বিনিয়োগ বাড়াতে সব সংস্থার সমন্বয় জরুরি

এপ্রিল ৬, ২০১৮ ৫:৪৪ অপরাহ্ণ

বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (বেপজা) মতো সরকারি সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। একই সঙ্গে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তা না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অনুষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় বিনিয়োগসংক্রান্ত সরকারি দপ্তরগুলোর প্রধানরা এসব কথা বলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আলোচনায় বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী, হাইটেক পার্ক অথরিটির এমডি হোসনে আরা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাজী এম আমিনুল ইসলাম বলেন, এনবিআর শুধু রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের উন্নয়নের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। তাই আগামীতে এমন বাজেট প্রণয়ন করা দরকার, যাতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে করহার বেশি, কিন্তু আদায় কম। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত কম। তাহলে এত উচ্চহার দিয়ে লাভ কী? বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে কোন দেশে করপোরেট হার কত, সেটি বিবেচনা করে। এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগী অথবা উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বাংলাদেশে করহার বেশি। সরকারের উচ্চপর্যায়ে নির্দেশে ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশ কোন কোন দিক থেকে পিছিয়ে আছে, সেটি খতিয়ে দেখা হয়। এতে দেখা গেছে, ব্যবসা উন্নয়ন সূচক, অবকাঠামো ও দক্ষতার ঘাটতি—এই তিন দিকে বাংলাদেশ ভিয়েতনামের তুলনায় পিছিয়ে আছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে সরকারি সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নীতির বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিডা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির অনুমতি দিতে পারে। কিন্তু স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের এ সুবিধা দিতে পারে না। আবার যন্ত্রপাতি আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা পেলেও বিনিয়োগকারীদের যন্ত্রাংশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক কর দিতে হয়।

পবন চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। অথচ বিনিয়োগ আকর্ষণে বিডা, বেপজা, বেজা, হাইটেক কর্তৃপক্ষ, পিপিপির মতো অসংখ্য দপ্তর আছে। এগুলোর আলাদা আলাদা আইন ও বিধি আছে। কিন্তু ভিয়েতনামে কোনো সংস্থাই নেই। শুধু একটি ডিক্রির মাধ্যমে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। তাই বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ জন্য যে সমস্যাগুলো আছে চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

হাইটেক পার্ক অথরিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম বলেন, এনবিআর হাইটেক পার্কে বিনিয়োগের জন্য অনেক কর সুবিধা দিয়েছে। এক বছরে ১১টি এসআরও করেছে। কিন্তু এসব এসআরওতে কিছু সমস্যা আছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা এসেও আবার ফিরে যাচ্ছে।

বেপজার সদস্য (অর্থ) মিজানুর রহমান বলেন, এনবিআরের কিছু এসআরও একটি আরেকটির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এগুলো সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো বেশি কমিশারিয়েট লাইসেন্স, রপ্তানি পণ্যের নমুনা (স্যাম্পল) আনার বাধাগুলো দূর করতে হবে।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1034 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com