বেগম খালেদা জিয়ার দূর্ভাগ্য

মার্চ ১৮, ২০১৮ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

:: গতকালকে বিএনপির আইনজীবি এবং নেতাদের একটা বয়ান শুইনা আমি হাইসা ফেলছিলাম। বয়ানটা ছিলো এইরকম, বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস যে দীর্ঘ হইতে পারে এইটা নাকি তাদের ধারণাতেই ছিলোনা। এখন তারা ভাবছেন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন এখন আর শুধুমাত্র আদালতের ব্যাপার না, এইটা এখন সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার। মানে সরকার চাইলে উনার জামিন হবে আর তা না হলে উনার কারাবাস দীর্ঘ হবে।

তো উনাদের বয়ান শুইনা হাইসা ফেলছিলাম কেন সেইটা এইবার বলি। এই যে আমি নিতান্তই সাধারণ একজন মানুষ, বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের ততোধিক সাধারণ একজন সমর্থক, ফেসবুকে দুই চার লাইন বালছাল লেইখা মাঝেমধ্যে এক আধটু জ্ঞান ফলাই, সেই আমিও জানতাম জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের মামলায় বিএনপি নেত্রী কনভিক্টেড হবেন। সেইসাথে এইটাও জানতাম হাইকোর্ট থেইকা বেগম জিয়া এই মামলায় জামিন পাইলেও উনাকে অন্য মামলায় শ্যেন এরেস্ট দেখিয়ে উনার কারাবাস দীর্ঘায়িত করা হবে। আমি নিতান্তই নাদান মানুষ, সেই নাদান জ্ঞান নিয়াও আমার ধারণা ছিলো বেগম জিয়াকে যতদিন সম্ভব বেশী কারাগারে আটকে রাখার জন্যে সরকার তার সব কূটকৌশল খাটাবে।

এইটা বোঝার জন্যে আপনাকে আইনজ্ঞ হতে হবেনা, আমার মত যৎসামান্য নাদান জ্ঞান থাকলেই আপনি খেলাটা বুইঝা ফেলতে পারবেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা নিতান্তই ফালতু একটা মামলা। আইনের ভাষায় গ্রাউন্ডলেস মামলা। এই মামলায় বেগম জিয়া কোন ভাবেই কনভিক্টেড হননা। কিন্তু হইছেন। ক্যান হইছেন? কারণ সরকার এইটা চাইছে। তো সরকার কি চাইতে পারে এইটা বেগম জিয়াকে এক কাপড়ে নোংরাভাবে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেইকা বাইর কইরা দেওয়ার পরেও আমাদের আইনজীবি অথবা পোঁদভারী নেতাদের বোধে আসেনাই? এইটা তো সেই সরকার ই যারা বেগম জিয়াকে কেবল বাড়ি থেইকা বাইর কইরাই ক্ষান্ত হয়নি, বাইর কইরা দেওয়ার পরে বেগম জিয়ার বেডরুমে প্লেবয় পত্রিকা আর মদের বোতল পাওয়া গেছিলো বইলা ম্যাসিভ প্রচার চালাইছিলো! এইটা তো সেই সরকার যারা কোকো মারা যাবার পরে পুত্রশোকে কাতর বেগম জিয়াকে নিয়ে কি নোংরা রাজনীতিটাই না করেছিলো! এইটা তো সেই আওয়ামীলীগ যাদের নেত্রী গত নয়টা বছর ধইরা বেগম জিয়াকে এতিমের টাকা মাইরা খাইছে বইলা সকাল বিকাল প্রচারণা চালাইছে। এইটা তো সেই সরকার….

আওয়ামীলীগের নোংরামির এইরকম হাজারটা উদাহরণ দেওয়া যায়। তাগো নোংরা রাজনীতির সমৃদ্ধ ইতিহাসের কথা স্মরণ রাখার কারণেই আমার মনে হইছিলো বেগম জিয়ার কারবাস দীর্ঘ হইতে যাইতেছে।

তো আমাদের সেলফি তোলার জন্যে ধাক্কাধাক্কি করা আইনজীবি নেতারা কি ভেবেছিলেন? বেগম খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেইকা জামিন পেয়ে খুব দ্রুতই বের হয়ে আসবেন? উনাদের এই ভাবনার কারণ কি? আমাগো বিচার বিভাগের উপর উনাদের এই আস্থার কারণই বা কি? যেখানে অজপাড়াগাঁয়ের ছমির উদ্দিনও জানে কোর্ট মানেই এখন পেটিকোট।

বিভিন্ন সময়ে জামিন না নেওয়া পাঁচটা মামলার ব্যাপারেই বা আমাদের আইনজীবি নেতাদের বক্তব্য কি?

তো এই বোকাচোদা আইনজীবি আর শীর্ষনেতাদের কথা শুইনা আমি হাসুম নাতো কি করুম? কেউ আবার এইটা বলতে আইসেননা, ভাই আপনি কার বাল ফালাইছেন? খুব বিনীতভাবে বলি, আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমার জায়গা থেইকা যতটুকু করা যায়, আমি ততটুকুই করেছি। আমি আমার ক্ষেত্রে অনেস্ট।

বিএনপির আইনজীবিদের বোকাচোদা জ্ঞান, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বোকাচোদা রাজনীতি আজকে বেগম খালেদা জিয়ার বেঁচে থাকাটাকেই সংশয়ে ফালায়া দিছে। না আমি এতটুকুও বাড়ায়া বলতেছিনা, শুধু একবার ভাবেন তিয়াত্তর বয়সী অসুস্থ একজন মানুষ নাজিম উদ্দিন রোডের ভূতুড়ে কারাগারে একলা একা দিনাতিপাত করতেছেন। সন্তান হারানোর ব্যথা, এতিমের টাকা মাইরা খাইছে বইলা উনার প্রাইডে যে আঘাত দেওয়া হইছে সেটার ব্যথা, নিজের দলের নেতাদের আপোষকামিতা, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটা চোখের সামনে একটু একটু কইরা ধংস হইয়া যাইতেছে সেইটা দেখা বেগম খালেদা জিয়া যে এখনো বাঁইচা আছেন সেটাই আমার কাছে আশ্চর্য লাগে।

বেগম খালেদা জিয়ার দূর্ভাগ্য এই দেশ এবং উনার দল দুইটার কোনটাই উনাকে ধারণ করার ক্ষমতা রাখেনা।

সূত্র : কামরুল আহসান নোমানী

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1138 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com