শিক্ষিকাকে স্কুলেই ধর্ষণ করলো লীগ নেতা

এপ্রিল ৩, ২০১৮ ২:৪১ অপরাহ্ণ

:: ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষক মিলনায়তনে আটকে ধর্ষণ করেছে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনাম আহমেদ। এমনটাই অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা স্কুল শিক্ষিকা। ওই স্কুল শিক্ষিকা বিচার পেতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সাথে বিচারের দাবীতে আজ সোমবার মনপুরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষক নেতারা বলে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।

ওদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপরে লেগেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও অভিযুক্ত ধর্ষক এনাম আহমেদের পিতা জাহাঙ্গির হোসেন। ধর্ষিতা দাবী করেছেন, ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে এনাম আত্মগোপনে চলে যায়। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হুমকি দিচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে ৩১ মার্চ সকাল সোয়া নয়টার দিকে। ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের হারিছ-রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ধর্ষিত ওই সহকারী শিক্ষিকা জানান, অন্যান্য দিনের মত ৩১ মার্চ সকাল নয়টার দিকে তিনি স্কুলে প্রবেশ করে শিক্ষকদের বসার নির্ধারিত কক্ষ (লাইব্রেরী) খুলে বসেন। এসময়ে এনাম কক্ষে প্রবেশ করে হঠাৎ দরজা আটকে দেয় এবং তাকে ধর্ষণ করে। প্রথমাবস্থায় ডাক চিৎকার দিলে কেউ শুনতে পায়নি। তবে এক পর্যায়ে ধ্বস্তাধ্বস্তি করে বের হয়ে বাইরে এসে চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। ততক্ষণে ছাত্রলীগ নেতা এনাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: সফিউদ্দিন বলেন, ঘটনার দিন আমি স্কুলে ছিলাম না। তখন আমি মার্কার স্কিল ডেভলপমেন্ট ট্রেনিংয়ে ছিলাম। ধর্ষিতা ওই শিক্ষিকার বরাত দিয়ে সফিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একই সাথে বলেন, স্কুলের সিঁড়ির রুম দখল করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিল এনাম। তিনি ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় আমরা তার ক্ষমতার সামনে জিম্মি।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহীম চৌধুরী পাপন বলেন, এনাম ছাত্রলীগের সহ-সভপতি। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্ষেণের এমন অভিযোগ আমার জানা নেই।

অভিযুক্ত ধর্ষক এনাম আহমেদের পিতা জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, যে শিক্ষিকা এমন অভিযোগ করেছেন তার বাড়ি মূলত স্কুল থেকে ৩০ কি.মি. দূরে। অনেকদিন ধরে বদলী হতে চেষ্টা চালাচ্ছিল। কোন উপায়ে না পেরে এখন নতুন নাটক সাজিয়েছে। জাহাঙ্গীর মেম্বর দাবী করেন, ওই দিন ওই শিক্ষিকা আগে এসে স্কুলের বিস্কুট নিয়ে যাচ্ছিল। তা দেখে ফেলায় তার প্রতিবাদ করে এনাম। ওই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধর্ষণের অভিযোগ তুলছে। এনাম কেন স্কুলের সিঁড়ির রুম দখল করে রাখছে এমন প্রশ্ন করা হলে এই আ’লীগ নেতা বলেন, আমার ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর তুলছি। তাই কিছু দিনের জন্য সেখানে থাকছে।

ধর্ষিত স্কুল শিক্ষকা বলেন, ঘটনার পরপরই শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে অবহিত করেছি। তারা লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে। আমি সেটাই করেছি। এখন তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় আমি সেটাই মেনে নেব। তবে আমি এমন ঘটনার সঠিক বিচার চাই।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সবাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। এখন মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1155 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com