শহীদ জিয়া বীর উত্তম ছিলেন যুদ্ধাপরাধী : বয়ানে মিথ্যুক হাসিনা

ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭ ৮:৩৫ অপরাহ্ণ

বিডিটাইমস রিপোর্ট : : যশোর ঈদগাহ মাঠের জনসভায় রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকসাই শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধী’ । শেখ হাসিনা তার ভেতরের কথাটা আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি। পাকিস্তান ভাঙার একটা ক্ষোভ সবসময়ই শেখ মুজিবের ছিল। শেখ মুজিবের মেয়ে হিসাবে তার পিতার স্বপ্নভঙ্গের জন্যবিভিন্ন সময়ে জিয়াউর রহমানের প্রতি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান শেখ হাসিনা।
শেখ মুজিব কখনোই পাকিস্তানের বিভক্তি চাননি। শেখ মুজিব চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান আর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। সুতরাং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভাঙার কারণে শেখ হাসিনার চোখে জিয়াউর রহমান ‘যুদ্ধাপরাধী’ এটাই স্বাভাবিক। শেখ মুজিবের স্বপ্নের ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তান ভাঙার অপরাধে জিয়াউর রহমান অবশ্যই ‘যুদ্ধাপরাধী’ । জিয়া যুদ্ধাপরাধী কারণ এটি তিনি যুদ্ধ শুরু না করলে পাকিস্তান দুই ভাগ হতোনা।

ইতিহাস সাক্ষী, শেখ মুজিবের আন্দোলন ছিল তৎকালীন পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের জন্য। তিনি চেয়েছিলেন ঐক্যবদ্ধ পাকিস্তানের শাসক হতে। এ কারণে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ কিংবা ২৫ মার্চেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি শেখ মুজিব । এমনকি ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদাররা গণহত্যা শুরু করলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব গ্রহণ করেননি বরং তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমপর্ণ করেন পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর কাছে।

অপরদিকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদাররা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের উপর হামলা শুরু করলে তখনকার তরুণ মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট ‘ বলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। সময় নষ্ট করে নিজেকে অস্থায়ী সরকারের রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরেই ঘোষণা করেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানী দখলদারবাহিনীর বিরুদ্ধে অস্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য মা বোনের সম্মানেই বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

১৯৭২ সালে ২৬ মার্চ প্রকাশিত অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা পত্রিকায় ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামে জিয়াউর রহমান নিজে একটি নিবন্ধ লিখেন। এতে তিনি লিখেন….

” সময় ছিল অতি মূল্যবান। আমি ব্যাটালিয়নের অফিসার, জেসিও আর জওয়ানদের ডাকলাম। তাদের উদ্দেশে একটি ড্রামের ওপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলাম। ….. আমি সংক্ষেপে সব বললাম এবং তাদেরকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা জানিয়ে নির্দেশ দিলাম স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে। তারা সর্বসম্মতিক্রমে হৃষ্টচিত্তে এ আদেশ মেনে নিল। আমি তাদের একটা সামরিক পরিকল্পনা দিলাম।

আর লিখেন .. .. .. ” তখন রাত ২টা বেজে ১৫ মিনিট। ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সাল। রক্ত আঁখরে বাঙালির হৃদয়ে লেখা একটা দিন। বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন স্মরণ রাখবে এই দিনটিকে। স্মরণ রাখবে, ভালোবাসবে। এই দিনটিকে তারা কোনো দিন ভুলবে না। কো-ন-দি-ন না”।

জিয়াউর রহমানের নিজের এই লেখায়ও স্পষ্ট, তিনি ২৬ মার্চই প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘোষণাটি তিনি নিজেই ড্র্রাফট করেছেন। নিজের মত করেই দিয়েছেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র এবং দেশে বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে পর পর কয়েকদিন প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে। সুতরাং, ঐতিহাসিক সত্য হলো, জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। তাদের চোখেই জিয়াউর রহমান ‘যুদ্ধাপরাধী’ যাদের হৃদয়ে পেয়ারে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে শেখ হাসিনা ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলবেন এটাই স্বাভাবিক। কারণ বাস্তবতা হলো, সারাজীবন পূর্ববাংলার স্বাধিকারের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবজনক সময় মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি নেতৃত্ব গ্রহন করতে বার্থ হয়েছিলেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধকালে তার ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও রহস্যময়। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পরও পাকিস্তান থেকে শেখ মুজিবের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফেরা ছিল বিতর্কিত। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারীশেখ মুজিব স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরেছিলেন পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে। যে কোন যুক্তিতেই হোক, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হওয়ার পর অন্য দেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করা মানে আইনের দৃষ্টিতে তিনি ওই দেশেরই নাগরিক।

বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পরও বিনাবাক্য ব্যয়ে সজ্ঞানে পাকিস্তানের পাসপোর্ট গ্রহণ করে শেখ মুজিব পাকিস্তানের নাগরিকত্ব কবুল করেছেন। এটাই আইনের কথা।

অতএব পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর তার নাগরিকত্ব আইনের দৃষ্টিতেই বিচার্য।

একজন পাকিস্তানী নাগরিক কেমন করে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন শেখ মুজিব সেই প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরী ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1545 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com