রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে মিয়ানমার

অক্টোবর ২৪, ২০১৭ ৪:৪৯ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে বুধবার বৈঠকে বসছেন সফররত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এদিকে মঙ্গলবার মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। ওই আলোচনায় রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

এজন্য আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। ওই গ্রুপ যাচাই-বাছাই করে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাশাপাশি কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার।

সম্প্রতি মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দফতরের মন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মিয়ানমার সফরের আমন্ত্রণ জানান। ওই আমন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার ৩ দিনের সফরে মিয়ানমার যান।

বৈঠকের পর দেশটির নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ ) সই হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সমঝোতা স্মারকগুলো হলো- বর্ডার লিয়াঁজো অফিস স্থাপন এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সংলাপ সংক্রান্ত।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ২৭১ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। এই স্থলসীমান্তে কোনো প্রকার জঙ্গি বা সন্ত্রাসী তৎপরতা হলে তা দমন করতে সীমান্ত রেখার দুই দিকে দুটি লিয়াঁজো অফিস স্থাপন করা হবে। কোনো জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসী তৎপরতার খবর পাওয়া গেলে লিয়াঁজো অফিসগুলো পরস্পরের মধ্যে যোগাযোগ করে তা দমন করবে।

অপর এমওইউয়ের আওতায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমার নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে প্রতি বছর একবার করে দ্বিপক্ষীয় সংলাপে বসবে। এই সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসন করা হবে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে নিরাপত্তা চৌকিতে জঙ্গি হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গাঅধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হয়। অভিযানে রোহিঙ্গাদের ব্যাপকভাবে দমন-পীড়ন চালালে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে থাকে।

গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসে। আগে থেকে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ছিল। সব মিলিয়ে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ।

এদিকে ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। মিয়ানমার সন্দেহ করে থাকে, বাংলাদেশে মিয়ানমারের বিরোধী জঙ্গিরা আশ্রয় নিয়ে পালিয়ে থাকে।

মিয়ানমারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশ বরাবরই সীমান্তে যৌথ অভিযানসহ দেশটিকে সহায়তা দিতে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়েছে। মিয়ানমার কিছুতেই এসব প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তবে এবারই প্রথম বর্ডার লিয়াঁজো অফিস স্থান ও নিরাপত্তা সংলাপের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে এমওইউ করেছে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1123 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com