মা মাটি দেশ

ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৮ ২:৪৯ অপরাহ্ণ

:: … এবং তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার স্ত্রী

নাড়িছেড়া ধন, অকাল প্রয়াত কোকো’র মমতাময়ী মা কিংবা শহীদ জিয়ার একমাত্র জীবিত স্মৃতি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নির্বাসিত অসুস্থ্য পিনুর স্নেহময়ী জননী অথবা রতœাগর্ভা তৈয়বা মজুমদারের কলিজার টুকরা পুতুল, সাবেক মন্ত্রী চকোলেট আপার আদরের ছোট্ট বোন, জাতীয় সংসদের ২৩ টি আসনের পাঁচবারের এমপি, মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, দু’বারের বিরোধীদলের নেত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন, আমাদেও গৌরবময় স্বাধীনতার মহান ঘোষকের স্ত্রী, সাবেক সেনাপ্রধানের স্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির স্ত্রী, মহান মুক্তিযুদ্ধে ‘জেড ফোর্স’ প্রধান’র স্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, আপোসহীন নেত্রী দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া, এবং আবারো বলছি, তিনি বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার স্ত্রী।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মানসিকভাবে কতটা দৃড়চেতা হলে বলতে পারেন, “আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় বা দূর্নীতি করেনি। বেশি হলে আমার জেল হবে, এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপি’র অনেক নেতাকর্মী-ভক্ত আছেন, তাদেরও জেলে যেতে হয়েছে।”

১/১১’র সময় যখন চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন মরহুম শেখ মজিবের জেষ্ঠ্য কণ্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ, তখন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বলেই বেগম খালেদা জিয়া গর্জে উঠে বলেন, “শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়া উচিত। শেখ হাসিনাকে মুক্ত রেখে আইন পরিচালনা করা হলে পারস্পরিক অবিশ্বাস, সন্দেহ, সামাজিক উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক আশঙ্কা কমে আসবে। গনতন্ত্রের স্বার্থে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিন।”

কিংবা দীর্ঘ চার দশকের ভিটে মাটি, স্বামী বীর উত্তমের শেষ স্মৃতি চিহ্ন থেকে এক কাপড়ে উচ্ছেদ করার পরও নম্র কন্ঠে বলেন, “আমার ও শহীদ জিয়ার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ক্রমাগত অশোভন উক্তি, প্রতিহিংসামূলক বৈরী আচরণ সত্বেও আমি ক্ষমা করে দিয়েছি, আমি তার প্রতি কোনও প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবো না, শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করে দিলাম” — একটাই কারণ, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী।

বেগম খালেদা জিয়া একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী বলেই প্রায় ৯০ দিন নিজ কার্যালয়ে অনাহারে, অর্ধাহারে দিনাতিপাত করার পরও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন, “আসুন, রাজনীতিতে সহিষ্ণু, সুন্দর সংস্কৃতি গড়ে তুলি, যা গণতন্ত্রের জন্য খুবই প্রয়োজন। যাতে আমাদের কাছ থেকে ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো কিছু শিখতে পারে।”

১/১১ ‘র ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন গংরা যখন ছেলেদের কারামুক্তির বিনিময়ে বেগম জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার টোপ দিয়েছিল, তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার স্ত্রী বলেই আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বজ্র কন্ঠে বলেছিলেন, “বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই, এদেশ ছেড়ে আমি কোথাও যাবো না, বাংলাদেশই আমার ঠিকানা।”

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার স্ত্রী বলেই মানবিক বেগম খালেদা জিয়া দু’চোখ বুজে বানোয়াট মামলার রায় শুনে আইনজীবিদের বলেছেন, “দেশবাসীকে ধৈর্য ধরতে বলবেন, জেল-জুলুম দিয়ে আমাকে দুর্বল করা যাবে না, এ দেশের মানুষ আমার সঙ্গে আছে, আমাকে নত করানোর কোনও সুযোগ নেই, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবেন, ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।’’

ছোট বলে মায়ের কাছে সবচেয়ে আদরের ছিল কোকো, তাই যে কোনো আবদার নিমিষেই পূরণ করতে হতো। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস, খয়েরি রঙের কফিনে মোড়ানো কোকোকে নেওয়া হলো গুলশানে বিএনপি অফিসের নিচতলার একটি ঘওে, কফিন খোলার পর একটি গিলাফ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো তাকে। এরপর সন্তানের সঙ্গে মায়ের শেষ সাক্ষাত! দেশপ্রেম আর রাজনীতির পরীক্ষা দিতে গিয়ে প্রিয় কোকোকে আগলে রাখতে পারেননি মা। বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বামীর কফিন, বোনের কফিন, ভাইয়ের কফিন, মায়ের কফিন, এরপর পিতা-মাতার জন্য সবচেয়ে ভারী সন্তানের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেন নির্বাক বেগম খালেদা জিয়া। পিন পতন নীরবতা ভেঙে হঠাৎ গুমড়ে কেঁদে উঠলেন বেগম খালেদা জিয়া, কণ্ঠে চিরকালীন মাতৃত্বের হাহাকার, “আমার বাবার মুখটা ঢেকে দিও না, বাবাকে আরেকটু দেখি, কোকো রে, শেষবার মা বলে ডাক”।
১/১১’র সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল- সন্তান নাকি দেশ? তিনি তেজদীপ্ত উত্তরে বলেছিলেন, “দেশ।” এরপর অমানুষিক নির্যাতন নেমে এলো তার দুই সন্তানের উপর। এক সন্তানের পায়ের হাড় আর কোমরের হাড় ভেঙে দেয়া হলো, আরেক সন্তানকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে ব্রেন ড্যামেজ করে দেয়া হয়।
এরপর আবারও জিজ্ঞাস করা হলো- আপনার কাছে সন্তান বড় নাকি দেশ? উনি কেঁদেছেন। চোখের পানি ফেলতে ফেলতেই বলেছেন, “দেশ, এই দেশ-আমার মা, এই দেশ আমার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন, আমি আমার মায়ের কাছেই থাকবো, আমার স্বামীর স্বপ্নের দেশেই থাকবো। আমি আমার দুই সন্তানকে মহান আল্লাহর কাছে শপে দিয়েছি। আমি বেঁচে থাকবো আমার ১৬ কোটি সন্তানদের মাঝে।”
১৬ কোটি সন্তানের মাঝেই দেশ মাতা হয়ে বেঁচে থাকবেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, এবং তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার স্ত্রী বলেই তা সম্ভব।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1159 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com