাহলে সংসদের ওই সিদ্ধান্তকে সুপ্রিম কোর্ট বেইআইনি ঘোষণার ক্ষমতা রয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যে সংবিধান প্রণয়ন করেছেন তাতে সুপ্রিম কোর্টকে জুডিশিয়াল রিভিউ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের এই ক্ষমতাবলেই সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম, অষ্টম ও ১৩তম সংশোধনী বাতিল করে দিয়েছে। এতে কোনো দ্বিমত নেই।

ভূমি আইন বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক আইনজীবী এবং বিচারপতিরাও ভূমি আইন বিষয়ে অজ্ঞ। ভুমি আইনের বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। উচ্চ আদালতেও এ সংক্রান্ত বিচারপতির সংখ্যাও কম। আইনজীবীরা চায় ফৌজদারি মামলা নিয়ে কাঁচা টাকা ‘ইনকাম’ করতে। আত্মমর্যাদা সম্পন্ন উন্নত দেশ হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে আইনের শাসনের সঠিক বাস্তবায়ন। আইনের শাসন সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হলে এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মেনে চললে সভ্য ও উন্নত জাতিতে পরিণত হওয়া সম্ভব। এজন্য আইন, শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য আইনের শাসনের প্রতি সকলের শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে বিচার বিভাগের অধীনস্থ বিভাগসমূহে নানা সমস্যা রয়ে গেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন ভূমি সংক্রান্ত নানা আইনের অজ্ঞতার কারণে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। তাই ভূমি আইন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান খ্রীস্টিন রিচার্ডসন-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য প্রদান করেন ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সেলিম ভূঁইয়া এবং আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সরকার আলী আককাস। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষাথীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সোনামসজিদ স্থলবন্দরে স্থবিরতা, বেকার হতে বসেছে ১০ হাজার শ্রমিক

নানারকম জটিলতার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাস্টমসের বিরোধের কারণে এই বন্দর ছেড়ে অনেক আমদানিকারকরা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছে। ফলে আমদানি কমে যাওয়ায় বেকার হতে বসেছে ১০ হাজার শ্রমিক। অন্যদিকে ২০৫ জন সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট লোকসানের খপ্পরে পড়ায় তাদের অধীনে থাকা প্রায় ৮শ কর্মকর্তা-কর্মচািরি ঠিকমত বেতনভাতা না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে প্রশাসন ম্যানেজের নামে অ্যাসোসিয়েশন ফলের গাড়ি প্রতি ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করার কারণে অনেকেই এই বন্দর দিয়ে ফল না এনে অন্যবন্দর দিয়ে ফল আমদানি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হারুন-অর-রশিদ।

তবে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।  বিভিন্ন অজুহাতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গাড়ি ছাড় দিতে দেরি করায় সঠিক সময়ে পণ্যবাহী ট্রাক নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছতে না পারায় তারা নানা ধরনের হয়রানিতে পড়ছেন। অনেক সময় পঁচনশীল পণ্য পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে প্রতি গাড়িতে তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। ফলে তাদের অধীনে থাকা অ্যাসোসিয়েশনের প্রায় ৮শ’ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঠিকমত বেতনভাতা দিতে না পারায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তিনি আরও জানান, স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। কিন্তু আদায় হয়েছে প্রায় ৩৯ কোটি টাকা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ করে ফলের গাড়িতে শতকরা ১০ ভাগ ছাড় দেয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তাগণ তা মানছেন না। ফলে লোকসান থেকে বাঁচতে অনেক ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন বন্দরে চলে গেছেন এবং সেখানে তারা ব্যবসা করছেন।

ইসমাইল হোসেন আরও বলেন, অনেক সময় বিভিন্ন মালামাল ছাড় করানোর জন্য কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার বা কমিশনারের স্বাক্ষর নিতে হয়। কিন্তু তারা এই বন্দরে অবস্থান না করায় রাজশাহী যেতে হয় তাদের স্বাক্ষর নেয়ার জন্য। এতে করেও কালক্ষেপন হয়, ফলে অনেক সময় মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনাকারী পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডে ন্যূনতম সুবিধা না থাকায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের রাজস্ব আদায়ে পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড সচেষ্ট থাকলেও পোর্টে যাতায়াতের জন্য সড়ক মেরামত করছে না। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী গোডাউন না থাকায় মালামাল খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হয়। পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডে মালামাল আনলোড করার জন্য ওপেন ইয়ার্ড নির্মাণের কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে তা করা হচ্ছে না। এর কারণেও অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দর ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

এদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের বন্দর ও কাস্টম সম্পাদক আব্দুর রাকিব জানান, নিয়ম অনুসারে ফলের গাড়িতে ১০ শতাংশ ছাড় দেয়ার কথা থাকলেও কাস্টমস বর্তমানে সে ছাড় দিচ্ছে না। তারপরও নানা ধরনের হয়রানির কারণে ফল আমদানি দিন দিন হ্র্রাস পাচ্ছে। কিছুদিন আগেও প্রতিদিন ৪০/৫০ ট্রাক ফল আমদানি হতো। কিন্তু কাস্টমসের হয়রানির কারণে বর্তমানে মাত্র ৮/১০ গাড়ি ফল আমদানি হয়। তিনি আরো জানান, গত বছর এ সময় বন্দরে প্রতিদিন ৪শ’ থেকে ৫শ’ গাড়ি পণ্য আমদানি হতো। বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কাষ্টমসের হয়রানি প্রসঙ্গে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাস্টমস কমিশনারের নির্দেশে এই বন্দরে জিরো টরারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাই অতিরিক্ত কোন সুযোগ সুবিধা না পেয়ে হয়তো ব্যবসায়ীরা এই অভিযোগ তুলছেন। মোট কথা এই বন্দরে চুরি করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাস্টমসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ বলে মনে করেন এই রাজস্ব কর্মকর্তা।

অন্যদিকে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড পরিচালনাকারী কমিটির সদস্য মো. হারুন অর রশিদ এই প্রসঙ্গে কিছু বলতে রাজি হননি।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর শ্রমিক সমন্বয় কমিটির সভাপতি সাদিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন ও শ্রমিক সর্দার মোখলেশুর রহমান জানান, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে ৩১টি সংগঠনের প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক রয়েছে। তারা আগে প্রতিদিন ১৫০ টাকা করে আয় করতে পারতো। কিন্তু বর্তমানে আমদানি-রফতানি কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমে মাত্র ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। ফলে অনেক শ্রমিকের পরিবার অনাহারে-অর্থাভাবে দিনযাপন করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, বন্দরে আদায়কৃত চাঁদার ভাগ বাটোয়ারা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় একটি চক্র ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে স্থলবন্দরকে সম্পূর্ণ বন্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

হাওর অঞ্চলকে অবমুক্ত করে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণার দাবি

দুইবারের জন্য হাওর অঞ্চলকে অবমুক্ত করে জলাশয় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। শনিবার রাতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির দুইদিনব্যাপী সভার সমাপ্তি অধিবেশনে এ দাবি জানানো হয়। অধিবেশনের গৃহীত প্রস্তাবে বানভাসি ৫০ লক্ষ মানুষসহ হাওর অঞ্চলের সামগ্রিক পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

দুইবারের জন্য হাওর অঞ্চলকে অবমুক্ত করে জলাশয় ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।

শনিবার রাতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির দুইদিনব্যাপী সভার সমাপ্তি অধিবেশনে এ দাবি জানানো হয়।

অধিবেশনের গৃহীত প্রস্তাবে বানভাসি ৫০ লক্ষ মানুষসহ হাওর অঞ্চলের সামগ্রিক পুনর্বাসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবে বলা হয়, এই কমিশন হাওরের কৃষি, মৎস্য সম্পদ, পানি দূষণ, গবাদি পশু, উজানের ঢলসহ সমস্ত বিষয় মোকাবেলায় কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। হাওর উন্নয়নের সাথে যাবতীয় দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদ্যোগ নেবে।

প্রস্তাবে আগামী দুই বছরের জন্য সমগ্র হাওর অঞ্চলকে অবমুক্ত করে উন্মুক্ত জলাশয় ঘোষণারও দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হাওরের কৃষক, মৎস্যজীবীসহ দুর্গত মানুষদেরকে রক্ষায় সমাজের বিত্তবানদেরকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় গৃহীত আরেক প্রস্তাবে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবে সরকারকে যুক্তি, বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত গবেষণা বিবেচনায় নিয়ে এই ‘আত্মঘাতী প্রকল্পের’ বিষয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিরীক্ষা কমিশন গঠনেরও পরামর্শ দেয়া হয়।

সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আনছার আলী দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু, মুকলেছুর রহমান, রাশিদা বেগম, ডা. খন্দকার মোসলে উদ্দিন, এ্যাপোলো জামালী, শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।

