লেটুস মামার নতুন মিশন

ডিসেম্বর ২৫, ২০১৬ ১২:২১ অপরাহ্ণ

এটা ভবিষ্যতের গল্প। এক শতাব্দী পরের গল্প। যে সময়ের কথা বলছি, তখন দেশে-দেশে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারণাটা পুরোনো হয়ে গেছে। বন্ধুত্ব হয় গ্রহে গ্রহে! ‘গ্লোবালাইজেশন’-এর মতো তখন চলে ‘ইউনিভার্সালাইজেশন’! অফিসে মানুষ ও এলিয়েন যেমন একসঙ্গে কাজ করে, তেমনি ক্লাসরুমেও একসঙ্গে ক্লাস করে মানুষ ও এলিয়েন! মানুষেরা স্কলারশিপ নিয়ে পড়তে চলে যায় অন্য গ্রহে। আবার ভিনগ্রহ থেকেও উচ্চশিক্ষার জন্য এলিয়েনরা পৃথিবীতে আসে।
লেটুস মামার সঙ্গে যে দুজন এলিয়েন পড়ে, তারা মূলত যমজ ভাই। মামার আসল নাম ‘লেটুস’ না, ক্লাসে লেট করে আসতে আসতে এই সুন্দর নামটি তিনি পেয়েছেন!
একদিন সকালে লেটুস মামা বললেন, ‘বুঝলি রে পাঙ্কু, এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছা করছে।’
সাতসকালে মামার মুখে এই কথা শুনে পাঙ্কু বলল, ‘কেন মামা, তোমার হঠাৎ কী হলো?’ মামা-ভাগনে একই ক্লাসে পড়ে। মামা ভাগনেকে ডাকেন ‘পাঙ্কু’ বলে। ভাগনে সব কাজে ‘পাঙ্কচুয়াল’ বলে তার এই নামকরণ!
মামা বললেন, ‘ধ্যাত, তোকে কে বলল আমি মরতে চাই? পৃথিবী ছেড়ে অন্য গ্রহে যেতে ইচ্ছা করছে। ভ্রমণ মিশন শুরু করতে চাই! পড়াশোনা করতে করতে বোর হয়ে গেলাম।’
‘গ্রেট আইডিয়া! লুডু-দাবাকেও সঙ্গে নিতে হবে।’
যমজ এলিয়েন পড়ে তাদের ক্লাসে। সবাই দুই ভাইকে ‘লুডু’, ‘দাবা’ নামে ডাকে! কারণ, ওদের একজন লুডু খেলতে পছন্দ করে, অন্যজন দাবা! লুডু মাথা খাটাতেই চায় না, ঘোরাঘুরি ওর পছন্দ। কিন্তু দাবা মাথা খাঁটিয়ে কাজ করতে পছন্দ করে। পড়াশোনা ওর পছন্দ। লেটুস মামা তাঁর ভ্রমণ মিশনের কথা বলতেই লুডু খুশিতে লাফানো শুরু করল। অন্যদিকে এতে পড়ার ক্ষতি হবে ভেবে দাবা মন খারাপ করে রইল। যা-ই হোক, একদিন সকালে ইউনিভার্সাল ভিসা নিয়ে তারা রওনা দিল লুডুদের গ্রহে।
চারজন অন্য গ্রহের পাহাড়ে আহার করল, ঝরনার পানিতে গোসল করল, বাণিজ্য মেলায় কেনাকাটা করল, সাফারি পার্কে অদ্ভুত সব প্রাণী দেখল! এত আনন্দের পর লেটুস মামা আবিষ্কার করলেন, দাবার মন ভীষণ খারাপ! মামা বুঝে ফেললেন এর কারণ, জ্ঞান-বিজ্ঞান ছাড়া দাবা থাকতে পারে না। তিনি বললেন, ‘অন্য গ্রহে এসে লেখাপড়ার জন্য লুকিয়ে ক্লাসরুমে ঢুকলে তা খুবই অপমানের হবে। তার চেয়ে আমরা জাদুঘরে ঘুরতে পারি। সেখানে অনেক জ্ঞানার্জন করা যাবে!’ দাবার মুখ আনন্দে চকচক করে উঠল।
জাদুঘরে মামারা সঙ্গে নিলেন ভিনগ্রহী গাইড। চমকপ্রদ ইতিহাস, জ্ঞান-বিজ্ঞান এই এলিয়েনদের। জাদুঘরের এক জায়গায় এসে পাঙ্কু থমকে দাঁড়াল। লেটুস মামা এখানেও লেট! তিনি হেলেদুলে একটু পর উপস্থিত হলেন। তিনিও অবাক। সামনে রাখা তিনটা কাচের পাত্রে অদ্ভুত বস্তু! এক পাত্রে মধুর মতো দ্রব্য, তার ওপরে লেখা ‘ভালোবাসা’, আরেক পাত্রে সবুজ জেলির মতো পদার্থ, তার ওপরে লেখা ‘শ্রদ্ধা’! অন্য পাত্রটিতে ধূসর ধোঁয়াটে কিছু, তার ওপরে লেখা ‘বিবেক’! পাঙ্কু গাইডকে জিজ্ঞেস করল, ‘এসব কী?’
গাইড বলল, ‘এগুলো হলো ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর বিবেক। বাস্তব জগতে এগুলো ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না। কিন্তু এই গ্রহের বিজ্ঞানীরা টেকনোলজির মাধ্যমে এগুলোকে আকার দিয়েছেন!’

দাবা বলল, ‘কিন্তু এগুলো এখানে রাখার লজিক কী?’

‘এগুলো মানুষ জাতির বিলুপ্তপ্রায় গুণাবলি! সত্যিকারের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিবেক বিলুপ্তির পথে। এই বিরল গুণগুলো আর কিছুদিন পর থাকবে না। তাই জাদুঘরে সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

দাবার আবার প্রশ্ন, ‘এগুলো বিলুপ্তির পথে কীভাবে বুঝলেন?’

‘এটা বোঝার জন্য রকেট সায়েন্স জানার দরকার নেই স্যার। পৃথিবী গ্রহে চলমান ঘটনাবলি দেখুন। ওখনকার ভালোবাসায় খাদ বেশি, শ্রদ্ধায় ঘাটতি অনেক আর বিবেক তো মৃতপ্রায়! মানুষ সামান্য কারণে বিবেকহীনের মতো অন্য মানুষকে মেরে ফেলে! আগে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের সম্মান করাই ছিল রীতি, অথচ এখন হেনস্তা করার উপায় খোঁজে মানুষ! এ ছাড়া ভালোবাসায় ঢুকে গেছে প্রতারণা!’

দেরিতে হলেও লেটুস মামা মুখ খুললেন, ‘আমাদের আর লেট করা ঠিক হবে না। মানবজাতিকে বাঁচাতে হবে! ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ, বিবেক ছাড়া মানুষের অস্তিত্ব থাকবে না। মানুষে মানুষে সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য বাড়ানোর মিশনে নামতে হবে।’

লুডু বলল, ‘কিন্তু এই ভ্রমণ মিশন?’

‘আপাতত বাতিল। আজ থেকে শুরু হবে আমাদের নতুন মিশন: মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের জাগরণ!’

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1202 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com