শীর্ষ নেতাদের সফর চলতি মাসেই

জানুয়ারি ৬, ২০১৮ ৩:২০ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ের নানা কার্যক্রমের প্রাথমিক পরিকল্পনার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। সেই অনুযায়ী নতুন বছরজুড়ে দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকবে ক্ষমতাসীনরা। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’-এ সমাবেশ ও র‌্যালির মাধ্যমে রাজপথের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আর খুব শিগগির শুরু হবে ভোট কেন্দ্রভিত্তিক ডাটাবেজ তৈরি, পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ এবং ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের কাজ। এ ছাড়া চলতি মাস থেকেই শুরু হবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক সফর। এসব নেতা বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তৃণমূলকে সংগঠিত করবেন।

সম্প্রতি দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বৈঠক করে এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেটি ‘নির্বাচনী রোডম্যাপ’রই অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক শুক্রবার টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ২০১৮-জুড়েই নির্বাচনমুখী কর্মকাণ্ড চলবে। দুটি প্রক্রিয়ায় এ কাজ এগিয়ে যাবে। একটি হল পোলিং এজেন্টস প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। যেখানে প্রথমে মাস্টার্স ট্রেইনার্স তৈরি করা হবে, যারা বিভাগে গিয়ে এজেন্ট প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এরপর এজেন্ট প্রশিক্ষকরা জেলায় গিয়ে স্থানীয় এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেবেন। এভাবে তৃণমূল পর্যন্ত প্রশিক্ষণ পৌঁছে যাবে। আরেকটি হল দলের ওয়ার্ড থেকে জেলা-মহানগর পর্যন্ত কমিটিগুলোকে গুছিয়ে আনা। যেখানে কমিটি দেয়ার দরকার সেখানে কমিটি দেয়া হবে, যেখানে বিভাজন মেটানো দরকার সেখানে তাই করা হবে। এ ছাড়া প্রার্থী মনোনয়নের জন্য তৃণমূল থেকে পাঠানো প্যানেলের মাধ্যমে প্রার্থী চূড়ান্ত করার যে প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে, সেটাকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে আরও জোরদার করা হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে দল নির্বাচনমুখী হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওই নীতিনির্ধারক।

আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে দলটির সাংগঠনিক সফর শুরু হওয়ার কথা। একেকজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের নেতৃত্বে ১৫টি টিম সারা দেশ সফর করবে। সফরে জেলা-মহানগর, থানা-উপজেলায় বর্ধিত সভা করা হবে। এসব সভার মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরা হবে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বাড়ার পাশাপাশি সংগঠন আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন দলের শীর্ষ নেতারা। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে দিনটি সমাবেশ ও র‌্যালির মাধ্যমে পালিত হবে। মাসের বাকি দিনগুলো এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহ সাড়ম্বরে চলবে সাংগঠনিক সফর। এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস যথাযথভাবে পালন করবে দলটি। আর মার্চজুড়ে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন ক্ষমতাসীনরা। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দিবস, ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস। পরের মাস এপ্রিলের ১৭ তারিখে রয়েছে মুজিবনগর সরকার দিবস। অবশ্য এপ্রিলের শুরু থেকেই দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা সফর বাড়িয়ে দেবেন। নিকট অতীতে যাননি এমন জেলাগুলোয় যাবেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় জনসভা করবেন তিনি। যাকে এক অর্থে নির্বাচনী সফরও বলা যেতে পারে।

দলীয় প্রধানের সফরের সমান্তরালে কেন্দ্রীয় নেতারাও সাংগঠনিক সফরে সারা দেশে বর্ধিত সভা-জনসভা-পথসভা চালিয়ে যাবেন। এভাবে চলবে জুলাই পর্যন্ত। অবশ্য এর মধ্যেই ২৩ জুন আনন্দ-উৎসবের আমেজে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। আর আগস্টজুড়ে চলবে শোকের কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পাশাপাশি দলের প্রতিটি সহযোগী সংগঠন একটি করে শোকসভার আয়োজন করবে। এ ছাড়া ভাতৃপ্রতিম ও সমমনা সংগঠনগুলোর কর্মসূচি তো থাকছেই। আগস্ট শেষ হলেই সেপ্টেম্বর থেকে পুরো দল নামবে প্রকাশ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী ডিসেম্বরেই হতে পারে জাতীয় নির্বাচন।

দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্ল্যাহ যুগান্তরকে বলেন, ২০১৮ সালে দল নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। ইতিমধ্যে প্রার্থী মনোনয়নের কাজ চলছে। যারা মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক তারা যে যার এলাকায় ছোটাছুটি করছেন। দেশব্যাপী দ্রুতই সাংগঠনিক সফরও শুরু হবে। দলীয় কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে পালন করা হবে। সব মিলিয়ে ২০১৮ হবে নির্বাচনময়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনে পোলিং এজেন্টরা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। তারাই নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক সমন্বয় করেন। তাই তাদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে দলটি প্রথমে মাস্টার পোলিং এজেন্ট প্রশিক্ষণ দেবেন। এরপর তারা পর্যায়ক্রমে ১২ লক্ষাধিক পোলিং এজেন্টকে প্রশিক্ষণ দেবেন। যাতে তারা নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা এবং ভোটদানের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে দক্ষ হয়ে ওঠেন।

সূত্রমতে, চলতি জানুয়ারি মাসেই মাস্টার এজেন্ট প্রশিক্ষণ এবং মার্চে এজেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হতে পারে। দলের কার্যনির্বাহী সংসদের আজকের বৈঠকেই এ বিষয় দুটি আলোচনা হতে পারে। সেখানে অনুমোদিত হলেই কাজ শুরু করে দেয়া হবে। একই সঙ্গে কার্যনির্বাহী সংসদের অনুমোদনসাপেক্ষে তৃণমূলে ভোট কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হবে।

আরও জানা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলের পক্ষে একটি পোস্টার করা হবে। প্রচার ও প্রকাশনা কমিটির উদ্যোগে এ পোস্টার হবে যেখানে সরকারের বাস্তবায়িত মেগা প্রজেক্টগুলো তুলে ধরা হবে। এতে জনগণের জন্য আওয়ামী লীগ সরকার কী কী করেছে একনজরে সেগুলো দেখানো হবে। এ পোস্টার দিয়ে অচিরেই দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। জেলা-মহানগর, থানা-উপজেলা কমিটি এবং সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে রাজপথে, অলিতে-গলিতে, দেশের আনাচে-কানাচে এ পোস্টার লাগানো হবে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1071 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com