ভূতের গল্প নয়

মার্চ ২৭, ২০১৮ ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ

 

:: (Not recommended for weak hearted person/s)
————————————

আচ্ছা! এই মুহূর্তে আমি যদি সবাই কে একটা প্রশ্ন করি, আপনারা কখনো ভূত-প্রেত দেখেছেন? প্রেতের উপস্থিতি অনুভব করেছেন? উত্তর অনেক রকম আসবে। অনেকে বলবেন, এই ধরনের উদ্ভট ব্যাপার আমি বিশ্বাস করি না, কেউ বলবেন এই সব কল্পনা প্রসূত আবার কেউ কেউ পুরো আস্থার সাথে বলবেন, দেখেছি, খুব হরিফাইং এক্সপেরিয়েন্স। আজ ভূত, প্রেত, মৃত্যু, আত্মা – এই সব নিয়ে খুব ভাবলাম। সারাদিন কাজ ছিলো না। বউ এর মেহমান আগামীকাল আসবে, তাই ও রান্না বান্নায় ব্যাস্ত। আর আমি অগাধ সময় পেলাম এসব নিয়ে রিসার্চ করার।

আত্মা বা স্পিরিট জিনিস টা খুব ই অদ্ভুত আর রহস্যময়। আমি মারা যাবার পর আমার অস্তিত্ব কি শেষ হয়ে যাবে? কারো দেহ থেমে যাওয়া মানে কি সব থেমে যাওয়া? মনে হয় না। মৃত্যু এতোই ইন্টারেস্টিং একটা ব্যাপার যার অনুভূতি কাউকে বলা যায় না। এরপর কি হবে কেউ ই জানে না। মজা করে আমার বউ মাঝে মাঝে বলে, মরার পর কি হয় এটা যদি জানা ই যেতো পৃথিবীতে এতো ধর্ম থাকতো না। আস্তিকতা নাস্তিকতা বলে কিছু ই থাকতো না। হয় সবাই আস্তিক হতো, নয় সবাই নাস্তিক। এই অদ্ভুত খেলা টার জন্য ই আমরা মৃত্যুর স্বাদ একবার ই গ্রহন করি।

আর আত্মা? যদি বলি আত্মার মৃত্যু নাই। বিশ্বাস করবেন? না মনে হয়, করবেন না। এক টা মজার কথা বলি, মানুষের মস্তিষ্ক মৃত্যু পর ও বেশ কিছু সময় অ্যাক্টিভ থাকে। কিছু বিজ্ঞানী সদ্য মৃত এক ব্যাক্তির ব্রেনের নিউরন সিকোয়েন্সিং স্ক্যান করেছিলো। যা সিগন্যাল পেয়েছিলো, তা ছিলো অদ্ভুত রকমের, সেই ওয়েভের কোনো গাণিতিক ব্যাখ্যা ছিলো না। এরচেয়ে মজার ব্যাপার ছিলো ব্রেন ডেড হবার আগ পর্যন্ত সিগন্যাল ড্যাম্পিং হয় নি বরং হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। আত্মা ব্যাপার টা জটিল। মানুষের আত্মা থাকলে গরু, ছাগলের ও আত্মা থাকার ব্যাপার টা আসে। ভূতের গল্পে সাদা কাপড় পরে, ঘোড়ার পিঠে চড়ে অনেক ভুত কে আমরা দেখি। কিন্তু আমার প্রশ্ন কাপড় ভূত হয় কিভাবে? ঘোড়া ভূত হয় কিভাবে? ঘোড়া না হয় বাদ ই দিলাম। কাপড় তো জড় বস্তু!

