পাজর ভাঙার শব্দ

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ ৭:২৮ অপরাহ্ণ

:: খুব ভোরে নীলার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। মোবাইল টা ভ্যাপ ভ্যাপ করে ভাইব্রেট করে উঠলো। নিশ্চই নির্ঝরের। বার বার নির্ঝর কে নীলা বলে রেখেছে ভোরে এস,এম,এস না করতে। নীলার ঠিক ভোরের দিকেই আরামের একটা ঘুম হয়। আর সেই ঘুমের চেয়ে মধুরতম ঘুম মনে হয় না আর কিছু তে আছে।

নির্ঝর এস,এম,এস দিয়েছে, “জান, সকাল টা দেখো, কি সুন্দর!”

নীলার কোনো মতে একটা চোখ খুলে এস,এম,এস টা পড়লো। আর কি ঘুম আসবে? কিছুক্ষন পর নীলা ঘুম থেকে উঠলো। বারান্দা তে দাড়ালো। সত্যিই খুব সুন্দর ভোর। লাল লাল একটা আভা। ঠান্ডা বাতাস। এস,এম,এস পেয়ে মেজাজ টা খারাপ হলেও, এখন খারাপ লাগছে নীলার। কেনো নির্ঝরের এস,এম,এস এ রাগ করলো। ও জানে নির্ঝর অধীর আগ্রহে নীলার এস,এম,এস এর জন্য বসে আছে। এস,এম,এস না পেলে সে কোন কাজ শুরু ও করবে না।

নীলার খুব ইচ্ছে করছে নির্ঝর কে এখন একটু দেখতে। ফোন করে বলতে, একটু আমার বাসার সামনে এসে দাঁড়াও, তোমাকে দেখতে চাই।

কিন্তু নীলা ফোন দিলো না। ছোট্ট একটা মেসেজ দিলো, “হুম, সুন্দর”

নিশ্চই নির্ঝরের মন টা খারাপ হয়ে যাবে! নীলা সুন্দর করে কিছু বলতে পারে না। মনের কথা গুলো নির্ঝর যেমন করে গুছিয়ে বলে, নীলা পারে না। নীলার খুব বেশী যখন মনে পড়ে নির্ঝরের কথা একটা মেসেজ পাঠায়, “কি করো?”

নীলা ভার্সিটি যাচ্ছে। নির্ঝরের অফিস টা ওর ভার্সিটির রাস্তা তেই পরে। প্রতি বার ভার্সিটি যাবার সময় নীলা উৎকীর্ণ হয়ে অফিস টা দেখে। কেনো যেনো বুক টা মোচড় দেয়। ইস, একটু যদি নির্ঝর কে দেখতে পেতো!!!

ভার্সি টির গেটে ঢোকার ঠিক পাশেই সে দাঁড়িয়ে আছে। নীলার চোখ টা ঝাপসা হয়ে গেলো। মুখ টা শক্ত করে বল্লো, “অফিস নাই! এখানে মজনুর মতো দাঁড়িয়ে আছো ক্যানো!”

নির্ঝর একটা অপ্রস্তুত হাসি দিলো। “আমার নাম তাইলে এখন থেকে মজনু মিয়া”

নীলার কেনো যেনো শুধু মনে হচ্ছে নির্ঝরের হাত টা ধরে রাখতে।

নির্ঝর খুব হরবর করে বল্লো, “আরে অফিসের একটা মিটিং ছিলো পাশেই, ভাবলাম তুমি তো এই টাইমেই ভার্সিটি আসো, একটু চান্স নেই”

নীলা ভালো করেই জানে, ওর কোনো মিটিং ফিটিং নাই, সে নীলা কে দেখতে এসেছে।

“ইয়ে, তোমাদের ভার্সিটির পেয়াজু কি এখন খাওয়া যাবে?”

নীলা হেসে ফেল্লো। “পাগল তুমি একটা! উন্মাদ!”

নির্ঝর হাসলো। “সব কিছু তে আমি খুব সিরিয়াস, তোমার ব্যাপারেও কিন্তু ভালোবাসায় পাগলামি না থাকলে ওই টা কেমন ভালোবাসা হলো!”

