পাচারকৃত অর্থ ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায় টিআইবি

নভেম্বর ২১, ২০১৭ ১২:৩৬ অপরাহ্ণ

‘প্যারাডাইস পেপারস’ তালিকায় বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা ও অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্যারাডাইস পেপারসে বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), দুদক, এনবিআর এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পাচারকৃত টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে।

পাশাপাশি এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে বলেও দাবি করেন টিআইবি পরিচালক।

তিনি বলেন, ইতিপূর্বে পানামা পেপারস’র তালিকায় বাংলাদেশের কিছু ব্যক্তির নাম প্রকাশিত হলেও, সে ব্যাপারেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় টিআইবি হতাশা ব্যক্ত করছে।

ড. জামান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিদ্যমান আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে দুর্নীতি-সহায়ক দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে মূলত কর ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যেই দেশের বাইরে নামে-বেনামে ব্যাপক অর্থ পাচার করা হচ্ছে, জাতীয় অর্থনীতিতে যার প্রভাব গগনচুম্বী।

তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব এরূপ অর্থ পাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া এবং পরিচয় ও অবস্থান নির্বিশেষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের সম্মুখীন করা।

টিআইব প্রধান বলেন, অ্যাপেলবির বা মোসাক ফনসেকার মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থ পাচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং যে তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে- তা সার্বিক পরিস্থিতির একাংশ মাত্র হতে পারে।

এই অশুভ চক্রের সঙ্গে বিশ্বের বহু নামিদামি ব্যাংক ও অ্যাকাউন্টিং কোম্পানিসহ অসংখ্য মধ্যস্থতাকারী জড়িত রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে একদিকে দেশীয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমন্বয় ও অন্যদিকে জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্যারাডাইস ও পানামা পেপারসে প্রকাশিত তথ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ও নামিদামি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা আরও একবার প্রমাণ করল, দুর্নীতি একটি বৈশ্বিক সমস্যা- যা থেকে কোনো দেশই মুক্ত নয়।

ড. জামান বলেন, টিআইবি মনে করে পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনা ও সংশ্লিষ্টদের বিচারের মুখোমুখি করা আপাত দৃষ্টিতে জটিল মনে হলেও- তা অসম্ভব নয়।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সদিচ্ছা ও সক্রিয় উদ্যোগেই পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1203 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com