বিনা বিচারে বন্দীদের কান্না শুনতে পায় না কেউ

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের বাবুল ১৯৯৯ সালের ১৮ জানুয়ারি গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তিনি কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে দেড় যুগ ধরে বন্দী রয়েছেন। শুধু বাবুলই নন, হত্যা-ধর্ষণসহ গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলায় ৩৪ বন্দী বিনা বিচারে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে আটক রয়েছেন। এদের প্রত্যেককে প্রায় অর্ধ শতবার বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়েছে। কিন্তু জামিন মেলেনি। শেষ হয়নি মামলার বিচার কার্যক্রমও। ফলে বিনা বিচারে তাদের কারাগারেই আটক থাকতে হচ্ছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে বিনা বিচারে কারাগারে আটক থাকা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এসব বন্দীদের কান্না কেউ শুনতে পায় না। কেন এসব মামলা নিষ্পত্তি হচ্ছে না সে ব্যাপারে রাষ্ট্রের খোঁজ নেয়া উচিত। যদি কারো দায়িত্বে অবহেলার কারণে কোনো মামলার বিচার ঝুলে থাকে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গত ২৬ জুন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পরিদর্শনে যান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। পরিদর্শনকালে তিনি কারাগারে বিনা বিচারে আটক বন্দীদের বিষয়ে তথ্য জানতে চান। কারা কর্তৃপক্ষ প্রধান বিচারপতিকে জানান, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিনা বিচারে কারাগারে অনেক বন্দী রয়েছেন। পরে কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন বিনা বিচারে আটক বন্দীদের ৩৪ জনের একটি তালিকা সংবলিত প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। এতে বলা হয়, তালিকার বন্দীরা পাঁচ বছর বা তদূর্ধ্ব সময় মামলা অনিষ্পন্ন থাকায় কাশিমপুর কারাগারে আটক  রয়েছেন।
ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানীর ডেমরা থানার একটি মামলায় ১৯৯৯ সাল থেকে কারাগারে বন্দী আছেন লৌহজংয়ের বাবুল। ৯৮ সালে দায়েরকৃত মামলাটি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলায় বাবুলকে ৫৪ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে। এছাড়া কেরানীগঞ্জের ইমানদীপুরের বাসিন্দা রাজিব হোসেন খিলগাঁও থানার মামলায়      ২০০৩ সালের ৬ ডিসেম্বর থেকে, একই বছরের ১১ ডিসেম্বর থেকে গাজীপুরের জয়দেবপুরের টঙ্গী বোর্ডবাজারের বাবু, রাজধানীর কোতোয়ালি থানার মামলায় কেরানীগঞ্জের শুভাড্যার জাকির হোসেন টুটুল ২০০৪ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে, একই থানার মামলায় ওই বছরের ২ জুলাই থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. পারভেজ, খিলগাও থানার মামলায় কুমিল্লার হোমনার গোয়ালিয়ারচরের আনোয়ার হোসেন ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর থেকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে আটক রয়েছেন। ২০০৫ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে উত্তরা থানার মামলায় নেত্রকোনার কমলাকান্দা চেংগিনি ইউনিয়নের লিটন, বাড্ডার আদর্শনগরের সাইদুর রহমান একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে, পল্লবী থানার মামলায় ময়মনসিংহের তারাকান্দার রতন মিয়া ২০০৬ সালের ২০ এপ্রিল থেকে আটক রয়েছেন কারাগারে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে হাজারীবাগ থানার মামলায় কুমিল্লার হোমনার মোবারক ও মো. সেলিম, তেজগাঁও থানার মামলায় একই বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে ঝালকাঠি সদরের সোহেল, কাফরুল থানার মামলায় ওই বছরের ১৬ আগস্ট থেকে গোপালগঞ্জ সদরের শেখ মান্নান, কেরানীগঞ্জ থানার মামলায় নজরুল ইসলাম ১৩ মার্চ থেকে আটক রয়েছেন।
২০০৮ সালের ১১ জুন থেকে ধানমন্ডি থানার মামলায় লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের জাকির হোসেন, সবুজবাগ থানার মামলায় ওই বছরের ২২ মার্চ থেকে কারাগারে আছেন ভোলার দৌলতপুরের আবুল হোসেন, ডেমরার মামলায় ঢাকার নড়াইবাগের রাসেল ২০ সেপ্টেম্বর থেকে, ফেনীর সেলিম ওই বছরের ১২ এপ্রিল থেকে, লালবাগ থানার মামলায় সিরাজগঞ্জ সদরের সুমন ৭ জানুয়ারি থেকে এবং বাড্ডা থানার মামলায় একই বছরের ১৬ নভেম্বর থেকে কারাগারে আছেন কুমিল্লার হোমনার আব্দুস সাত্তার।
২০০৯ সাল থেকে কারাগারে আটক আছেন নয়জন বন্দী। এদের মধ্যে কদমতলী থানার মামলায় মুন্সিগঞ্জ সদরের নজরুল ইসলাম ২০০৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে, দোহার থানার মামলায় ওই থানার অধিবাসী লাভলু ১০ ডিসেম্বর থেকে, খিলগাঁওয়ের মামলায় কুমিল্লার হোমনার বাবু ওরফে তোরা বাবু ১০ জানুয়ারি থেকে, ১২ জুন থেকে আদাবরের অস্ত্র মামলায় চাঁদপুরের হাইমচরের আল আমিন, উত্তরা মডেল থানার মামলায় বগুড়ার শফিকুল ইসলাম ৮ আগস্ট থেকে, কাফরুল থানার মামলায় বরিশালের গৌরনদীর পারভেজ সাদ্দাম ১৬ অক্টোবর থেকে, মতিঝিল থানার মামলায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির আবুল বাশার ১৩ জুন থেকে, মোহাম্মদপুরের মামলায় সুনামগঞ্জের শ্রিনগরের আ. রাজ্জাক ওরফে কুদ্দুস ১৭ অক্টোবর থেকে এবং আশুলিয়া থানার মামলায় পাবনার চাটমোহরের আ. খালেক ১৬ আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন।
