পুরো ইউনিট মিলে এক পরিবার হয়েছিলাম

অভিনয়শিল্পী শবনম ফারিয়াকদিন আগে থাইল্যান্ড থেকে শুটিং করে ফিরেছেন অভিনয়শিল্পী শবনম ফারিয়া। প্রথমবার মা-বাবা ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ। কেমন ছিল সেটা? শবনম ফারিয়ার ভাষায়, ‘জোশ একটা ট্যুর। এত আনন্দ করেছি তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। প্রথমবার বাবা-মা ছাড়া বিদেশ যাওয়া এটা একটা বড় ব্যাপার আমার জন্য।’

 

এ মাসের মাঝামাঝি থাইল্যান্ড যান শবনম ফারিয়াসহ পুরো একটি টিম। রাজিবুল ইসলামের রচনা ও পরিচালনায় ‘হিং টিং ছট’ নামের একটি ধারাবাহিকে শুটিং করাই ছিল উদ্দেশ্য। এই দলে ছিলেন তারিক আনাম খান, তানিয়া আহমেদ, সাজু খাদেম, ফারহানা মিলি, মিশু সাব্বির, তৌসিফ মাহবুব, শবনম ফারিয়া, সিয়াম আহমেদ, লুৎফুন্নাহার আশা ও আরফান আহমেদ।

 

শুটিংয়ের গল্প প্রসঙ্গে শবনম বলেন, ‘বাবা-মা ছাড়া গেলে কি হবে, আমরা পুরো ইউনিট একটা পরিবার হয়ে গিয়েছিলাম। তাই সেই অভাবটা খুব বেশি বোধ করিনি। আর যারা গিয়েছিল ওরা তো আমার বন্ধু। দারুণ মজা করেছি সবাই মিলে।’

 

থাইল্যান্ডের একটি রিসোর্ট শুটিং শেষ করে এরই মধ্যে ঢাকায় ফিরেছে সবাই। এসেই যোগ দিয়েছেন নতুন নাটকের শুটিংয়ে।

-প্রথম আলো

বিল গেটসের দারুণ কিছু জিনিস

বিল গেটসবিল গেটসকে আলাদাভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। তিনি একাধারে একজন আইকনিক উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, মানবপ্রেমী এবং লেখক। এগুলোর চেয়েও বড় পরিচয় তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা।

 

বিল গেটস পৃথিবীর সবচেয়ে সম্পদশালী লোক। এ মাসেই করা সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আসুন জেনে নেই অসাধারণ এই টেক ব্যক্ত্বিত্বের দারুণ যেসব জিনিস রয়েছে:

 

১. বিল গেটসের ১২৩ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের একটি বাড়ি আছে। এই বাড়িটি তৈরি করতে সময় লাগে সাত বছর। বাড়িটির জন্য প্রতি বছর বিল গেটসকে ১ মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স দিতে হয়।

 

২. তার বাড়ির দেয়ালের চিত্রকর্মগুলো বাটনে চাপ দিয়েই পরিবর্তন করা যায়। যেকেউ তাদের পছন্দের আর্টওয়ার্ক স্টোরেজ ডিভাইসে রাখতে পারে। তারপর সেগুলো দেয়ালের শিল্পকর্ম হিসেবে অ্যাক্টিভেট করতে পারে।

 

৩. বিল গেটসের ৬০ ফুটের একটি সুইমিং পুল আছে। মূলত তার বিশাল বাড়িটির মধ্যেই এটা অবস্থিত। সুইমিং পুলটির নিজস্ব আন্ডারওয়াটার মিউজিক সিস্টেম রয়েছে।

 

৪. বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এ ব্যক্তির বাড়িতে ২১০০ বর্গফুটের একটি লাইব্রেরি রয়েছে। এতে আছে বই রাখার দুটি গোপন আলমারি। লাইব্রেরিটিতে বিল গেটসের কেনা অসংখ্য দামি বই আছে।

 

৫. বিল গেটসের বিশাল বাড়িতে নিজস্ব হোম থিয়েটার রয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এতে আছে একটি পপকর্ন মেশিন। থিয়েটারে ২০ জন মানুষের বসার জায়গা রয়েছে।

 

৬. মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা তার গাড়ি প্রেমের জন্যও বেশ পরিচিত। তার দারুণ সব মডেলের কিছু গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পোরশে ১৯৮৮, পোরশে ৯১১ এবং পোরশে ৯৩০।

