প্রশ্ন ফাঁসের জন্য সামাজিক মাধ্যম তৈরী

মার্চ ৩১, ২০১৮ ২:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা ও সরকারের প্রস্তুতিএইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে আগামী সোমবার (২ এপ্রিল)। বিগত পরীক্ষাগুলোয় ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এবার তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে পরীক্ষার শুরু প্রায় সাত দিন আগে থেকে নেওয়া হয়েছে নানা ব্যবস্থা। তবে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে প্রশ্ন সরবরাহেরও। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপ ঘুরে তেমন চিত্রই দেখা গেছে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন,এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে সেটকোড ব্যবহারের নির্দেশনার এসএমএস যাওয়ার পর প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলা যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ১
পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার শেষ সময়ের পাঁচ মিনিট পর এসএমএস -এর মাধ্যমে জানা যাবে কোন সেটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জানা গেছে, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না— এমন একটি মোবাইল সেট ব্যবহার করতে পারবেন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এছাড়া আরও যে ব্যবস্থাগুলো নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সব সেট প্রশ্নপত্রই যাবে কেন্দ্রে। প্রত্যেক কেন্দ্রে প্রতি বিষয়ের/পত্রের প্রতিটি সেটের জন্য একটি খাম থাকবে। খামগুলো সিকিউরিটি টেপ দিয়ে আটকানো থাকবে। জেলা প্রশাসকরা পরীক্ষা শুরুর আগে যেকোনও দিন ট্রেজারিতে এই কাজ সম্পন্ন করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার/নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিকিউরিটি টেপ লাগাতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ২
প্রত্যেক কেন্দ্রের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। ট্রেজারি বা থানা থেকে কেন্দ্র সচিবসহ পুলিশ পাহারায় কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র পৌঁছাতে হবে। সেটকোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ী নির্ধারিত সেটকোডে পরীক্ষা নিতে হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব ও পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বিধি অনুযায়ী প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে।
এমন আরও অনেক ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে। তবে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নানামুখী পদক্ষেপের পরও প্রস্তুতি নিতে দেখা যাচ্ছে প্রশ্ন সরবরাহের। ফেসবুকের কয়েকটি গ্রুপে ইতিমধ্যে সয়লাব হয়ে গেছে প্রশ্নের বিজ্ঞাপনে। PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center, PSC • JSC • SSC • HSC Exam Helping Center 18+19+20+21BD সহ বেশ কয়েকটি গ্রুপে পরীক্ষা শুরুর পাঁচ দিন আগে থেকেই চলছে প্রশ্নপত্র সরবরাহের বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কিছু প্রশ্নের ছবি। পুরো ছবির কিছু অংশ ঘোলা করে দিয়ে শুধুমাত্র ওপরের অংশ পরিষ্কার দেখার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ৩
অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিযোগিতা করে খোলা হচ্ছে গ্রুপ। HSC 2k, HSC 2018 সব নানা নামে তৈরি এসব গ্রুপের অ্যাডমিনরা এর আগেও এসএসসি পরীক্ষার সময়ে আন্তর্জাতিক নম্বর ব্যবহার করে খুলেছিলেন গ্রুপ। সেখানে প্রতিদিনই সরবরাহ করা হয়েছে এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন। নাম ও নম্বর দিয়ে এসব গ্রুপে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলেও এরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ফাঁসের গুজবের সঙ্গে জড়িত ১৫৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এসএসসিতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ৪
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এরই মধ্যে অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। যারা এসব বিজ্ঞাপন দেয় বেশিরভাগই রেজিস্ট্রেশন ছাড়া সিমকার্ড দিয়ে প্রচারণা চালায়। তাই এদের খুঁজে বের করা একটু সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরীক্ষার আইন সংস্কারের সুপারিশ করেছেন পাবলিক পরীক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় মনিটরিং কমিটির সদস্য ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম। তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালের পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্টে আসামিকে এক-দুই দিনের বেশি রিমান্ডেও নেওয়া যায় না। এজন্য প্রশ্নফাঁসকারী একটি চক্রের পাঁচ স্তরের সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতার করতে পেরেছি,কিন্তু বাকি স্তর পর্যন্ত পৌঁছানো যায়নি।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ৫
এর আগে তিনি এক সম্মেলনে তার অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ‘কেউ কাউকে চেনে না, অথচ তার কাছ থেকেই সে প্রশ্ন কিনেছে। আদিকাল থেকেই প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। এখন ডিজিটালাইজড হওয়ায় আমরা সবাই তা জানতে পারছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার বিষয়ে বিটিআরসি’র সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেসবুক মনিটরিং করার যন্ত্রও আমাদের নেই।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, একটি শ্রেণি ফেসবুকে প্রশ্নপত্রের প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে হেয় করার জন্য মিথ্যে প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে কেউ কেউ আর্থিক লাভের জন্য পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণাও করছে বলে জানান তিনি। এসব ফাঁদে পা না দিতে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1102 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com