ভারতের মালদ্বীপ বিরোধী প্রচারণা

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৮ ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

:: মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের ইতিহাস দীর্ঘ। সম্প্রতি মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনকে উৎখাতচেষ্টা নিয়ে দেশ দু’টির সম্পর্ক ফের তলানীতে ঠেকেছে।

ভারত ও মালদ্বীপের মধ্যকার এই টানাপোড়েনে রীতিমতো প্রোপাগান্ডায় জড়িয়েছে ভারতের জাতীয়তাবাদী সংবাদমাধ্যমগুলো। এক্ষেত্রে যেন এক ধাপ এগিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার।

ভারতীয় নৌবাহিনী আয়োজিত ১৬ দেশের সামরিক মহড়া থেকে মালদ্বীপের সরে দাঁড়ানো নিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের বিষোদগারে ভরা প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল ‘দিল্লির আয়োজনে বিশাল নৌ-মহড়া, শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়াল মলদ্বীপ’।

প্রতিবেদনে মালদ্বীপের নাম লেখা হয়- ‘মলদ্বীপ’। পত্রিকাটির সম্প্রতি আরও কয়েকটি প্রতিবেদনে মালদ্বীপের জায়গায় ‘মলদ্বীপ’ লেখা দেখা যায়।

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম এই ক্ষুদ্রতম দ্বীপ দেশটি মালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। সহস্রাধিক প্রবাল দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটির বড় দ্বীপ এবং রাজধানী হলো মালে। বলা হয়ে থাকে- সবচেয়ে বড় ও জনবহুল দ্বীপের নামেই দেশটির নাম মালদ্বীপ রাখা হয়েছে।

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মালদ্বীপ শব্দের ‘মাল’ শব্দটি মালায়লাম ‘মালা’ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘মালা, মাল্য, পুষ্পমাল্য’। অথবা তামিল শব্দ ‘মালাই’ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘মালা, মাল্য পুষ্পমাল্য কিংবা সন্ধ্যা’।

কিন্তু বানান রীতির দোহাই দিয়ে আনন্দবাজার মালদ্বীপের জায়গায় ‘মলদ্বীপ’ লিখছে। বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ‘মল’ শব্দের দুই ধরনের অর্থ পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে বহুল প্রচলিত হলো- বিষ্ঠা বা ময়লা। নূপুর তথা চরণালঙ্কার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও তা তেমন প্রচলিত নয়।

তাই আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে মালদ্বীপের নাম ‘মলদ্বীপ’ লেখা যা শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থের বড় ধরনের বিকৃতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তা কতটা যৌক্তিক। যদিও ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি মালদ্বীপকে নিয়ে পত্রিকাটির এক প্রতিবেদনে ‘মালদ্বীপ’ লিখতেই দেখা যায়। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘চিনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শ্রীলঙ্কায় নোঙর করল ভারতের দুই যুদ্ধজাহাজ’।

যেখানে মালদ্বীপের উচ্চারণ কখনো ‘মলদ্বীপ’ হওয়ার সুযোগ নেই, সেখানে এই বিকৃতি কেন? বহুল প্রচলিত শব্দের বিপরীতে কম ব্যবহার শব্দের দোহাই দিয়ে আনন্দবাজারের মতো পত্রিকার দায় এড়ানোর সুযোগও কতটুকু। নাকি নিজেদের উগ্র জাতীয়তাবাদী ঘৃণা-বিদ্বেষ লুকিয়ে রাখতে পারেনি ভারতের প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকাটি। অবশ্য নামের ক্ষেত্রে এ ধরনের বহু বিকৃতি তাদের প্রতিবেদনে অহরহ দেখা যায়।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1082 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com