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

দিল্লিতে ‘দিওয়ালি’ উৎসবে দূষণের মাত্রার রেকর্ড

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘দিওয়ালি’ বা ‘দীপাবলী’ উৎসবের একদিন পর সেখানকার ধোয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশের ছবি স্থানীয় বাসিন্দারা শেয়ার করছে এবং নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করছে।

অথচ আগের দিনই সেখানে দিওয়ালি উৎসবের আনন্দে হাজার হাজার আতশবাজি ফুটানো হয়েছে।

দিওয়ালি উৎসবের অন্যতম অংশ হলো বাসাবাড়িতে আলো প্রজ্বলন ও আতশবাজি পোড়ানো। কিন্তু এই আতবাজি পোড়ানোর জন্য বাতাস অনেক বেশি দূষিত হয়ে যায়।

আর এই বছর দিওয়ালি উৎসবে বাতাসে দূষণের মাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

বাতাসে ধুলিকণার মাত্রার নিরাপদ সীমা ধরা হয় প্রতি কিউবেক মিটারে ১০০ মাইক্রোগ্রাম, কিন্তু এবার দিল্লিতে ধুলিকণার মাত্রা প্রতি কিউবেক মিটারে ৯৯৯ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

দিল্লির স্থানীয় সরকার গত সপ্তাহে এক ঘোষণায় জানিয়েছিল দূষণের মাত্রা কমানোর জন্য তারা বিশুদ্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

যদিও সেটি হয়েছে বলে দৃশ্যত মনে হচ্ছে না।

সোমবার সকালে দিল্লির বিভিন্ন এলাকার যেসব ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন সেখানকার বাসিন্দারা তাতে দেখা যাচ্ছে এক ধরনের ধোঁয়াশায় পুরো শহর আচ্ছন্ন।

অনেকে ছবি পোস্টের সাথে নিজেদের ক্ষোভও ঝেড়েছেন।

সূত্র- বিবিসি বাংলা

আ. লীগের ব্যানার-পোস্টার সরানোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের!

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ হয়েছে সাত দিন হয়ে গেল। কিন্তু সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীর সড়ক ও অলিগলিতে লাগানো সব বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার এখনও অপসারণ হয়নি। ব্যস্ত সড়কে নির্মিত বেশ কয়েকটি বাঁশের তোরণও যথারীতি দাঁড়িয়ে আছে। মোড়ে মোড়ে ঝুলছে বিশালাকৃতির বিলবোর্ড। সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন নেওয়ার সময় ‘সম্মেলন শেষ হওয়ার পরদিন এগুলো সরিয়ে ফেলার শর্ত’ দেওয়া হলেও মানা হয়নি। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন নিজ উদ্যোগে এগুলো অপসারণ করছে।

 

যাবতীয় ব্যয়ও বহন করছে সিটি করপোরেশন। এ কাজে লাগানো হয়েছে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের। মূল কাজ ফেলে তারা দলীয় ব্যানার-পোস্টার অপসারণের জন্য বেশি সময় দিচ্ছে। তবে কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ নেতারা এসব বিলবোর্ড ও ব্যানার অপসারণে বাধা দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন হয় ২২ ও ২৩ অক্টোবর; রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আইইবি মিলনায়তনে। সম্মেলন উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সড়কদ্বীপ, প্রবেশমুখে তোরণ নির্মাণ, ব্যানার, ফেস্টুন স্থাপন, লাইটিং ও সাজসজ্জার অনুমোদন দেয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এই অনুমোদনের শর্তাবলীও ছিল প্রায় অভিন্ন।

গত ৩ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেওয়া অনুমোদনপত্রে দেখা গেছে, সাতটি শর্তে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে চার নম্বর শর্তে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় কাউন্সিল সমাপ্তির পরবর্তী দিনের মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সাজসজ্জার উপকরণগুলো অপসারণ করতে হবে।’ পাঁচ নম্বর শর্তে বলা হয়, ‘হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনা থাকায় ফুটওভারব্রিজে কোনও উপকরণ লাগানো/প্রদর্শন করা যাবে না।’

 

রবিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষাভবন-দোয়েল চত্বর সড়ক (হাইকোর্টের দক্ষিণ গেট), মৎস্যভবন চৌরাস্তা, পুরানা পল্টন মোড় ও ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের মুখে অন্তত চারটি তোরণ এখনও রয়ে গেছে। নির্মিত এসব তোরণ ইতোমধ্যে দুর্বল হয়ে পড়ায় যেকোনও সময় সড়কের ওপর ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়া অসংখ্য ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ইত্যাদি রয়েছে।

 

ফুটওভারব্রিজে নিষিদ্ধ হলেও সম্মেলনের ব্যানার ঠিকই লাগানো হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের ফুটওভারব্রিজ ছেয়ে ফেলা হয়েছে ব্যানারে। প্রেসক্লাবের বিপরীতে সেগুনবাগিচার প্রবেশমুখে একটি ভবনের দেয়ালে ঝুলছে বিশাল বিলবোর্ড। পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জ চৌরাস্তায় বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড রয়েছে। সবগুলোই আওয়ামী লীগের সম্মেলনকেন্দ্রিক।

সম্মেলন শেষ হওয়ার পরও কেন সরানো হয়নি, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপ-কমিটির সদস্য সচিব মির্জা আজম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২৭ অক্টোবর আমরা সিটি করপোরেশনকে বলে দিয়েছি, এগুলো অপসারণ করে নিতে। আশা করি সেভাবে তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

 

শর্তে বলা আছে আওয়ামী লীগ তাদের ব্যানার পোস্টার নিজে উদ্যোগে অপসারণ করবে। সে ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন কেন করছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এত জিনিস রাখার মতো জায়গা আমাদের নেই। এ কারণেই সিটি করপোরেশনকে বলা হয়েছে সরিয়ে নিতে।’

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে এসব অপসারণ করা হচ্ছে। এই অপসারণ কাজ করতে গিয়েও বাধার মুখে পড়ছেন কর্মকর্তারা।

দয়াগঞ্জের বিলবোর্ড প্রসঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ওই বিলবোর্ড অপসারণ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা বাধা দিয়েছেন। এরপর থেকে ওই বিলবোর্ড ছাড়া অন্যগুলো পরিচ্ছন্ন কর্মীদের দিয়ে অপসারণ করানো হচ্ছে।’

 

সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিজ উদ্যোগে অনেক বিলবোর্ড, ব্যানার, পোস্টার ইত্যাদি সরানো হয়েছে। বাকিগুলো আমরা অপসারণ করছি। আশা করি শিগগিরই এগুলো অপসারণ সম্ভব হবে।’

প্রসঙ্গত, বেশ জাকজমকভাবে এবার আওয়ামী লীগের দু’দিনের জাতীয় সম্মেলন করা হয়। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নগরীতে ব্যানার, পোস্টার, বিলবোর্ড, তোরণ, আলোকসজ্জা ইত্যাদির মাধ্যমে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করা হয়। গত ২০ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন জানিয়েছিলেন, এসব সাজসজ্জার মেয়াদ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।

-বাংলা ট্রিবিউন

অনলাইনে যে ৭ কাজ করবেন না

অনলাইনে কারও সঙ্গে পাসওয়ার্ড লেনদেন না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।একসময় ইন্টারনেট এতটা ব্যবহারবান্ধব ছিল না। মানুষকে কষ্ট করে ইন্টারনেটে যেতে হতো। তখন ইন্টারনেটের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে এত বেশি দুশ্চিন্তারও কিছু ছিল না। কিন্তু আধুনিক কালের উচ্চগতির ওয়াই-ফাই বা সামাজিক যোগাযোগের যুগে শিশু থেকে বৃদ্ধরাও ইন্টারনেটে আসতে পারছেন। অনলাইনে কেনাকাটা, আর্থিক লেনদেন, সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে নানা কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে বিপদ। তাই ইন্টারনেটের কিছু বিষয়ে মানুষকে আগের চেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে। ইন্টারনেট নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, সাতটি বিষয়ে মানুষকে এখন বেশি সচেতন থাকতে হবে। এ বিষয়গুলো সহজ হলেও মানুষকে বোকা বানাতে এগুলো ব্যবহার করা হয়।

 

