সিরিয়াল কিলার নিয়ে পুলিশ অন্ধকারে

দক্ষিণখানে একই কায়দায় মধ্যবয়সী তিন নারীকে হত্যার ঘটনায় এখনো অন্ধকারে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পরও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ওই এলাকার মানুষ এখনো আতঙ্কে রয়েছে। সেই আতঙ্ক কাটিয়ে তাদের সতর্ক থাকতে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং ও পোস্টার লাগানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার নারীরা হলেন উত্তর গাওয়াইরের গৃহকর্ত্রী শাহিদা বেগম (৫০), তেঁতুলতলা রোডের গৃহকর্ত্রী সুমাইয়া বেগম (৫২) ও আশকোনার ওয়াহিদা আক্তার (৪৮)। গত ২৪ জুলাই, ২১ আগস্ট ও ৭ সেপ্টেম্বর হত্যার ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহত নারীদের স্বজনেরা বলছেন, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডেই চাপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। আর হত্যাকারী ছিলেন একজন যুবক। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৩ থেকে ২৬ বছর। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ওই যুবক বাসায় ঢোকেন। এরপর বাড়ি দেখার নাম করে ভেতরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে খুন করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয় যান।
এই তিনজনকে হত্যা ছাড়াও একই ব্যক্তির হামলায় ২৫ জুলাই আশকোনা মেডিকেল রোড এলাকার গৃহকর্ত্রী মাহিরা বেগম (৫০) ও ৩১ আগস্ট মুনশি মার্কেট এলাকার জেবুন্নিছা চৌধুরী (৫৬) মারাত্মক আহত হন। চিকিৎসা শেষে তাঁরা এখন বাড়ি ফিরেছেন। এসব ঘটনা নিয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, হামলাকারী একজন ‘ক্রমিক খুনি’।
জানতে চাইলে গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নুরুল আমিন বলেন, হামলা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের তদন্ত চলছে।
দক্ষিণখান থানা-পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর একটি বাড়ির ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা থেকে ১০ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করে খুনি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। ফুটেজের কিছু অংশ পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অনলাইন নিউজ পোর্টালেও দেওয়া হয়। ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত যুবকের গায়ের রং ফরসা, মাথার চুল ছোট। ফরমাল শার্ট-প্যান্ট পরা। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তিনি এসেছিলেন। পুলিশের ধারণা, এই ব্যাগেই খুনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা চাপাতি এনেছিলেন।
এই ক্রমিক খুনি সর্বশেষ হামলা করেছিলেন ওয়াহিদা আক্তারের ওপর। চাপাতি দিয়ে মাথা ও ঘারে কুপিয়ে তাঁকে হত্যা করা হয়। ওয়াহিদার দেবর ইলিয়াস মজুমদার জানান, তাঁদের বাড়িটি ছয়তলা। দ্বিতীয় তলায় গৃহকর্ত্রী ওয়াহিদা থাকতেন। ষষ্ঠ তলা ভাড়া দেওয়ার জন্য বাড়ির সামনে নোটিশ টানানো ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে ওই যুবক দ্বিতীয় তলায় যান। পরে ওয়াহিদার সঙ্গে ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাট দেখতে যান। এর কিছুক্ষণ পর ষষ্ঠ তলায় গিয়ে ওয়াহিদার মরদেহ পাওয়া যায়।
এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (অভিযান) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকারী সম্পর্কে কোনো সূত্রই পাওয়া যাচ্ছে না। তাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।
ভিডিও ফুটেজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তপন চন্দ্র সাহা বলেন, ফুটেজটি অত্যন্ত অস্পষ্ট ছিল। খুনিকে তাই শনাক্ত করা যায়নি। তারপরও ওই ফুটেজ পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সব উপায়েই তদন্ত করে খুনিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