২০১০ সাল থেকে কারাগারে আছেন পাঁচ জন। এদের মধ্যে আশুলিয়ার মামলায় ওই বছরের ৮ অক্টোবর থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দির আবুল বাশার, কাফরুলের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহজালাল ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে, সবুজবাগ থানার মামলায় বি. বাড়িয়ার শাহীন ৩১ অক্টোবর থেকে, ৩ জানুয়ারি থেকে আদাবরের মামলায় ঝালকাঠির নলছিটির খোকন ওরফে বাবু, দক্ষিণখান থানার মামলায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরের জসিমউদ্দিন ২৪ অক্টোবর থেকে কারাবন্দী রয়েছেন।
এদিকে বিনা বিচারে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে আটক বন্দীদের তালিকা চেয়ে সম্প্রতি দেশের সকল কারাগারে চিঠি পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটি। পাঁচ ও দশ বছরের অধিক সময় ধরে যারা আটক রয়েছেন তাদের বিষয়ে দুটি তালিকা প্রস্তুত করে কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগারে এই চিঠি পাঠায় লিগ্যাল এইড কমিটি। এতে বলা হয়, নিম্ন আদালতে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়া মামলাসমূহ সাক্ষ্যগ্রহণসহ নানাবিধ কারণে দীর্ঘ সময় ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে কার্যত সাজা হওয়ার পূর্বেই আটক বন্দী দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে মামলায় যে দণ্ড হতো তার চেয়েও বেশি সময় কারাভোগ করছেন বিচারাধীন বন্দীরা।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বার কাউন্সিল ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শম রেজাউল করিম ইত্তেফাককে বলেন, যে কোনো নাগরিকেরই সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে আইনানুযায়ী রাষ্ট্র থেকে আচরণ বা ব্যবহার পাওয়ার। বিনা বিচারে অর্থাত্ দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বেই জেল হাজতে আটক রাখা সম্পূর্ণরূপে আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করার শামিল। এই বিনা বিচারে আটকের ঘটনা প্রমাণ করেছে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের প্রতি সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে না। সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে একটি সাহসী পদক্ষেপ। তিনি বলেন, বিচার ছাড়াই দীর্ঘদিন জেল হাজতে আটক থাকা শুধু সাংবিধানিকই নয় মানবাধিকার লংঘনেরও শামিল। তাদের এই হাজতবাস কখনোই রাষ্ট্র ফেরত দিতে পারবে না; পারবে না এর ক্ষতিপূরণ দিতেও। যদি তারা নির্দোষ প্রমাণিত হন। সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে আরো বেশি সংবেদনশীল ও নাগরিকের জন্য দায়িত্ববান হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
চার নারী বন্দীকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ
পৃথক চারটি হত্যা মামলায় গাজীপুরের কাশিমপুরের মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিনা বিচারে আটক চার নারী বন্দীকে আগামী ১৬ জানুয়ারি আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া তাদের কেন জামিন দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছে আদালত। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার সকালে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এসব হত্যা মামলার নথি আদালতে তলব করা হয়েছে।
চারটি হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের শাহনাজ বেগম ২০০৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর, একই জেলার সুমি আক্তার রেশমা ২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং ওই বছরের ২১ মে গাজীপুরের রাজিয়া সুলতানা ও ২১ নভেম্বর ময়মনসিংহের রাণী ওরফে নূপুর কারাগারে যান। এরপর থেকে এসব মামলায় তাদেরকে ৫০-৭৬ বার আদালতে হাজির করা হয়েছে। কিন্তু আজ অবধি এসব মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়নি। বিচার শেষ না হওয়ায় প্রায় আট বছর ধরে তারা কারাগারে বিনা বিচারে বন্দী রয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের লিগ্যাল এইড কমিটির নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এই চার বন্দীর বিনা বিচারে আটক থাকার তথ্য আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা। তিনি বলেন, নিজস্ব আইনজীবী না থাকায় তারা বিনা বিচারে কারাগারে আটক রয়েছেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত সঠিক কিনা? আইনজীবী বলেন, তথ্য-উপাত্ত সঠিক আছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেন।
প্রসঙ্গত বিনা বিচারে দীর্ঘদিন যারা কারাগারে আটক তাদের মধ্য থেকে সম্প্রতি মো. সিপন নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া আরো চার ব্যক্তিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করেছে আদালত।