আত্মার ব্যাপারে আমার সব চেয়ে পছন্দ হয়েছে একটা লজিক। আত্মা একপ্রকার তরঙ্গ, আনইন্টারাপ্টেড আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সি সিগনাল। আমার মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র আর অন্য সব অর্গ্যান – সব কিছু ই ফ্রিকোয়েন্সি জেনারেট করে। এই ফ্রিকোয়েন্সি অসীম। প্রতি টা মানুষের নিজ নিজ ইউনিক ফ্রিকোয়েন্সি থাকে। আপনি জানলে অবাক হবেন, আমরা যে কথা বলি, বাতাসে যে ফ্রিকোয়েন্সি তৈরী হয়, তা মিলিয়ে যায় না। অসীম বিস্তারে এগুতে থাকে। আর মস্তিষ্ক থেকে তৈরী তরঙ্গ এর চেয়ে শত শত গুন শক্তিশালী কিন্তু এই তরঙ্গ রিসিভ করার ক্ষমতা আমাদের এখনো হয়ে উঠেনি। অনেক শক্ত কথা বল্লাম। আত্মা আপনার সামনে আসতে পারে না। যা আপনি কল্পনা করেন, তার ফিজিক্যাল ইন্টারপ্রিটেশন করা ব্যাপার টা ই ভূত দেখা। এই ফিজিক্যাল ইন্টারপ্রিটেশন জিনিস টা যে কতটা শক্তিশালী তা অনুমান করা কঠিন। আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় আমাদের যা সিগন্যাল দেয়, ব্রেন তা প্রসেস করে জানান দেয়। কী জানান দেয়? একটা রেফারেন্স। যেমন আমি ছোট বেলায় নাকি সাপ নিয়ে খেলেছিলাম। একটু ও ভয় না পেয়ে। কারন সাপের রেফারেন্স আমার ছিলো না। ভয় এর একটা রেফারেন্স থাকে। অন্ধকারে ভয়, নিঃসঙ্গতায় ভয়, মোস্ট কমন কিছু ভয়ের একটা হলো, বাথরুমে গোসলের সময় শ্যাম্পু করে চোখ বুজে শাওয়ারের নিচে দাড়ানো। কি যেনো এক ভয় অনেক কেই গ্রাস করে। আমার এক বন্ধু শ্যাম্পু দিয়ে চোখ নাকি খুলে রেখে ই চুল ধুতো, চোখ জ্বলুক। শাওয়ার হেড থেকে অশরীরী কিছু হয় তো বেড়িয়ে আসলো। এক টা হাত হয়তো গলা পেচিয়ে ধরলো। আরেক টা মজার ভয় হলো আয়না। অনেকে রাতে আয়নার দিকে তাকতে ভয় পায়। আয়নায় নাকি অশরীরী কিছু দেখতে পাওয়া যায়। আমার বড় বোন একবার রাতে আয়নার সামনে দাড়িয়ে চুল আচরাচ্ছিলো। হঠাৎ চিৎকার। এক টা মেয়ে নাকি আপুর পেছনে দারিয়ে ছিলো। সব চুল সামনে, মুখ ঢাকা। না!! গ্রাজ মুভি না। আমার বোন ভয় পেয়েছিলো ১৯৮৮ সালে। গ্রাজ মুভির অনেক আগে।

পঞ্চ ইন্দ্রিয়র কথা বলছিলাম। এই পাচ টা ইন্দ্রিয়ের বাইরে আমাদের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আছে, যা অনেক অনেক শক্তিশালী এবং সব ভয়ের মূল হোতা। এই ইন্দ্রিয় এতো ই শক্তিশালী যে সে ব্রেন কে নিজে নিজেই ফলস সিগনাল সেন্ড করতে পারে। হয় তো খুব অন্ধকার, আপনি একা আছেন, এই দুষ্ট ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বাবাজী ব্রেন এ একটা “স্পর্শের” ফলস সিগন্যাল প্রেরন করে দেয়। ব্যাস! হয়ে গেলো কাজ! এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ফলস সিগনাল হলো “ভিশনারি হ্যাল্যুসিনেশন” অথবা “অডিটরি হ্যাল্যুসিনেশন”। আর এই পুরা ব্যাপার টা ঘটে আমাদের অবচেতন মনে। কারন আমাদের নিজেদের মস্তিষ্ক টা এতোটাই স্মার্ট যে আমাদের সাথে মজার মজার খেলা খেলতে সে খুব পছন্দ করে।

আত্মার পর যে জিনিস টা খুব রহস্যময়, তা হলো আমাদের ঘুম। আপনি কি জানেন, ঘুমের একটা বিশেষ সময়ে আপনি মৃত্যুর খুব কাছে চলে যান! সেই সময় আপনার বডি টেম্পারেচার ১/২ ডিগ্রী কমে যায়। ঘুমের সবচেয়ে মধুরতম জিনিস টা হলো স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন যে কতো টা ভয়ানক হতে পারে, আমার চেয়ে ভালো আর কে জানবে!