নির্ঝর আর নীলা রিকশা তে ঘুরছে। নীলা তার ভার্সিটির গল্প, বান্ধবী দের গল্প করছে। নির্ঝর মন দিয়ে শুনছে। নীলা জানে, ও আসলে শুনছে না, মন দিয়ে দেখছে।

নীলার মন টা হঠাৎ খুব খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কেনো যেনো মনে হচ্ছে নির্ঝরের সাথে তার বিয়ে হবে না। নির্ঝর যে চাকরী টা করে সে চাকরী তে মাত্র দশ হাজার টাকা বেতন পায়। নীলার বাবা পাত্র দেখছে। নীলার বাবা নিজে এক জন স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী। উনাকে নীলা খুব ভয় পায়। খুব ই রাশভারী লোক। লজিক ছাড়া ডান বাম করে না। সে গত মাসে অনেক কায়দা করে নির্ঝরের কথা টা বলেছিলো। উনি শুধু বলেছেন, যে ছেলে একটা অ্যাড ফার্মের কপি রাইটার, যার বেতন আমার ড্রাইভারের চেয়ে কম, তার সাথে বন্ধুত্ব করা যায় হয়তো, জীবনসঙ্গী বানানো যায় না। এনিওয়ে, ছেলে টা কে ডাকো, আমি কথা বলবো।

নির্ঝর এসেছিলো। ওর বাবা এক মিনিট কথা বলেছিলো। শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলো, তোমার বাবা কি করে?

নির্ঝর নির্লিপ্ত গলায় বলেছিলো, উনি এখন কিছু করেন না। উনি ফরিদপুরের একটা প্রাইমারী স্কুলের বাংলা শিক্ষক ছিলেন।

এরপর এক কাপ লাল চা খেয়ে নির্ঝর চলে যায়।

নীলা নির্ঝরের হাত টা শক্ত করে ধরে রেখেছে। ওর চোখে পানি। “চলো, আমরা বিয়ে করে কোথাও চলে যাই” – নীলার কন্ঠ টা কাঁপছে।

নির্ঝর অবাক হয়ে নীলার দিকে তাকিয়ে আছে। হেসে বল্লো, তোমার কি মনে হয়, আমরা কখনো আলাদা হবো? কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে?”

নির্ঝর নীলার চুল শুকছে। এটা নির্ঝর প্রায় ই করে। নীলার খুব লজ্জা লাগে। আর লজ্জা পেলে ওকে কেমন বউ বউ মনে হয়।

ওরা দুজন অনেকক্ষন ঘুরলো। নির্ঝরের মানিব্যাগ টা ছেড়া। আজ নীলা ওকে চমতকার একটা মানিব্যাগ কিনে দিলো। রেস্টুরেন্টে খাবার সময় নীলা সারাটা ক্ষন নির্ঝরের হাত টা ধরে রইলো।

—-

ডিসেম্বরের ১২ তারিখ নীলার বিয়ে হয়ে গেলো। পাত্র রায়হান আহমেদ। একরাম আহমেদের এক মাত্র ছেলে। বাঙ্গলাদেশের অন্যতম বড় গ্রুপ অফ কোম্পানিজের মালিক। রায়হান অসম্ভব ভালো একটা ছেলে।

নীলার সব কিছু কেমন দুস্বপ্নের মতো লাগছে। আর কোনো দিন নির্ঝরের সাথে দেখা হবে না??? নির্ঝরের পাগলামী আর কখনো ও দেখবে না?

নির্ঝরের ফোন টা বন্ধ। নীলা ওর ড্রাইভার কে পাঠালো নির্ঝরের মেসে। না, ওখানে আর ও থাকে না। ও চলে গেছে। কোথায় গেছে, কেউ বলতে পারলো না।

নীলার পাথরের মূর্তির মতো বাসর ঘরে বসে আছে। রায়হান ছেলে টা অসম্ভব কোমল গলায় বল্লো, “তোমার কি মন টা বেশী খারাপ?”

