হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা : আশিক ইসলাম

ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

:: বিশেষ ধন্যবাদ ডঃ আসাদুজ্জামান রিপন ভাইকে –
যতদুর মনে পড়ে রিপন ভাইকে আমি মৌখিক ভাবে অনেক বার ধন্যবাদ জানিয়েছি। প্রায় ২৭ বছর আগের একটি স্মৃতি উজ্জলতায় এবার লিখিত ভাবে রিপন ভাইকে আবারো ধন্যবাদ জানাতে ইচ্ছা করছে। সেই সাথে খুঁজছি কিছু প্রশ্নের উত্তর।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। আমি তখন একদিকে ছাত্র, অন্যদিকে মিরপুর থানা ছাত্র দলের সাথে যুক্ত এবং বিভিন্ন সাপ্তাহিক ও দৈনিকে অনিয়মিত লেখালেখি করি । সে সময় রিপন ভাই ২টি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। সাপ্তাহিক “সচিত্র দেশকাল” এবং পাক্ষিক “প্রেসক্রিপশন”। দেশকালের নিউজ এডিটর ছিলেন যদি ভুল না করি দেবাশীস স্যার্নাল আর এডিটর আসাদুজ্জামান রিপন। বেইলি রোডে রিপন ভাইয়ের দোতালা বাসার নীচ তলায় পত্রিকা অফিস। দেশকালে আমি অনিয়মিত কাজ করি। ক্রেডিট লাইনে রিপোর্টার হিসাবে নাম যায়।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির বিজয়ের পরপরই আমাকে দেশকাল পত্রিকা থেকে দায়িত্ব দেয়া হয় বেশ কিছু সনামধন্য রাজনীতিকের ইন্টারভিউ করার। বিষয়, কোন পদ্ধতির সরাকার তারা চান ? প্রেসিডেন্ট শাসিত নাকি প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার এবং কেন ? প্রতি ইন্টারভিউয়ের জন্য আমাকে দেয়া হত ৭৫ টাকা। বড় বড় কিছু নেতার কাছ থেকে রিপন ভাই এয়াপ্যেন্টমেন্ট নিয়ে দিয়েছেন। আমি শুধু গিয়ে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করেছি। ৫/৬ জন রাজনীতিকের ইন্টারভিউ আমি নিজেও জোগাড় করেছি। এর মধ্যে একজন হচ্ছেন, আজকের তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
তাকে কেন্দ্র করে আমার এই স্মৃতি চারণ। সম্প্রতি প্রিয় আব্দুল হাই শিকদার ইনুকে “বড় বেয়াদপ” বলে আখ্যায়িত করেছেন। সেটা দেখেই মনে পড়লো এতো বছর আগের স্মৃতি।
জাসদ নেতা ইনুর অফিস তখন পল্টনে। ইন্টারভিউ এর জন্য আমার এপয়েন্টমেন্ট নেয়া ছিল বিকাল ৩টার দিকে। আমি বিকাল থেকেই আফিসে বসে আছি, ৩টা, ৪টা, ৫টা ইনু সাহেবের কোন খবর নাই। অফিসের মানুষগুলো জানেন না ইনু কোথায় ? কখন আসবে ? তার পার্টি অফিসে কাঠের বাক্সে ভরা একটি টেলিফান তালা দেয়া ছিলো। তার ওপর লেখা ছিলো প্রতি কল ৫ টাকা। অগত্য ৫ টাকা খরচ করে ইনুর বাসায় ফোন করে জানলাম, তিনি কেবল ঘুম থেকে উঠেছেন। এখন কথা বলা যাবে না তবে তিনি ঘন্টা দু-একের মধ্যে অফিসে আসবেন। আবার বসে থাকার পালা। রাত ৮টা নাগাদ ইনু তার অফিসে আসলেন। অফিসে ঢুকেই বললেন, হ্যাঁ একজন সাংবাদিক আসার কথা ছিলো ? সে কি এখনো আছে ? খুব বেশী হলে আমি সহ ৩/৪ জন মানুষ বসে ছিলাম। আমি উঠে দাড়ালাম। তিনি এক নজর আমাকে দেখে তার রুমে নিয়ে বসলেন।