খুব ছোট বেলা থেকে আমার একটা স্লিপিং ডিসঅর্ডার ছিলো। যার নাম স্লিপ প্যারালাইসিস। বাংলায় যাকে আমরা বলি বোবায় ধরা। আমার টা ছিলো থার্ড ডিগ্রী স্লিপ প্যারালাইসিস। থার্ড ডিগ্রী মানে হলো, আমার স্বপ্নে আমি যা দেখতাম আমি ঠিক তা ই করতাম। আমি প্রায় ই স্বপ্নে দেখতাম একটা মহিলা তার লম্বা চুল দিয়ে আমার গলা পেচিয়ে ধরে আমাকে মেরে ফেলছে। এবং মহিলা টার সব কিছু ই ঠিক, শুধু চোখে কোনো পাতা নেই। বড় নিস্পলক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি দৌড়ে পালাতে পারছি না। একসময় মহিলার চুল আমার গলায় পেচিয়ে গেলো। স্বপ্ন টা ভয়ের কিন্তু তার চেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো আমার সত্যি সত্যি দম বন্ধ হয়ে যেতো। পাশে কেউ যদি আমার ঘুম না ভাঙ্গায়, নিশ্চিত মৃত্যু। আমার মা সারা রাত জেগে আমাকে পাহারা দিতো। আমি মাঝে মাঝে নাকি নিজের হাত কামড়াতাম, গালে থাপ্পড় মারতাম। ব্যাপার টা পাশের মানুষের জন্য প্রচন্ড ভয়ঙ্কর ছিলো। কারন আমার মুখ দিয়ে জান্তব চিৎকার বের হতো। আমার চিকিৎসা করেন খুব ই বড়ো মাপের একজন মনোবিজ্ঞানী। উনি আমাকে অনেক দিন পর্যন্ত অবজার্ভ করেছিলেন। আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি। আমাকে স্বপ্নের ব্যাপার টা খুলে বলতে বললেন, এরপর উনি আমাকে বললেন, যখন ই ওই মহিলা আমার গলায় চুল পেচিয়ে ধরার চেষ্টা করবে আমি যেনো তাকে না মেরে তার চুল ধরে ফেলি। আর জোড়ে চিৎকার করে উঠি মা অথবা বাবা বলে। এর ফলে যা হলো, আমি যখন ই চিৎকার করতে যেতাম আমার ঘুম ভেঙ্গে যেতো। এই অসুখ টা সারতে আমার বেশ কবছর লেগেছিলো।

আমার জীবনে ভূত প্রেত সংক্রান্ত কাহিনী নেই। কারন, হতে পারে আমি নিজে মোটামুটি সাহসী একজন ছেলে। ২০০৯ সালে পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজে সিলেট গিয়েছিলাম। আমরা ওখানে একটা বড়ো বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে থাকতাম। প্রায় ২০/২৫ জন। প্ল্যান্টের কাজের মাঝে ঈদ পরে গেলো। ঈদের তিন দিন আগে, বেশীর ভাগ ইঞ্জিনিয়ার চলে গেছে যার যার গ্রামের বাড়ি তে। আমি ঢাকার বাসিন্দা বলে ঈদের আগের দিন যাবো। পুরা বাসায় দুই টা পিওন, আমি আর আরেক জন ইঞ্জিনিয়ার। আমি সেই রাতে একা একা রুমে ঘুমাচ্ছিলাম। পর পর দুই টা মুভি দেখে। স্টিফেন কিং এর “দ্যা শাইনিং”, এরপর “এক্সরসিস্ট”। আমি মুভি দেখে মরার মতো ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ আমার মনে হলো কিছু একটা আমার পায়ের উপর বসে আছে। নড়াচড়া করছে। আমি লোক টা সাহসী, কিন্তু একা বাসায় মানুষের অনেক রকম আতঙ্ক কাজ করে। আমি নিচে তাকিয়ে দেখি একটা ছোট্ট বাচ্চা আমার পায়ের উপর বসে আছে। আমি নিস্তব্ধ রাতে আতঙ্কে কাঠ হয়ে তাকিয়ে আছি। বাচ্চা টা বসে আছে আর আপন মনে কি যেনো সব বলছে। বাচ্চা টার মুখ টা খুব ক্লান্ত। আমি বুঝলাম, সিনেমা দেখার ফলাফল। আমার এই ক্ষেত্রে যা করা দরকার – তা ই করলাম। বাচ্চা টার সাথে কথা বলতে গেলাম। কারন আমি অবচেতন মনে যা ই দেখে থাকি না কেনো, কথা বলতে গেলে আমি চেতন মনে চলে আসবো, আর চেতন মনে আমি ওকে আর দেখতে পাবো না। আমি কথা বলতে যাচ্ছি, হঠাৎ বাচ্চা টা আমার পায়ে কিছু একটা দিয়ে দাগ দিলো। আমি জোড়ে আমার পিয়ন কে ডাক দিলাম। আমি জানি, পিয়ন কে ডাক দেবার সাথে সাথে বাচ্চা টা কে আমি আর দেখবো না। সত্যি! হলো ও তাই। আমি “ফরিদ” বলে ডাক দিলাম। যদি ও ফরিদ এলো না, কিন্তু বাচ্চা টা অদৃশ্য হয়ে গেলো। সব ই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের খেলা। আমি বিছানা থেকে উঠলাম, পানি খেলাম। এরপর বারান্দায় গিয়ে সিগারেট ধরালাম। হঠাৎ মনে হলো পায়ের গোড়ালি তে সেই বাচ্চা টা কি যেনো একটা দাগ দিয়েছিলো। পা টা দেখে সত্যি সত্যি আমার হাত থেকে সিগারেট টা পড়ে গিয়েছিলো। আমার গোড়ালি তে খুব হালকা করে মোম জাতীয় লাল রঙ পেন্সিল দিয়ে একটা দাগ টানা। অবচেতন মনে হয়তো আমি নিজেই দাগ টা টেনেছি। কিন্তু কথা হলো সারা বাড়ি তে তন্ন তন্ন করে খুজেও কোনো অ্যাক্রিলিক কালার পেন্সিল পেলাম না।

