শত বিঘা জমির ধান ক্ষেত আক্রান্ত ব্লাষ্টরোগে

ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়ের ২নং ওয়ার্ডের ঠাকুরগঞ্জ পিয়াজিপাড়া গ্রামে প্রায় শত বিঘা জমিতে খোল পঁচা বা পাতা ব্লাষ্ট রোগের কারণে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। সমাধান না পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সেখানকার কৃষকরা।

কৃষক জাকিরুল আলম জানান, গেল বছর এই জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছিলাম। এবার ভুট্টার পাশাপাশি জমিতে ‘ভিত্তি-২৮’ জাতের ধান লাগিয়েছি। কিন্তু ধান ক্ষেতে রোগ দেখা দেওয়ায় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।

তিনি আরও জানান, আমি ২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। পুরো জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ফোন দিয়েছি। কিন্তু তার কোনো পরামর্শ না পেয়ে গত ১৮ মার্চ আক্রান্ত ধান গাছগুলো তুলে সরাসরি উপজেলা কৃষি অফিসার হুমায়ূন কবীরের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে নিয়ে গেলে তিনি তার এক সহকারীকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। পরে ধান গাছগুলো দেখে আমাকে বলেন, এগুলো খোল পঁচা বা পাতা ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত। তিনি নাটিভো+পটাশ ক্ষেতে ছিটিয়ে দিতে বলেন। পরামর্শ মত জমিতে বায়ার কোম্পানীর এই ওষুধগুলি ছিটানোর সাথে সাথেই পুরো জমির ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষেত ভালো হওয়া তো দুরের কথা এ পরামর্শে যারাই ক্ষেতে এ ওষুধ ছিটিয়েছে তাদেরই ক্ষেতের ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু কৃষি বিভাগ আর আমাদের খোঁজ খবর রাখেনি। পরে আমি অবারও এলাকায় দায়িত্ব প্রাপ্ত বিএস ফয়জুল ইসলামকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে জানিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার বিএস আবুল বাসারকে পাঠিয়ে দেন। তিনি ক্ষেত ঘুরে দেখে কোনো সমাধান না দিয়ে চলে যান।

একই কথা জানান কৃষক দুলাল হোসেন। তিনি বলেন, আমার দেড় বিঘা ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়েছে, আব্বাস আলীর দেড় বিঘা, ইউনুস আলীর ২ বিঘাসহ এখানকার অনেক কৃষকের ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষক আলমগীর বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে এসিআই কোম্পানীর জিরা জাতের ধান লাগিয়েছি। পুরো ক্ষেতের ধানগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আশে পাশের প্রায় শত বিঘা জমির ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষি অফিসের পরামর্শ মত কাজ করে কোনো সমাধান না হওয়ায় গ্রামের অনেকের পরামর্শে ব্রেক্সিসল ও জিংক ক্ষেতে ছিটিয়েও কোনো কাজ হয়নি। বরং ধীরে ধীরে ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান এখানকার কৃষকরা।

কালিগঞ্জ ও পশ্চিম ছাতনাই এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকরী কৃষি কর্মকর্তা ফয়জুল ইসলাম বলেন, ক্ষেতের এ রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। চিন্তার কিছু নেই। কৃষকরা হয়ত জমিতে সঠিক পরিমাণে ওষুধ দেয়নি। কম অথবা বেশি করে দিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৬ গ্রাম নাটিভো দিতে হবে। তা না হলে রোগ থেকে ক্ষেতের ফসল বাঁচানো যাবে না।

