২৩০ কিলোমিটারজুড়ে নবগঙ্গার দুঃখগাথা

এপ্রিল ৬, ২০১৮ ৫:১৩ অপরাহ্ণ

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা মোহনা থেকে শুরু, এরপর ঝিনাইদহ ও মাগুরা হয়ে নড়াইলের ওপর দিয়ে লোহাগড়ার শেষ প্রান্ত মহাজন বাজারে মধুমতী নদীতে মিশেছে নবগঙ্গা। মোট দৈর্ঘ্য ২৩০ কিলোমিটার। মাগুরা থেকে তৎপলীন নড়াইল জেলার বৃহৎ নলদী-পরগনায় মিঠাপুরের মধ্য দিয়ে গাঢ় নীল রঙের পানির নবগঙ্গা নদী প্রবাহিত। নলদী-লোহাগড়া হয়ে একমুখ মধুমতীর সঙ্গে, আরেক মুখ বড়দিয়া কালিয়া হয়ে চিত্রা নদীর সঙ্গে মিশে নবগঙ্গা একসময় এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখের  অংশীদার ছিল। কালের বিবর্তনে মধুমতী নদীর চরে মূলধারা লোহাগড়া ঈদগাহের পেছনে মরে গিয়ে গড়ে ওঠে বর্তমান লোহাগড়া বাজার। চর পড়া নবগঙ্গা নদী গতি পরিবর্তন করে বানকানা নদী ছুঁয়ে মল্লিকপুরের মধ্য দিয়ে খুলনার গাজিরহাটে চিত্রার সঙ্গে মিশেছে। এই নবগঙ্গা বর্তমানে সরকার ও প্রভাবশালীদের খামখেয়ালিতে বিলুপ্তির পথে।

পাকিস্তান আমলে ১৯৬৩ সালে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের (জিকে) জন্য নদীর উৎস মুখে বাঁধ নির্মাণের ফলে পানির প্রবাহ কমে যায়। ধীরে ধীরে এ অঞ্চলের অন্য নদীগুলোর মতো নবগঙ্গাও মরে যেতে থাকে। নাব্যতা হারানোর ফলে নবগঙ্গায় নৌ যোগাযোগও প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।

ইংরেজ আমলে ওয়ারেন্ট হেস্টিংসের রাজত্বকালে নবগঙ্গা নদীর পারে গড়ে ওঠে লক্ষ্মীপাশা। নদীর পারে নলদী পরগনা ছিল জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখান থেকে খাজনা আদায় আর নড়াইলে রাজত্ব চালাতেন ইংরেজ বণিকরা। নদীপাড়ের টোনা, বড়দিয়া, মহাজন, দীঘলিয়া, এড়েন্দা, লক্ষ্মীপাশা, ব্রাহ্মণডাঙ্গা, নলদী, মিঠাপুর বন্দর বাণিজ্যের কারণে জমজমাট ছিল। কালের বিবর্তনে নাব্যতা হারিয়ে নবগঙ্গা আর পুরনো জৌলুস ধরে রাখতে পারেনি।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1063 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com