‘১কোটি’ টাকার চাঁদা’ বনাম ‘৭লক্ষ’ কোটি টাকা পাচার!

ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ ৫:১৬ অপরাহ্ণ

::- Zaahir Hossain Asif

—‘একজন তারেক জিয়া’ বনাম ‘হাসিনা, জয়, রেহানা, পুতুল, ববি, তাপস, সেলিম ইত্যাদি..ইত্যাদি…!!’-

সেই ২০০১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কতই না অভিযোগ আনলো! কত মেধা, শ্রম, পয়সা গচ্ছা দিল! লক্ষ্য সেই একটাই- কিভাবে তারেক জিয়াকে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় করা যায়; কিভাবে তাঁকে কলঙ্কিত করা যায়!
কিন্তু, মূর্খ্যগুলো ঐসব মেধা ও শ্রম যদি নিজের,দেশের কল্যাণে কিনবা তারেক জিয়ার সম্পাদিত কর্মসূচিগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করার ‘ব্যর্থ-চেষ্টায়ও’ ব্যয় করতো- তবে আজ তাদের মানব সমাজের অংশবিশেষ হিসেবে গণ্যকরার অন্তত একটি সুযোগ হলেও অবশিষ্ট থাকতো!

আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনের তারিখ নিয়ে নোংরা বিতর্ক সৃস্টিকরা হতে শুরু করে তাঁকে এক কাপড়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা; দেশনায়ক তারেক রহমানের নামে মিথ্যা-ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং জোড়করে তুলে নিয়েগিয়ে বানোয়াট অভিযোগ ও মামলা দায়ের, পরবর্তিতে তাঁকে হত্যার উদ্দ্যেশ্যে নির্মম নির্যাতন করে পঙ্গু করার চেষ্টাসহ জিয়া পরিবারের প্রতিজন যোগ্য ও গর্বিত সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা-নগ্ন বিষাদাগার রচনাসহ আরো কতকিছু..!

দেশনায়ককে ২০০৭ সালে যখন গভীর রাতে মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে অবৈধভবে গ্রেফতারের নামে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁর বিরুদ্ধে ১টি মামলা কিনবা ভিত্তিযুক্ত কোন অভিযোগ ছিলনা। কোন উপায় না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়েগিয়ে তাকে দিয়ে জোড়করে মাত্র(!) ১কোটি টাকা চাঁদার মামলা দায়ের করে! যা শুধু হাস্যকরই নয় পরবর্তিতে ঐ ব্যবসায়ী প্রকাশ্যেই স্বীকার করে যে তাকে উঠিয়ে নিয়ে মামলা করানো হয় মঈনুদ্দিন, ফখরুদ্দিন ও মাসুদউদ্দিন এর নির্দেষে।

হ্যাঁ, ১কোটি টাকাকে মাত্র বলার কারণ হলো যখন দেখা যায় যে: হাসিনাগং এর ইচ্ছা ও সম্মতিতে জনগণের ‘১লক্ষ কোটি’ টাকা শেয়ার মার্কেট থেকে গায়েব হয়েছে! স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভসহ সকল সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক-বীমা লুটেপুটে খালি করে ফেলেছে! বর্তমানে দেশের একটি সেক্টর কেউ দেখাতে পারবে না যেটি লুটপাট করেনি আ:লীগ, হাসিনা, জয়, রেহানা, পুতুল, ববি, তাপসরা সহ এদের চৌদ্দগুষ্টি তথা হাসিনাগং সরাসরি জড়িত থেকে। দেশ থেকে প্রায় ৭লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে এরা; অপ্রকাশিত আরও কি পরিমাণ যে রয়েছে তা ধারণাতীত।

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকুরী-কর্মসংস্হানসহ সমগ্র অর্থনীতি আজ লাটে উঠেছে! কর্ম-উপযোগী বেকারের সংখ্যা ২কোটি ৫০লক্ষ ছাড়িয়ে যাচ্ছে!! বিদ্যুতের নামে পাবলিকের পকেট কাঁটছে! দ্রব্যমূল্য অনেক আগেই আকাশ ছুঁয়েছে। হত্যা, গুম, ঘর্ষণ, লুটপাট, হয়রানী, অত্যাচার, নির্যাতন, দখলের স্বর্ণযুগ চলছে। সমাজ অন্ধ, কানা-খোঁড়া, লুলা হয়ে বর্বরতার উৎসব করছে!

কিন্তু, দোষ নাকি সবই একমাত্র কেবল তারেক জিয়ার! অপরাধ নাকি সবই তারেক জিয়ার! সকল মামলাই হয় দেশনেত্রী ও দেশনায়কের বিরুদ্ধে! কিন্তু মিথ্যা মামলাগুলো আর প্রমাণ করতে পারে না!
অতচ, দেশনেত্রী ও দেশনায়কের বিরুদ্ধে করা কথিত সকল দূর্ণীতির(!) মিথ্যা মামলার সম্মিলিত টাকার অংকের যোগফল- হাসিনাগং এর করা সবচেয়ে ছোট দূর্ণীতির ও লুটপাটের টাকার অংকের ১০০ভাগের ১ভাগও হয়না কোনভাবে!!
কি আশ্চর্য্য! এতটুকু তুলনা করারও কেউ নেই আজ এ সমাজে! বীরের জাতির’ মালাটি পঁচে-শুকিয়ে ঝরে গেলেও ধূসর বর্ণের সুতোটি গলায় ঝুলিয়ে আমরা এখনও গর্ব করে বেড়াচ্ছি!! তবে কি বীরের প্রতিশব্দ উন্মাদ?!

