মৌলিক গল্প নির্ভর চলচিত্র “‘ঢাকা অ্যাটাক”

আগস্ট ১০, ২০১৭ ৬:২২ অপরাহ্ণ

(১)
সন্ধ্যা ৬টার পর কেউ ঘর থেকে বের হলেই তাকে মেরে ফেলা হয়। তাই গ্রামের মানুষজন সন্ধ্যা ৬টার আগে সকল প্রকার কাজ শেষ করে ঘরে ঢুকে পরে। আর সকাল ৬টার আগে কেউ ঘর থেকে বেরই হয় না। তা না হলে নিশ্চিত মৃত্যু।

কে বা কারা যেন অন্ধকার নেমে এলেই গ্রামের মানুষ জনদের হত্যা করে। বিষয়টি কেউ বুঝতে পারছে না। কেউ বলে ভূত, কেউ বলে ডাইনী আবার কেউ বা বলে গ্রামের সরদার নিজেই এসব করছে। এই রহস্যের কোন কূলকিনারা করতে পারছে না গ্রামের কোন মানুষ। তবে, পুরো বিষয়টি গ্রামের একজন শিক্ষিত মেয়েই শুধু জানে। কিন্তু সে রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ থাকে।

এই রহস্যাবৃত হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গ্রামে একজন পুলিশ অফিসারের আগমন ঘটে। তিনি গ্রামের সেই শিক্ষিত মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পুলিশ অফিসার তার কাছ থেকে পুরো ঘটনাটি জানতে পারে। সে মেয়েটির সাথে একাত্ব হয়ে একজন সাইনটিস্টের কাছে যায়। তারপর একটি বিশেষ পদ্ধতিতে তারা গ্রামের এই রহস্যাবৃত হত্যাযজ্ঞের সমাপ্তী ঘটায়। এতে গ্রামের সমস্ত মানুষ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পায়। তারা ২৪ ঘন্টা অবাধে ঘরে বাইরে যাতায়ত করতে শুরু করে।

এই হচ্ছে ‘সিক্স’ নামের একটা তেলেগু সিনেমার কাহিনী।

(২)
২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে মুক্তি পায় ‘শক ওয়েভ – Shock Wave’ নামের একটি হংকং-এর মুভি। সিনেমাটি একটি শহরের বোম্ব অ্যাটাক এবং বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের কাহিনী নিয়ে নির্মিত। ২৩ মিলিয়ন ইউএস ডলারের এই হংকং-এর সিনেমাটি ব্যবসা করে ৫৮.৮৩ মিলিয়ন ডলার।

(৩)
ঢাকা অ্যাটাক সিনেমাটির গল্প লিখা শুরু হয় ২০১২ সালে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পারিক চুক্তি হয় ২০১৪ সালে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সোনারগাঁ হোটেলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যেম ‘শুভ মহরত’ অনুষ্ঠিত হয়। মহরত অনুষ্ঠানের ব্যাকড্রপে দেখা যায় বোম্ব স্যুট পরিহিত আরেফিন শুভকে, তার ডানে মাহিয়া মাহি ও বামে এম-ফোর রাইফেলসহ এবিএম সুমন। (ব্যাকড্রপটি নীচে দেয়া হল)
…………………………

#রিউমার-১: ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার কাহিনী ইন্ডিয়ার ‘সিক্স’ সিনেমার ১০০% নকল।

জবাব: যে কেউ ১০০ কোটি টাকা বাজি ধরতে পারেন যে, এটা পৃথিবীর কোন সিনেমা, গল্প কিংবা উপন্যাস থেকে ধার করা কোন কাহিনী নয়।

#রিউমার -২: ‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার ব্যাকড্রপ ‘শক ওয়েভ- Shock Wave’ সিনেমার পোস্টারের নকল।

জবাব: পোস্টার তৈরীর সময়ের বিচারে উল্টোটাই কি যৌক্তিক নয়?

সৎ, বিজ্ঞ এবং পেশাদার চলচ্চিত্র সমালোচকের অভাবটাও বাংলা চলচ্চিত্র উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটা বড় অন্তরায়। নিজেরাই নিজেদের উপর আস্থা রাখতে পারছি না। বিষয়টি বেশ ভাবনার এবং শিক্ষণীয়ও বটে।

লেখক : সানি সানোয়ার, এডিশনাল এসপি, বাংলাদেশ পুলিশ ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 3226 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com