সুন্দরগঞ্জে উত্তেজনা সড়ক অবরোধ সন্ত্রাসীদের গুলিতে এমপি লিটন নিহত

সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। গতকাল সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় বাড়িতে ঢুকে এমপি লিটনকে তিন সন্ত্রাসী গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রমেক হাসপাতালের পরিচালক বরকতউল্লাহ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই এমপি মারা যান। তার বুকে পাঁচটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে।
এদিকে নিহত এমপির পরিবারের সদস্যরা জানান, গতকাল সন্ধ্যার কিছু আগে এমপি লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় তার বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় বাড়ির পূর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক এমপির সঙ্গে দেখা করতে চায়। এমপি লিটনের কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার অনিল সাহা তাদের কাছে সাক্ষাতের কারণ জানতে চান। কিছুক্ষণ পর ম্যানেজার অনিল এমপির ঘরে ঢুকতেই দুই যুবক তার পেছন পেছনে ঘরে ঢুকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা শরীরে লুকানো পিস্তল দিয়ে এমপিকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এ সময় অপর এক দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিল। গুলি করে তিন দুর্বৃত্ত দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। এ সময় এমপির স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি পাশের বাড়িতে ছিলেন। ঘটনার পর ম্যানেজার অনিল সাহার চিৎকারে তার স্ত্রীসহ ড্রাইভার ও লোকজন এসে ঘরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লিটনকে পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে লিটনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, এ মুহূর্তে কারা ঘটনা ঘটিয়েছে বলা মুশকিল। এখন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। কারা ও কোন ঘটনার সূত্র ধরে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানতে চেষ্টা করছে পুলিশ। এদিকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, এমপি লিটন হত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের অল্প সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে।

দেশবাসীকে দেশনেত্রীর ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা

Begum Khaleda Zia‏ @BegumZiaBd
নতুন ইংরেজি বছরের শুভেচ্ছা। ২০১৭ হোক সাম্য, মৈত্রী ও স্বাধীনতার বছর। ফিরে আসুক মানুষের অধিকার, শান্তি ও গণতন্ত্র।#BegumZia #HappyNewYear2017

একান্ত সাক্ষাত্কারে তনুর মা আনোয়ারা বেগম ‘সিআইডি কয়, ধৈর্য ধরতাম, আশা রাখতাম’