 

অন্যরা ক্ষমতায় আসলে দেশ পিছিয়ে পড়বে: প্রধানমন্ত্রী

বুদাপেস্ট: প্রবাসী বাংলাদেশীদের আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “অন্য কোন দল ক্ষমতায় আসলে দেশ পিছিয়ে পড়বে।”

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এখানে ফোর সিজনস হোটেলে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে… অন্য কোন দল ক্ষমতায় আসলে দেশ পিছিয়ে পড়বে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে এ জন্যই আওয়ামী লীগ আন্তরিকভাবে দেশের উন্নয়ন চায়। ‘দেশকে উন্নত করা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব এবং এটি আমরা অব্যাহত রাখবো ইনশাআল্লাহ্।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া দল। যে দল দেশের স্বাধীনতা নিয়ে এসেছে কেবল তারাই দেশের উন্নয়ন করতে পারে… আওয়ামী লীগের চেয়ে অন্য কোন দল তা পারবে না।”

প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশীদের আগামী সাধারণ নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আপনারা যখন দেশে ফিরবেন আপনারা আপনাদের গ্রামবাসীদের একটি প্রশ্ন করবেন তারা উন্নয়ন চায় নাকি উন্নয়ন চায় না।”

সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা অনিল দাসগুপ্ত। বিভিন্ন ইউরোপিয়ান দেশ থেকে আগত আওয়ামী লীগ নেতারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি অধিকতর উজ্জ্বল করতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “আপনাদের নিজেদেরকে রাষ্ট্রদূতের মতো করে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে হবে।”

শেখ হাসিনা তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের পর ২১ বছর পর্যন্ত যে দলগুলো রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল তাদের জবাবদিহি করতে হবে যে কেন তারা দেশের উন্নতি করতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ও সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে। কিন্তু জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারের এসব ইস্যু উত্থাপনেরও সাহস ছিল না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলের বিজয়ের জন্য বিদেশে বসবাসকারী দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা যখন দেশে যাবেন তখন নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের ব্যাপক সাফল্যেল চিত্র তুলে ধরবেন।

উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে একদল মানুষের বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু মানুষ আছে যারা সবকিছুই অপছন্দ করে। সবকিছুতে তারা দোষ-ত্রুটি দেখে। এটাই স্বাভাবিক যে তারা সব বিষয়ে আন্দোলন করবে। তবে তারা তাদের বিক্ষোভ করতে থাকুক, আমরা আমাদের উন্নয়ন কর্মকান্ড চালিয়ে যাবো।

২০১৩ সালে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ওই সময় আমি সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিতে খালেদা জিয়াকে টেলিফোন করেছিলাম। আমি তাকে (খালেদা) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়ারও প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তিনি রাজি হননি, এমনকি নির্বাচনেও আসেননি। বরং তিনি নির্বাচন ভন্ডুল করার চেষ্টা করেছিলেন। মূলতঃ ২০১৩ সালে খালেদা জিয়া সংলাপের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার ছেলে কোকোর মৃত্যুর পর সমবেদনা জানাতে আমি তার (খালেদা) বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বাসায় ঢোকার সুযোগ দেননি। ভেতর থেকে বাসার গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।”

বিগত ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর প্রথম ৩ মাস খালেদা জিয়ার দলের সৃষ্ট নৈরাজ্য ও তান্ডবের জন্য তার তীব্র সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ওই সময় তারা আন্দোলনের নামে ১৫৭ জন মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছেন এবং এতে দগ্ধ হয়েছেন ৫০৮ জন।

তিনি বলেন, “আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যাকারীরা দেশকে কি দেবে। আর কেনইবা জনগণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনিকারীদের ওপর আস্থা রাখবে।”

যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে এবং ইতোমধ্যে এর কিছু রায় কার্যকরও হয়েছে।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের জেল থেকে মুক্ত করে এবং মন্ত্রী ও এমপি বানিয়ে তাদের পুনর্বাসন করেছেন।”

শেখ হাসিনা বলেন, “যারা যুদ্ধাপরাধীদের হাতে জাতীয় পতাকা দিয়েছেন তাদেরকেও যুদ্ধাপরাধীদের মতো একই শাস্তি ভোগ করা উচিত।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে বুদাপেস্ট ওয়াটার সামিট-২০১৬’তে যোগ দিতে ৪ দিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে রোববার এখানে পৌঁছেন। তিনি আজ স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টা) দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। -বাসস

জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম ২৭ শহর

জীবনযাত্রার মানের দিক থেকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরগুলোর বৈশিষ্ট হলো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অপরাধ এবং জীবন যাপনের উপায়গুলোর নিচু মান।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় এইচআর পরামর্শক ফার্ম মার্কার প্রতিবছরের মতো এবারও তাদের কোয়ালিটি অপ লিভিং ইনডেক্স প্রাকাশ করেছে।
বিশ্বের ৪৫০টি শহর পর্যবেক্ষণ করে মার্কার জীবন যাত্রার মানের দিক থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হিসেবে চিহিন্ত করেছে ২৭টি শহরকে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক পরিবেশ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সরকারি সেবা ও গণপরিবহন, বিনোদন, ভোগ্য পণ্য-দ্রব্য, আবাসন, প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রভৃতি উপাদান বিবেচনায় রেখে এই তালিকা করা হয়। মার্কারের তৈরি করা নিকৃষ্টতম শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে ২৩০টি শহর। এখানে তালিকার সবচেয়ে নিচের দিকে থাকা ২৭টি শহরের নাম তুলে ধরা হলো:
২৭. লোম, টোগো: টোগোর সবচেয়ে বড় এই শহরটি বেকারত্ব, অবকাঠামোর দুর্দশা এবং বর্জ্য সংগ্রহের কারণে নিকৃষ্টতম হিসেবে বিবেচিত।
২৬. তাশখন্দ, উজবেকিস্তান: গত বছরে এই রাজধানী শহরটি সন্ত্রাসবাদের উর্বরভুমি হয়ে উঠেছে। ২০১৫ সালে গত ১১ বছরে প্রথমবারের মতো এই শহরে থাকা মার্কিন দূতবাসে হামলা চালানো হয়। দেশটির সরকার বেড়ে চলা ইসলামি সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
২৫. আবিদজান, আইভরি কোস্ট: ব্রিটিশ দূতাবাস সন্ত্রাসবাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে দরকার ছাড়া এই শহরে ভ্রমণে সতর্কতা জারি করেছে। সন্ত্রাসবাদের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে শহরটি।
২৪. আদ্দিস আবাবা, ইথিওপিয়া: শহরটিতে প্রচুর উঁচু ভবন তৈরি হচ্ছে কিন্তু এর বাসিন্দারা চরম দারিদ্রপীড়িত। এছাড়া সরকার এবং জনগনের মধ্যেও সামাজিক সংঘাত চরম আকার ধারন করেছে। বিশেষকরে ভবন নির্মাণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থী ও কৃষকদের নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই সংঘাত তুঙ্গে উঠেছে।
২৩. আশগাবাট, তুর্কমেনিস্তান: রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার কারণে শহরটি চরম পানি ঘাটতিতে রয়েছে। ২০১৫ সালে শহরটিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয়েছিল ৪৭.২ ডিগ্রি।
২২. হারারে, জিম্বাবুয়ে: রবার্ট মুগাবের স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট শহরটি চরম দারিদ্রপীড়িত। ভুট্টার ফলন ৭৫% ব্যর্থ হওয়ায় এর লাখ লাখ নাগরিক না খেয়ে আছেন।
২১. বিশকেক, কিরগিজস্তান: দারিদ্রপীড়িত এই শহরটি ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস এর হামলায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
২০. লাগোস, নাইজেরিয়া: সামুদ্রিক জোয়ারের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশগত হুমকির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে জেরবার শহরটি। এছাড়া এর নাগরিকরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায়ও ভুগছেন। শিক্ষার্থীদের অপহরণ হওয়া এবং খুনের মতো ঘটনা অহরহই ঘটছে।
১৯. আবুজা, নাইজেরিয়া: উচ্চ অপরাধ হার, আন্ত-সম্প্রদায়গত সহিংসতায় জর্জরিত এই শহরটি। এই শহরে গেলে অপহৃত হওয়া, সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হওয়া এবং অন্যান্য সহিংস ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে ব্রিটিশ দূতাবাস।
১৮. দুশানবে, তাজিকিস্তান: দারিদ্র এবং জ্বালানি সংকট এই শহর এবং পুরো দেশটির জন্যই একটি বড় ইস্যু। আর অবকাঠামোর অভাবে সেখানে ব্যবসা করাও কঠিন বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
১৭. ঢাকা, বাংলাদেশ: বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর একটি ঢাকার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো গার্মেন্টস পণ্যের রপ্তানি। কিন্তু এর কর্মপরিবেশ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, স্থানীয় দারিদ্র চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে এটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
১৬. ওউয়াগাদৌগু, বুরকিনা ফাসো: অনবরত সন্ত্রাসী হামলার হুমকিতে রয়েছে। আর চলতি বছরের শুরুর দিকে আল কায়েদার হামলায় একটি জনপ্রিয় হোটেলে ২৯ জন নিহত হয়।
১৫. ত্রিপোলি, লিবিয়া: গত বছর দুজন প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়ার লর্ডের সংঘাতে জর্জরিত শহরটির প্রধান বিমান বন্দরটি ধ্বংস হয়ে গেছে। সবগুলো দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের কাছাকাছি হওয়ায় অভিবাসন প্রত্যাশী এবং উদ্বাস্তুরা শহরটিতে ভিড় জমাচ্ছে।
১৪. নিয়ামেই, নাইজার: বিক্ষোভ, সরকারি দুর্নীতি এবং স্থানীয় দারিদ্র শহরটিকে এই তালিকায় স্থান করে দিয়েছে।
১৩. আন্তানারিভো, মাদাগাস্কার: শহরটি এবং দেশটির অবশিষ্টাংশ অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে কোনো ধরনের ক্রমাগত ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না।
১২. বামাকো, মালি: গত বছর শহরটি এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় কেঁপে উঠে। র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ১৭০ জনকে জিম্মি করে ২০ জনকে হত্যা করা হয়।
১১. নৌয়াকছোট, মৌরিতানিয়া: ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এই শহরটি খুবই কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এরপর থেকে এটি সাহারার একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে উঠতে থাকে। তথাপি শহরটি অতিরিক্ত জনসংখ্যা, খরা এবং দারিদ্রের ভারে ক্লিষ্ট। এবং বস্তিতে পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
১০. কোনাক্রি, গায়েনা প্রজাতন্ত্র: ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইস্যুতে এই বন্দরনগরীটি জাঁঝরা হয়ে গেছে। সহিংস অপরাধ, বিক্ষোভ এবং ধর্মঘটে শহরটি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে।
৯. কিনশাসা, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো: নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তাবাদি সংঘাতে জর্জরিত শহরটিকে এনজিওরা ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে।
৮. ব্রাজাভিলে, কঙ্গো: সরকারি দুর্নীতি শহরটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিক্ষোভে পুলিশের হামলায় প্রচুর সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছে।
৭. দামেস্ক, সিরিয়া: শহরটি অনবরত সহিংসতা, গৃহযুদ্ধ এবং সন্ত্রাসী হামলায় জর্জরিত।
৬. নু’জামেনা, চাদ: শহরটি ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের হামলায় জর্জরিত।
৫. খার্তুম, সুদান: সুদানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। আইএসআইএস এর লোকবল সংগ্রহের একটি প্রধান উৎস।
৪. পোর্ট অউ প্রিন্স, হাইতি: সহিংস অপরাধে জর্জরিত শহরটি ভ্রমণকারীদের জন্য বিপজ্জনক। ধর্ষণ এবং ডাকাতি নিত্যদিনের ঘটনা।
৩. সানা, ইয়েমেন: ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় এই শহরটি সৌদি আরবের বিমান হামলায় জর্জরিত। এটি ইরান এবং সৌদি আরবের ছায়া যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
২.বাঙ্গুই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র: অবিশ্বাস্যরকমভাবে দারিদ্রপীড়িত এই শহরটির অসংখ্য নাগরিক ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছেন। আর এছাড়াও রয়েছে নিয়মিত সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ।
১. বাগদাদ, ইরাক: এই রাজধানী শহরটি তীব্র অবকাঠামোগত ক্ষতির শিকার হয়েছে। বেশ কয়েকটি যুদ্ধ এবং অনবরত সহিংসতায় এর পুরো অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়েছে। ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএস এর বিরামহীন হামলায় ঝাঁঝরা হয়ে গেছে শহরটি।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হলো না ঠাঁই, গাছতলায় প্রসবে নবজাতকের মৃত্যু