বিয়ের কার্ডে শৌচালয় নির্মাণের বার্তা

বিয়ের কার্ডে শৌচালয় নির্মাণের বার্তা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে রাজস্থানের জয়পুরে এমন কাণ্ড ঘটালেন পাত্রের কাকা।

১৮ বছর বয়সী পদ্মার সঙ্গে ২৯ এপ্রিল শুভ বিবাহ স্থির হয়েছে ২২ বছরের পুরীলালের। কার্ড ছাপানোর দায়িত্বে ছিলেন পাত্রের কাকা রামবিলাস মীনা। স্থানীয় পঞ্চায়েত অফিসের কর্মী তিনি। হাজার খানেক মন্ত্র লেখার বদলে, ভাইপোর বিয়ের কার্ডের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শৌচালয় নির্মাণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে হয় তার।

তবে শুধু শৌচালয় নির্মাণ নয়, নারী শিক্ষা এবং বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন স্লোগান কার্ডে ছাপিয়েছেন তিনি।

রামবিলাসের মতোই, দিদির বিয়ের কার্ডে স্বচ্ছ ভারত গড়ার বার্তা ছাপিয়ে এ মাসের শুরুতে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন বেঙ্গালুরুর এক যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মোদির কানেও সে খবর পৌঁছায়। টুইটারে ওই যুবককে ফলো করতে শুরু করেন তিনি।

সূত্র: আজকাল

ঘরোয়া উপায়ে পরিষ্কার করবেন জিভ?

ওরাল হাইজিন বা মুখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে জিভ পরিষ্কার মাস্ট! অপরিষ্কার জিভ জীবাণুর আঁতুড়ঘর। মুখে দুর্গন্ধ, হ্যালিওসিস, জিঞ্জিভাইটিস, পেটের সমস্যা, জিভে কালচেভাব, সাদাভাব দেখা দিতে পারে। তার উপর কথা বলার সময় যদি অপরিষ্কার জিভ বেরিয়ে আসে, বিশ্রী হয় ব্যাপারটা! এদিকে অনেকেই আছেন জিভ পরিষ্কার করতে চান না। তাতে নাকি বমি বমি পায়। তাঁদেরকে বলি, সঠিক নিয়মে জিভ পরিষ্কার করলে কখনও বমিভাব হয় না, বরং অতিসহজেই পরিষ্কার হয় জিভ। এরজন্য টাং ক্লিনারের কোনও প্রয়োজনও হয় না। চিকিৎসকরা বলেন, টাং ক্লিনার দিয়ে ঘষে ঘষে জিভ পরিষ্কার করলে স্বাদকোরক বা টেস্ট বাড নষ্ট হতে পারে। জিভে ক্যান্সারও হতে পারে। ঘরোয়া উপায়ে জিভ পরিষ্কার করে নিতে পারেন। যেমন –

অ্যালোভেরা জুস
শরীরের ফোলাভাব ও ক্ষত সারাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে অ্যালোভেরা। অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকার কারণে অ্যালোভেরা জীবাণুদের বিনাশ ঘটাতে পারে। পাশাপাশি জিভ পরিষ্কারও করতে পারে। নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খান। দারুণ ফল পাবেন।

অ্যালোভেরা জুস বানানোর পদ্ধতি :

এক চামচ অ্যালোভেরা জুস মুখের ভিতর দিন। কুলকুচি করে ফেলে দিন।

এবার এক চামচ অ্যালোভেরা জুস খান।

দু’সপ্তাহ এটা করুন, জিভ ঝকঝকে পরিষ্কার হবে।

নুন
জিভে জীবাণু সংক্রমণ রুখতে দারুণভাবে কাজ করে নুন। মরাকোশ ও জমে থাকা খাবারের কণা নির্মূল করে জিভ থেকে। এর অ্যান্টিসেপটিক গুণ জীবাণুদের খতম করে।

নুন দিয়ে কীভাবে পরিষ্কার করবেন জিভ?

জিভে সামান্য নুন ছিটিয়ে টুথব্রাশ দিয়ে টানা এক মিনিট হালকা করে ম্যাসাজ করুন। গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন। দিনে অন্তত দু’বার এই পদ্ধতিতে জিভ পরিষ্কার করলে এক সপ্তাহের মধ্যে ফল দেখতে পাবেন।

না হলে আরও একটা উপায় আছে। ঈষদুষ্ণ জলে এক চামচ নুন দিন। ভালো করে কুলকুচি করে ফেলে দিন সেই জল। দিনে অন্তত ৪-৫বার এটা করলে হাতেনাতে ফল পাবেন।