মুনাফার উল্লম্ফনেও কমেছে ইসলামী ব্যাংকের ডিভিডেন্ড

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের সদ্যসমাপ্ত হিসাব বছরে মুনাফার উল্লম্ফন হলেও আগের বছরের তুলনায় ডিভিডেন্ড কমেছে। কোম্পানিটির হঠাৎ ডিভিডেন্ড হ্রাস পাওয়া হতাশ হয়েছে ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগকারীরা। জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ হিসাব বছরে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে (একক ভাবে) ২ টাকা ৭৭ পয়সা আর শেয়ার প্রতি আয় (সমন্বিত) হয়েছে ২ টাকা ৭৮ পয়সা। কিন্তু ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫  সমাপ্ত হিসাব বছরে ব্যাংকটির (একক ভাবে) ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪ পয়সা এবং (সমন্বিত) ইপিএস ২ টাকা ৪ পয়সা। অর্থ্যাৎ গত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।

কোম্পানিটির মুনাফার উল্লম্ফনেও ৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুপারিশ করেছে। যদিও আগের বছর বিনিয়োগকারীদের ২০ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করেছিলব্যাংকটি।

এদিকে সদ্য সমাপ্ত বছরের ঘোষিত ডিভিডেন্ড আনুমোদনের জন্য আগামী ২৩ মে সকাল ১০ টায় কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ৩৪তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে কোম্পানিটি। তাই রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল।

এদিকে আলোচিত সময়ে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে এককভাবে ৩০ টাকা ২৭ পয়সা এবং সমন্বিত ৩০ টাকা ৩৪ পয়সা। এর আগের বছর একই সময়ে এককভাবে এনএভি ছিল ২৯ টাকা ৪৮ পয়সা এবং সমন্বিত ২৯ টাকা ৫৪ পয়সা।

একই সাথে নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো বা নগদ কার্যকর প্রবাহ শেয়ার প্রতি এককভাবে হয়েছে (মাইনাস) ৬.৭৭ টাকা এবং সমন্বিত (মাইনাস) ৬.৮১ টাকা। এর আগের বছর ছিল এককভাবে ৭.২০ টাকা এবং সমন্বিত ৮.৮৪ টাকা।

এবার সিলেটে ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে খুন

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবুসিনা ছাত্রাবাসের গেটে ডন হাসান (৩৫) নামে এক ছাত্রদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পিস্তল ও রামদাসহ তিন যুবককে আটক করে জনতা। তারা হচ্ছেন- রাব্বী, সাজু ও সাথী। তিনজনই ছাত্রলীগের কর্মী বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসান মেডিকেলের পার্শ্ববর্তী মুন্সীপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।সিলেট কোতোয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।ওসমানী হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামলার পর ঘটনাস্থলেই নিহত হন হাসান। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলেও আগেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকরা জানান, লাশটির মাথার বাম পার্শ্বে ধারালো অস্ত্রের আঘাত গুরুতর হওয়ায় মাথার সবকিছু বাইরে বেরিয়ে এসেছে।স্থানীয়রা জানান, ওসমানী হাসপাতালের গেটের সামনে এমন ঘটনার পর হামলাকারীদের ধাওয়া করে জনতা। এক পর্যায়ে তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি পিস্তল ও একটি রামদা।

রাত ১০টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত যুবকের লাশ ওসমানী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিল।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সোহেল আহমদ বলেন, আবুসিনা ছাত্রাবাসের সামনে কয়েক মাস আগে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ছাত্রদল কর্মী হাসান ওই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

তার দাবি, কিছুদিন আগে এই মামলার কয়েকজন সাক্ষীকে মেরে আহত করেন হাসান। শুক্রবার রাতে তাকে ওসমানী মেডিকেলের সামনে পেয়ে তারা কুপিয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

