পালিয়ে থেকে মিথ্যাচার করছে খুনি জিয়াউল: চামচাদের নামিয়ে আকুতি জানাচ্ছে!

ডিসেম্বর ৪, ২০১৭ ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

:: র‌্যাবে থাকাকালে হাজারো খুন গুমের হোতা কসাই ব্রিগেডিয়ার জিয়াউল আহসান বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে বিডিপলিটিকো এ সংক্রান্তে রিপোর্ট করার পরে জিয়াউল নিজেই তার ফেসবুকে জানান দেয়, তিনি ঢাকায় আছেন! এরপর থেকে তার বেশ কিছু ভক্তসমর্থক বিভিন্ন অনলাইনে আবেদন জানিয়েছেন- দেশপ্রেমিক বীর জিয়াউলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করতে!

জিয়াউলের ঢাকায় থাকা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিডিপলিটিকো তদন্তে নামে। তাতে দেখা যায়, জিয়া তার ইজ্জত বাঁচানোর জন্য বিদেশ থেকেই ফেসবুক পোস্ট দিয়ে দাবী করছে ২৭ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় দুপুরে – I am in Dhaka now. Commando never leaves the battle Field. বাস্তবে সে ঢাকায় নাই। তার ঐ পোস্টের নিচে তার ভক্ত সমর্থকরা অনেককিছু লিখেন। এর মধ্যে একজন আলমগীর হোসেন লিখেন, সেনাকুঞ্জে গিয়ে (২১ নভেম্বর) আপনাকে অনেক খুঁজেছি। ফোনও বন্ধ পাচ্ছিলাম। বুঝতে পেরেছিলাম নিশ্চয় বাইরে আছেন। এতে করে ধরা পড়ে যায় জিয়াউল। কারন চাকরিতে থাকলে ঢাকা এরিয়ার সেনা অফিসার হিসাবে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি থাকা ছিল বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাকে কেউ খুঁজে পায়নি।

জিয়া নিজের ফেসবুক পোস্টে যেভাবে সিভিল ড্রেস পড়া পুরাতন ছবি দিয়ে পোষ্ট দিয়েছে, তাতে সেনা অফিসাররাই বলছেন, সে সার্ভিসে নাই। তাছাড়া সার্ভিং কোনো ব্রিগেডিয়ার পর্যায়ের অফিসার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কখনই লিখতে পারে না- ব্যাটল ফিল্ডে আছি! এটা কেবল রিটায়ারমেন্টে গেলেই সম্ভব।

অতঃপর জিয়া দ্বিতীয় ভুলটি করেন পুরোনো একটি ছবি অন্যদের দিয়ে তার ফেসবুকে পোস্ট করিয়ে। পুরাতন ছবিকে এবছরের সেনাকুঞ্জের অনুষ্ঠানের ছবি হিসোবে চালাতে গিয়ে। লক্ষ করুন, এবারের অনুষ্ঠানে হাসিনার শাড়ি ছিল ভিন্ন। তাছাড়া জিয়াউলের বুকের আইডিতে লেখা NSI. অর্থাৎ এটি এবছরের ছবি নয়। মারাত্মক ধরা!!!

ধরা এখানেই শেষ নয়। সে নাকি টেলিফোন আড়ি পাতার সংস্খা এনটিএমসির প্রধান ছিল! অথচ আমাদের ছেলেদের হাতে ধরা খায় চ্যাটে। ২৭ নভেম্বর তার অবস্থান ট্রেক করা হয় আমেরিকার ফ্লোরিডা।

আগেই জানানো হয়, জেনারেল আকবর এবং কর্নেল জিয়াউল অবৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার যতখানি না অনুগত, তার চেয়েও বেশী ভারতের ‘র’ এর বিশ্বস্ত। এরা প্রয়োজনে ‘র’ এর নির্দেশ পেলে শেখ পরিবারের উপর এমন ঘটনা ঘটাতেও একটুও পিছপা হবে না। র‌্যাবের কর্নেল জিয়া নিজেই শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সকল গোয়েন্দা প্রধান ও সেনাপ্রধানের কথাবার্তা রেকর্ড করে জিম্মায় রাখে, যা বিপদের সময় লাগানো যায়। এসব খবর প্রকাশ হওয়ার পড়লে জিয়াকে নিয়ে সন্দেহ বেড়ে যায় সরকারের। ফলে ক্রস ফায়ারের ঝুকিতে পড়ে যায় জিয়া।

কেমন করে পড়লো হাসিনার গিলোটিনে? গল্পটা মজার। হাসিনার কেবিনেটের এক সদস্য জিয়াউলের সাথে মদ খায় মাস্তি করে। এরকম এক আউলা সময় জিয়াউল হঠাৎ বলে ফেলে- আপনাকে তো প্রধানমন্ত্রী ভালো জানে না, কিসের রাজনীতি করেন? মন্ত্রি বলে- কেনো? আমি তো নেত্রীর খুব কাছের, তার পলিসি মেকারদের একজন! আপনি কি করে জানলেন, নেত্রীর মতিগতি? জিয়াউল বলে, আমি জানব না তো কে জানবে? আমি তো সবই শুনতে পাই। এরপরে মন্ত্রী ছুটে যায় হাসিনার কাছে গণভবনে- নেত্রী, আমার কি অপরাধ- কি ভুল করলাম? নেত্রী তাকে জিজ্ঞেস করে- আমি কিছু বলছি তোমাকে? মন্ত্রি বলেন, আমাকে বলেননি ঠিকই, কিন্তু অন্যকে বলছেন! তুমি জানলে কি করে, প্রশ্ন হাসিনার। বলে দেয়- এনটিএমসির জিয়াউল আহসানের নাম। আর যায় কোথায়- শুরু হলো হাসিনা আখিস্তি গালি…নিমক হারাম কোথাকার, আমার ফোন টেপ করে, এত্তবড় সাহস। রাখ্ ওর বারোটা বাজাইতেছি! মন্ত্রি বেরিয়ে এসে জিয়াউলকে বলে বিপদের কথা। এরপরে দ্রুত জিয়া Appendix-J জমা দিয়ে খুব গোপনে পাড়ি জমায় বিদেশে। একদিকে বিএনপি জামাতের টার্গেট, আবার হাসিনাও যদি জবাই করে, তবে আর দেশে থাকে কি করে!

প্রশ্ন হলো, বিডিপলিটিকোর রিপোর্টের পরে গত ১০ দিনে কেউ কি খুনি জিয়াকে ঢাকার অফিসে দেখেছেন? তবে অনেকেই মজা পাচ্ছে এই দেখে যে- যেই লোক এতকাল আড়ি পাতত অন্যের ফোন, সে এবার নিজেই ধরা খেয়ে আকুতি জানাচ্ছে- অপপ্রচার বন্ধ করো!!

সূত্র : বিডি পলিটিকো

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1037 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com