২০০১ সালে আমার খালা হঠাৎ মারা গেলেন। বেশ রাতে বাসায় ফোন করে মামা জানালেন। শুনেই আমার মা, বাবা আর বোন আমাকে রেখে চলে গেলো। আমার বাবা বলে গেলেন, রাতে খালি বাসা রেখে যাওয়া ঠিক না। তুমি থাকো। কাল সকালে তুমি চলে যেও। আমি রয়ে গেলাম। খালা আমাদের অনেক আদর করতেন। মন টা খালা র চিন্তায় খারাপ হয়ে গেলো। আমি শুয়ে রইলাম। বিষণ্ণতা থেকে কেমন যেনো কষ্ট লাগছিলো। কষ্ট টা ক্রমে অস্বস্থি তে পরিণত হলো। ধীরে ধীরে অস্বস্থি টা ভয় আর ভয় টা আতঙ্ক হয়ে গেলো। একসময় এতো টা আতঙ্কে পেয়ে বসলো যে পানির তৃষ্ণা লাগলো। ঠিক যখন পানি খেতে উঠলাম। কারেন্ট টা চলে গেলো। তখন আই,পি,এস ছিলো না। ছিলো মোম বাতি আর চার্জার লাইট। আমি তিন চার টা মোম বাতি আর চার্জার লাইট জ্বালিয়ে বসে রইলাম। ওয়াকম্যানে টেস্টামেন্টের মেটাল গান বাজিয়ে চুপ করে বসে রইলাম। কিন্তু যে ভুল টা করলাম তা হলো প্রচন্ড আতঙ্কিত হয়ে। অশরীরী কিছু অনুভব করার প্রধান শর্ত হলো আতঙ্কিত হওয়া। আমি যেনো সেই অসহ্য মধ্য রাতে সত্যিই অশরীরী কিছু দেখার জন্য বসেছিলাম। আমি আমার রুমে শুয়ে আছি, উজ্জ্বল চার্জার লাইটের আলো চারদিকে। আর কানে বাজছে টেস্টামেন্টের “সোলস অফ ব্ল্যাক” – আমি চেষ্টা করছি সমস্ত স্বত্বা দিয়ে গান শোনার। কিন্তু হঠাৎ চোখ পড়ে গেলো আমার দড়জার দিকে, আধা খোলা দড়জার ফাক দিয়ে আমার মনে হলো ওই অন্ধকারে সাট করে কিছু একটা চলে গেলো। জাস্ট একটা মুহূর্তের জন্য। ওই একটা মুহূর্তে ই আমি অনুভব করে ফেললাম আমার সব ইন্দ্রিয় দিয়ে। যে টা সরে গেলো, সেটা একজন মানুষ। একজন বৃদ্ধা।

আমার কেন যেনো খুব কষ্ট লাগছিলো। মৃত্যুর কষ্ট। আজ আমার সাথে বাসায় আর যে ই আছে না কেনো, আমাকে নিয়ে যেতে এসেছে। এমন কোনো যায়গায় যেখান থেকে আমি আর ফিরতে পারবো না। আমি সন্মোহিতের মতো দড়জা খুলে এগিয়ে গেলাম। শুনশান রাত। কোন শব্দ নাই। রান্না ঘরের টিকটিকি কিংবা ইদুরের শব্দ গুলো ও কানে খুব বাজছে। আমি ধীর পায়ে আমাদের ড্রয়িং রুমের দিকে মোমবাতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। কেউ যেনো আমাকে বলে দিচ্ছে আমার বাড়ির দ্বিতীয় মানুষ টা বসার রুমে আছে। আমি আমাদের বসার রুমের সোফায় নানু কে দেখলাম। নানু আধ শোয়া ভাবে শুয়ে আছে সোফায়। আমার হার্ট বিট বেড়ে যাচ্ছে। হাত পা অসাড় হয়ে আসছে। তীব্র ভয়ে আমি কুকড়ে যাচ্ছি। আমার নানু কে আমি কেনো দেখছি! মৃত মানুষ কে দেখার কথা। কিন্তু আমার নানু তো বেঁচে আছেন!!! উনি কেনো এখানে! আমি আমার সমস্ত সাহস আর শক্তি দিয়ে ডাকলাম, “নানু, কী কর এখানে!” – উনি জবাব দিলেন না। কেমন কটমট করে তাকালেন। প্রচন্ড রাগ! ঠিক এমন সময় কেউ যেনো আমাকে ধাক্কা দিলো। কেউ নেই পেছনে। আবার সামনে তাকালাম, নানু ও নেই।