১. মুক্ত ওয়াই-ফাইয়ের ওপর ভরসা করা

মুক্ত ওয়াই-ফাই বা বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়া ঠিক নয়। মুক্ত ওয়াই-ফাইয়ের ওপর আস্থা রাখলে ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে। অনেক সময় সাইবার দুর্বৃত্তরা পরিচিত নেটওয়ার্কের নাম দিয়ে ওয়াই-ফাই হটস্পট তৈরি করে রাখে। কোনো নেটওয়ার্ক পরিচিত হলেও তাতে আর্থিক লেনদেন, কেনাকাটা করা ঠিক হবে না। এ ছাড়া যেসব সাইটে লগইন করার দরকার পড়ে, সেগুলোয় উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে বিশ্বাস করে ঢোকা ঠিক হবে না। সম্ভব হলে ভিপিএন ব্যবহার করুন।

 

২. সহজ, অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার

পোষা প্রাণীর নাম, জন্মদিন, পারিবারিক নামের মতো সহজে অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ডগুলো অনিরাপদ। যে পাসওয়ার্ড সহজে ধারণা করা যায় না, এমন জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন। সহজে মনে রাখতে পারেন, কিন্তু অন্যরা সহজে ধরতে পারবে না, এমন কৌশলী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

 

৩. পাসওয়ার্ড পুনর্ব্যবহার

হয়তো জটিল পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলেন, কিন্তু কোনো এক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ফলে ওই পাসওয়ার্ড হাতছাড়া হতে পারে। তাই একই পাসওয়ার্ড আবার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

 

৪. ই-মেইলে আসা লিংকে ক্লিক

ই-মেইলে নানা প্রলোভন দেখানো মেইল আসতে পারে। আবার অনেক মেইলে নানা অফারের লিংক আসে। মেইলে অপরিচিত কিংবা পরিচিত কোনো উৎস থেকে আসা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো স্প্যাম বা ফিশিং ই-মেইলের লিংকে ক্লিক করলেও এমন কোনো সাইটে চলে যেতে পারেন, যেখান থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হতে পারে। এমনকি এমন কোনো ভুয়া সাইটে চলে যেতে পারেন, যা দরকারি পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিতে পারে। এসব লিংকে ক্লিক করলে স্প্যামার বুঝতে পারে, কেউ ফাঁদে পা দিয়েছে। ই-মেইলে আসা লিংকের মতোই ফেসবুকে লাইক সংগ্রহ করে—এমন লিংকগুলোয় ক্লিক করা থেকেও বিরত থাকুন। আইফোন জেতার অফার কিংবা কোনো নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে মন্তব্য বা শেয়ার করতে যেসব লিংকে বলা হয়, সেগুলো এড়িয়ে যেতে হবে।

 

৫. কারও সঙ্গে লগইন তথ্য আদান-প্রদান না করা

যত ঘনিষ্ঠ হোক না কেন, অনলাইনের লগইন তথ্য আদান-প্রদান না করাই ভালো। কারও কাছে লগইন তথ্য থাকলে অ্যাকাউন্ট বেহাত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

 

৬. অবস্থানগত তথ্য অনলাইনে না জানানো

অনেকেই কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে বা বাড়ির বাইরে থাকলে ফেসবুক-টুইটারে জানিয়ে দেন। অবস্থানগত তথ্য অনলাইনে জানিয়ে দেওয়ার ফলে দুর্বৃত্তদের অসৎ উদ্দেশ্য পূরণে সুবিধা হতে পারে। কোথাও বেড়াতে গেলে বিশ্বস্ত বন্ধুদের জানাতে পারেন, তবে তা ইন্টারনেটের পুরো দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিলে নানা ঝুঁকি বাড়ে।

 

৭. সামাজিক যোগাযোগের সাইটের ডিফল্ট সেটিংস রেখে দেওয়া

এখন অনেক মানুষ ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইট ব্যবহার করেন। এ ধরনের সাইট ব্যবহারের সময় প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পরিবর্তন করা উচিত। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার সময় অন্তত পাঁচ মিনিট প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা সেটিংস নিয়ে কাজ করুন। যাঁদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁরা প্রতি মাসে প্রাইভেসির বিষয়টি একবার পরিবর্তন করুন। ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইনে কোনো কিছু পোস্ট করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন। অপরিচিত কারও কাছে ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দেওয়ার আগে একটু ভাবনা অনেক ক্ষতি থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারে। তথ্যসূত্র: জিনিউজ।