বছরজুড়ে আলোচিত ঘটনার মধ্যে ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর মৃত্যু। তাঁর লাশ গত ২০ মার্চ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে কালভার্টের ২০ থেকে ৩০ গজ পশ্চিমে ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময়ে এ মামলার কোনো কিনারা করতে পারেনি সিআইডি। এসব বিষয় নিয়ে তনুর মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে ২৬ ডিসেম্বর কথা বলেছেন
গাজীউল হক ।
প্রথম আলো : অনেক দিন পর আপনার সঙ্গে কথা হচ্ছে, কেমন আছেন?
আনোয়ারা বেগম : বাজান, আমরা কিয়ের ভালা আছি। নয় মাস যাইতেছে, তনু নাই। তার ওপর ওর দাদা অসুস্থ। দম যায় আর আসে। কিছু খায় না। তনুর লগে আমার শ্বশুরের ভালা খাতির ছিল। কুমিল্লা থেকে মুরাদনগরের বাড়িতে গেলে দাদার গলা জড়িয়ে থাকত ও। মেয়েটা মারা যাওয়ার পর থেকে ওর দাদাও ভাইঙ্গা পড়েন। আমাদের আর ভালা থাকা। যেখানে আমরা থাকি (কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরের আবাসিক কোয়ার্টার), সেখানেও আমাদের চোখে চোখে রাখা হয়। কই যাই, কার কাছে যাই, এখনো খোঁজ নেওয়া হয়। চাকরির কারণে এখানে আছি, কোনো রকমে থাকা আর কি?
প্রথম আলো : তনু হত্যাকাণ্ডের নয় মাস পেরিয়ে গেল। এ মামলার অগ্রগতি কী?
আনোয়ারা বেগম : এ মামলার কোনো অগ্রগতি দেখছি না। এখন পর্যন্ত একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আসামি শনাক্তও হয়নি। মামলার চার্জশিটও (অভিযোগপত্র) দেওয়া হয়নি। মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি ৩ ডিসেম্বর আমাদের ঢাকায় ডেকে নেয়। সেখানে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। মামলা নিয়ে সিআইডি কয়, ধৈর্য ধরতাম, আশা রাখতাম। আমারে কয়, আপনি বেশি কথা বলেন। মেয়ে মারা গেছে আমার, কথা তো আমারেই কইতে অইব। মামলা নিয়ে সিআইডির ৩ তারিখের পর আর কোনো তৎপরতা দেহি না।
প্রথম আলো : আপনারা যাদের সঙ্গে ডিএনএ পরীক্ষা করার জন্য বলেছিলেন, তা কি করা হয়েছে?
আনোয়ারা বেগম : এটা আমরা বলতে পারব না। সিআইডি কয়, আমরা খাড়াত আছি। ধৈর্য ধরেন। যাদের সঙ্গে ডিএনএ মেলানো দরকার, তাদের সঙ্গে মেলায় না কেরে। আমি এ মামলার কোনো কিনারা দেখছি না। হতাশ আমরা।
প্রথম আলো : আপনার মেয়ে তো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। যতটুকু জেনেছি, গত বছর বিজয় দিবসেও নাচগান করেছে। লাল-সবুজ শাড়ি পরেছে। এবারের বিজয় দিবসে কি সেটা মনে পড়ে?
আনোয়ারা বেগম : ছোটবেলা থেকে আমার মেয়ে নাচগান ও চিত্রাঙ্কনে ভালো ছিল। যেকোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বহু পুরস্কার পেয়েছে। নানান দিবসের সঙ্গে মিল রেখে পোশাক পরত। ১৬ ডিসেম্বর ওর কথা বেশি মনে পড়েছিল। আসলে প্রতিদিনই মেয়েটার মুখটা ভেসে ওঠে। ঘর ফাঁকা থাকলেই ওর কথা মনে পড়ে।
প্রথম আলো : এখন আপনাদের দিন কাটছে কেমন?
আনোয়ারা বেগম : কষ্টে দিন যাচ্ছে। মনে কোনো শান্তি নাই। আল্লাহর কাছে মেয়ে হত্যার বিচার দিচ্ছি। ফেরাউনের মতো কোনো কিছু ঘটলে মনটা শান্তি পাইত। ২৩ ডিসেম্বর রাতে মেয়ের জন্য গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুরে দোয়া পড়াইছি।
প্রথম আলো : বিচার পাইবেন বলে কি মনে হয়?
আনোয়ারা বেগম : কইছি তো, কেউ বিচার না করলে আল্লাহ একদিন না একদিন করব। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে দেখা করতে চাই। তদন্ত সংস্থা খালি জিজ্ঞাসাবাদ আর আসা-যাওয়ার মধ্যেই আছে।
প্রথম আলো : মেয়ের সঙ্গে বিশেষ কোনো স্মৃতি কি আপনাকে বারবার তাড়া করে?
আনোয়ারা বেগম : প্রতিদিনই মেয়ের কথা মনে পড়ে। মেয়েটা যে আমার কী আছিল, বলে বোঝানো যাবে না। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে তনু সবার ছোট ছিল। ছোট মেয়ে হিসেবে ওরে সবাই আদর করত। কলিজার টুকরা ছিল, মেয়ে আমার। সেই মেয়ে নাই, এটা মনে এলে মাথা ঘোরে। গত নয় মাসে চোখের জলে মেয়েকে স্মরণ করি। রাইতে কান্দি, দিনে কান্দি। আমার গেছে আমিই জানি। মেয়েটি আমার সবকিছু ছিল। এখন কারে নিয়ে বাঁচব? তারপরও আছি।
প্রথম আলো : তনু হত্যার প্রতিবাদে দেশ-বিদেশে আন্দোলন হয়েছে। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে নানা খবর উঠেছে। এখন আন্দোলনের কী অবস্থা?
আনোয়ারা বেগম : মেয়ের বিচারের জন্য যাঁরা মাঠে আন্দোলন করেছেন, পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল ভূমিকা রেখেছেন, তা কোনো দিন ভুলব না। দেশবাসী আমার মেয়ের জন্য অনেক কিছু করেছে। আমার মেয়ে পড়াশোনা করে নাম কামাতে চেয়েছিল। উল্টা মৃত্যুই তাকে পরিচিত করেছে। আমি নিজে কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে দুইবার, পৌর পার্কে একবার ও সিআইডি কার্যালয়ে গিয়েও মেয়ে হত্যার বিচার চেয়েছি। এখনো অনেকে সান্ত্বনা দেন। আন্দোলন মাঝেমধ্যে হয়। পুলিশ কাজ করলে সবই সম্ভব।
প্রথম আলো : এতক্ষণ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আনোয়ারা বেগম : প্রথম আলোকেও ধন্যবাদ, সব সময় আমাদের সহযোগিতা করার জন্য।
সুত্র:প্রথম আলো।

