৪৪৪৬ কোটি টাকা মূল্যের ডিজিটাল মুদ্রা চুরি!

জানুয়ারি ২৮, ২০১৮ ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ

জাপানের একটি বৃহৎ ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক হ্যাকিং করে প্রায় ৫৩.৪ কোটি ডলার (৪৪৪৬ কোটি টাকা) হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। হামলার জেরে কয়েনচেক নামে ওই প্রতিষ্ঠানটি বিটকয়েন ব্যতীত অন্য সব ধরণের ডিজিটাল মুদ্রার আমানত গ্রহণ ও উত্তোলন স্থগিত রেখেছে। তবে সবচেয়ে বহুল পরিচিত ডিজিটাল মুদ্রা বিটকয়েন নয়, এনইএম নামে স্বল্প পরিচিত মুদ্রাই খুইয়েছে কয়েনচেক। পুরো বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলে, এটি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মুদ্রা চুরির ঘটনা। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, এর আগে ২০১৪ সালে টোকিও-ভিত্তিক আরেকটি মুদ্রা বিনিময়কারী প্রতিষ্ঠান এমটিগক্স স্বীকার করেছিল যে, তাদের নেটওয়ার্ক থেকে ৪০ কোটি ডলার সমমানের মুদ্রা হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা।

এরপরই ধসে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এতদিন পর্যন্ত সেটিই ছিল ডিজিটাল মুদ্রা চুরির সবচেয়ে বড় ঘটনা।
এবারের হামলার শিকার কয়েনচেক নামে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চুরি হওয়া মুদ্রা ‘হট ওয়ালেট’-এ সংরক্ষিত ছিল। সাধারণত, হট ওয়ালেট ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। অপরদিকে ‘কোল্ড ওয়ালেট’-এ থাকা মুদ্রা অফলাইনে নিরাপদে থাকে।
কয়েনচেক বলেছে, চুরি হওয়া অর্থ কোথায় প্রেরণ করা হয়েছে, তার ডিজিটাল ঠিকানা তাদের জানা আছে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পোষাতে সাধ্যের সর্বোচ্চ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কয়েনচেকের বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় ৮টা ৫৭ মিনিটে হ্যাকাররা হানা দেয় তাদের নেটওয়ার্কে। তবে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের আগে তা টের পায়নি তারা। ততক্ষণে কেটে গেছে প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা।
কয়েনচেকের চিফ অপারেটিং অফিসার ইউসুক ওতসুকা বলেন, হ্যাকিং-এর সময়টায় তাদের নেটওয়ার্ক থেকে ৫২৩ মিলিয়ন এনইএম অন্যত্র পাঠানো হয়। টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জাপানি মুদ্রামানে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৮০০ কোটি ইয়েন।’ প্রতিষ্ঠানটির কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তা জানতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। হ্যাকিং আক্রমণ জাপান থেকে নাকি অন্য কোনো দেশ থেকে করা হয়েছে, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। তবে ওতসুকা বলেন, আমরা জানি কোথায় চুরি হওয়া অর্থ পাঠানো হয়েছে। আমরা তাদের শনাক্ত করার কাজ করছি। আমরা যদি এই কাজ অব্যাহত রাখতে পারি, তাহলে চুরি হওয়া অর্থ হয়তো আমরা উদ্ধার করতে পারবো। তবে এখনও এটি তদন্তের পর্যায়ে আছে।’ চুরির ঘটনা পুলিশ ও জাপানের আর্থিক সেবা সংস্থাকে জানানো হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বর্তমানে বহু ডিজিটাল মুদ্রা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মুদ্রা হলো বিটকয়েন। তবে কয়েনচেক হারিয়েছে এনইএম নামে একটি মুদ্রা। বাজার মূল্য অনুযায়ী এনইএম বিশ্বের দশম মূল্যবান ডিজিটাল মুদ্রা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রতি এনইএম ০.৮৭ ডলারের সমান।
তবে ২০১৪ সালে এমটিগক্স হারিয়েছিল ৮ লাখ ৫০ হাজার বিটকয়েন। তখনকার বাজারে তার মূল্য ছিল ৪০ কোটি ডলার। এমটিগক্সের পতনের পর ডিজিটাল মুদ্রার বাজার কেঁপে উঠে। ওই ঘটনার পর জাপান একটি লাইসেন্সিং পদ্ধতি চালু করে। এতে করে কয়েনচেকের মতো অন্যান্য স্থানীয় ডিজিটাল মুদ্রা বিনিময়ের প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়।
এডিএম ইনভেস্টর সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক কৌশলবিদ মার্ক ওস্টওয়াল্ড বলেন, এই চুরির ঘটনার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে, তা বলা কঠিন। তার ভাষ্য, ‘বিশ্বের যে কয়টি দেশে ডিজিটাল মুদ্রার প্রচলন খুব বেশি, তার মধ্যে একটি জাপান। ফলে দেশটিতে এখনই ডিজিটাল মুদ্রা উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হবে না। তাই জাপানের রেগুলেটররা যে কীভাবে এই ধকল সামলায়, তা দেখার মতো বিষয় হবে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1120 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com