বেগম জিয়ার সততা পাগলেও বোঝে..

মার্চ ১২, ২০১৮ ১২:১১ পূর্বাহ্ণ

:: আব্দুল গাফফার স্যার।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত শাস্ত্রে মাস্টার্স শেষ করে, ঢাকার মানিকনগর হাই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন।গণিত যেন তাঁর প্রাণ।গণিত শাস্ত্রে তাঁর অবদান অসামান্য।গণিতের জন্য তাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতি আছে।এখনো তিনি গণিত নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করে চলেছেন।ইরাটোস থেনিসের ছাঁকনিকে তিনি বর্ধিত করেছেন ৮২৮ পর্যন্ত, যা সত্যিই বিস্ময়কর।

 

কিন্তু আজ তিনি অবহেলায় দিনাতিপাত করছেন।তিনি গত ১২ বছর ধরে(১২ মাস)রোযা রাখছেন।১৯৯৬ সালে কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর গ্রহণ করার পর, কোন এক দিন পারিবারিক কলহের জের ধরে তাঁর মানসিক সমস্যা দেখা দেয় এবং তখন তিনি পায়ে হেঁটে (তিন দিন সময় লেগেছিল।) ঢাকা থেকে তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুরে চলে আসেন।এখনো তিনি যতদূরেই হোক পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেন।তাঁকে কখনো একস্থানে পাওয়া সম্ভব হয়না।

 

আমি গত তিন দিন অনুসন্ধানের পর, আজ তাঁকে খালিশপুরের বেলেঘাট গ্রামে পেয়েছি।তাঁর সব কিছুই স্বাভাবিক আছে, কিন্তু তিনি অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন থাকেন।আমি তাঁকে আজ যখন খুঁজে পেলাম তখন তিনি গ্রামের ভিতর একটি বাড়ির বারান্দায় শুয়ে ছিলেন, আমাকে বললেন, “জাকির দেখ তো আমার গায়ে জ্বর আছে কি?” আমি তাঁর কপাল স্পর্শ করে বললাম, জি স্যার জ্বর আছে।স্যার আমাকে বললেন, “আচ্ছা জাকির বলতো? সব বড় বড় নেতারাই কি বড়বড় চোর হয় নাকি?” স্যারের এই কথা শুনে তো আমি অবাক,(মনে হচ্ছিলো তাঁকে যারা পাগল বলে তারাই তো পাগল) কি উত্তর দিব! মনে হচ্ছিল আমি বাক রুদ্ধ হয়ে গেছি।

 

আমি কিছু বলার আগেই স্যার বলতে লাগলেন, “ঢাকার শাহিন স্কুলে তারেক জিয়া গিয়েছে ভর্তি পরীক্ষা দিতে, ভাইভা বোর্ডে তাকে বলা হচ্ছে, তোমার বাবার নাম কি? সে বললো, আমার বাবার নাম জিয়াউর রহমান, বোর্ডের সবাই অবাক! সবাই সমোস্বরে বলে উঠলো, তার মানে তুমি প্রেসিডেন্ট সাহেবের ছেলে! সে মাথা নেড়ে হু বললো।তার সাথে কে এসেছে জানতে চাইলে, সে বললো মা এসেছেন,ঐ খানে বসে আছেন। পরে খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সময়, তিনি বললেন আপনারা আপনাদের দায়িক্ত পালন করবেন, প্রেসিডেন্টের ছেলে হিসেবে নয় ও যদি মেধার জোরে চান্স পায় তাহলে ভর্তি নিবেন, তা না হলে ভর্তি নেওয়ার দরকার নেই।আমার মনে হয় এই খালেদা জিয়া যদি সেই খালেদা জিয়া হয় তাহলে সে কখনো টাকা চুরি করতে পারেনা।”

 

আমি বিস্ময়ে স্যারের দিকে তাকিয়ে রইলাম, এই মানুষকে কিভাবে সবাই পাগল বলে! আমি রাজনৈতিক আলোচনায় যেতে চাচ্ছিনা সেটা অনুভব করে স্যারও অন্য কথা শুরু করলেন।বললেন- “তোকে কাছে পেয়ে খুব ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে সুস্থ হয়ে গেছি।আচ্ছা তুইও কি আমার মতো পাগল হয়েছিস! বার বার কেন আমাকে খুঁজে বের করিস?”বললাম স্যার ছোট বেলায় আপনার কাছে অঙ্ক শিখেছি, সেই অঙ্ক বিক্রি করে এখন খাচ্ছি।আপনার কথা খুব মনেপড়ে তাই আপনার সন্ধান করি।এভাবেই চলতে থাকলো গুরু শিষ্যের কথোপকথন।

 

বন্ধুরা, আমি স্যারকে নিয়ে এর অগে আমার ওয়ালে আরও অনেক কিছুই লিখেছি।কিন্তু কারও কাছ থেকে কোন সাড়া পাইনি।আমার মনে হয়, সমাজের বিত্তবান, মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্যারের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে হয়তো আমরা এই জ্ঞানের সাগর হতে আরও জ্ঞান আহরণ করতে পারবো।আসুন আমরা স্যারের জন্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিই আর দোয়া করি, স্যারকে আল্লাহ স্বাভাবিক জীবন দান করুন, আমিন……।

(সংগ্রহীত)

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1148 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com