আমার খালা মারা যাবার ঠিক কিছু দিন এর মাথায় নানু মারা গেলেন। খালার মৃত্যু সংবাদ টা আমার নানু কে দেয়া হয়নি, নানু কে জানানো হয়েছিলো পরে। মেয়ে মৃত্যু সংবাদ মা ঠিক মতো নিতে পারে নি। হঠাৎ স্ট্রোক করে নানু মারা যান। নানুর মৃত্যুর সময় আমি পাশে ছিলাম না। মৃত্যুর আগে নানু কোনো কথা বলেন নাই। সবার সাথে অভিমান করে ছিলেন আর প্রচন্ড রাগ করেই উনি মারা গিয়েছিলেন।

আমার জীবনে ঘটা এই দুই টা কাহিনীর কোনো সমাধান আমি করতে পারি নাই। যদি ও এলেবেলে টাইপ সমাধান আমি করেছি। প্রথম টা ছিলো “অ্যাকিউট হ্যাল্যুসিনেশন”। কারন, ওই বাচ্চা টার চেহারা খানিক টা “দ্যা শাইনিং” এর জ্যাক নিকলসনের বাচ্চা টার মতো ছিলো। যদিও রঙ পেন্সিল এর ব্যাপার টার সমাধান আমি পাইনি। হতে পারে মনের অজান্তে পকেটে লাল রঙ পেন্সিল ছিলো। এরপর ঘুমের নন-রেম স্টেজে আমি নিজেই রঙ পেন্সিল দিয়ে দাগ কেটে পেন্সিল টা বাইরে ফেলে দেই।

২০০১ এর ঘটনা টা খুব ই রেয়ার একটা সিনড্রোম। এটা যে কোনো মানুষের জীবনেই আসতে পারে, একে বলে “পোটেন্ট প্রিমোনিশন”। মানুষ মনের অজান্তে ঘটে যাওয়া অতীত দেখতে পায়। যাকে বলে “ডেজাভ্যু”। আবার খুব ই বিশেষ ক্ষেত্রে হয়তো জীবনে একবার ভবিষ্যৎ দেখে ফেলে, নিকট ভবিষ্যৎ। কারন আমার খালা মারা যাবার পর আমার অবচেতন মনে প্রথমেই এসেছিলো, নানু এই সংবাদ শুনে কী করবে! নানু কে না জানানো ই ভালো। – আর সেই ইনফরমেশন টা আমার ব্রেন ফিজিক্যাল ইন্টারপ্রিটেশন দিয়েছিলো।

এবার বলবো আমার এক পরিচিত আপুর (ধরে নেই শীলা) গল্প। খুব সাধারন কাহিনী। কাহিনী টা ওইজা বোর্ড কে ঘিরে।

ওইজা বোর্ড সবাই চেনেন। প্রথম চীনে এটার প্রচলন হয় ১১০০ শতাব্দী তে। আত্মার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নাকি এটা খুব কাজে দিতো। এরপর ধীরে ধীরে এটা ব্যাপ্তি লাভ করে প্রাচীন ভারত বর্ষ, গ্রীস, রোম আর মেডিয়েভাল ইউরোপে। ১৯০০ সালের প্রথম দিকে কমার্শিয়ালি এই বোর্ড টি খেলার উপকরন হিসাবে ছাড়া হয়। এই বোর্ডে ইংরেজী ২৬ টি অক্ষর সাজানো থাকে অর্ধ বৃত্তাকারে। এক পাশে থাকে “ইয়েস” অন্য পাশে “নো”। নিচে লাইন ধরে ওয়ান থেকে জিরো পর্যন্ত লেখা থাকে, আর থাকে “হ্যালো” আর “গুড বাই” – মাঝে ওইজা কয়েন (প্ল্যানচেটি) রাখার স্থান। এই বোর্ডের চারপাশে খেলোয়ার রা গোল হয়ে বৃত্তাকারে বসে, আর বলতে থাকে “যদি কোনো ভালো আত্মা আমাদের পাশে থাকেন, দয়া করে সাড়া দিন”। এই খেলার আরো অনেক নখড়া আছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘর অন্ধকার করে, পিনপতন নিস্তব্ধতায় খেলতে হবে। সবার মন কে কেন্দ্রিভূত করতে হবে। এরপর যদি ভাগ্য ভালো হয়, আত্মার দেখা পেলেও পাওয়া যেতে পারে। ওহ! দেখা নয়! অনুভব। কয়েন নড়ে চড়ে জানান দেবে আত্নার উপস্থিতি। সবাই কয়েনের উপর আঙ্গুল দিয়ে রাখে তাই একজনের ইচ্ছায় কয়েন নড়বে না। এই টা ই মজা। যদি ও ওইজা বোর্ডের মজা সবাই পায়না। সেই আপু পেয়েছিলেন।

