সুশীল পন্থায় ফ্যাসিজমের উৎখাত হয়, য়ুটোপিয়া না, শুধু এক্সটোপিয়ায়

ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৮ ১০:১০ পূর্বাহ্ণ

:: খালেদা জিয়াকে আপনি যেভাবেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন, আমি তার কম্পোজার আর রেস্ট্রেইন্ট দেখে এখনো আশ্চর্য হই। তার দুর্ভাগ্য, আজীবন এবং মৃত্যুর পরেও সম্ভবত তাকে শেখ হাসিনার সাথেই তুলনা করা হবে।

আমি একটা এতিম খানা বানাবো। সেই এতিম খানার জন্য আমি প্রাইভেট সিটিজেন এবং বিদেশীদের থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যাংকে রেখে দিলাম। সেই টাকা ব্যাংকেই পড়ে রইলো বিশ বছর। বিশ বছরেও কাজটা শুরু না করার জন্য আপনি যদি আমার অদক্ষতার সমালোচনা করেন, সেটা পুরাপুরি ভ্যালিড। কিন্তু টাকা আত্মসাতের একদম বেসিক প্রিন্সিপাল হোলো টাকাটা আমার কাছে আসতে হবে, আপনার সোর্স থেকে। টাকা আমার না, সেই টাকা ব্যাংকেই আছে, সুদে-আসলে তিনগুন হয়েছে, আমি এক টাকাও উঠালাম না – কিন্তু আমাকেই বলা হচ্ছে যে আমি টাকা চুরি করেছি।

এমন আশ্চর্য মামলা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলছে দীর্ঘদিন এবং হয়তো সাজাও হবে।

তার বক্তব্য পড়ে মনে হয় নি তিনি ভীত, কিন্তু তার কাছের মানুষদের কাছে তিনি একটাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, এরা আমার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দিলো !!! খালেদা গম্ভীর মানুষ। যৌবনে স্বামী হারানোর পরে ডিসিপ্লিন্ড পরিবেশ থেকে তিনি যেখানে এসে আটকে যান সেটা পুরাপুরি মেনস ওয়ার্ল্ড, আপনার ঠিক মুখের ওপর সিগ্রেটের ধোঁয়া ছড়ানো মেন্স ওয়ার্ল্ড। ডিফেন্স মেকানিজম হিসাবে তিনি নিজেকে প্রায় পুরাপুরি শাট ডাউন করে ফেলেন। তৃতীয় বিশ্বের মেয়েরা এই জিনিসটা কী – বুঝবেন।

চল্লিশ বছরে তিনি আর এই ছক থেকে আর বের হন নাই। একদম কাছের মানুষদের কাছেও তিনি নিজের চাহিদা, দুঃখ-কষ্টের কথা বলেন না। আমি যেহেতু তার সাথে উঠাবসা করি না এবং একান্তই পুরনো দিনের মানুষ, আমার কাছে এটা “গ্রেস”। কিন্তু তার কাছের মানুষরাও এই আবেগের সংবরণকে সবসময় সম্মান করতে পারেন নি।

খালেদা কনশাসলি তার কলিগদের সাথে দূরত্ব তৈরী করেন। কিন্তু যারা তাকে খুব খেয়াল করেছেন – মনিব না, স্বাভাবিক একটা মানুষ হিসেবে – তারা আমাকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের দুটা কাজ তার ক্ষোভের শীর্ষ বিন্দুতে আঘাত করেছে। প্রথমটা হোলো, তার রুমে মদ আর পর্নোগ্রাফিক পত্রিকা রেখে আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিউজ চাউর করা আর দ্বিতীয় হোলো, এই চুরির মামলা।

এর চেয়ে অনেক সাংঘাতিক আর প্রবল অত্যাচার তার ওপর করা হয়েছে, কিন্তু এই দুটা কাজ তার প্রাইডকে আঘাত করেছে।

