মধ্যবিত্তীয় কৌলিন্য ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে

অক্টোবর ২৪, ২০১৭ ৪:৩২ অপরাহ্ণ

শেখ তাসলিমা মুন:

মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের ‘আভিজাত্য’ বোধ এক অদ্ভুত অন্ধকারময়তা। কী ভীষণ অপচয়! কী ভীষণ অদরকারি ক্ষতির বোঝা আমাদের ঘাড়ে চেপে বসে আছে। তাদের অ্যাঙ্গুইশ তারা ‘সাধারণ’ হয়ে যাবে। তাদের ভেতর থাকে একটি ‘আলাদা’ বা ‘সেপারেটনেস’ এর দ্বন্দ্ব। একটি ‘অহং’বোধ।

একটি বস্তির মেয়ের সাথে তারা নিজেদের এক করে দেখতে পারে না। পারে না এক হতে একটি শ্রমিক নারীর জীবনের সাথেও। ‘তারা’ ও ‘তাদের ঘটনা। ‘আমাদের’ নয়। এই ‘আমরা’ আলাদা। তাদের সাথে হয় না ‘আমাদের’ জীবনের তুলনা। ‘তাদের’ সাথে জীবন বদল কীভাবে সম্ভব? ‘তারা’ যে আচরণ করতে পারে ‘আমরা’ কিভাবে তা পারি? নারীর জীবনে ঘটা সকল ঘটানা যে এক ঘটনা তারা এক করে দেখতে পারে না।

এখানে তাদের শ্রেণী অহং চরমভাবে কাজ করে। দিনশেষে আমার জীবন যে ঐ বস্তির নারীর জীবনের সাথে এক, কোন পার্থক্য নেই শুধু এটুকুন বেরিয়ার ভাঙতে পারছে না আমাদের মেয়েরা। এ বদান্যতা তাদের নেই। তাদের সম্মানের দেওয়াল তাতে ভেঙে পড়ছে। একটি নিম্নবিত্ত মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে সে সেটি প্রকাশ করতে পারে। একটি ‘ফ্যামিলির’ মেয়ে তা পারে না। তাতে তাদের ‘কৌলীন্য’ থাকে না।

এ কৌলীন্য আমাদের সামনের দিকে এগুতে দেবে না। ভাঙতে হবে। ভাঙতে হবে মেয়ে! সামনে এগিয়ে এসো! আমি রাস্তার ঐ ভিখিরি নারীর সাথে যেদিন একসাথে বসতে না পারবো, তার বেদনা যখন আমার না হয়ে উঠবে, জেনে রেখো ভগ্নিগন, আমাদের দ্বারা এ পৃথিবীর এক রত্তি উপকারও হবে না! যা হবে তা কেবল কপটতা আর ভান! তা নিয়ে বেশিদূর এগুনো যাবে না!

রাস্তায় যে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়ে পড়ে থাকে, আর চার রুমের ফ্ল্যাটে যে মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়ে মুখে কুলুপ এঁটে থাকে, তাদের বেদনা কিন্তু একই বেদনা! আমরা একই নারী! আমার আর ঐ শ্রমিক নারীর মধ্যে কোন বিভেদ নেইগো!
আমাদের একসাথে চিৎকার করতে হবে! একই গলায়! একই শব্দে!

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1150 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com