শীলা আপু খুব ই এক্সট্রোভার্ট টাইপের মেয়ে ছিলেন। ১৯৮৫ তে এস,এস,সি তে স্টার পাওয়া। আমরা তখন পাশাপাশি বিল্ডিং এ থাকতাম। আমরা যখন ১৯৮৫ সালে মিরপুর আসি, যায়গা টা ছিলো তেপান্তরের মাঠের মতো। মাঠের মাঝে আমাদের বাড়ি। চারপাশে ছোট ছোট বাড়ি। আর জঙ্গল। দূরে একটা পুকুর। আমাদের সন্ধ্যার পর খুব ভয় লাগতো। আমরা ৩ ভাই বোন একসাথে বসে পড়াশুনা করতাম, ভয় এড়ানোর জন্য। রাতে বিভিন্ন শব্দ তো পাওয়া যেতো ই। বছরের শীতের সিজনে আমরা সবাই মিলে যখন গ্রামের বাড়ি যেতাম, বাড়ি পাহারার জন্য পাশের বাড়ির দুই জন কে আমাদের বাসায় রেখে যেতাম। আমরা দেশের বাড়ি থেকে ফেরার পর তারা বললেন, “আমাদের মাফ করবেন, এই বাসায় আমরা আর থাকবো না। রাতে দুই তলায় প্রচন্ড শব্দ হয়, নুপুর পায়ে কেউ নাচে, আবার খুব কান্নার শব্দ পাওয়া যায়। আর্তনাদের শব্দ পাওয়া যায়।” আমরা অবশ্য তেমন কোন উৎপাত পাইনি। তবু ও আমার বাবা বাড়ি টা পাড়ার ইমাম সাহেব কে দিয়ে “বাধালেন”। আমার এখনো মনে আছে বাড়ির চার কোনায় চার টা ছোট মাটির কলসি তে কি সব আরবী আয়াত আর লাল কাইতান ভরে ঢাকনা লাগিয়ে সিল করে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হলো। বাসায় মিলাদ পড়ানো হলো। জানি না, কলসির শক্তি তে নাকি মানসিক শক্তির কারনে আর কখনো ভূতের উপদ্রব হয়নি। কিন্তু ১৯৮৬ সালে আর একবার ই হলো।

আমাদের প্রতিবেশি শীলা আপুর কাজিন রা বেড়াতে এলো ১৯৮৬ সালের বর্ষার এক মাসে। সাত দিন থাকবে। কী আনন্দ! আমরা সবাই হৈচৈ করে বেড়াই। আর মেয়ে রা সবাই গোল হয়ে কি সব গল্প করে আর হাসাহাসি করে। শীলা আপুর কাজিন রিমি। খুব স্মার্ট আপু। উনি সাথে করে এনেছেন ওইজা বোর্ড। উনার এক বান্ধবি গিফট করেছে। আমরা কেউ ওইজা বোর্ড চিনি না। উনি সবাই কে বুঝালেন। এরপর শুরু হলো খেলা। রাতের গভীরে মোম জ্বালিয়ে সবাই আমরা ওইজা বোর্ডের চারপাশে বসলাম। সব মিলিয়ে সাত জন। দুই ঘন্টা পেড়িয়ে গেলো, কিছুই হয় না। এরপর টানা চার/পাচ দিন খেলা হলো। আস্তে আস্তে খেলোয়ার কমে গেলো। কারো ই ইন্টারেস্ট নাই। শেষে শুধু খেলতো রিমি আপু আর শীলা আপু। সেই শীলা আপু! তখন ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার পড়তেন। রিমি আপু আর উনার ভাই বেড়িয়ে চলে গেলেন। সাথে চলে গেলো রিমি আপুর ওইজা বোর্ড। আমরা ভুলে গেলাম ওইজা বোর্ডের কথা।