প্রসববেদনায় ছটফট করা মাজেদাকে মঙ্গলবার মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার পর হাসপাতালের সামনের নারকেল গাছের তলায় কন্যা সন্তান প্রসব করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং নবজাতের মৃত্যুর জন্য হত্যার বিচারের দাবিতে বগুড়া সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভেতরে।

জানা যায়, শেরপুর উপজেলার ২নং গাড়িদহ মডেল ইউনিয়নের গাড়িদহ স্কুলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াছ উদ্দিনের স্ত্রী দশ মাসের গর্ভবতী মাজেদা বিবির দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার প্রসব বেদনা উঠে। এরপর রাতেই তাকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। রাত ১১টার দিকে শেরপুর উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডাক্তার শেরপুর শহরের প্রফেসরপাড়ার বাসিন্দা মোস্তফা আলম আল্লামা তালুকদার পিয়াল তাকে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের ইনডোর বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স সুষমা রানী ওই গর্ভবতী রোগীকে প্রায় ১ ঘণ্টা পর ডেলিভারি কক্ষে নেওয়ার আগে হাসপাতালের পাশের মডার্ন ক্লিনিকে ডাক্তার রাফসান জাহান রিম্মীর কাছে সিজার করার জন্য পরামর্শ দেন। এরপর নার্স সুষমা রানী অসুস্থ মাজেদাকে বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট খাইয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়েন। মাজেদার স্বামীসহ রোগীর লোকদের কাছে নগদ টাকা না থাকায় তারা মাজেদাকে হাসপাতালে রেখে অনুরোধ করে নার্স সুষমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। রাত তখন পৌনে ১টা বাজে।

রোগীর লোকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ইনডোর বিভাগের আয়া পারভীন বিবি প্রসব বেদনায় ছটফটরত অসুস্থ মাজেদাকে কোনো প্রকার রেফার ছাড়াই জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।

মাজেদা বিবির স্বামী ইলিয়াছ উদ্দিন জানান, মধ্যরাতে কোনো প্রকার যানবাহন না থাকায় হাসপাতালের মূল গেটের সামনে মাটিতে পড়ে যায় আমার ন্ত্রী। এরপর অন্ধকার খোলা মাঠে নারকেল গাছের তলায় বালু মাটির মধ্যে বাচ্চা প্রসব করে। ঘটনার পর আবারো আর্তচিৎকার দিলে হাসপাতাল রোডের নৈশপ্রহরী ফজলু মিয়া সেখানে এসে জনৈক রিন্টুর সহযোগিতায় দরজা ধাক্কাধাক্কি করে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন নার্স সুষমাসহ হাসপাতালের নৈশপ্রহরী কাজলকে।

হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার পিয়াল এবং সুষমা রানী নারকেল গাছের নিচে বালু মাটিতে পড়ে থাকা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেখানে শেরপুর থানা ও ফাঁড়ির ৪/৫ জন পুলিশ হাজির হয়।

হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার পিয়াল জানান, আলটাসনোগ্রামের রির্পোট অনুযায়ী মাজেদার সন্তান প্রসবের দিনক্ষণ ছিল আগামী ৭ ডিসেন্বর। তার আগেই মাজেদার প্রসব বেদনা শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্তান প্রসবের পিভিসহ কিছু সমস্যা থাকায় অপেক্ষা করা হয়েছিল।

একজন গর্ভবতী প্রসব বেদনায় ছটফটরত অসুস্থ রোগীকে ভর্তি অবস্থায় কেন তাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে নার্স সুষমা রানী বলেন, তাড়িয়ে নয় বাহির থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে আনার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, আমার কোনো দায়িত্ব অবহেলা নাই। জরায়ুর মুখ না খুলে আসায় সময়মত সন্তান প্রসব হয়নি।