পায়ে পানি আসা নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না

পা ফুলে গেলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে ভাবেন হয় তো শরীরে রস নেমেছে অথবা কিডনি খারাপ হয়ে গেছে। তবে পা ফোলা বা পায়ে পানি আসার কারণ কখনো খুব সাধারণ বা জটিল সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
বয়স্ক ব্যক্তি, বিশেষ করে নারীদের, ওজনাধিক্য, মাসিক চলাকালে, গর্ভাবস্থায়, দীর্ঘ সময় যানবাহনে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে অনেকের পায়ে পানি নামতে পারে। এই সমস্যা সাময়িক এবং আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পা উঁচু করে শুয়ে থাকলে এই সমস্যা এমনিতেই চলে যায়।
কিডনি ও যকৃতের সমস্যা হলে পায়ে পানি আসে যা অনেক সময় গুরুতরও হতে পারে। এর সঙ্গে অরুচি, বমি ভাব, দুর্বলতা, পেট ও মুখে পানি আসা, প্রস্রাবে সমস্যা ইত্যাদি লক্ষণও থাকে। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনের সমস্যা থাকলে পায়ে পানি আসতে পারে। কিছু কিছু ওষুধ সেবন যেমন- ব্যথানাশক, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, উচ্চ রক্তচাপে ব্যবহূত অ্যামলোডিপিন, ডায়াবেটিস ব্যবহূত পায়োগ্লিটাজন, ইনসুলিন ইত্যাদি পায়ে পানি আসার কারণ হতে পারে।
তবে সাধারণত উপরোক্ত কারণে পা ফুলে গেলে সঙ্গে ব্যথা থাকে না। তবে হঠাত্ করে পায়ে তীব্র ব্যথা ও চামড়া লাল হয়ে ফুলে গেলে সচেতন হওয়া উচিত। এছাড়া যে কোনো কারণেই পা ফুলে যেতে পারে বা পায়ে পানি আসতে পারে। তাই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে যথাযথ কারণ নিরীক্ষণ করে চিকিত্সা নেয়া উচিত।
লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত সম্মেলন রবিবার

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচ দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন আগামী রবিবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’র (বিজিবি) অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনিছুর রহমান এবং মিয়ানমার পুলিশ ফোর্সের (এমপিএফ) চীফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ নিজ-নিজ দেশের পক্ষে এই সীমান্ত সম্মেলনে নেতৃত্ব দিবেন।
শুক্রবার বিজিবি’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে জানানো হয়, ঢাকায় সীমান্ত সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে মিয়ানমারের চীফ অব পুলিশ জেনারেল স্টাফ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো শোয়ে উইনের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগামীকাল শনিবার ঢাকায় পৌঁছবেন।
পরদিন রবিবার (২এপ্রিল-১৭) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে উভয় দেশের সীমান্ত সংক্রান্ত সম্মেলন আনুষ্ঠানিক শুরু হবে।
অপরদিকে বিজিবি’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করবে।
বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সার্ভে অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড এবং মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের এ সীমান্ত সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিবেশী দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বাড়ানোর মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা আরো জোরদার করা। -বাসস।

যৌন নির্যাতনে ছেলে শিশুও ঝুঁকিপূর্ণ

আমার বছর পাঁচবয়সী ছেলে জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছিলো কয়েকদিন ধরেই। ছেলেকে নিয়ে তার বাবার সাথে ঢাকাতেই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েছি। মাঝবয়সী সেই ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর অভাব নেই, বেশ রাতের দিকে যাওয়ায় ততক্ষণে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। এক রোগী থাকতেই আরেক রোগীর ডাক পড়ছে … বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক পড়লো আমাদের।

সমস্যা শুনে আমার ছেলেকে খানিক দেখেই বললো নেবুলাইজ করাতে হবে। সেই রুমের ভেতরেই আরেক মা বসে তার ছোট বাচ্চাকে নেবুলাইজ করাচ্ছে। আমার ছেলের মুখে মাস্ক লাগিয়ে নেবুলাইজ শুরু করে আমাদেরকে বাইরে বসতে বলা হলো। এদিকে বাইরে আরও রোগী অপেক্ষা করছে।

বাচ্চাকে একা রেখে বাইরে যেতে মন না টানলেও মানতে হলো ডাক্তারের কথা। আমাদের পর আরও ৩ জন রোগী দেখলো। শেষের রোগী যখন বের হয়ে আসলো, তখন আমার ছেলে একা। এর মাঝে সেই মাও তার বাচ্চা নিয়ে বেরিয়ে এলো।