শীলা আপু ভুল্লেন না। উনি কাগজ কেটে ঠিক সেই রকম ওইজা বোর্ড বানালেন। তখনকার দিনের পঞ্চাশ পয়সার কয়েন কে বানালেন ওইজা বোর্ডের প্লানচেটি। প্রথমে আমাদের সাথে খুব ঝুলাঝুলি করতেন। উনার বড়ো বোন, আমার বোন, উনার ছোট বোন, আমি কেউ ই আগ্রহ প্রকাশ করলাম না। উনার বড়ো বোন রীতিমতো ক্ষেপে গিয়ে বোর্ড ই ছিড়ে ফেললেন। উনি আবার বোর্ড বানালেন আর একা একা ই খেলা শুরু করলেন।

রাতে সবাই ঘুমিয়ে যাবার পর বসার ঘরে উনি মোম বাতি জ্বালিয়ে খেলা শুরু করলেন। একদিন, দুই দিন, এভাবে সপ্তাহ গেলো। একরাতে নড়ে উঠলো প্লানচেটি। শীলা আপু কেঁপে উঠলেন। শুরু হলো উনার কথা।

এভাবে মাসে পার হলো। শীলা আপু কেমন যেনো হয়ে গেছে। কারো সাথে কথা বলে না। একা একা থাকেন। ঠিক মতো খায় না। আর সারা দিন ঘুমায়। আমরা কিছুই বুঝতে পারলাম না।

এর ই মাঝে উনার ওইজা বোর্ডের খেলা চলতেই থাকলো। হঠাৎ এক রাত, আমি ভুলবো না সেই রাতের কথা। সারাবাড়ি তে শীলা আপু কে পাওয়া যাচ্ছে না। হঠাৎ উনার বাবা খেয়াল করলেন – মেইন গেট খোলা! বাসায় কান্নাকাটি পড়ে গেছে। আমাদের বাসায় উনার বাবা সাহায্যের জন্য এলেন। বড় রা সবাই টর্চ লাইট নিয়ে চারদিকে খোজা খুজি শুরু করলো। হঠাৎ শীলা আপু কে খুঁজে পেলেন আমার বাবা। আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলো দূরে একটা পুকুর আছে, সেই পুকুর টা ব্যবহার হয় না। তার পাড়ে সেজদার ভঙ্গি তে পড়ে আছে শীলা আপু। সবাই মিলে উনাকে ওখান থেকে আনার চেষ্টা করলেন। উনি জান্তব চিৎকার দিচ্ছেন। কিছুতেই উনি আসবেন না। উনার মুখে শুধু একটা নাম ছিলো – “বিপটব”

ডাক্তার দেখানো হলো। শীলা আপু আবার স্বাভাবিক। এর মাস খানেক পর আবার!! এবার আরো ভয়ঙ্কর। উনাকে পাহারা দিয়ে না রাখলে একা একা উঠে গেটের কাছে চলে যান আর বাধা দিলে চিৎকার করতে থাকেন।

শেষ মূহুর্তে এমন ঘটনা হলো যে শীলা আপুর ঠিকানা হলো মেন্টাল অ্যাসাইলাম। উনি কাউকে চিনতেন না। একা একা কার সাথে যেনো কথা বলে। সারাক্ষন কথা বলে আর হাসে। সেই সময় নাম করা এক মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ শীলা আপুর চিকিৎসা শুরু করেন। উনি জীবন দাতা হিসাবে যেনো নেমে এলেন। উনি বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে বের করলেন, শীলা আপুর একসাথে দুই টা সিনড্রোম হয়েছে। অবসেসিভ হ্যাল্যুসিনেশন আর মাল্টিপল পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার। শীলা আপু এই “বিপটব” কে খুঁজে পেয়েছে কোনো পেপারের সংবাদে। বলিভিয়ান এক লোক গাড়ি অ্যক্সিডেন্টে মারা গেছে পরিবার সহ – ওই লোক টার নাম ছিলো বিপটব। সেই খবর টা উনাকে ইফেক্ট করেছিলো। এরপর থেকে উনি ওইজা বোর্ড দিয়ে বিপটবের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতো। আর বিপটব উনাকে বলতেন ও নাকি আবার পৃথিবী তে ফিরে আসতে চায়। আর তাই শীলা আপু মাঝে মাঝে মনে করতেন উনি ই বিপটব। সেই ভয়ঙ্করতম রাত গুলো আমি জীবনেও ভুলবো না, যখন শীলা আপু শ্লেষযুক্ত আর্তনাদ করে বলতেন “বিপটব!, বিপটব!!”