কোনো প্রকার রেফার্ড ছাড়াই মধ্যরাতে অন্ধকারে হাসপাতাল গেটে বালু মাটির ভেতরে অসুস্থ মাজেদার সন্তান প্রসব নিয়ে এলাকায় মানুষের মধ্যে নানা রকম জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে এ মর্মান্তিক ঘটনার বিচারের দাবিতে বগুড়া সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত আবেদন দিয়েছে মৃত সন্তানের বাবা মো. ইলিয়াছ উদ্দিন।

এ ব্যাপারে বগুড়া সিভিল সার্জন ডা. অর্ধেন্দু দেব বলেন, আমি এখনও অভিযোগ পাইনি। তবে শেরপুর উপজেলা কর্মকর্তা ডা. মোখলেছুর রহমান ফোনে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। তদন্তপূর্বক অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

হেলমেট মাথায় দিয়ে অফিস

বাগেরহাটে জরাজীর্ণ জেলা রেজিস্টার অফিসে হেলমেট মাথায় দিয়ে অফিস করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কার্যালয়ের ছাদ ভেঙে পড়ার পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় জীবন বাঁচাতে অনেকটা বাধ্য হয়ে এ উদ্যোগ তাদের।

নিরাপত্তার জন্য ঝুকিপূর্ণ ওই ভবনটি ছেড়ে তারা অন্যত্র অফিস ভাড়া করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ জন্য জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি বলে জানা গেছে।

বাগেরহাট জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের প্রধান সহকারী মোঃ ইবাদ আলী শেখ বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুকিপূর্ণ ভবনে কাজ করতে গেলে দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে তার দায়িত্ব কে নিবে? তাই জীবন বাঁচাতে আমরা হেলমেট মাথায় দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যেই আমিসহ অফিসের সবাই স্বাক্ষর করে জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমরা সবাই আশা করছি বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।

বাগেরহাট জেলা নকল নবিস অ্যঅসোসিয়েশনের সভাপতি তপন কুমার দাস বলেন, অফিস সহকারী সামছুল আরেফিনের উপর ছাদ ভেঙে পড়লেও বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসেনি। প্রতিদিনই ছাদ থেকে বালু, খোয়া ঝড়ে পড়ে, কাজ করার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। চাকরি করতে এসে জীবনতো আর দিতে পারবো না। তাই হেলমেট মাথায় দিয়ে কাজ করছি।

তবে যারা সেবা নিতে আসেন তাদের নিরাপত্তা আরো ঝুকিতে।

ঠোঁটের যত্নে

মুখের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ হলো ঠোঁট। কারণ, ঠোঁটের ত্বকে কোনো তেল গ্রন্থি (অয়েল গ্ল্যান্ড) না থাকায় এটা বেশি শুষ্ক দেখায়। কথিত আছে, প্রাচীন গ্রিক পুরাণে সৌন্দর্য এবং প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির ঠোঁট ছিল একেবারে রক্তিম গোলাপের মতো। আর এমন ঠোঁট পাওয়ার জন্যই গ্রিক রমণীরা মধু, গোলাপ, জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করত। এদিকে রোমান নগরীতে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করতে লিপস্টিক হিসেবে ব্যবহার হতো লাল রঙের মাটি৷ প্রাচীন এই উপাদানগুলো ব্যবহারের পাশাপাশি ঠোঁটের চর্চায় এখন যুক্ত হচ্ছে নিত্যনতুন উপাদানের ব্যবহার৷

ঠোঁটের যত্নে একাল

রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন বললেন, ‘শীতকালে আর্দ্রতা একেবারেই কমে যায় বলে ঠোঁট বারবার শুষ্ক হয়ে পড়ে। আবার অনেকেরই বছরের যেকোনো সময় ঠোঁট ফেটে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। শুধু শুষ্ক ত্বকেই নয় তৈলাক্ত ত্বকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে৷ এ ছাড়া অনেক সময় রোদে পুড়েও কালচে হয়ে পড়ে ঠোঁট।’

ঠোঁটের কালচে দাগ দূর করার উপায়

এ ছাড়া ঘরোয়া উপায়ে ঠোঁটের কালচে দাগ দূর হবে এমন কিছু প্যাক ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন আফরোজা পারভীন৷

*   ১ টেবিল চামচ গোলাপজলের সঙ্গে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে পেস্ট আকারে ব্যবহার করুন। ১০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন।

*   ত্বকের যেকোনো কালচে দাগ দূর করতে শসার রস খুবই উপকারী। এ ক্ষেত্রে ২ টেবিল চামচ শসার রসের সঙ্গে ১ চা-চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে স্ক্রাবিং করতে পারেন৷

*   পাকা কলা ও সমপরিমাণ টক দই মিশিয়ে ঠোঁটে ব্যবহার করলে কালচে দাগ সহজেই দূর হবে।

এগুলো ছাড়াও লেবু, আলু কিংবা আমন্ড অয়েল ব্যবহারেও কালচে দাগ দূর করা যায়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

যা করতে হবে

*   ঠোঁটের শুষ্কতা রোধে পেট্রোলিয়াম জেলি, লিপবাম কিংবা কোল্ড ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে লিপজেল ব্যবহারে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে নারিকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা ক্যাস্টর অয়েলও খুব উপকারী।