মনের মধ্যে আমার খুঁত খুঁত করা শুরু করলো। শুধু ডাক্তারের চেম্বারে পাঁচ বছরের একটা বাচ্চাকে একা বসিয়ে রাখতে মন সায় দিচ্ছিলো না। ছেলের বাবাকে অস্বস্তির বিষয়টা জানালে সে হেসেই উড়িয়ে দিলো, বললো আমি নাকি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছি।

স্থির থাকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলাম… রুমের দরজায় টোকা দিয়ে দরজাতেই দাঁড়িয়ে বললাম, ডাক্তার সাহেব, বাইরে কোন রোগী নেই, আমরা কি ভেতরে আসবো? ডাক্তার সাহেব চশমার উপর দিয়ে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে খুব কড়া করে বললেন, আপনাদের কি আমি ডেকেছি?

তারপরও বললাম, আমি ভেতরেই বসি, বাচ্চা আবার ভয় পেতে পারে। (এদিকে যে ভেতর ভেতর আমিই ভয় পাচ্ছি তা আর বুঝতে দিতে চাইলাম না।) তিনি হ্যাঁ বা না কিছুই বললেন না… কিন্তু মুখ দেখেই পরিষ্কার বুঝে ফেললাম যে তিনি বিরক্ত… তার চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে আমি থ্যাংক ইউ বলে একটা চেয়ারে বসে পড়লাম।

ভীষণ খারাপও লাগছিলো, একজন মানুষ সম্পর্কে বাজে ধারণা করতে। কিন্তু আশেপাশে যা ঘটছে… গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত শিশু নির্যাতনের যে ঘটনাগুলো প্রকাশ পাচ্ছে… তাতে করে অপরিচিত কেন… পরিচিত মানুষকেও বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে গেছে।

প্রায় প্রতিদিনই চোখে পড়ে দেশের কোথাও না কোথাও বিভিন্ন বয়সী শিশু নির্যাতনের ঘটনা। আর এই নির্যাতনের ভয়াবহতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। আর শিশু নির্যাতন বলতে এখন আর শুধু মেয়ে শিশুই নয়… ছেলে শিশুও নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে। বাসা, পথ-ঘাট, বাসস্ট্যান্ড এমনকি স্কুল-মাদ্রাসার মতো জায়গাতেও বিকৃতরুচির মানুষজন দ্বারা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে মেয়ে এবং ছেলে শিশু উভয়ই।

আমাদের সমাজে এখনও অনেকের ধারণা, মেয়ে শিশুরাই যৌন হয়রানির শিকার হয়। কিন্তু ছেলে শিশুরাও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, যদিও বিষয়টি নিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশংকায় কেউ মুখ খুলতে চান না সহজে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট পরিচালিত যৌনবৃত্তির ক্ষেত্রে ছেলে শিশুদের ঝুকিঁ নিরূপণ সম্পর্কিত সমীক্ষায় দেখিয়েছে যে শিশুরা সাধারণত নিকট আত্মীয় স্বজন কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আদরের ছলে বিভিন্ন ধরনের অশোভন আচরণ, যৌন ইঙ্গিত ও স্পর্শ থেকে আরম্ভ করে ধর্ষণসহ নানা ধরনের যৌন সহিংসতা এই খুব নিকট আত্মীয় স্বজন কর্তৃক ঘটে থাকে।

জাতীয় পর্যায়ে শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন ২৬৯টি বেসরকারি সংস্থার ফোরাম হলো বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ)। সংগঠনটি এবছরের শুরুর দিকে শিশু অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৫৮৯টি শিশু সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৪১টি শিশুর অপমৃত্যু ঘটে। যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ৬৮৬টি শিশু। তবে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণসহ সামগ্রিকভাবে শিশু নির্যাতনের সংখ্যা ২০১৫ সালের তুলনায় কিছুটা কমলেও বিএসএএফ মনে করে গত বছর গড়ে মাসে ২০টির অধিক শিশু হত্যা এবং ৩০টিরও বেশি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির চেয়ারপারসন মো. এমরানুল হক চৌধূরী বলেন, শিশু নির্যাতনের ভয়াবহতা বাড়ছে। বিচারহীনতা ও বিচারপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার সংস্কৃতিই এর কারণ। প্রতিরোধে দরকার আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা।

বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছিলো যে ‘ছেলে এবং মেয়ের আনুপাতিক হিসাবে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের যৌন নির্যাতনের সংখ্যা বেশি। কিন্তু ছেলেদের ধর্ষণের ঘটনা আগে সীমিত ছিল। বোর্ডিং স্কুল বা মাদ্রাসায় হত। এখন সেই ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হয়েছে।

লঞ্চ-ঘাটে, বাস টার্মিনালে কিংবা বিপণি বিতানে যেসব শ্রমজীবী শিশু থাকে কিংবা যারা পথশিুশ তারাও ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের দ্বারাও ধর্ষণের ঘটনা হচ্ছে। তবে সেগুলো চার দেয়ালের বাইরে আসে না।’

শিশুদের ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন। তিনি বলছেন, অনেকে অজ্ঞতার কারণে আর বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেকেই আদালত বা পুলিশের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছেন না।

ফলে এসব অপরাধ ঘটছেই। অনেকে শিশু বা অভিভাবকই জানে না কোথায় অভিযোগ জানাতে হয়। যদিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ট্রাইবুনাল ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করবেন।

এক শ্রেণীর বিকৃত রুচির মানুষ শিশুদের টার্গেট করে, কারণ শিশুদেরকে একটা চকলেট দিয়েও প্রভাবিত করা যায়। ফলে সুযোগ সন্ধানী অপরাধীরা এভাবে শিশু নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকে। এই নির্যাতিত শিশু ভবিষ্যত জীবনে নানারকম অপরাধকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

কেননা তারা স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠার সুযোগ পায় না। সেও অন্যের প্রতি এমন আচরণ করতে পারে। যৌন নির্যাতনের মতো অনাকাক্ষিত ঘটনায় কোমলমতি শিশুদের আবেগ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

শিশু নির্যাতনমুক্ত সমাজ তখনই সম্ভব, যখন মানুষের মনোভাব, আচরণ ও রুচির পরিবর্তন হবে। সুতরাং আমাদের শিশুকে নিরাপদে রাখতে তাকে যৌন নির্যাতন সম্পর্কে সাবধান ও সচেতন করতে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে, তা হলো :

১. শিশুর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যেন সে বিনা দ্বিধায় সবকিছু বাবা-মাকে খুলে বলতে পারে।

২. গল্পের ছলে তাকে যৌন শিক্ষা দেয়া যেতে পারে।

৩. শিশুদের ভয় না পেয়ে সবকিছু অবহিত করার বিষয়ে শিক্ষা দিতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে যে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে তার কোনো দোষ ছিল না।

৪. তাদের শেখাতে হবে অপরিচিতদের থেকে কোনো কিছু গ্রহণ না করার ব্যাপারে। স্কুল থেকে বাবা-মা ছাড়া অন্যদের সঙ্গে কখনো যাবে না, এমন কি বাবা-মা যেতে বলেছে দাবি করলেও না।

৫. তাকে তার শরীরের সংবেদনশীল স্থানগুলো সম্পর্কে জ্ঞান দিতে হবে এবং এই স্থানগুলোতে যেন কেউ স্পর্শ করতে না পারে তা শেখাতে হবে।

৬. গুড টাচ ও ব্যাড ট্যাচ সম্পর্কে বোঝাতে হবে।

৭. নিকট আত্মীয়দের ব্যাপারেও অন্ধবিশ্বাস না করে সচেতন থাকতে হবে।

ডাক্তারের চেম্বারের দরজা ঠেলে ভেতরে যাবার ঘটনায় আমার ছেলের বাবা জিজ্ঞেস করছিলো, তুমি মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে তাহলে কী করতে? উত্তর দিয়েছিলাম, আমি একই কাজ করতাম। শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ে সমানভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ। সুতরাং, শিশুর সুন্দর বর্তমান ও ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে সকল শিশুর প্রতিই সমানভাবে সচেতন হতে হবে।

আইনুদ সনি : ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

আপনি কি জানেন বালিশে বাস করে পোকা?