গত ৯ বছর ধরে অবৈধভাবে টানা ক্ষমতায় রয়েছে আঃলীগ ও হাসিনাগং, প্রায় ১২ বছর ধরে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে নগ্নভাবে ব্যবহার করেও দেশনেত্রী ও দেশনায়কের বিরুদ্ধে করা কথিত একটি অভিযোগও প্রমান করতে পারলো না?! কি আশ্চর্য্য!

হাসিনাগং-এর আমলেই লাল পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সবুজ পাসপোর্ট নিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, কই দেশনেত্রীর জন্মদিন নিয়ে তো কোন কিছুই প্রমান করতে পারলো না?

এরা আসলে পারলোটা কি? কোন সম্পৃক্ততা ছাড়াই মিথ্যা-আজগুবি মামলা বানিয়ে সকলকে হয়রানি করতে!? বালুর ট্রাক দিয়ে দেশনেত্রীকে বাসায় বন্দি করে রাখতে?! ছাত্রলীগের হাতে পেট্রোল বোমা তুলে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরে বিএনপির উপর দোষ চাপাতে?! আরও আছে শত-হাজার! চাইলেই প্রমাণসহ খুঁজে পাবেন যেকেউই।

একটা রাজনৈতিক দল কতটা অসহায়- দেউলিয়া হলে প্রতিপক্ষের প্রধান নেত্রীর জন্মদিন নিয়ে নোংরা রাজনীতির চেষ্টা করে?! কতটা উন্মাদ হলে শিষ্টাচার ভুলে গিয়ে কটুক্তি করে-বাজে মন্তব্য করে? কতটা রুচিহীন ও নির্লজ্জ হলে এরা সাংবাদিক সেজে বসে থাকা কিছু নিম্ন শ্রেণীর প্রাণীদের হাড্ডি খাইয়ে লেলিয়ে দেয় জঘন্য বানোয়াট, মিথ্যা গল্প বানিয়ে সম্মানহানি করতে?!

হাসিনাগং ৯ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার লুট করে ক্ষমতায় রয়েছে, অতচ, একটা অভিযোগও তো প্রমান করতে পারলো না দেশনায়কের বিরুদ্ধে!! কতশত নতুন নতুন আজগুবি মামলা দিল! কত মিথ্যে প্রচারণা চালালো!
অবশেষে, মামলার বিচারে দেশনায়ক তারেক রহমান নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পাওয়ায় বিচারককেই হতে হলো দেশছাড়া! দেশনায়ক তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে উচ্চ-আদালতও ব্যবহৃত হলো!!
কি করাণে নিষেধাজ্ঞা? কারণ হলো তারেক জিয়া যুক্তি, তর্ক ও ঐতিহাসিক দলিল সামনে রেখে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, শেখ মুজিব রাজাকার ছিল এবং বাংলাদেশ স্বাধীন হোক তা মুজিব চায়নি কখনই। আ:লীগ মুজিবের দল নয়, আ:লীগ মুক্তিযুদ্ধ করেনি, মুজিব ও তার পরিবার আগাগোড়াই করাপ্ট ও হত্যা-লুটপাটে অভ্যস্হ ও জড়িত। এগুলো প্রমান করে দেয়াই তারেক জিয়ার চরম অপরাধ!

দেশনায়ক তারেক রহমানের বক্তব্য ও প্রমাণগুলো উপস্হাপনের পরপরই তাঁর বিরুদ্ধে নতুন নতুন কাল্পনিক মামলা হতে থাকে! আ:লীগের বিকৃত মস্তিস্কের নেতাগুলো শুরু করে অশ্লীল গালাগাল! কোন পাল্টা যুক্তি-প্রমাণতো উপস্হাপন করতে পারেইনি বরং আদালতের ঘাড়ে পা রেখে দেশনায়কের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যগুলো জনগণের কাছে পৌঁছানোর রাস্তা বন্ধকরে দেয় হাসিনাগং!
অথচ; দেশনায়ক তারেক রহমান যখন তাদের লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেন তখন তাদের সেটা গ্রহন করার সাহস হয়না। দেশনায়ক স্বয়ং নিজেই হাসিনাগংকে আহবান করেছিলেন তাঁর উপস্হাপিত যুক্তি, তর্ক ও ঐতিহাসিক দলিলগুলোতে কোন ভুল থাকলে সেগুলো জাতির সামনে নিয়ে আসতে। কিন্তু, দূর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মুজিব ও হাসিনাগং-এর আ:লীগে তেমন মেধাবী একজনও নেই! আছে কিছু বাক-সন্ত্রাসী, তোফায়েল নামের সোনাগাছির সাবেক স্হায়ী বাসিন্দারা, কিছু মামুন,মোজাম্বেল-পীর, গোলাম ও নাঈমুরের মতো হাড্ডিখোর ও ভোটচুরি করে স্যার উপাধি পাওয়া প্রয়াত মেয়ররা!!
কি দূর্ভাগ্যজনক!