আসকের প্রতিবেদন চলতি বছর ৭২৪ নারী ধর্ষণের শিকার

২০১৬ সালে নারী নির্যাতনের সংখ্যাগত দিকের পাশাপাশি এর মাত্রা ও ধরনে ছিল ভয়াবহতা। এ বছর নারী উত্ত্যক্ত, যৌন হয়রানি, নির্যাতন, হত্যা ও সালিসের মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় শিশু নির্যাতনের মাত্রা ও ধরনে ভয়াবহতাও অব্যাহত ছিল।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ২০১৬ ও আসকের পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী নির্যাতন বা নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা উদ্যোগ থাকার পরও কমছে না নারী নির্যাতন। নির্যাতনের অনেক ঘটনায় মামলা হলেও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকে আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালে ৭২৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হন। এর মধ্যে ধর্ষণের পর ৩৭ জনকে হত্যা করা হয় এবং ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেন ৮ জন। সালিস ও ফতোয়ার মাধ্যমে ১২ জন নারী নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে গ্রামছাড়া, সমাজচ্যুত বা একঘরে করা, মাথার চুল কেটে দেওয়াসহ শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে মাত্র তিনটি। যৌতুকের জন্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২৩৯ জন নারী, মামলা হয়েছে ৯৫টি। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৯৪ জন, যার মধ্যে থানায় মামলা হয়েছে ১৮৭টি। নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় ৬৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৩২টি ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে বছরটিতে অ্যাসিড–সন্ত্রাসের ঘটনা কম ছিল, অ্যাসিড নিক্ষেপের শিকার হন ৩৪ নারী, এ ঘটনায় একজন মারা যান। এর মধ্যে মাত্র ১২টি ঘটনার ক্ষেত্রে মামলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন নির্যাতন ও বখাটের উত্ত্যক্তের শিকার হন ২৪৪ জন। এর মধ্যে ৬ জন নারী আত্মহত্যা করেন। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় খুন হন ৭ জন নারী ও ৭ জন পুরুষ। বখাটেদের প্রতিবাদ করায় লাঞ্ছিত হয়েছেন ১৩৮ জন। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে পাঁচ ছাত্রীর।
প্রতিবেদনে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের খসড়া সম্পর্কে বলা হয়েছে, দেশের নারী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিন্দা ও প্রতিবাদের মুখেও ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে ‘সর্বোত্তম স্বার্থে’ আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আসকের তথ্য সংরক্ষণ ইউনিটের হিসাব উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বছরটিতে হত্যার শিকার হয় ৪১৫ শিশু। আত্মহত্যা করে ২২ শিশু এবং রহস্যজনক মৃত্যু হয় ২৮ শিশুর। এসব ঘটনায় ১৭৬টি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, উত্ত্যক্তকরণসহ ১ হাজার ৩৪টি ঘটনা ঘটে এবং মামলা হয় ২৬০টি।
সুত্র:প্রথম আলো।

তদন্তের পুর্বেই মন্তব্য তদন্তকে ব্যহত করে

এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান :

