রাজায় রাজায়

সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭ ১:৩৮ অপরাহ্ণ

ছুটতে ছুটতে ছুটতে

এক সিংহ এলো বনে।

একপাল মহিষের সঙ্গে দেখা।

সিংহের দিকে অবাক হয়ে তাকাল মহিষগুলো।সিংহ বলল, এ বনে কি সিংহ আছে?

নেতা মহিষ বলল, সিংহ? সেটা আবার কী জিনিস?

হা-ল-উ-উ-ম।

বিশাল এক হাঁক ছাড়ল সিংহ। তারপর আবার চলতে লাগল।

হঠাত্ দেখা এক শিয়ালের সঙ্গে। অবাক হয়ে সিংহের দিকে তাকিয়ে রইল শিয়াল।

সিংহ বলল, এই বনে কি সিংহ আছে?

শিয়াল বলল, তুমি কে হে ভাই?

বুঝতে পারল সিংহ। শিয়াল কখনো সিংহ দেখেনি। তার মানে এই বনে সিংহ নেই।

আরেকটু দেখা যাক।কেশর নাচিয়ে আবার চলল সিংহ।

চলতে চলতে চলতে

হঠাত্ সামনে লাফিয়ে পড়ল বনবিড়াল। সিংহের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল বনবিড়াল।

সিংহ বলল, এই বনে কি সিংহ আছে?

বনবিড়াল বলল, সিংহ! সেটা আবার কী?

হুম। সিংহটা যা ভেবেছিল তা-ই। এই বনে সিংহ নেই।

আবার কেশর নাচিয়ে চলতে লাগল সিংহ।

চলতে চলতে চলতে

হঠাত্ পেছন থেকে ডাক। ও ভাই?

পেছনে ঘুরে তাকাল সিংহ। সেই বনবিড়াল। এবার চোখ দুটো কুঁচকে তাকাল সিংহ। কপালে কয়েকটা ভাঁজ ফেলল। বলল, হুম।

সিংহ কী?

মনে মনে খানিকটা হেসে নিল সিংহ। বলল, পশুর রাজা। আমি এই বনে এসেছি তোদের রাজা হতে। এ বনে সিংহ নেই। কোনো রাজাও নেই। তোদের রাজা আছে?

বনবিড়াল বলল, আছে।

চমকে উঠল সিংহ, আছে!

আবার বলল বনবিড়াল, আছে।

এবার খিক খিক করে হেসে উঠল সিংহ। বলল, সিংহ ছাড়া আবার রাজা হলো কে?

বনবিড়াল বলল, বাঘ।

অবাক হলো সিংহ। বলল, বাঘ!

বনবিড়াল বলল, আমার মতোই একটা বাঘ। তবে গায়ে-গতরে আমার চেয়ে বড়।

সিংহ বলল, কতই আর বড়। তাই বলে বাঘ হয়েছে বনের রাজা? নাহ্। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ তো পশুর অপমান। তোরা এটা মেনে নিয়েছিস?

উপায় ছিল না। বাঘের গায়ে অনেক জোর।

সিংহ বলল, আমি যদি তোদের রাজা হই, তাহলে কেমন হয়?

বনবিড়াল বলল, খুব ভালো হয়। আমি কী হব?

সিংহ বলল, তোকে উজির বানিয়ে দেব। চল দেখে আসি। কেমন তোদের রাজা।

বনবিড়ালের সঙ্গে চলতে লাগল সিংহ। চলতে চলতে চলতে

হঠাত্…

বনে শুরু হলো ছোটাছুটি। সবাই ছুটছে। হরিণ, শিয়াল, বনমোরগ, বানর, মহিষ। বনবিড়ালও ছুট দিতে চেয়েছিল। পারল না। থাবার নিচে ওর লেজটা আটকে রেখেছে সিংহ।

কুঁই কুঁই করে বনবিড়াল বলল, পালাও।

কেন?

রাজা আসছেন।

সিংহ বলল, আসুক। দেখি তোদের রাজা কেমন।

অমনি সামনে এসে হাজির হলো বাঘ। সিংহ দেখে ভীষণ রেগে গেল বাঘ। চোখ পাকাল। কান নাড়াল। গোঁফগুলো খাড়া করে ফেলল। তারপর হাঁক দিল, তুই কে হে? হা-আ-আ-ল-উ-উ-উ-ম।

ওরে বাপরে! কী বিশাল বাঘ। সিংহের চেয়েও বড়। ভয়ে সিংহের কেশর দাঁড়িয়ে গেল। কাঁপতে কাঁপতে বলল, আ-আ-মি সিংহ।

বাঘ বলল, আমায় চিনিস? আমি এ বনের রাজা। রয়েল বেঙ্গল টাইগার। বেরিয়েছি শিকারে। হা-আ-আ…

ব্যস। বাকিটা আর শুনতে চায় না সিংহ। ছুটতে লাগল উল্টো পথে। বনবিড়ালটা আগেই পালিয়েছে। কখন যে থাবা থেকে ছুটে গিয়েছে, টের পায়নি সিংহ।

পালাতে পালাতে পালাতে

বলতে লাগল সিংহ। ওরে বাপরে! রয়েল বেঙ্গল টাইগার। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বাঘ এ বনের রাজা। আগে কেউ বলেনি কেন? বললে কি আর এ বনে সে ঢোকে? এ বনে সিংহ নেই বলেই তো ঢুকেছিল। ভেবেছিল, পশুদের রাজা হবে। থাক বাবা। তারচেয়ে বরং…

ছুটতে ছুটতে ছুটতে

বন পেরিয়ে খোলা একটা মাঠে চলে এলো সিংহ। মাঠের মাঝখানে আলো ঝলমল করছে। চিনতে পারল সিংহ। ওটাই ওদের সার্কাসের দল। তারচেয়ে বরং সার্কাসের দলে থাকাই ভালো।

তারপর চুপিসারে নিজের খাঁচায় ঢুকে পড়ল সিংহটা।

একটু আগে এই খাঁচা থেকেই পালিয়েছিল সে।

আহমেদ রিয়াজ

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1187 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com