*   ভালো ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করুন। যাঁদের শুষ্কতার সমস্যা বেশি, তাঁদের ক্ষেত্রে ম্যাট বা ড্রাই লিপস্টিক বা লিপগ্লস ব্যবহার না করাই ভালো। আর লিপস্টিক দীর্ঘক্ষণ রাখার পর মেকআপ কিট দিয়ে তুলে ফেলুন।

*   রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য সানস্ক্রিনসমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন। কেনার সময় জেনে নিন কতক্ষণ এর কার্যকারিতা থাকে।

*   প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। এতে ঠোঁটের কোমল ভাব বজায় থাকবে।

যা করবেন না

*   ত্বক পরিষ্কার করার সময় খেয়াল রাখুন যাতে ফেসওয়াশ কিংবা সাবান আপনার ঠোঁটে লেগে না থাকে। এগুলো ঠোঁটের কোমল ভাব নষ্ট করে।

*   অনেকেরই দাঁত দিয়ে ঠোঁট কিংবা নখ কাঁটার অভ্যাস থাকে৷ এটি খুবই ক্ষতিকর। কেননা এতে ঠোঁটের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা শুকিয়ে যায়।

*   কখনো লিপস্টিক লাগানো অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া ঠিক নয়। এমনকি দীর্ঘক্ষণ ঠোঁটে প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো।

ঘাড়ব্যথা কমাতে ৫ পরামর্শ

লেখাপড়া বা সাধারণ কাজকর্মের সময় বসার ভঙ্গি বা শরীর ত্রুটিপূর্ণ অবস্থানে রাখার কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়। এই পরিস্থিতিতে অভ্যাস পাল্টে সুফল মিলতে পারে। এ বিষয়ে কয়েকটি তথ্য:
১. একই ভঙ্গিতে ঘাড় গুজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করবেন না। অফিসে ডেস্ক বা কম্পিউটারে কেউ কেউ ঘাড় নিচু বা বাঁকা করে কাজ করেন। সে রকম হলে প্রতি ঘণ্টায় একবার হলেও বিরতি নিন। ঘাড়ের হালকা ব্যায়াম করুন বা এদিক-ওদিক একটু ঘুরে আসুন।
২. অফিসে কম্পিউটারের মনিটর আপনার চোখের সোজাসুজি রাখুন। আর নিজের ঘরে ল্যাপটপে যখন কাজ করছেন, তখন টেবিল ব্যবহার করুন বা কোলের ওপর একটা বালিশ রেখে তার ওপর ল্যাপটপটা রাখুন। ঘাড় আর মাথার ফাঁকে ফোন ধরে একদিকে ঘাড় বাঁকিয়ে কথা বলবেন না। দীর্ঘ সময় হাত দিয়ে ফোন ধরে রাখাও ঠিক নয়। এসব ক্ষেত্রে ইয়ার প্লাগ ব্যবহার করতে পারেন।
৩. রাতে ঘুমোবার সময় অনেক বালিশ ব্যবহার করবেন না। এতে ঘাড়ের হাড়ে চাপ পড়ে। পাতলা একটা বালিশ ব্যবহার করুন যেন মেরুদণ্ড সোজা থকে।
৪. চোখের সমস্যার জন্য আমরা অনেক সময় ঘাড় পেছনে হেলে দেখতে চেষ্টা করি। এ রকম ক্ষেত্রে চোখ পরীক্ষা করান, প্রয়োজনে চশমা ব্যবহার করুন।
৫. টিভি দেখা, গান শোনা বা অলস সময় যাপন করার সময় সোফায় বাঁকা হয়ে শোবেন না। চেয়ার বা সোফায় সোজা হয়ে বা হেলান দিয়ে বসুন। মাঝে মাঝে বিরতি নিন।

মেডিসিন বিভাগ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

ভয় তাড়াতে প্রযুক্তি

মস্তিষ্কে গ্যাঁট হয়ে বসা ভয় তাড়ানোর একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন গবেষকেরা। এ কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মস্তিষ্ক স্ক্যান-প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। তাঁরা বলছেন, ভয় দূর করার প্রযুক্তির যে উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে, তা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) ও ফোবিয়ার ক্ষেত্রে নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দেবে।

বর্তমানে ভয় দূর করার ক্ষেত্রে রোগীদের অ্যাভারসন থেরাপি নামের বিশেষ মানসিক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই চিকিৎসা-পদ্ধতি অনেকের কাছে অপ্রীতিকর, কারণ এ ক্ষেত্রে রোগীকে তাঁর ভয়ের মোকাবিলা করতে হয়। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে গবেষকেরা রোগীর মস্তিষ্ক থেকে অবচেতনভাবেই ভয় দূর করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছেন।

গবেষকেরা মস্তিষ্কের ভয় শনাক্ত ও তা পড়তে ‘ডিকোডেড নিউরোফিডব্যাক’ নামের পদ্ধতি তৈরি করেছেন। এতে মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে স্ক্যানিং পদ্ধতি কাজে লাগানো হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ওই ভয়ের বিষয়টি ধরা যায়।

‘নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধ।

গবেষকেরা বলেন, ভয় শনাক্ত করার পরবর্তী চ্যালেঞ্জটি ছিল অবচেতনভাবে মস্তিষ্ক থেকে ভয় কমানো বা পুরোপুরি তাড়ানোর বিষয়টি। এ বিষয়টি নিয়ে পরে গবেষণা করে সফল হন তাঁরা।

গবেষকেরা আশা করছেন, তাঁদের উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। তথ্যসূত্র: পিটিআই।

বিশ্বের নানা দেশে শিশুরা স্কুলে কি খায়?