৬৯ বছর পর বিলুপ্ত ছিটমহলে ভোট

পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ৩৬ ছিটমহলের নাগরিকেরা ৬৯ বছর পর আজ ভোট দিচ্ছেন। জেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে এসব ছিটমহলকে সংযুক্ত করা হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে দীর্ঘ লাইনে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। ছবিটি বড়শশী ইউনিয়নের বদেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো।পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা রহিম উদ্দিনের বয়স এখন ৭৫ বছর। এই বয়স পর্যন্ত তিনি কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কোনো ধরনের ভোটাধিকারের মধ্যে ছিলেন না তিনি বা তাঁর পরিবার কিংবা এলাকাবাসী। দেশ স্বাধীন হলেও তাঁদের নাগরিকত্ব ছিল না। ৬৯ বছর পর আজ এই এলাকার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রথমবারের মতো ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলেন।

 

পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহলযুক্ত আটটি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) আজ সোমবার উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এই আটটি ইউনিয়নে বিলুপ্ত ছিটমহল রয়েছে ৩৬টি। সকাল আটটা থেকে ভোট নেওয়া শুরু হয়েছে। বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন বাংলাদেশি নাগরিকেরা পুরোনো বাংলাদেশিদের সঙ্গে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছেন।

 

আজ বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নতুন-পুরোনো ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স নজরদারি করছে।

 

বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জীবনে প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন আজ। তেমনই একজন রহিম উদ্দিন (৭৫)। পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিলুপ্ত ছিটমহল গারাতির বাসিন্দা তিনি। স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচজন ভোট দিতে এসেছেন। পাঁচজনই প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন। উৎসাহ-উদ্দীপনাও এ কারণে বেশি।

 

সকাল সাড়ে নয়টায় পুকুরিডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় রহিম উদ্দিনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। প্রথম আলোকে তিনি জানান, জীবনে প্রথম ভোট দিতে পেরে খুব আনন্দিত তিনি। ভোটার হওয়ায় তাঁদের দাম বেড়েছে। লোকজন এসে ভোট চাইছেন। এ অভিজ্ঞতা একদম নতুন। আগে এই এলাকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না। জনপ্রতিনিধিও ছিল না। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের এ সুযোগ পেয়ে তাঁর খুব ভালো লাগছে বলে জানালেন।

 

পঞ্চগড়ের তিনটি উপজেলার আটটি ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৩৯ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৯৮ জন এবং সদস্য পদে ৩২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার দুটি ইউপি হাফিজাবাদ ও হাঁড়িভাসা, বোদা উপজেলার কালিয়াগঞ্জ কাজলদীঘি, মাড়েয়া, বড় শশী ও ভাউলাগঞ্জ এই চারটি ইউপি এবং দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ও ট্রেপ্রিগঞ্জ এই দুটি ইউপি রয়েছে। এই আটটি ইউপিতে বিলুপ্ত ছিটমহল রয়েছে ৩৬টি। বিলুপ্ত ছিটমহলযুক্ত আটটি ইউপিতে ভোটার প্রায় দেড় লাখ। এর মধ্যে ৩৬টি বিলুপ্ত ছিটমহল থেকে নতুন করে ৮ হাজার ৯৩৫ জন ভোটার সংযুক্ত হয়েছেন। আটটি ইউপির মোট ৭২টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে।

 

বিলুপ্ত ছিটমহলের গারাতির বাসিন্দা সোনা মিয়া হাফিজাবাদ ইউপিতে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমরা প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পেয়েছি। এখানে আগে কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ ছিল না। আমরা নাগরিক হয়েছি। এখন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নে অংশ নিতে চাই।’

 

ছিটমহল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মফিদা রহমান। এই নির্বাচনকে আন্দোলনের সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এখন ভোটাধিকার পেয়েছি। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছি। এ দৃশ্য দেখেই আনন্দ হচ্ছে।’

 

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে বলে জানালেন বোদা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু আউয়াল। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন আছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

-প্রথম আলো

চিকিৎসা মেলে, বিচার মেলে না!