কোন অপরাধ সংঘটিত হবার পর তদন্ত শুরু হবার কথা আলামত সংগ্রহ, চাক্ষুস সাক্ষীদের জবানবন্দি নেয়া, ডিএনএ নমূনা, আগুলের ছাপ সংগ্রহ করা ইত্যাদির মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশে অপরাধের তদন্ত শুরু হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। পুলিশের প্রাথমিক টার্গেট থাকে কাউকে বাঁচানো (তনু হত্যায় যা ঘটেছে) অথবা কাউকে ফাঁসানো (তাবেল্লা হত্যায় যা ঘটেছে)।

ইতালীয় নাগরিক সিজার তাবেল্লা আততায়ীর গুলিতে নিহত হবার পর ইসলামিক স্টেটের পক্ষ থেকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়েছিল। তাদের মাসিক ম্যাগাজিন ‘দাবিক’ এ সেটি ছাপা হয়েছিল। RAB এর পক্ষ থেকে তদন্ত করে সম্প্রতি বলা হয়েছে ঐ হত্যাকাণ্ড নব্য-জেএমবিরা ঘটিয়েছে বলে তাদের কাছে প্রমান আছে। কিন্তু যেহেতু তাবেল্লা হত্যার পর পরই শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে বিএনপির দিকে আঙুল তুলেছিল, তাই পুলিশ কোন নিয়মতান্ত্রিক তদন্তে না গিয়ে কয়েকজন বিএনপি কর্মীকে ধরে, তাদের একজনকে গুম করে, অন্যদের গুমের ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। হুকুমের আসামী করেছে প্রবাসী বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম ভাইকে।

গাইবান্ধার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এবং আওয়ামী লীগের অবৈধ এমপি লিটন হত্যার তদন্তও একই পথে এগুবে বলে মনে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিশের আইজি বলে দিয়েছেন, “এলাকাটি জামায়াত–অধ্যুষিত। এলাকার সাধারণ লোক ও আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা বলছেন, খুনের সঙ্গে জামায়াত-শিবির জড়িত থাকতে পারে।”[১]

তদন্ত শেষ হবার আগেই এভাবে মন্তব্য করাটা কেবল আওয়ামী লীগ আমলের দলীয় পুলিশের পক্ষেই সম্ভব।

আলামত, সাক্ষ্য এবং তথ্য প্রমান দিয়ে অপরাধী সনাক্ত না করে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ধরে নির্যাতনের মাধ্যমে আদালতে স্বীকারোক্তি নিয়ে আর যাই হোক, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

১/ http://www.prothom-alo.com/bangladesh/article/1050079/

আমাদের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক পাকস্থলী!

আমাদের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। আচরণ, চিন্তা, এমনকি আমাদের শারীরিক গঠন কেমন হবে- সবই নিয়ন্ত্রিত হয় মস্তিষ্ক থেকে। অবাক করা কথা হলো, আমাদের মস্তিষ্ক নাকি আসলে দু’টি!

যুক্তরাষ্ট্রের আসাপ সায়েন্স নামে একটি গবেষণা টিমের পক্ষ থেকে এ কথা বলা হচ্ছে। তারা বলছে, পাকস্থলীর সঙ্গে সম্পৃক্ত নালী (কোলন) ‘এনটারিক নারভাস সিস্টেম’ নামে একগুচ্ছ স্নায়ু আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে।

ওই গবেষক দলের দাবি, আমরা যতটা ধারণা করি- দ্বিতীয় মস্তিষ্কের প্রভাব আমাদের ওপর তার চেয়ে অনেক বেশি।

চিকিৎসাশাস্ত্র এই দ্বিতীয় মস্তিষ্ককে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করছে। কারণ, এটি কেবল আমাদের খাদ্যনালী থেকে শুরু করে মলদ্বার পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করে না- গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মস্তিষ্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলেও এই দ্বিতীয় মস্তিষ্ক শরীরকে সচল রাখতে সক্ষম!

এখানেই শেষ নয়, আমাদের মনের ওপরও রয়েছে এর আশ্চর্য রকম নিয়ন্ত্রণ। দ্বিতীয় মস্তিষ্ক নাকি আমাদের মানসিক অবস্থা এবং আচরণ দু’টিই নিয়ন্ত্রণ করে!