দীর্ঘ দুই বছরের চিকিৎসার শেষে উনি সুস্থ হলেন। সম্পূর্ন সুস্থ হয়ে উনি চার বছর পর এইচ,এস,সি দিলেন। এরপর ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ফিন্যান্সে মাস্টার্স করলেন। বিয়ে করলেন। জব শুরু করলেন। অনেক বছর হয়েছে বিয়ের। উনার এখন একটি সন্তান। মেয়ে টা সাংঘাতিক কিউট আর খুব ব্রিলিয়ান্ট। খুব সুন্দর ওদের সংসার। ওনার হাজবেন্ড টা যে কি ভালো!! প্রচন্ড কেয়ারিং।

আমি নিজে ভূত প্রেত বিশ্বাস না করা মানুষ। খুব সাহসী না হলেও লজিক ছাড়া ভূত বিশ্বাস করার মতো মানুষ আমি না। তাই এই তিন টা ঘটনার শেষেই আমি ঘটনা গুলোর লজিক দেবার চেষ্টা করেছি। আমাদের মস্তিষ্ক টা খুব ই কমপ্লিকেটেড একটা ডিভাইস। এর ভেতর যে একসাথে কতো কিছু চলে আমরা নিজেরাও জানি না। আমাদের অবচেতন মন টা খুব রহস্যময়। এখনো আমরা আমাদের নিজেদের এই একান্ত সম্পত্তির ১০ ভাগ ও এক্সপ্লোর করতে পারি নাই। অবাক লাগে, তাই না? এমনও কিন্তু হয়েছে, এক লোকের পাশে থাকা স্ত্রী, যার সাথে সে দীর্ঘ সময় পার করেছেন, পাশাপাশি ঘুমাচ্ছেন, তাকে তিনি হঠাৎ মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে অন্য কেউ মনে করেছেন, ভয়ঙ্কর কিছু মনে করেছেন। স্পেনে প্রায় চল্লিশ বছর আগে এমন ই একটা ঘটনা ঘটেছিলো। লোক টা নিজের স্ত্রী কে হত্যা করেছিলেন। কারন – হত্যার সময় উনার মনে হচ্ছিলো একটা পিশাচ তার বউ কে মেরে ফেলছে। যেভাবেই হোক পিশাচ কে হত্যা করে বউ কে উদ্ধার করতে হবে তার।

কয়েক বছর আগে শীলা আপুদের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। বেশ আড্ডা চল্লো। আমি খেয়ে দেয়ে বারান্দার কোনায় আসলাম। সিগারেট ধরাবো। হঠাৎ পরিচিত কন্ঠ শুনে ঘুরে কোনার দিকে তাকালাম। শীলা আপু। আকাশের দিকে তাকিয়ে একা একা কথা বলছেন আর হাসছেন। কি সব কথা, অবান্তর! শুধু একটা নাম ই কানে ধাক্কা খেলো “বিপটব”। আমার রক্ত হিম হয়ে গেলো। ফিরে যাচ্ছি, এমন সময় শীলা আপুর হাজবেন্ডের সাথে ধাক্কা লাগলো। উনাকে দেখালাম ব্যাপার টা। উনি পুরো ব্যাপার টা ই জানেন। বিয়ের পর থেকে ই মাঝে মাঝে শীলা আপু এভাবে কথা বলেন। যদি ও খুব কম। কিন্তু মাসে দুই এক বার বলতেই হয়। না বলতে দিলে নাকি এমন ভাবে তাকায়, মনে হয় এ শীলা না, অন্য কেউ। তাই শীলা আপু যখন কথা বলে উনি দূর থেকে পাহারা দেন। যেনো খারাপ কিছু না হয়। ডাক্তার দেখিয়েছেন, লাভ হচ্ছে না। শীলা আপু তখন ও কথা বলছিলেন। উনি যেনো এই পৃথিবীর কেউ না। অন্য কোনো মানুষ, যার শরীর টা শুধু শীলা আপুর মতো।

আত্মার আকৃতি প্রকৃতি আমরা সত্যিই জানি না, হয়তো অনেকে অনুভব করতে পেরেছেন। কিন্তু এখনো মেনে নিতে কষ্ট হয় শীলা আপুর এই ব্যপার টা একটা মেন্টাল ডিসঅর্ডার – হয়তো উনি সেই আত্মার সাথে সত্যিই সংযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। আমি সাধারন মানুষ। জানতে চাই না। হয়তো ইচ্ছে করে না সব কিছু জানতে।

লেখক : সাব্বির ইমন, মেকানিক্যাল ইন্জিনিয়ার, বুয়েট ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1153 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com