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) বড় ‘ক্রাইসিস’ হিসেবে বাদী-বিবাদীর সমঝোতার মানসিকতাকে চিহ্নিত করছেন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরা। তবে বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও সামাজিক কটূক্তিও সমঝোতায় উৎসাহিত করে বলে মত তাদের। তারা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে ওসিসি থেকে দ্রুত চিকিৎসা ও আইনি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আইনি সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। আর বাদী-বিবাদীর সামাজিক ‘মুখরক্ষার’ কৌশল  হিসেবে সমঝোতা করে ফেলায় এখানে আসা মামলাগুলোর মাত্র ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশের রায় হয়। আর সাজা পাওয়ার হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।

 

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতিত নারী ও শিশুদের সেবায় ২০১১ সালে সরকার দেশব্যাপী ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেল চালু করে। ৪০টি জেলা সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই সেল আছে। এসব সেল চিকিৎসা, চিকিৎসা-পরবর্তী ব্যবস্থা, যেমন আইনি পরামর্শ, মামলা, কাউন্সিলিং, আশ্রয় সুবিধা, পুনর্বাসন সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে দিক-নির্দেশনা দেওয়ার কথা। তবে কাগজে-কলমে সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার পর মামলা পরিচালনায় আগ্রহ খুব কম থাকে বলে দাবি এখানকার কর্মকর্তাদের।

 

গত বছরের মে মাসে একটি জরিপের ফল প্রকাশ করে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তাদের  অধীনে ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রাম’এর আওতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল শের-ই-বাংলা, খুলনা, সিলেট এম এ জি ওসমানী, রংপুর ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ বছরে ২২ হাজার ৩৮৬ জন নারী ধর্ষণসহ নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎসা নেন। বিচার প্রক্রিয়ায় দেখা গেছে, এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে পাঁচ হাজার তিনটি। রায় হয়েছে ৮২০টি, শাস্তি হয়েছে ১০১ জনের। অর্থাৎ, রায় ঘোষণার হার ৩ দশমিক ৬৬ এবং সাজা পাওয়ার হার দশমিক ৪৫ শতাংশ।

 

ওসিসিতে ২০১৩ থেকে ১৬ পর্যন্ত সেবা দেওয়ার তালিকাকিন্তু ওসিসিতে রোগীর হার এবং বিভৎসতার মাত্রা, দুইই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন এর সমন্বয়ক ড. বিলকিস। রেজিস্ট্রি খাতা অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়ে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ৫৩২ জন। কিন্তু মামলা করেছেন ৬৩০ জন। গত বছর ৬১৩ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হলেও এর আগের বছর এ সংখ্যা ছিলো ৫৫৫। আর এ বছর আগস্ট পযন্তই এ সংখ্যা ৫৭০ ছাড়িয়েছে। নির্যাতনের বীভৎসতার মাত্রাও বেড়েছে। ড. বিলকিস বলছেন, ‘এ বছর ধর্ষণের শিকার মারাত্মক আহত বেশকিছু কেস ক্রাইসিস সেন্টারে এসেছে যা আগে কখনও দেখতে হয়নি। এ বীভৎসতা উদ্বেগের।’

দীর্ঘসূত্রিতার উদাহরণ দিতে গিয়ে ড. বিলকিস বলেন, ২০০৯ সালে গৃহকর্মী নির্যাতনের একটা মামলায় সাক্ষ্য দিতে তাকে চলতি মাসে (সাত বছর পর) আদালত থেকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের নতুন করে এই বিচারব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। এই এত বছর মামলা নিয়ে বাদী-বিবাদীর আসলেই কোনও আগ্রহ থাকে কিনা, সে প্রশ্ন তোলা জরুরি। পাশাপাশি এ প্রশ্নও তুলতে হবে, সব সাক্ষ্যপ্রমাণ থাকার পরও কেন বিচারে এত বছর লাগবে?’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওসিসিতে যারা চিকিৎসা নিতে আসেন, তাদের বড় অংশই দরিদ্র পরিবারের। ধর্ষণের শিকার শিশুর বয়স বছর দশেকের নিচে হলে পরিবারগুলো টাকা দিয়ে মীমাংসা করে ফেলে। দশ বছরের বেশি হলে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ধর্ষণের শিকার হয়ে ওসিসিতে আসা নারী-শিশুকে আইনগত সহযোগিতা দেয় বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি। তাদের নিয়োগকৃত আইনজীবীরা এসব মামলা পরিচালনা করেন। কিন্তু সমঝোতার ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার থাকে না উল্লেখ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, ‘আমরা এখন  ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ের ক্ষেত্রে দেনমোহরের অঙ্কটা যেন বড় হয় সেদিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। আর এসব ক্ষেত্রে সমঝোতা করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিয়ে হলেও তা টেকে না। ফলে দেনমোহরের টাকা আদায় করতে পারলে মেয়েটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।’