আমি জানি না তিনি কীভাবে সামলাবেন নিজেকে। আমি একজন মানুষকে শুধু একজন মানুষ হিসাবেই দেখতে পছন্দ করি, কারণ এভাবেই শুধু সেন্স মেইক মেইক করতে পারি আমি। আমার মনে হয় এই সত্তর বছর বয়সে তিনি আপনার কাছে এতটুকু আশা করতেই পারেন।

তার জেল হলে বিএনপির রাজনীতির এবং রাজনীতিবিদ খালেদার যে খুব বড় সুবিধা হবে, তাতে আমার সন্দেহ নাই। কিন্তু আমি সত্যিই চাই না তিনি আরো বেশী অপমানিত হন। অনেকেই তাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের শেষ প্রতীক হিসাবে দেখেন। আমার কাছে ব্যাপারটা অবান্তর মনে হয়। বাংলাদেশ সার্বভৌম – এটা আমাকে ইবলিসও কনভিন্স করতে পারবে না। আপনার মাথাটা যদি চাকরের মাথা হয়, সার্বভৌমত্বের প্রতীক থাকলেই কী আর না থাকলেই বা কী। খালেদা প্রধানমন্ত্রী হলেও আপনার মাথাটা চাকরের মাথাই রয়ে যাবে। আর মাথাটা যদি হয় আজাদীর, তাহলে জেলের গহীনতম প্ৰান্তেও য়ু আর দা মাস্টার অফ য়োর ওউন শীপ, আপনার কোনো প্রতীক লাগবে না।

আমি তাকে শুধুই একজন মানুষ হিসাবে দেখি। আমার বাবার সমকর্মীর স্ত্রী, আমার মায়ের বয়সী একজন মানুষ হিসাবেই দেখি। যেহেতু আমি বাংলাদেশে থাকি না, সেহেতু আমার পক্ষে তাকে এভাবে দেখতে পারাটা সম্ভব, আপনার পক্ষে নাও হতে পারে। আমার কাছে তিনি একটা পুরোনো অভিজাতপন্থার প্রায় শেষ দিককার মানুষ। এই অভিজাতপন্থা, মডার্ন সেন্সে যেভাবে আমরা এলিটিজম বুঝি, সেটা মোটেও না – একান্তই হিন্দুস্তানী মুসলমান সমাজের কনককটেশান। যারা এর খবর রাখেন না, তাদেরকে বলে বোঝানো কঠিন আমি কী বোঝাতে চাইছি এখানে। আমার আত্মজীবনীতে আপনারা এর বিস্তর বিবরণ পাবেন ভবিষ্যতে।

আমি জানি খালেদা ভীত নন, কিন্তু অপমানিত। তিনি প্রধান না অপ্রধান মন্ত্রী ছিলেন সেটা আমার কাছে বিবেচ্য না। আমার মায়ের বয়সী একজন সিনিয়র সিটিজেনকে বিনা দোষে সাজানো মামলায় অপমানিত হতে হবে, এটা আমি মেনে নিতে পারি না।

খালেদার সাজা থেকে অনেক বেশী গুরুতর প্রশ্ন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা যে তলানীতে এসে ঠেকেছে, এর থেকে উপরে চাইলে সরাসরি বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে না যাওয়া ছাড়া বাকী যে সব পথ, সেগুলো আদৌ কার্যকর কি না?

আপনি যদি আশা করেন ফ্যাসিজমের মোকাবেলা করবেন ভোট দিয়ে, তাহলে ভবিষ্যতে বিএনপিকে একটা ফ্যাসিস্ট দল হিসাবেই আত্মপ্রকাশ করতে সাহায্য করবেন।

সুশীল পন্থায় ফ্যাসিজমের উৎখাত হয়, য়ুটোপিয়া না, শুধু এক্সটোপিয়ায়।

সূত্র : ফাহিম আব্দুস সালাম

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1216 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com