আমি তাকে যে প্রশ্নই করি, তিনি তার পাল্টা প্রশ্ন আমাকে করলেন। আমার কোন একটি প্রশ্নের লেখার মত কোন উত্তর দিলেন না। যেন আমার মত ছোট একজনকে পেয়ে তিনি বোঝালেন, তিনি কত বড় নেতা। সময় দিলেন বড় জোর ৫ মিনিট।
রাগে,দুখে ক্ষোভে এবং অপমান বোধ নিয়ে আমি ইনুকে নিয়ে যে লেখা জমা দিয়েছিলাম, তার শুরুটা ছিলো –
“ যে শিশুর নুতন দাঁত উঠে – সে শিশু যা পায় তাই কামড়ায়। যে সাপের বিষ দাঁত থাকে না – সে সাপ বেশী ফোঁস ফোঁস করে। তেমনি নির্দলীয় নিরোপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ সুশঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনে নির্লজ্জ ভাবে পরাজিত, জামানত বাজেয়াপ্ত তথাকথিত বিশাল নেতা হাসানুল হক ইনুর সাক্ষাৎকার আনতে গেলে তিনি রিপোর্টারের সাথে যে ব্যবহার করেন তা হল ………”।
নিউজ এডিটর আমার লেখা ছাপতে চাইলেন না। অনেক অনুরোধ করেও কাজ হল না, বললাম এ লেখার জন্য পারিশ্রমিক দিতে হবে না প্লিজ ছাপুন, তিনি শুনলেন না। শেষ পর্যন্ত ধরলাম সম্পাদক রিপন ভাইকে। তিনি সব শুনে আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। আমিও অবুঝ, কষ্টে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
রিপন ভাই বললেন, দেবাশীস লেখাটি ছাপুন।
দেবাশীস দা বোঝানোর চেষ্টা করলেন এর ফল খারাপ হতে পারে।
রিপন ভাই বললেন- “ আশিক এই পত্রিকার একজন। ওর মান-সম্মান দেখার দায়িত্ব আমাদের। তার চেয়েও বড় কথা ও আমার ছাত্র দলের একজন কর্মী। ও কোনদিন নিজের পোষ্ট পজিশনের কোন তদ্বির আমাকে করেনি। যা দেয়া আমার জন্য কঠিন কিছু নয়। আজ ও নিজের সম্মানের জন্য একটা লেখা ছাপাতে চাইছে। আমি কি আমার দলের একজন কর্মীর জন্য এটুকু করতে পারবো না ? ফল পরে দেখা যাবে”।
সচিত্র দেশকালে আমার লেখাটি ছাপা হয়ে ছিলো। এমন কি এর জের কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়ে ছিলো।
ধন্যবাদ রিপন ভাই। আমার বয়স যত বেড়েছে তত বুঝেছি আপনারা কত বড় হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। দলের যত ছোট কর্মীই হোক না কেন তাকেও আপনারা বিএনপি পরিবারের একজন সদস্য হিসাবে মন থেকে ভালবেসেছেন।ছাত্র দল করতে গিয়ে এমনই ভালোবাসা পেয়েছি, দুদু ভাই, আমান ভাই, খোকন ভাই, আলম ভাই , ইলিয়াস ভাই,পিন্টু ভাই, খায়ের ভাই, মিরপুরের আঞ্জু ভাই , জয় ভাই, আরজু ভাই, ঢাকা কলেজের আলী ভাই সহ অনেক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে।
বলতে পারেন, আজ কেন সে ভালোবাসা দেখতে পাই না ? আজ কেন আমরা একজন আর একজনের পাশে দাড়াই না? কেন আজ আমরা ছাত্র দলের সাবেক বর্তমান, শীর্ষ পদ থেকে একদম তৃণমূল পর্যায়ের সকলে নিজেদেরকে একই পরিবারের সদস্য ভাবতে পারি না ? বলতে পারেন কেন আজ আওয়ামীলীগ নয়, আমাদের প্রতিপক্ষ আমরা নিজেরাই ?
কোথায় হারিয়ে গেছে আগের সেই শ্রদ্ধা স্নেহ ভালোবাসা ?

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1158 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com