স্বাধীনতার ঘোষকের ৮২তম জন্মবার্ষিকী : ‘৭৬ সালের ৪ নভেম্বর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ দেন শহীদ জিয়া

জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ ৬:২৬ অপরাহ্ণ

বিশেষ রিপোর্ট : : ১৯ জানুয়ারী ২০১৮। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের ৮২তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯শে জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশের উন্নয়ন ও স্বার্থবিরোধীদের চক্রান্তে ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে শহীদ হন বাংলাদশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া। স্বল্প কর্মময় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিটি ক্রমেই সফল ও সার্থক ছিলেন জিয়াউর রহমান।
শিক্ষা জীবন শেষে ১৯৫৩ সালে সে সময়ের পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এরপর নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ঘোষণার সময়টি শুধুমাত্র জিয়াউর রহমানের জীবনে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মুহূর্ত। স্বাধীনতার ঘোষণার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের কথা জিয়াউর রহমান নিজেই লিখেছেন ১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ।

‘একটি জাতির জন্ম ‘ শিরোনামে জিয়াউর রহমান লেখা নিবন্ধটি প্রকাশিত হয় সে সময় সরকারি মালিকানাধীন অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক বাংলা’র বিশেষ সংখ্যায়। জিয়াউর রহমান লিখেন
….. ‘তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ। ১৯৭১ সাল। রক্তের আখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটি দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনো দিন ভুলবে না। কোনো-ন-দি-ন-না’। …….

১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিটে জিয়াউর রহমানের দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাটি পরবর্তীতে কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র এবং দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরপর কয়েকদিন প্রকাশিত হয়। বাংলাদশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে নাম লিখেন জিয়াউর রহমান। সেই সময় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী মানুষের একচ্ছত্র নেতা। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনী তৎকালীন স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের উপর হামলা করার পরও শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেননি। তিনি ধানমন্ডির ৩২ নাম্বার বাড়িতে বসে থেকে পাকিস্তানী বাহিনীর কাছে বিনা প্রতিবাদে আত্মসমপর্ণ করেন। এ অবস্থায় দিকনির্দেশনাহীন স্বাধীনতাকামী মানুষের সামনে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথমে নিজেই ড্রাফট করেন এবং নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। পরবর্তী ঘোষণায় তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের নামোল্লেখ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল, যাতে করে শেখ মুজিবকে পাকিস্তানিরা বিশ্বাস না করে কিংবা শেখ মুজিবের পাকিস্তানিদের সঙ্গে চলমান আপসরফার আর কোনো সুযোগ না থাকে।

১৯৭২ সালে ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। এরআগে ১০ এপ্রিল গৃহীত মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল থেকে মুজিব নগর সরকারের প্রেসিডেন্ট হন শেখ মুজিব। তাই দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জিয়াউর রহমান। ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণাটি নিজেকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের নামে দিলেও পরিবর্তী ঘোষণায় ‘অন বিহাফ অফ শেখ মুজিব’ উচ্চারণ করলেও সেই ঘোষণাও জিয়াউর রহমান রহমান দিয়েছেন ‘অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে। অর্থাৎ একটি দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হলে যেই নিয়মে দিতে হয় ঠিক সেইসব নিয়ম মেনেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান।

জিয়াউর রহমান অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি। সশস্র মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। তিনি বীরউত্তম। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমান প্রথমে সেনাবাহিনীর কুমিল্লা ব্রিগেডের কমান্ডার ও পরে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ২৫শে আগস্ট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর ‘সিপাহী জনতার বিপ্লবের’ মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান।

১৯৭৫ সালের জানুয়ারী মাসে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লিগসহ সকল রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোকে পুনরায় স্বনামে রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দিতে ১৯৭৬ সালের ২৮ জুলাই রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ বিধি জারী করেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান সেই সময় সেনা প্রধানের পাশাপাশি অর্থ-স্বরাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। জিয়াউর রহমানের জারি করা ‘রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ বিধি ‘র সুযোগে আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ চায়। আওয়ামী লীগের আবেদন মঞ্জুর করে জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগ দেশে স্বনামে রাজনীতি করার সুযোগ দেন শহীদ জিয়া। অর্থাৎ শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সাংবিধানিকভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেন আর জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ৪ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নামে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেন। বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন জিয়াউর রহমান। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৭ সালের ২০শে ফেব্রুয়ারি একুশের পদক প্রবর্তন করেন।
তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি এ এস এম সায়েম স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্র পরিচালনায় অপারগতা করলে ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশের উন্নয়নে ১৯ দফা
কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। সেইসব কর্মসূচির পক্ষে জনমত যাচাইয়ে তিনি ১৯৭৭ সালের মে মাসে ‘হাঁ’ ‘না’ ভোটের আয়োজন করেন। এই গণভোটে জিয়াউর রহমানের কর্মসূচির পক্ষে ৮৮ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণের ভোট পড়ে।

১৯৭৮ সালের ৩রা জুন অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিয়াউর রহমান জয়লাভ করেন। ওই নির্বাচনে মোট ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। ওই নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্ধি ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত বিরোধী রাজনৈতিক জোট গণতান্ত্রিক ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী। নির্বাচনে ৭৬.৬৭ শতাংশ ভোট পান জিয়াওর রহমান এবং ২১.৬৩ শতাংশ ভোট পান জেনারেল ওসমানী। আর বাকী ১.৭০ শতাংশ ভোট পান অন্য প্রার্থীরা।

১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ১৯ দফা কর্মসূচি সামনে রেখে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিএনপি পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তিনবার সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করে। এছাড়া দুইবার বিরোধীদল হিসেবেও সংসদে দায়িত্ব পালন করেন। জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি এখন গনতন্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে রাজপথের আন্দোলনে। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্রকে গুম করে রেখেছেন বাংলাদেশে প্রথম গণতন্ত্র হত্যাকারী বাকশালের জনক শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1029 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com