আপনার প্রতিদিনের ব্যবহৃত বালিশে বাস করছে পোকা ও তাদের বর্জ্য পদার্থ। ডেলা পাকানো, পশমযুক্ত ও ছোট ছোট আণুবীক্ষণিক কীট বাস করতে পারে সেখানে। যা আপনাকে অসুস্থ করে দিতে পারে।

এই ক্ষুদে কীট আপনার মরা ত্বক ও চুল খেয়ে বেঁচে থাকে। দুই বছরের বেশি ব্যবহৃত বালিশের ওজনের এক-তৃতীয়াংশ থাকে এই কীট, তাদের বর্জ্য পদার্থ ও মৃতদেহ।

যদি আপনি তিনটি বালিশ ব্যবহার করেন দুই বছর ধরে তাহলে এই কীটের সঙ্গে আপনার মুখমণ্ডলের ছোঁয়া লাগছে বেশি। এতে আপনার অ্যালার্জির সমস্যা আরো বাড়তে পারে। হাঁপানি বাড়তে পারে। পরে এটা আপনার সাইনাসে সমস্যা তৈরি করবে। দেখা গেছে অধিকাংশ মানুষই পোকার বর্জ্য ও মৃতদেহের কারণে অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগে।

অতএব, প্রতি ছয় মাস পর আপনার বালিশ ধুয়ে রোদে দিন। প্রতি সপ্তাহে বালিশের কাভার ধুয়ে ফেলুন। সূত্র : ফক্স নিউজ।

‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ শনিবার সকাল পর্যন্ত স্থগিত

শনিবার সকাল পর্যন্ত মৌলভীবাজারে বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘অভিযান চলমান আছে। তবে অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় আগামীকাল সকাল পর্যন্ত অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। সকালে আবহাওয়া ভাল থাকা সাপেক্ষে অভিযান শুরু করা হবে।’
শুক্রবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারে ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা জানেন, অভিযানটি সকাল থেকে চলমান ছিল। অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। অভিযান আগামীকাল সকালে শুরু হবে।’
তিনি বলেন, ‘জঙ্গিরা ভেতর থেকে কিছু বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমাদের সোয়াট দলটি যখনই ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছে, তখনই জঙ্গিরা ভেতর থেকে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আমরা ধারণা করছি প্রচুর পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে তাদের কাছে। অপারেশনটি অপেক্ষাকৃত একটু জটিল। যে বাড়িটিতে তারা অবস্থান নিয়েছে, সেই বাড়িতে অনেক কক্ষ রয়েছে এবং একটি নির্মাণাধীন ভবন রয়েছে। এ কারণে এই অভিযান শেষ হতে সময় লাগবে। বাড়িটি ঘিরে রাখা হয়েছে।’
এর আগে মৌলভীবাজারের বড়হাট এলাকার জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন ম্যাক্সিমাস’ চালায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সোয়াত টিম। এই অভিযানে তারা ড্রোন ব্যবহার করে দেখেছেন, বাড়িটির ভেতরে প্রচুর বিস্ফোরক ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে। একাধিক জঙ্গির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
দিনভর গুলাগুলি বিস্ফোরণ: বড়হাটের জঙ্গি আস্তানায় শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৬ মিনিটে অভিযান শুরু করে সোয়াত সদস্যরা। অভিযান শুরু পর ওই এলাকায় বোমার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। দুপুর সাড়ে ১২টার পর গুলি টানা গুলির শব্দ পাওয়া যায়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে ১০ মিনিট ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে বিকট শব্দে দুবার বিস্ফোরণ ঘটে। সাড়ে ৪টা থেকে ফের ৫ মিনিট গুলাগুলি শুনা যায় এবং ৪টা ৩৩ মিনিট এবং ৫টা ৭ মিনিটে ফের বিকট আকারে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।
কৌতুহলি জনতার ভির, পুলিশের তাড়া: বড়হাট আস্তানায় সোয়াতের অভিযান চলছে শুনে সকাল থেকেই উৎসুক জনতা ভিড় জমাতে থাকেন। সিলেটের আতিয়া মহলের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে উৎসুক জনতাকে ভিড় করতে দেয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনী উৎসুক জনতাকে তাড়িয়ে দেয়।
শহরজুড়ে তল্লাশি: মৌলভীবাজার শহরের প্রবেশের প্রতিটি রাস্তায় বসানো হয়েছে তল্লাশি। এছাড়া শহরজুড়ে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ তল্লাসি টিম। কাউকে সন্দেহ হলেই তল্লাশি করছে তারা। তল্লাশি ছাড়া শহরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।

