প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থানে স্থবিরতা

এপ্রিল ৬, ২০১৮ ৫:৪০ অপরাহ্ণ

শিল্প-কারখানাগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার ফলে কর্মী নিয়োগ আগের মতো বাড়ছে না বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে তারা এ-ও বলছেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে এ ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এর প্রয়োগ বাড়াতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) ‘পলিসি ইনসাইট’ শিরোনামের প্রকাশনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থপ্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তারের সভাপতিত্বে এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সদস্য ড. শামসুল আলম। বক্তারা বলেন, অটোমেশনের ফলে সাময়িকভাবে কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়লেও এটা বন্ধ করা যাবে না। রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমেই কর্মসংস্থানের নিম্নমুখিতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

পলিসি ইনসাইটের এডিটর ইন চিফ ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্প ছাড়াও অন্যান্য শিল্প-কারখানাতেও অটোমেশন হচ্ছে। এর ফলে ওই সব শিল্পেও কর্মসংস্থানের হার কমছে। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানে অটোমেশনের প্রভাব এতটাই বেশি যে গত পাঁচ বছরে স্থানীয় শিল্পে উত্পাদন খাতের প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি হওয়ার পরও এ শিল্পগুলোতে কর্মসংস্থান স্থবির হয়ে আছে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহারে কর্মসংস্থানে চ্যালেঞ্জ থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এর ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বাড়াতে হবে। তিনি দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার পরও অনেক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতিও আছে। এটা দেশের অর্থনীতিবিদ এবং সুধীসমাজ গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরতে পারে। সরকার এ থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশোধনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের শিল্প খাতকে আধুনিকায়ন করতে হবে। আর আধুনিক শিল্পায়নের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ জন্য আমাদের প্রচুর দক্ষ জনবলও দরকার। তাই প্রচলিত লেখাপড়ার চেয়ে কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মঞ্জুর এলাহী বলেন, প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের অভাবে দেশের তৈরি পোশাক খাতও সংকুচিত হয়ে পড়ছে। দেশে ২৭টি ‘স্টেট অব দি আর্ট’ ইন্ডাস্ট্রি থাকার পরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। অন্যদিকে ভারত এ ধরনের মাত্র সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্যে দেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরী, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় প্রমুখ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1085 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com