প্রাইম মিনিষ্টারিয়াল একনায়কতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অবর্তমানে কি হবে ?

ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ

:: আজ ১১ ডিসেম্বর। দেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’জনেই আজ দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি যাচ্ছেন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে, অন্যদিকে হাসিনা যাচ্ছে ফ্রান্সের প্যারিসে। এদিকে মিডিয়ায় খবর উঠেছে- দেশ অভিবাবকহীন।

জানা গেছে, আগামী ২২ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতি সচেতন মানুষজন আলোড়িত হয়ে উঠেছে। ঐদিন একটি বিশেষ মামলার রায় পাবে এমন খবর চাউড় হয়েছে। আর সেটা হলেই বাংলাদেশের বর্তমান বিনাভোটের সংসদ ও সরকার অবৈধ হয়ে যাবে। ঐ ক্ষণটির অপেক্ষায় দেশের কোটি কোটি গণতন্ত্রকামী জনতা। এরপরেই নামবে বাধভাঙ্গা জোয়ার। হাসিনা এ নিয়ে ভয়ানক টেনশনে।

বর্তমান বিনাভেটের প্রধানমন্ত্রী সমুদয় বিষয় অবহিত। নানা কাহিনী করে তিনি টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। তদুপরি টেনশনে তিনি খেতে ঘুমাতে পারছেন না। কি হবে সামনে এই ভেবে। গোয়েন্দাদের মাথান নষ্ট। কারন প্রতিপক্ষ বিএনপির ভেতরের খবারাদি পেতে আজকাল বেশ অসুবিধা হচ্ছে। হাসিনার ভাষায়, বেগম জিয়া ফিল্টার বসিয়েছেন। তাই এথন খবর যা আসে সব ঠিক থাকে না। এসব কারনেই ২২ তারিখ ও তৎপরবর্তী বাংলাদেশের চেহারা ও ঘটনা নিয়ে মহা চিন্তায় পড়ে গেছেন হাসিনা। এমনও আশংকা আছে, ঘটনা ২২ তারিখের আগেও ঘটে যেতে পারে। তাই হাসিনা এসময়টা সরে থাকতে চান। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি দেশে থাকলেও সমস্যা। তাকে চাপ দিয়েও ঘটনা ঘটিয়ে ফেলতে পারে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী যদিও সংসদ ভাঙতে হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনার সাক্ষর লাগবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতির উদ্ভব হলে বিকল্প ব্যবস্খার সুযোগ সবসময়ই থাকে।

বাইরে থাকার জন্র একটা মোক্ষম সুযোগ পাওয়া গেলো, জেরুজালেমকে ইসরাইলে রাজধানী সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোঘণা উদ্ভুত জটিল পরিস্থিতিতে ১৪ ডিসেম্বর ওআইসির বিশেষ সম্মেলন ডেকেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান। যদিও অধিকাংশ দেশ থেকেই যাবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা। কিন্তু হাসিনা এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকেই ইস্তাম্বুলে পাঠাচ্ছে। আজই যাচ্ছেন তিনি। ৩.৪ দিন থাকবেন।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা নিজেও বাইরে যাবার একটা উছিলা খুঁজছেন। তিনিও পেয়ে গেছেন। ফ্রান্সে ‘ওয়ান প্ল্যানেট সামিটে’র দাওয়াত আছে। ওটায় পরিবেশ মন্ত্রীর যাওয়ার কথা থাকলেও হাসিনা নিজেই ঐ সম্মেলনের কথা বলে প্যারিসে যাবেন। অলরেডি রওয়ানা হয়ে গেছেন। তিন/চার দিন তো বাইরে থাকা গেলো। দরকার হলে ক্যান্সার চিকিৎসাটা আবার একটু ফলোআপ করা যাবে। তেমন হলে ২২ তারিখ পার করে দেশে ফেরত আসা যাবে।

খারাপ অবস্হা বুঝে হাসিনার গোয়েবলস ফ্যাক্টরি বোরহান গংও চিন্তায় পড়ে গেছে। “অভিভাবকহীন বাংলাদেশ!” শিরোনামে বোরহান লিভেখেছে- “একটি পরিবারের প্রাণ হলো অভিভাবক। তারা কাছে না থাকলে পরিবারটি হয়ে যায় প্রাণহীন, কোনো কাজই যেন সঠিকভাবে চলে না। প্রতিনিয়ত ঝামেলার মুখে পড়ে অভিভাবকহীন পরিবার। তেমনি একটি দেশের অভিভাবক হলেন রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে দুই অভিভাবকই আছেন। তবে একই দিনে পৃথক দুটি সফরে বিদেশ যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। হঠাৎই অভিভাবকশূন্য দেশ।”

এরকম অবস্থা খুব বেশি হয়নি দেশে। জানা গেছে, মার্কিন সিস্টেমে প্রেসিডেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট দু’জন এক সাথে দেশের বাইরে থাকে না। এমনকি একই প্রোগ্রামেও খুব একটা থাকেন না। মুলত: নিরাপত্তার কারনে। বাংলাদেশে যদিও উপরাষ্ট্রপতি বা উপ্রপ্রধানমন্ত্রী নাই, তবুও রেওয়াজ হলো প্রেসিডেন্ট বা প্রাইম মিনিষ্টার একজন দেশে থাকার। কিন্তু এবারে একসাথে দু’জনই বাইরে!! বাংলাদেশের সিস্টেমে উপ রাখা হয়নি। আজ যদি প্লেন ক্রাশে হাসিনা নিহত হয়, আজ থেকেই দেশ চালাবে কে, সেই ব্যবস্থা নাই। সংসদ বসিয়ে নতুন প্রাইম মিনিষ্টার নিয়োগ করতে হবে। আর যদি কাল ইস্তাম্বুলে রাষ্ট্রপতি হামিদ মারা যায়, তবে স্পীকার শিরিন রাষ্ট্রপতির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাবেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে একটা ব্যবস্থা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর পদটি একেবারেই একক ক্ষমতাও ও ব্যক্তির করা হয়েছে। যিনি দেশের সকল ক্ষমতা উৎস, তাঁর কোনো বিকল্প নাই। দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হলেও মূলত: এটা প্রাইম মিনিষ্টারিয়াল একনায়কতান্ত্রিক পরিবেশ।

সূত্র : বিডি পলিটিকো ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1078 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com