শেখ হাসিনার সম্মানে নৈশভোজে যাচ্ছেন না মমতা

দিল্লিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দিচ্ছেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। তবে সেই ভোজের সময় তৃণমূলের কোনো এমপি থাকতে পারেন। তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
যদিও সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে ৮ এপ্রিল ওই নৈশভোজ হবে। ওই ভোজে মমতা ব্যানার্জি আমন্ত্রিত হয়েছেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি তাঁর প্রতিবাদের কথা আগেই জানিয়ে রেখেছিলেন। বলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষা করে তবেই বাংলাদেশকে পানি দেবেন। তাই ভারত সরকার সরাসরি এই ভোজের আয়োজন না করে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির উদ্যোগে আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। আশা ছিল মমতা ব্যানার্জি আসবেন। যদিও নরেন্দ্র মোদি পরিচালিত ভারত সরকারের একটি মহলের আশা শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি বদলালেও বদলাতে পারে।

উল্লেখ্য, ৭ এপ্রিল ৪ দিনের সফরে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি ভবনে আয়োজিত নৈশভোজে থাকবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মনে করা হচ্ছে তাঁর সঙ্গে মুখোমুখী হওয়া এড়াতেই ওই নৈশভোজে যেতে নারাজ মমতা। এই ভোজে মমতা ছাড়াও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীকে। সিকিমের সঙ্গেও তিস্তার পানির যোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরে তিস্তা নিয়ে আলোচনাটি অগ্রাধিকারে রয়েছে।

সাত খুনে ১৭ বছর দণ্ড, তবু পুলিশের চাকরি-পদোন্নতি!

নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় ১৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি তিনি। ছিলেন এ মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা তারেক সাঈদের দেহরক্ষী। তবু তিনি চাকরি করছিলেন নৌ-পুলিশে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি তিনি কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী উপপরিদর্শকও (এএসআই) হয়েছেন।
সেই পলাতক আসামি এএসআই হাবিবুর রহমান হাবিবকে আজ শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুপুর ২টার দিকে বরিশালের সদর উপজেলার হিজলার ট্যাক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। হাবিব শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার কাঞ্চনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুজ্জামান বলেন, হিজলা পুলিশের সহায়তায় শরিয়তপুরের নড়িয়া থানার পুলিশ হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। এতদিন হাবিবুর রহমান নজরবন্দি ছিলেন। তিনি ছিলেন তারেক সাঈদের দেহরক্ষী। সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে তিনি এএসআই হয়েছেন। তাঁকে নড়িয়ায় পাঠানো হয়েছে।
বরিশালের পুলিশ সুপার আক্তারুজ্জামানও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাত খুন মামলায় গত ১৬ জানুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন ২৬ জনকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেন। এ ছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে হাবিবকে আদালত ১৭ বছর দণ্ডাদেশ দেন বলে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। এ মামলায় আরো কয়েক আসামি এখনো পলাতক।