মহানায়কের জন্মদিন

জানুয়ারি ১৯, ২০১৮ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ

:: একজন ব্যক্তি, মাত্র একজন ব্যক্তি যে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে চিহ্নিত একটি দেশকে মাত্র ৫ বছরেই পাল্টে দিতে পারে, শক্ত ভিতে দাঁড় করাতে পারে। এটা কোন স্বপ্ন নয়, নয় রূপকথার কোন গল্প ; অতি বাস্তব একটি উপাখ্যান। আর সেই ক্ষণজন্মা মহানায়ক আর কেউ নন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীরউত্তম।
স্বাধীনতার পর যখন দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করার কথা, দেশপ্রেম দিয়ে সদ্যস্বাধীন দেশের সীমাবদ্ধতা পূরণ করার কথা ; তখন শুরু হয় অনিয়ম আর লুটপাট! এর প্রেক্ষিতে ৭৪ সালে হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ! সারাবিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় হয় তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে!

কিন্তু মাত্র ৫ বছরেই কি এক জাদুর কাঠির স্পর্শে পাল্টে গেল সব!
দেশ হল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
এক ফসলা জমি দু’ফসলা এমনকি তিন ফসলায় পরিণত হল।
যেখানে কৃষি কর্মকর্তারা পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন না, সেখানে তিনি প্রমাণ করে দিলেন এদেশেও গম চাষ করে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব!
তিনি হাজামজা পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য সবাইকে অনুপ্রাণিত করেন।
প্রত্যেক বাড়িতে হাঁস- মুরগী, গরু- ছাগল পালতে বলেন।
বাড়ির আঙ্গিনা শাকসবজি চাষ করতে বলেন।
প্রত্যেক বাড়িতে ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছ লাগাতে বলেন।
নিজ হাতে কোদাল ধরে খাল খনন আর রাস্তা নির্মাণ করেন।
তিনি বয়স্ক শিক্ষা চালু করেন।
গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাঁতশিল্প উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন।
গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য পল্লী বিদ্যূতায়ন বোর্ড স্থাপন করেন।
গ্রামীণ রাস্তাঘাট উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থাপন করেন এলজিইডি।
বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থান করার লক্ষ্যে জেলায় জেলায় স্থাপিত হয় ইয়ুথ কমপ্লেক্স।
শিশুদের মানসিক বিকাশ এবং মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে স্থাপিত হয় শিশু একাডেমী।
শুরু হয় নতুন কুঁড়ি নামক প্রতিযোগিতা মূলক অনুষ্ঠান।
নারী শিক্ষার উপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয়।
পুষ্টির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে স্থাপন করেন বাংলাদেশ দুগ্ধ সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্কভিটা)।
দেশের জ্বালানি সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে স্থাপন করেন ” বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন “।
স্থাপন করেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ড্রাসট্রিজ কর্পোরেশন।
ভাটিয়ারীতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য ছিল পাট, চা এবং চামড়া।
তিনি নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেন।
যখন মানুষ এলসি কি বুঝত না, গার্মেন্টস শিল্প কি জানত না তখন
তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয় গার্মেন্টস পণ্য উৎপাদন এবং রপ্তানি।
শুরু হয় হিমায়িত চিংড়ীসহ নানা কৃষি ও কুটিরশিল্প পণ্য রপ্তানি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশসমূহের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে শুরু করেন জনশক্তি রপ্তানি।
সারাবিশ্ব সফর করে বিভিন্ন উন্নয়ন মডেল প্রত্যক্ষ করে তা বাংলাদেশের জন্য গ্রহণ করেন।
যে দেশের মানুষ রাষ্ট্রপতি দূরে থাক মন্ত্রী এমপিদের জীবন একবার দেখেছে কি না সন্দেহ, সেই দেশের মানুষ আবিষ্কার করল প্রেসিডেন্ট জিয়া তার বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন!
মাইলের পর মাইল হেঁটে মানুষে সাথে কথা বলেছেন, কামার -কুমোর -তাঁতি -জেলে -কৃষক – শ্রমিকদের অসুবিধার কথা জানতে চেয়েছেন।
মন্ত্রী আমলা নির্ভর না হয়ে নিজেই উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
প্রতিদিন ১৮ ঘন্টা পরিশ্রম করেছেন দেশের উন্নয়নকাজে।
তৃতীয়বিশ্বের দেশগুলোর ক্ষেত্রে সর্বদা একটা কথা প্রচলিত আছে ” রাষ্ট্রপ্রধান যদি দেশপ্রেমীক এবং সৎ না হন, দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়!
ব্যক্তিজীবনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সততা কিংবদন্তীতুল্য।
এত সাধাসিধে জীবন যাপন, নির্লোভ মনোভাব আর কঠোর সততা তিনি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বজায় রেখে গিয়েছেন।
এই মহানায়কের জন্মবার্ষিকীতে জানাই লাখো সালাম।

লেখক : আশরাফুল আলম খান জুয়েল, রাজনীতিবীদ ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1079 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com