প্রতারণার দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন টিউলিপ এম্পি

ডিসেম্বর ১, ২০১৭ ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ

বিশেষ রিপোর্ট : : এবার নতুন ঝামেলায় জড়িয়েছেন বৃটেনে লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। বাংলাদেশে ব্যাংক ডাকাত সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গকসাই শেখ হাসিনা টিউলিপের আপন খালা। এ কারণে মাঝে মাঝে বাংলাদেশে বেড়াতে যান টিউলিপ। সর্বশেষ তিনি তার স্বামী ক্রিস্টিয়ান উইলিয়াম সেইন্ট জন পার্সিকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে গিয়েছেন ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর। প্রশ্ন উঠেছে তিনি কিভাবে গিয়েছেন? কোন দেশের নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশে গিয়েছেন?
বাংলাদেশ এবং বৃটেনের নাগরিকত্ব আইনে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিকরা দ্বৈত নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত। সেই সুযোগে একজন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্যক্তি বৃটেনের নাগরিকত্ব অর্জন করলে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্বও বহাল রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে কোনো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক বৃটেনের পাসপোর্ট নিয়ে দুটি উপায়ে বাংলাদেশ সফর করতে পারেন।
এক, বৃটিশ নাগরিক হিসেবে যথানিয়মে বৃটেনে বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ সফর করতে পারবেন। দুই, বৃটেনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে নিজেকে বাংলাদেশী নাগরিক প্রমান করে বৃটিশ পাসপোর্টে যথানিয়মে ‘নো ভিসা রিকোয়্যার্ড ‘ সিল মেরে সেই পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশ সফর করতে পারেন।
টিউলিপ সিদ্দিক বৃটেনের এমপি হিসেবে কিংবা সাধারণ নাগরিক হিসেবে বিভিন্ন সময়ে অনেকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। কিন্তু কোন নিয়মে তিনি কিভাবে বাংলাদেশ সফর করেছেন ? বৃটিশ নাগরিক হিসেবে নাকি দ্বৈত নাগরিক হিসেবে? এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছে এ কারণে যে, গত ২৫ নভেম্বর বৃটেনের চ্যানেল ফোর টেলিভিশনকে টিউলিপ সিদ্দিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ‘তিনি লন্ডনে জন্ম গ্রহণ করেছেন এবং তিনি বাংলাদেশে নাগরিক নন’। বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিকের আত্মীয় স্বজন থাকায় তার দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ থাকলেও তার বক্তব্যে স্পষ্ট তিনি নিজেকে বাংলাদেশের নাগরিক মনে করেন না। তাহলে জন্মসূত্রে একজন বৃটিশ সিটিজেন টিউলিপ সিদ্দিক এতদিন কোন উপায়ে বাংলাদেশ সফর করেছেন? অনেকেই মনে কিরছেন, টিউলিপকে এখন বৃটেন এবং বাংলাদেশের জনগণের সামনে এই বিষয়টি খোলাসা করা দরকার।

২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর টিউলিপ বাংলাদেশ সফর বৃটিশ নাগরিক নাকি দ্বৈত নাগরিক হিসেবে করেছেন? দ্বৈত নাগরিক হলে তার পাসপোর্টে কি বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ‘নো ভিসা রিকোয়্যার্ড ‘ সিল ছিল? আর বৃটিশ নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশ সফর করলে তিনি কি বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে ভিসা নিয়েছিলেন? এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ হাই কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, হাই কমিশন টিউলিপ সিদ্দিকের কাছ থেকে ভিসার জন্য কোনো আবেদন পায়নি। তাহলে প্রশ্ন উঠেছে, পরিচয় গোপন করে কিংবা নাগরিকত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একজন বৃটিশ এমপি বাংলাদেশ সফর করেছেন? এ বিষয়টি এখন হাউস অফ কমন্স এবং লেবার পার্টিতেও আলোচনায় আসতে পারে বলে জানিয়েছেন লেবার পার্টির একজন সাবেক এমপি। সূত্রমতে, এ বিষয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের কাছে যৌক্তিক জবাব পাওয়া না গেলে নাগরিকত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে তার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেইস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র : ডেইলি বিডি টাইমস ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1905 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com