আমাদের শরীরের প্রায় অর্ধেক ডোপামিন (ডোপামিন হলো একটি হরমোন এবং ক্যাটেকোলামাইন ও ফেনাথ্যালামিন পরিবারের একটি নিউরো ট্রান্সমিটার যা মানব মস্তিষ্ক ও শরীরের বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজে দরকার হয়) এবং ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন (সেরোটোনিন হলো মস্তিষ্কের স্নায়ুকে সংযোগকারী একটি নিউরোট্রান্সমিটার, যার রাসায়নিক নাম ৫-হাইড্রক্সিট্রিপ্টামিন। রক্তনালিকায় রক্ত প্রবাহে সাহায্য করে এটি এবং মানুষের ভালো থাকার অনুভূতি দেয়। যে কারণে একে সুখানুভূতির হরমোনও বলা হয়। যদিও এটি হরমোন নয়, এটি একটি মনোএমাইন। অনেক উদ্ভিদ এবং ছত্রাকে সেরোটোনিন পাওয়া যায়) আসে কোলন থেকে। এখানে থাকা ব্যাকটেরিয়া হরমোন দু’টি ব্যবহার করে আমাদের ভালো থাকার অনুভূতি দেয়। আবার এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মস্তিষ্কে সরাসরি নির্দিষ্ট কিছু খাবারের চাহিদার কথা জানায়।

গবেষণা দলের নেতা যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের দ্য ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ডেভিড জেফেন স্কুল অব মেডিসিনের সাইকায়াট্রি অ্যান্ড বিহেভিয়রাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এমেরান মায়ের বলেন, এই প্রক্রিয়াটা এতো জটিল যে এর একমাত্র কাজ হলো কোলন পরিষ্কার রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা।

তবে ব্যাকটেরিয়াগুলো কেবল ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে না, আমাদের মনের ওপর এদের প্রভাব রয়েছে। খাদ্যাভাসের জন্য যে কোনো বয়সী মানুষ বিষণ্নতা এবং উদ্বেগে ভুগতে পারেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া আমাদের ব্যক্তিত্ব পাল্টে দিতে পারে। পাকস্থলীতে ব্যাকটেরিয়া ভালো থাকলে মানুষ অনেক বেশি ক্ষমাশীল এবং সামাজিক হয়ে ওঠে।

বিয়ে বাড়ির কাচ্চি

অতিথিদের রসনা তৃপ্তি মেটাতে, যারা অনেকগুলো আইটেম করতে ঝামেলা মনে করছেন। তাদের জন্য কাচ্চি বিরিয়ানির রেসিপি।

বাড়িতে বিবাহযোগ্য পাত্র-পাত্রী থাকলে আত্মীয়-বন্ধুদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীতের মৌসুমে। বেড়াতে আসা অতিথিদের রসনা তৃপ্তি মেটাতে, যারা অনেকগুলো আইটেম করতে ঝামেলা মনে করছেন। তাদের জন্য কাচ্চি বিরিয়ানির রেসিপি।

উপকরণ : খাসির মাংস ৪ কেজি, পোলাওয়ের চাল ২ কেজি, ঘি ৫০০ গ্রাম, আলু আধা কেজি, পেঁয়াজের বেরেস্তা ২কাপ, দারচিনি ৮-১০ টুকরো, এলাচ ১০-১২টি, আদা বাটা ৪ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ৪ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া (দারচিনি, এলাচ, জয়ফল, জয়ত্রি, শাহজিরা ও গোলমরিচ) ২ টেবিল চামচ, জিরা আধা চা চামচ, দই দেড় কাপ, দুধ ৪ কাপ আলুবোখারা ১৪-১৫টা, গোলাপ জল ১ টেবিল চামচ, লবণ পরিমাণ মতো।

প্রনালী : মাংস ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। হাঁড়িতে মাংসের সাথে আদা রসুন বাটা, লবণ, চিনি, টকদই, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ দিয়ে মেখে আধা ঘণ্টা রেখে দিন। গরম মসলার গুঁড়া, অর্ধেক ঘি ও জাফরান দিয়ে ভালোভাবে মাংস মেখে ১৫ মিনিট রাখুন।

