রোবট কে প্রমোট করা মানবতার চরম একটা অপমান

ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ ১১:০৬ অপরাহ্ণ

:: ১৬ কোটি দেশে খাদ্য , বস্র, বাসস্হানের , নিরাপত্তার কোন খবর নাই সেই সময় রোবট কে প্রমোট করা মানবতার চরম একটা অপমান । ক্যাপিটলজিম এর বিশ্রী রুপ । যখন কিছু মানুষের হাতে প্রচুর অর্থ চলে আসে অস্বভাবিক ভাবে ,তখন তারা নিজেদের মধ্যে একটা এলিট শ্রেণী তৈরী করে । আর এই এলিট শ্রেণী ঘন ঘন উৎসব তৈরী করে যাতে অর্থের সংগে আসা অপরাধবোধ কমে ।তারা একে অপরের পিঠ চাপড়ে দেয় ক্রমাগত শুধু একজনকে আরেক জনকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্য যে তারা নিজেদের পাপ সম্পর্কে ওয়াকীবহাল । শ্রমিক শ্রেণী যারা দুরত্বে থাকে তারা মনে করে হয়তো তারা খুব ভালো, মহান তাই তারা একে অন্যের পিঠ চাপড়ে দিচ্ছে । । উৎসবের আতশবাজির ছায়া পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করে । একবারও চিনতা করে না এই উৎসব তাদের হতে পারতো । শুধু তাই নয় । তারা নিজের ভোগের জন্য ব্যাবসার ট্রেন্ড ও তৈরী করে । যেমন গে মানুষ বা শিশুদের আকর্ষনীয় ভাবে প্রমোট করা । ধারনা করা হয় পৃথিবীতে যত নেচারেলি গে আছে তার চেয়ে বেশী গে হয়েছে এক শ্রেনির চাহিদার কাছে প্রকৃতি কে বিলিয়ে দেয় । চাইলড এ্যাবিউজ তাদের অর্থহীন ভোগ লিপ্সার সৃষটি । এখন রোবট এরকমই আরেকটা ভোগ এবং ট্রেন্ড তৈরির বাহানা । পৃথিবীর দুই তৃতিয়াংশ শ্রম বাজার যেখানে শ্রম নির্ভর ,গ্লোবালাইজেশনের ফলে যেখানে শ্রম বাজার গতি নির্ভর সেখানে রোবট দিয়ে শ্রম বাজার দখলের চেষ্টা গরীব মানুষকে আরো গরীব বানানোর ঘৃন্য পরিকল্পনা ছাড়া কিছু না ।

আধুনিক যুগে ক্যাপিটালিজমের সবচেয়ে বিশ্রী দিক হলো সুবিধাবাদ শ্রেণীর একটি’ মুখপাত্র শ্রেনী’তৈরী হওয়া । এই শ্রেণীর কাজ হলো ক্রমাগত সুবিধাবাদ শ্রেণীর প্রশংসা করে যাওয়া । এই শ্রেণী খুব আ্যমবিশাস থাকে । মুলত তারা শ্রমিক শ্রেণী থেকে আসে । এই শ্রেণী একতায় বা শ্রেণী বদ্ধতায় ত দুরে থাক এমনকি সোশ্যাল ওয়েল ফেয়ারেও বিশ্বাস করে না । তারা শ্রমিক হয়েও ক্যাপিটলজিম এর অন্ধ ভক্ত । তারা নিজেদের অস্তিত্বের বা শ্রমিক পরিচয়ের আক্রোশে সোশ্যাল লেডারে উঠার জন্য ডু অথবা ডাই নীতি অবলম্বন করে । ফলশ্রুতিতে তারা ক্ষমতাশীন বা সুবিধাবাদ শ্রেণীর মেক আপ বা মুখোশে পরিণত হয় । তাদের যত ভুল ত্রুটি আছে তারা ঢেকে ত দেয় , সাথে সাথে তারা তাদের সমাজের পরম হিতৈষী প্রমান করার চেষটায় জীবন দিয়ে দেয় । তারা তাদের শ্রমিক পরিচয় মুছে ফেলে ক্ষমতাসীন বা সুবিধাবাদ শ্রেণীর পরিচয়ে পরিচিত হতে চায় ।এতেই তারা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের তৃপ্তি খুজে পায় । এই মুখপাত্রশ্রেণীর মধ্যে প্রথম দলে থাকে বুদধি জীবী এবং দ্বিতীয় দলে থাকে পেশীজীবি । যাদের কাজ পেশী বা অস্র প্রদর্শন করে ক্ষমতাসীন দের পক্ষে কাজ আদায় করা । ভয়ানক কথা এই যে বিশ্ব বাজারে এই দুই ধরনের শ্রেণী আদতে সুবিধাশ্রেণী থেকে বেড়ে যাচছে । তাদের বাজারে কম্পিটিশন বেড়ে যাচছে । আর তাদের হাত ধরে সুবিধা শ্রেনী শ্রমিক শ্রেণীকে অনবরত ‘পিগমি ‘হিসেবে ব্যবহার করছে ।

এই মুখপাত্র শ্রেণীর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তারা শ্রমিকশ্রেণী থেকে উঠে আসা । এর ফলে তারা শোষিত শ্রমিক শ্রণীর মধ্যে সহজেই প্রভাব বিস্তার করে । তারা শ্রমিকশ্রেণীকে বিশ্বাস করিয়ে ফেলে যে ক্ষমতাসীন শ্রেণী যা করছে তা তাদের ভালোর জন্য করছে । রামপাল বিদুৎ প্রকল্পও বা আন্তর্জাতিক ভাবে টেরোরিজমের ধুয়া তুলে তেলের জন্য মধ্য প্রা্চ্যে পশ্চিমা দেশ গুলির হামলা ও প্রভাব বিস্তার এই শ্রেণীর সাফ ল্যের সাম্প্রতিক উদাহরন । এরা ফলে গরীব আরো গরীব হতে হতে সামাজিক উকুন বা সোশ্যাল নি টে পরিণত হচছে । তাদের সামনে এডুকেশনের মূলা ঝুলিয়ে রেখে তাদেরকে বলা হচ্ছে তোমরাও একদিন বড় হবে । কিনতু বেশীর ভাগ এডুকেশন এমন ভাবে তৈরী করা যার মধ্য দিয়ে মানুষ আর মানুষ থাকছে না । তারা একেকজন রোবট ‘সোফিয়াতে ‘পরিনত হচছে ।

পৃথিবীর পুরো সম্পদের ১০ % মানুষের হাতে ।তাদের বাদ দিয়ে বেশীর ভাগ মানুষ যখন রোবট সোফিয়াতে পরিনত হচছে তখন রোবট বানানো এবং তার পরিবর্ধন, পরিমার্জন , প্রচার এবং প্রসার সুন্দর বৈজ্ঞানিক এক্সপেরিমেন্ট মনে হলেও সেটা আদতে গরীব মানুষের জীবনের জন্য হুমকি স্বরুপ । আর তার প্রথম শিকার হবে বাংলাদেশের মত দেশগুলি যেখানে এথিক্স একটা রেনডম ধারনা মাত্র। তার বাইরে কিছু না ।অথচ এথিক স ছাড়া বিজ্ঞান জীবন্ত টাইম ব্যোম যা মুহূর্তেই গোটা মানব জাতিকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে।

লেখক : ফারজানা কবির, অনলাইন একটিভিষ্ট ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1061 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com