অপর দিকে দেখা যাচ্ছে হাসিনাগং-এর এই নিকৃষ্ট অপকর্মগুলো তাদেরকেই জনবিচ্ছিন্ন ও একঘরে করে দিয়েছে, যার প্রমাণ গেল মাসেই দেখা গেছে। জোড় খাটিয়ে, চাকুরী খাবার ভয় দেখিয়ে, ভাতা-খাদ্য দিয়েও মানুষকে আনতে পারেনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে!
আর অন্যদিকে দেশনেত্রী ও দেশনায়কের প্রতি মানুষের সমর্থন আরো বাড়ছে, অধিকতর শক্তিশালী হচ্ছে আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক দেশনায়ক তারেক রহমানের হাত। এর প্রমাণও পাওয়া গেছে গেল নভেম্বরেই সেই একই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সকল রাস্তাঘাট-যানবাহন বন্ধকরে, গণ-গ্রেফতার, হামলা-মামলা-হয়রানী করেও জনগণের আগমন-উচ্ছ্বাস ও সমর্থন-ভালোবাসাকে আটকে রাখতে পারেনি দেশবিরোধী অপশক্তিগুলো।

এদের একমাত্র ভয়ই হলো দেশনেত্রী ও দেশনায়কের নেতৃত্ব, জনপ্রিয়তা, যোগ্যতা-দক্ষতা ও দেশপ্রেম। যা আজও হাসিনা তার অপ্রয়োজনে আয়োজিত প্রেস কন্ফারেন্সে গোপন করতে না পেরে তারই পোষা হাড্ডিখোড়দের উপর রাগ ঝেড়েছে!! হয়তো কাল থেকেই দেশনেত্রী ও দেশনায়কের বিরুদ্ধে আবারও আওমী মিডিয়ার মিথ্যাচার ও নোংরামী শুরু হবে। মানুষ এসব মিথ্যাচার আর গুরুত্ব না দিলেও এসব নিম্নশ্রেণীর হাড্ডিখোড় প্রাণীগুলোকে আর ছাড় দেয়া যাবেনা কোন অযুহাতেই।
কারণ আওয়ামীলীগের এখন একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দ্যেশ্যই হলো যে কোন উপায়েই হোক, চোরাগুপ্তা পথ ধরে হলেও দেশনেত্রী ও দেশনায়ককে যেকোন মামলায় অবৈধভাবে সাজানো রায়ে দোষী সাজা দিয়ে আগামী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা। এর জন্যে আওয়ামীলীগ যেকোন কিছুই করতে প্রস্তুত হয়ে আছে।

তাই সচেতন থেকে এই নীল নকশা ব্যর্থ করতে হবে যেকোন মূল্যেই হোক। বিজয়ের পতাকা কেবল দেশনেত্রী এবং দেশনায়কের হাতেই তুলে দিতে হবে সম্মিলিতভাবে, সকলে ঐক্যবদ্ধ থেকে।

আওয়ামীলীগ নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের জন্য দায়ী। অতীতেও, বর্তমানেও। এটি এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। আলেম-ও আওমীলীগে গেলে জালেম-এ পরিণত হয়। আমাদের আশেপাশেই এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে।
তাদের নেতাই তাদের ‘চোরের দল-চাটার দল’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করে গেছে, গঠন করেছে বাকশাল। এটাই প্রকৃত ইতিহাস।
এরাই একমাত্র দল যেখানে নাকি একজন ছাড়া বাকি সবাইকে কেনা যায়। আর সেই একজনই দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে প্রতিবেশীর কাছে বিনামূল্যে!
যেখানে এদের নেতাই এদের নিষিদ্ধ করে গেছে। সেখানে এরা আগামীতেও এদের অপকর্মের ফলে বারবার ধ্বংস হতে থাকবে- ধুলোয় মিশে যাবে এদের অস্তিত্ব; এটি অনুমান করতে যৌতিশী হতে হবেনা। তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও চলবে না।
ইতিহাসে এদের স্থান হয়েছে নোংরা রাজনীতির বিভৎস্য চাপ্টারে; যেখানে এরা পরিচিত হয়েছে ‘নিজেদের নেতার দ্বারা নিষিদ্ধ ও ‘চোরের দল-চাটার দল’ আখ্যা প্রাপ্ত এক নিষিদ্ধ- অসহায়, দেউলিয়া-বিলুপ্ত ও চরিত্রহীন গোষ্ঠীর দল আওয়ামী লীগ।।’

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1082 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com