এবার দুই কাপ দুধ মাংসের ওপর ঢেলে দিন। আলু লবণ মেখে তেলে ভেজে মাংসের ওপর দিন।

চাল ধুয়ে আধা সেদ্ধ করে মাংসে দিন। বাকি অর্ধেক ঘি, পেঁয়াজের বেরেস্তা, কিশমিশ, আলুবোখারা, বাদাম, গোলাপ জল ছড়িয়ে দিয়ে অল্প আঁচে এক ঘণ্টার মতো চুলোয় রাখুন। চুলোয় উঠানোর আগে আটা গুলিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করে দিন। এক ঘণ্টা পর আঁচ আরো কমিয়ে দমে রাখুন। চুলোয় তাওয়ার ওপর হাঁড়ি বসিয়ে অল্প আঁচে দমে রাখুন।

চুলা থেকে নামিয়ে পছন্দ মতো সালাদের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করুন।

পল্লী কবির জন্মবার্ষিকী রোববার

পল্লী কবি জসিম উদ্দীনের ১১৪তম জন্মবার্ষিকী রোববার। বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যমে দিবসটি পালন করবে।

পল্লী কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন এবং জসিম ফাউন্ডেশন যৌথভাবে তার পূর্বপুরুষের বাড়ি ফরিদপুরের গোবিন্দপুরে বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। এখানে কবির সমাধিও রয়েছে।

সকালে বিভিন্ন সংগঠন তার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে কবির বাড়িতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া প্রধান অতিথি, পুলিশ সুপার সুভাষ চন্দ্র সাহা ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান খ. মোহেতাসেম হোসেন বদর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

কবির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে আলোচনা সভা শেষে মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে।

ত্বকের যত্নে ফলের স্ক্রাব

শরীরের যত্নে ফল যেমন উপকারী তেমনি ত্বকের যত্নে ফলের কোনও বিকল্প নেই। সহজেই বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ফল দিয়ে তৈরি করে নেওয়া স্ক্রাবই ত্বকের যত্নে ভীষণ উপকারী। আর শীতকালে ত্বক তো এমনিতেই রুক্ষ হয়ে যায়। এই রুক্ষতা দূর করতে ফলের স্ক্রাবের বিকল্প নেই।

টমেটো: টমেটো সারাবছরই পাওয়া যায়। তবে শীতকালে বাজারে টমেটো সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং কে। বয়সের ছাপ থেকে ত্বকে বাঁচায় এবং রোদেপোড়া দাগও দূর করবে টমেটো।

কলা: ভিটামিন এবং মিনারেলসহ পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, বায়োটিন, ভিটামিন সি এবং বি সিক্সে সমৃদ্ধ কলা। ত্বকের নমনীয়তা বৃদ্ধি করে এবং এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সের ছাপ পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। তাছাড়া প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং ঘরে বানানো স্ক্রাব এবং মাস্ক হিসেবেও ভীষণ কার্যকরী কলা।

স্ট্রবেরি: শীতকালেই পাওয়া যায় স্ট্রবেরি। স্ট্রবেরি স্ক্রাব এমনিতেই সারাবিশ্বে জনপ্রিয়। স্ট্রবেরিতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি এবং ম্যাঙ্গানিজ। এটি ত্বকের মৃত কোষ তুলে ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। তাছাড়া ত্বকে বলিরেখাও দূর করবে। তাছাড়া চুলের ঝলমলেভাব ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে স্ট্রবেরি। পায়ের স্ক্রাবার হিসেবেও ভালো কাজ করে স্ট্রবেরি।

পেঁপে: সব সময় বাজারে পাওয়া যায় পেঁপে। পেঁপেতে আছে ক্যারোটিন এবং ভিটামিন বি ও সি- এর মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টযুক্ত উপাদান। এটি ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখে ও বয়সের ছাপ পড়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এতে করে ত্বক সতেজ এবং মসৃণ করে।