১।ইরান
আইন অনুযায়ী ১৪ বছর বয়স পর্যন্ত সব শিশুই স্কুলে এক কাপ দুধ, পেস্তা বাদাম, তাজা ফলমূল ও বিস্কুট পায়। তবে প্রায়ই মায়েরা শিশুদের টিফিন রেডি করে দেয়। এতে ভাত, টমেটো ও ভেড়ার মাংসও থাকতে পারে।
২।দক্ষিণ কোরিয়া
স্কুলের শিশুদের সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা খাবার পরিবেশন করে দক্ষিণ কোরিয়া। এত থাকে দুটি বড় ভাগে ভাত ও সুপ। এছাড়া ছোট ভাগে থাকে সালাদ, সামুদ্রিক খাবার ও ফলমূল।
৩।জাপান
দক্ষিণ কোরিয়ার মতো জাপানি শিশুরাও স্কুলে ভালো খাবার পায়। এ তালিকায় রয়েছে হট সুপ, ভাত, মুরগির মাংস বা মাছ, সালাদ ও দুধ। শিশুরা তাদের বাড়ি থেকে খাবার আনার অনুমতি পায় না।
৪।যুক্তরাজ্য
আলু ভাজা, গাজর, জাউ ভাত, সালা, ফল, বেলজিয়ান ওয়াফেল কেক ও চকলেট থাকে এ তালিকায়।
৫।যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলের শিক্ষার্থীরা পায় পিচ, ভুট্টা, মুরগি ও সুপ। তবে বিভিন্ন স্কুলের খাবার আলাদা।
৬।তুরস্ক
তুরস্কে শিক্ষার্থীরা বাসা থেকে খাবার নিতে পারে। এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ হতে পারে রাই ব্রেড, আঙ্গুর, আখরোট বাদাম, আপেল, বেদানা ও দই।
৭ থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ডে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা ধরনের খাবার প্রচলিত রয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে মাংস, টক-মিষ্টি সস, ভাত ও কলাপাতায় মোড়া পুডিং।
৮।ফ্রান্স
ফ্রান্সের স্কুলে দেওয়া হয় মাছ, স্পিনাচ, আলু, পনির ও পাউরুটি। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এক থেকে দুই ঘণ্টা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা চাইলে বাড়ি থেকেও খেয়ে আসতে পারে।
৯।ফিনল্যান্ড
ফিনল্যান্ড সরকার শিশুদের স্কুলের খাবারকে খুবই গুরুত্ব দেয়। এ কারণে তারা স্কুলের শিক্ষার্থীদের খাদ্যতালিকায় রাখে বেশ কিছু খাবার। এছাড়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা করে মেনু তৈরি করে দেয় তারা। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যগত বিষয় ও ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। নমুনার এ ছবিতে রয়েছে মিটবল ও সস, আলু, সালাদ ও মুয়েসলি।
১০।রাশিয়া
রাশিয়াতে শিক্ষার্থীরা স্কুলে নানা ধরনের খাবার খেতে পারে। নমুনার এ খাবারটিতে রয়েছে সসেজ, বাজরা জাউ ও চা।
১১।হাঙ্গেরি
হাঙ্গেরিতে শিশুদের বেশ কিছু খাবার দেওয়া হয়। এ খাবারের মধ্যে রয়েছে নুডল সুপ, সীমের বীজের সঙ্গে মুরগি, বাদাম ও পাউরুটি।

পতাকা পোড়ালে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ালে শাস্তি হিসেবে তাঁর এক বছরের জেল বা নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব করেছেন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সংবিধানের সংশোধনীর মাধ্যমে করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার এক টুইটার বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রস্তাব করেন।

টুইটার বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো বরদাশত করা উচিত হবে না। যদি কেউ পতাকা পোড়ায়, তাহলে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। শাস্তি হিসেবে তার এক বছরের জেল বা তার নাগরিকত্বও বাতিল হতে পারে।’

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ ও ৯০ সালে সুপ্রিম কোর্ট রুলে পতাকা অবমাননার অনুমোদন দিয়ে বলেন, এটা মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করে। সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে তা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-পরবর্তী ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে পতাকা পোড়ান আন্দোলনকারীরা। শুধু তা-ই নয়, ১০ নভেম্বর থেকে ম্যাসাচুসেটসের হ্যাম্পশায়ার কলেজ তাদের ক্যাম্পাসে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানো বন্ধ করে দেয়। এরপরই এই প্রস্তাবের কথা জানালেন ট্রাম্প।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ প্রস্তাব প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস ল স্কুলের অধ্যাপক স্টিভ ভ্লাদেক বলেন, পতাকা পোড়ানোর শাস্তি হিসেবে ট্রাম্পের নাগরিকত্ব বাতিলের প্রস্তাব সফল হবে না। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন, পতাকা পোড়ানো মুক্ত মতপ্রকাশের অধিকারকে রক্ষা করে। এটা সাংবিধানিক। এখন যদি তা না করা হয়, তাহলে তা অসাংবিধানিক হয়ে যাবে। কিছু মানুষকে মুক্ত মতপ্রকাশ থেকে বঞ্চিত করা হবে।

 

এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্পের মুখপাত্র জেসন মিলার বলেন, ‘পতাকা পোড়ানো অবৈধ হওয়া উচিত।’