নীলার প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে। ও মাথা নাড়লো। রায়হান বল্লো, “তুমি এক কাজ করো, তোমার বাবার সাথে কথা বলো। মন টা ভালো হবে। অথবা তোমার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধুর সাথে একটু কথা বলো।”

নীলা কাউকে ফোন করলো না। কাকে করবে? নির্ঝর ওর বিয়ের কথা শুনে আর যোগাযোগ ই করেনি। ও যখন বুঝে গেলো, এ এক অসম্ভব খেলা – ধীরে ধীরে অনেক দূরে চলে গেলো। এক টা এস, এম,এস কি আর আসবে না?

নির্ঝর! শুধু তুমি ই আমার এস,এম,এস এর জন্য অপেক্ষা করো! আমি করি না? কত কষ্টে যে দিন গুলা যাচ্ছে, তুমি কি জানো?

রায়হান শোফায় আধ শোয়া হয়ে টিভি দেখছে। লোক টা র মুখ টা খুব মায়া মায়া। ঠিক নীলার মতো ই লোক টার মা নেই।

—-

প্রচন্ড জ্বর নির্ঝরের। জ্বর নামছে না। নির্ঝরের মা ছেলের কপালে জল পট্টি দিচ্ছে। ওর বাবা গেছে ডাক্তার খবর দিতে। নির্ঝর ফরিদপুরে। ঢাকা শহর টা ওর কাছে কেমন দম বন্ধ করা শহর মনে হচ্ছিলো। প্রতি টা রাস্তা দিয়ে, দোকানের পাশ দিয়ে যাবার সময় স্মৃতি গুলো কষ্ট বাড়িয়ে দেয় বহু গুনে। নীলা চলে গেছে – এই কষ্ট টা আর কষ্ট দেয় না, কিন্তু সেই স্মৃতি গুলো বুকে বড়ো বাঁধে। অসহ্য কষ্টে মন টা নীল হয়ে যায়।

ডাক্তার ওষুধ লিখে দিলো। ওর বাবা ছুটে গেলো ওষুধ কিনতে। মা কপালে আদর করে দিচ্ছে আর দোয়া পড়ে ফু দিয়ে যাচ্ছে।

—-

রায়হান ছেলে টা এতো টা ই ভালো যে, যে কোনো মেয়ে এই রকম একটা ছেলের স্বপ্ন দেখে। নীলাকে ও এখন পর্যন্ত এক বার ও ছোঁয় নি। নীলা নির্ঝরের কথা রায়হান কে বলেছে। রায়হান শুধু বলেছে, তুমি যদি চাও আমি ওকে খুজে তোমার কাছে নিয়ে আসবো। তবুও তুমি সুখে থাকো। আমার তোমার কষ্টে ভরা মুখ টা দেখতে হয়তো তোমার কষ্টের চেয়ে বেশী কষ্ট হয়। জানি না, কেনো এমন হলো, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। এর অর্থ এই না যে তোমাকেও আমাকে ভালোবাসতে হবে। লোক টার চোখ টা ভেজা।

হঠাৎ নীলার মন টা ভিজে গেলো। কেনো নিজের জন্য এই মানুষ টা কে সে কষ্ট দিচ্ছে!

রায়হার আজ দুই টা টিকেট নিয়ে এসেছে। ঢাকা – বালি – ঢাকা।

যদি রাজি থাকো, ঘুরে আসতে পারি। অনেক সুন্দর একটা রিসোর্ট আছে। গেলে তোমার মন ভালো হয়ে যাবেই। যাবা?

বাচ্চা দের মতো কেমন মায়া করে তাকিয়ে আছে। নীলার হ্যা – না তে তার জীবন-মরন। নীলা স্মিত হাসি দিয়ে বল্লো, “চলো, যাই”

—-

নির্ঝর নীলা কে স্বপ্নে দেখলো। ভোর রাতের স্বপ্ন, কেন যেনো মনে হচ্ছে স্বপ্ন টা সত্যি হবে। নীলা পাগলের মতো ওর ফরিদপুরের বাসায় চলে এসেছে। হাতে গোলাপের গুচ্ছ। হরবর করে নীলা বলছে, কেনো এতো খারাপ তুমি! কেনো চলে এলে! আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি? বোঝনা না? বুঝতে পারো না? নীলার পড়নে গাঢ় নীল একটা শাড়ী। নির্ঝর কাথা থেকে বের হচ্ছে না লজ্জায়, ওর পড়নে শুধু একটা লুঙ্গি। কেন যে আজ সকালে ও টি শার্ট টা গায়ে দিলো না!

