হরতাল-অবরোধ স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচী : কানাডিয়ান আদালত

মার্চ ১৬, ২০১৮ ৯:২২ অপরাহ্ণ

: : কানাডার সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। চলমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে কিংবা আগাম নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে ডাকা স্ট্রাইক (হরতাল) কিংবা আন্দোলন কর্মসূচি ‘সন্ত্রাস’ নয় বরং রাজনৈতিক কর্মসূচি। কানাডার সুপ্রিম কোর্টের বিচারক রিচার্ড জে মোসলে তাঁর রায়ে এই উপমহাদেশে রাজনৈতিক আন্দোলনের চরিত্র উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, জনমানুষ সম্পৃক্ত, জনগণের প্রতিবাদ হিসেবে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এ কর্মসূচির গোড়াপত্তন করেন নেতা মহাত্মা গান্ধী।চলতি মাসের পহেলা মার্চ একজন বাংলাদেশির রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক এই রায় দেন। একইসঙ্গে তিনি জুয়েল গাজী নামে এক ব্যাক্তির রাজনৈতিক আবেদনও মঞ্জুর করেন। কানাডার সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের পর প্রমাণিত হয়েছে ‘শেখ হাসিনা কিংবা হাসান মাহমুদ চক্র ‘ এতদিন ‘বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল’ হিসেবে অপপ্রচার চালিয়েছিলেন সেটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রতিহিংসামূলক।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে মোহাম্মাদ জুয়েল হোসেন গাজী নামে একব্যক্তি কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করে। তিনি নিজেকে ঢাকার মীরপুরের স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী পরিচয় দেন। তার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ করে ২০১৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী আদালত তাকে স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেয়। এরপর ইমিগ্র্যাশন কর্মকর্তা জুয়েল হোসেন গাজী’র দেয়া তথ্যগুলো ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত যাচাই বাছাইয়ের পর ২০১৬ সালে জুয়েল হোসেন গাজীকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জুয়েল গাজী আদালতে গেলে আদালত ইমিগ্র্যাশন ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।ইমিগ্র্যাশন কর্মকর্তা জুয়েল গাজীর কার্যকলাপ সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়ে ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বলেন, বাংলাদেশে বড়ো দুটি দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ যে দলই ক্ষমতার বাইরে থাকে তারা চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে ‘স্ট্রাইক’ (হরতাল) করে। একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে আর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে সরকারের বিরুদ্ধে তারা কর্মসূচির আহবান করা হয়। {উল্লেখ্য, কানাডার আইনে এ ধরণের রাজনৈতিক কার্যকলাপকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়} । সুতরাং তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জুয়েল হোসেন গাজী বিএনপির সদস্য। বিএনপি স্ট্রাইক (হরতাল) করে সুতরাং তারা এ ধরণের সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত ছিল বা ভবিষ্যতেও লিপ্ত হবে এটি বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে। এ যুক্তিতে কানাডার আদালত ২০১৭ সালের ১৪ জানুয়ারী জুয়েল গাজীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন না মঞ্জুর করে। ওই রায়ের পুরো কপি পড়লে দেখা যায়, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ উভয় দলকেই কানাডার আইনে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবেই বিবেচনা করেছে।

কিন্তু এই রায়ের একটি অংশকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলকও বিকৃতভাবে উদ্ধৃত করে রিপোর্ট করে বর্তমানে কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করা চট্টগ্রাম বিশবিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার সওগাত আলী সাগর। সাগরের রিপোর্ট পেয়ে বিএনপি’র বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা শুরু শেখ হাসিনা-হাসান মাহমুদ চক্র।এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে একজন ভুক্তভোগী উচ্চ আদালতে আপিল করে । ওই আপিলের রায় বের হয় চলতি বছরের পহেলা মার্চ। তবে এবারের রায় নিয়ে এখনো কোনো রিপোর্ট করেননি কানাডা প্রবাসী ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার সওগাত আলী সাগর।

রায়ের কপি পরে দেখা যায়, ৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে দেশটির ফেডারেল কোর্টের বিচারক রিচার্ড জে মোসলে বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাস ও চরিত্র বিশ্লেষণ করে মন্তব্য করে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তার অনুসন্ধানে কিছুতেই এটার প্রমাণ নেই যে যার কারনে বলা যায় হরতাল সন্ত্রাসের সমার্থক। ফলে জুয়েল গাজীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর করেনবিচারক রিচার্ড জে মোসলে বলেন, বিএনপিকে নিয়ে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার অনুসন্ধান ও তার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল বিচারকের রায় কোনো ভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি ছিলো ত্রুটিপূর্ণ।তিনি বলেন, হরতাল আহবান করা সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে না উল্লেখ করে বিচারক রিচার্ড জে মোসলে তাঁর রায়ে বলেন, চলমান সংসদ ভেঙ্গে দিতে কিংবা আগাম নির্বাচনের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে কোনো রাজনৈতিক দল আহুত ‘হরতাল’ কর্মসূচি কোনো ভাবেই সন্ত্রাসবাদের আওতায় পড়ে না। বিচারক তার মন্তব্যে আরো বলেন, কানাডার কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কেবল তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচী গ্রহণের কারণে এমন মন্তব্য করা হলে তা হতো কানাডার চাটার্ড অব রাইটের মারাত্মক লঙ্ঘন।

বিচারক রিচার্ড জে মোসলে ইমিগ্র্যাশন ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের কড়া সমালোচনা করে, তাদের রায় ‘ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আইনসঙ্গত রায় বলে প্রতিয়মান হয়নি।

এর আগে কানাডা সরকারও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলো, বিএনপিকে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবেই বিবেচনা করে। এ ব্যাপারে কানাডা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনসার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ২০১৭ সালে কানাডার একটি আদালত একজন ব্যাক্তি বিশেষের উপস্থাপিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তাদের রায়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা বলে। ওই রায়ের একটি খণ্ডিত অংশের অপব্যাখ্যা করে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছিল। তিনি বলেন, এরপর কানাডা বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে বলা হয়, কানাডা সরকার বিএনপিকে একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে।আনসার উদ্দিন আহমেদ বলেন, এবার কানাডার সর্বোচ্চ আদালতের রায়েও প্রমাণিত হলো, বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অপপ্রচার ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে গিয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশিদেরকে বরং বিদেশে প্রশ্নের মুখোমুখি করে দিয়েছেন। নিজেদের হীন স্বার্থে আওয়ামী লীগ দেশ এবং জনগণকে বিপদে ফেলতে দ্বিধাবোধ করেনা এই রায়ের মাধ্যমে সেটিও প্রমাণিত হয়েছে।তিনি আরো বলেন, বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগের মতো লগি-বৈঠার নৈরাজ্যে বিশ্বাস করেনা। বরং এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, শেখ হাসিনার ব্যাংক ডাকাত সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির চলমান আন্দোলন সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক এবং ন্যায়সঙ্গত।

সূত্র : ডেইলিবিডিটাইমস রিপোর্ট

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1186 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com