 

বিচার না হওয়া এবং সমঝোতা প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনওভাবে অপরাধীদের মনে এই আস্থা এসে গেছে যে, যাই হোক তারা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে আসতে পারবে। ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে সে এই ভরসা পায় যে, মামলা হলেও সে রক্ষা পেতে পারে। ফলে, রাকীব কিংবা রাজন হত্যার বিচার দ্রুত হলেও এধরনের অপরাধ ঘটতেই থাকে। আমাদের সার্বিক রাজনীতিতে বদল আসতে হবে, নইলে এই অপরাধ থামানো যাবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমঝোতা করতে আইনি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনও চাপ দেয় কিনা, তাও মনিটরিং করা দরকার।’

 

-বাংলা ট্রিবিউন

ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে সামাজিক অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের অধীনে প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কেন্দ্রীয় ভর্তি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়।

 

এই ইউনিটে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭৬ হাজার ৯৮৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন সাত হাজার ৫৬৬ জন। পাসের হার ৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

-জাগো নিউজ

কুষ্টিয়ায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে ‘জেএমবি নেতা’ নিহত

কুষ্টিয়া সদরে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে কুলু মোল্লা (৩০) নামে একজন নিহত হয়েছেন।

 

উপজেলার কবুরহাট এলাকায় রোববার রাত ৩টার দিকে কথিত এ বন্দুকযুদ্ধ হয়।

 

পুলিশের দাবি, কুলু নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবির) আঞ্চলিক কমান্ডার ছিলেন। এ সময় ডিবি পুলিশের ৪ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল, গুলি, রামদা ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে জেএমবির কয়েকজন সদস্য উপজেলার কবুরহাট এলাকায় সোবাহান শেখের ধানের চাতালের পেছনে নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে জড়ো হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেএমবি সদস্যরা গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলি শেষে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

 

 

পরে পুলিশ জানতে পারে নিহত ব্যক্তি জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার কুলু মোল্লা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, তিনটি রামদা ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

 

তিনি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধে এসআই হালিম, এএসআই রশিদ ও আনোয়ারসহ ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

পুলিশের অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০ মে কুষ্টিয়া শহরতলীর বটতৈল ইউনিয়নের শিশির মাঠ এলাকায় হোমিও চিকিৎসক মীর সানাউর রহমানকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি নিহত জেএমবি নেতা কুলু মোল্লা। তিনি সদর উপজেলার খাজানগর পূর্ব মাঠ পাড়া এলাকার কন্দু মোল্লার ছেলে।

-পরিবর্তন

 

যশোরে ভোটকেন্দ্রে ৩ জনকে ছুরিকাঘাত

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নে উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের সময় প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হয়েছে।

 

আজ সোমবার সকাল ৮টা থেকে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো ইউনিয়নের রানিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা হয়।

 

এ সময় তিনজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতে আহতরা হলেন অবনী তরফদার, কৃষ্ণ মণ্ডল ও নরহরি মণ্ডল। এ ছাড়া আরো তিনজনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

 

রানিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুল ইসলাম ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হওয়ার বিষয়টি এনটিভি অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন।

 

গত ৩১ আগস্ট পাশাপোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাসেমের মরদেহ যশোর শহরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ফলে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়। নির্বাচন কমিশন এখানে উপপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ওবায়দুল ইসলাম। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন শাহীন রেজা।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নৌকা প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক রানিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে গিয়ে গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এ সময় আনারস প্রতীকের সমর্থকরা তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে আহত করা হয়।

 

খবর পেয়ে আনারস প্রতীকের সমর্থকরা নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের ধাওয়া দেয়। তখন তারা পাশের গ্রামের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে এলাকাবাসী তিনজনকে পিটুনি দেয়।

 

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে গণপিটুনির শিকার তিনজনকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। তবে ওই তিনজনের নাম জানা যায়নি।

সূত্র- এনটিভি