লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থবছরের ছয় মাস ,মামলায় আটকে আছে ৫০ হাজার কোটি টাকা

জানুয়ারি ২৬, ২০১৮ ৪:৫৩ পূর্বাহ্ণ

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। আলোচ্য সময়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে আয়কর। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছর এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাসে আদায় হয়েছে ৯২ হাজার কোটি টাকা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আদায় হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে প্রবৃদ্ধি মোটামুটি ঠিক আছে। তিনি জানান, গত ছয় মাসে শুল্ক আদায় বেড়েছে ২২ শতাংশ আর ভ্যাট ১৭ শতাংশ। তবে আয়কর আদায় বেশ খানিকটা পিছিয়ে রয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাস অর্থাত্ অর্থবছরের প্রথমার্ধে গত অর্থবছরের একই সময়ের চাইতে রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১৫ শতাংশের কিছু বেশি।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কাঙ্ক্ষিত হারে এগুচ্ছে না। এর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়ে। তারা বলছেন, অর্থনীতির যে অগ্রগতির চিত্র দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়।

চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। দেশের বাস্তবতায় এ রাজস্ব আদায় কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন তারা। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হতে পারে সর্বোচ্চ ২০ থেকে ২২ শতাংশ। কিন্তু ৩৫ শতাংশ সম্ভব নয়। এ কারণে বছর শেষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবেনা। এ জন্য বছরের মাঝামাঝি সময়ে অতীতের কয়েক বছরের মত এবারো রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে কমিয়ে আনতে হবে।

অবশ্য সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কিছু উপায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মামলায় ৫০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আটকে আছে। দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি করে এসব অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছেও এনবিআরের রাজস্ব পাওনা আছে। তিনি বলেন, এসব অর্থ আদয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দেব। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করে দিক নির্দেশনা চাইব। যাদের কাছে অর্থ পাওনা, তাদের বাজেট না থাকলেও মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দিয়ে যাতে পাওনা অর্থ আদায় করা যায়। এ সময় সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের পাওনা বকেয়ার পরিমাণও উল্লেখ করেন মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। এর মধ্যে কেবল পেট্রোবাংলার কাছেই এনবিআরের পাওনা ২২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কাছে ২ হাজার ৩শ’ কোটি, ইমিগ্রেশন অথরিটির কাছে সাড়ে পাঁচশ’ কোটি টাকা, বিটিআরসি’র কাছে পাঁচশ’ কোটি টাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছেও মামলায় একটি বড় অঙ্কের অর্থ আটকে আছে বলে জানানো হয়। শিগগিরই ফোর জি’র (চতূর্থ প্রজন্মের) তরঙ্গ নিলাম হলে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, নিয়মিতভাবে এসব অর্থ আদায় করব। মাফ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1028 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com