ঘুম ভাঙ্গার পর নির্ঝরের কষ্ট হলো না, আনন্দ ই লাগলো। কারন ও জানে নীলা ঠিক ই চলে আসবে। ফরিদপুরের ঠিকানা তো নীলা জানে ই। আর যে পাগল মেয়ে! ঠিক ঠিক চলে আসবে।

আজ নির্ঝরের শরীর টা মন্দ না। দূর্বল লাগছে যদি ও। কাল হাসপাতালে অনেক টেস্ট করিয়ে এসেছে। কোনো ই দরকার ছিলো না। মাঝ দিয়ে এতো গুলা টাকার শ্রাদ্ধ। নির্ঝর নীলার দেয়া বেগুনী টিশার্ট টা পড়লো। শীষ বাজাতে বাজাতে শেভ ও করে ফেল্লো।

নীলা আসছে।

—-

প্লেন দুই ঘন্টা লেট। রায়হান পায়চারী করছে আর মাথা নাড়ছে। “বিগ মিসটেক! বিগ মিসটেক” – ওর মুখ টা কালো হয়ে আছে। মনে হচ্ছে ওর নিজের প্লেন। নীলা বার বার বলছে, তুমি এতো অধৈর্য হচ্ছো কেনো! সবাই তো অপেক্ষা করছে।

রায়হান বলছে, “প্রথম তোমাকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছি, প্রথম বার ই ব্লান্ডার হলো, খুব খারাপ লাগছে”

ওরা, ইন্দোনেশীয়ার বালি তে নামলো।

রিসোর্ট টা শুধু সুন্দর না! অসহ্য সুন্দর। কান্না পেয়ে যায় আনন্দে। নীলা এতো চমতকার যায়গায় আগে আসে নি। ইউরোপ ট্রিপেও এতো সুন্দর যায়গা ও দেখে নাই।

নীলা বিস্মিত কন্ঠে বল্লো, “এতো সুন্দর কেনো যায়গা টা!”

রায়হানের মুখে তৃপ্তির হাসি। হরবর করে নানান ফিচার বয়ান করছে। সারা রাস্তায় বেচারা টেনশনে ছিলো, নীলার পছন্দ হয় কি হয় না! নীলার পছন্দ হলো। এতো টা ই পছন্দ হলো যে ও আবেগে রায়হানের হাত চেপে ধরলো। রায়হান অবাক হয়ে নীলা কে দেখছে। এতো বেশী সুন্দর কেনো মেয়ে টা!!!

—-

রিপোর্ট এসেছে। নির্ঝরের লাস্ট স্টেজের স্টমাক ক্যান্সার। এখন আর ফেরার পথ নেই। নির্ঝরের মা বাবা কাদছে। বোন খবর পেয়ে চলে এসেছে। ভাই কে জড়িয়ে ধরে রেখেছে, কিছুতেই কোথাও যেতে দেবে না।

নির্ঝরের মা চিত্রার্পিতের মতো বসে আছে। মুখটা কেমন অচেনা।

কিন্তু নির্ঝরের কষ্ট হচ্ছে না। কোথাও ভুল হয়েছে। ঢাকার বড় বড় হাসপাতালে রিপোর্ট নিয়ে গন্ডগোল হয়, আর এ তো মামুলি মেডিকেল কলেজ! ভুল হতেই পারে।

নীলা আসবেই – ও আসবে, সব ঠিক হয়ে যাবে। ঢাকা ব্যাক করবে, একটা ভালো চাকরী যোগাড় করে ফেলবে।

রাতে নির্ঝরের রক্ত বমি হলো। নির্ঝর তীব্র ব্যাথায় বার বার বলছে, “কোথাও ভুল হচ্ছে, আমি তো সুস্থ! একদম সুস্থ”

—-

রিসোর্ট টা যে শুধু সুন্দর তা ই না, নানা রকম অবাক করা ব্যাপার আছে। নিউলি ওয়েডেড কাপল দের জন্য সারপ্রাইজ সং, কেক কাটা, সবাই মিলে সেলিব্রেশন। এক পর্তুগীজ বৃদ্ধ দম্পতি নীলা কে বল্লো, ” তোমরা এম,এফ,ই,ও”

নীলা বুঝতে পারলো না। রায়হান কে বলতে ই রায়হান হো হো করে হেসে ফেল্লো। “এম, এফ,ই,ও মানে হলো মেইড ফর ইচ আদার!!!” কে বলেছে!!! ওদের আমি এক বোতল শ্যাম্পেন গিফট করবো”

বলে রায়হান দাড়ালো না, সত্যি সত্যি শ্যাম্পেন আনার জন্য চলে গেলো। পুরা পাগল এই লোক টা!

নীলার হঠাৎ নির্ঝরের কথা খুব মনে পড়ছে। ও কোথায় আছে!

রুমে ফিরে রায়হান বল্লো, “তোমার জন্য একটা গিফট আছে!”

ম্যাজিশিয়ানের মতো এক গুচ্ছ পিঙ্ক রোজ আর একটা চমৎকার আংটি বের করে নীলার সামনে হাটু গেড়ে বসলো। “নীলা প্রচন্ড ভালোবাসায় যে দম বন্ধ হয়ে যায়, এটা কখনো বুঝি নাই, আজ বুঝছি। খারাপ অবস্থা!”

আহা রে! কী মায়া ওর মুখে। নীলা জড়িয়ে ধরলো রায়হান কে। গাড় কন্ঠে বল্লো, “আমি ও তোমাকে ভালোবাসি। কখনো তোমাকে ঠকাবো না, কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবো না, তুমি ও যেও না”

ভালোবাসা ঘিরে ফেল্লো নব দম্পতির ঘর টা। নীলা বার বার বলছে, সৃষ্টিকর্তা! আমাকে আর কষ্ট দিও না, প্লিজ আর কষ্ট দিও না”

—-

নির্ঝর পড়ে আছে। শক্তিহীন, প্রানশূন্য একটা শরীর। নির্ঝর বোন কে বলছে, “আমার বন্ধু নীলা আসবে। ও আসলে আমাকে ডেকে দিস আপা।”

দুপুরে বাবা কে বল্লো, “বাবা, আমার বাচতে বড়ো ইচ্ছা করে, আমার ব্যাথা টা ভালো করে দাও বাবা।

বাবা চিৎকার করে কাদছে! কেন তার এমন সোনার ছেলের সাথে এতো বড় অবিচার হলো!!! তার ছেলে এই পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো ছেলে। শুধু শুধু ছেলে টা কে অপদার্থ বলে বকা দিতো। আজ বার বার আল্লাহর কাছে বলছে, “ইয়া পরওয়ারদিগার! আমার ছেলের জান টা ভিক্ষা চাই, আমার টা নিয়ে নাও”

নির্ঝরের বোন ভাইয়ের হাত টা ধরে বসে আছে। বার বার কান্না লুকানোর ব্যার্থ চেষ্টা করছে।

“আপা রে নীলা আসে নাই?”

“আসবে রে পাগল! আমার এতো সুন্দর রাজপুত্র ভাই টার কাছে নীলা না এসে পারে!”

“আপা, জানালা টা খুলে দিবি! আলো ধরবো”

ছোট বেলার দুই ভাই বোন আলো ধরা ধরি খেলা খেলতো। বোন জানালা টা খুলে দিলো। নির্ঝর বাচ্চা দের মতো হাত বাড়িয়ে আলো ধরছে।

নীলা র ভালোবাসা জানালা গলে যেনো নির্ঝরের শরীরে চুয়ে চুয়ে পড়ছে। নির্ঝরের মুখটা হাসি তে ভরা।

যে আলোয় ভেসে এক নতুন জীবন রচনা করছে নীলা আর রায়হান। সে একই আলো তে নির্ঝর নিজেকে শুদ্ধ-শূচি করছে আর ভেঙে যাচ্ছে।

সেই পাজর ভাঙ্গার শব্দ কি নীলা শুনতে পাচ্ছে?

সত্যিকারের ভালোবাসা বড়োই অদ্ভুদ। সবাই কে সুন্দর করে দেয়। সবাইকে।

(c) Sabbir Emon February 2018

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1168 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com