নো বিসিএস, নো ক্যাডার

ডিসেম্বর ৪, ২০১৭ ২:৪১ অপরাহ্ণ

:: আমার প্রিয় ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকবৃন্দ, বড় ভাই-ছোট ভাই, বন্ধু-স্বজন ও শুভাকাংখী; আপনাদের মতামত জানতে চাই।
আপনারা নিশ্চয় অবগত আছেন বর্তমান সরকার পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠির জন্য সমান শিক্ষা সুযোগ ও শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের কথা বিবেচনা করে যেসব উপজেলায় সরকারি কলেজ নেই, সেখানে একটি কলেজকে জাতীয়কারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যেই ২৮৩ টি কলেজকে জাতীয়করণের তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগতম জানাই এবং এসব কলেজের জনবল সরকারীকরণ হবে-সেখানেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। উপরন্তু তারা যদি সরকারের কাছ থেকে বাড়তি কোনো সুবিধাও পায় তাতেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারি কলেজ সমূহের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের অফিসারগণ ঐসব জাতীয়করণ কলেজ সমূহের শিক্ষকদেরকে শিক্ষা ক্যাডারের অন্তর্ভূক্তিতে আপত্তি জানিয়ে আসছে। কারণ তারা বিপিএসসি-র বিসিএস পরীক্ষায় পাস করেনি, কেউ পরীক্ষাই দেয়নি, কেউ আবেদনই করতে পারেনি। বিবিএস পাস করেও পদের স্বল্পতার কারণে যোগ্যরা যেখানে প্রাইমারীতে নন-ক্যাডার হিসাবে যোগদান করতে বাধ্য হচ্ছে, সেখানে সরকারীকরণের সুযোগ পেয়ে এখন বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা নিজেদেরকে ক্যাডার মর্যাদা দেওয়ার দাবী করছে, সরকারকে ইলেকশনের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহারের অপ্রয়াস চালাচ্ছে। সরকাকারীকরণের কারণে তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার কথা, কিন্তু তারা তা না করে ক্যাডার মর্যাদা দাবী করছে, এক ধরণের বিশৃংখলা তৈরীর মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিয়ে বিসিএস ছাড়াই, ক্যাডার হতে চাচ্ছে। কিন্তু বিসিএস পাস ব্যতীত কাউকে ক্যাডার করার সুযোগ কি আছে? রাষ্ট্রের আইন, বিধান, বিপিএসসি’র মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান-এসব কি কারোর দাবীর কাছে মূল্যহীন হয়ে যাবে? যাওয়া উচিত? আমাদের যেসব শিক্ষার্থীরা এখন বিসিএস এর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা জানে এটা কতটা অধ্যাবসায়ের ব্যাপার। সকল যোগ্যতা থাকার পরও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও এনএসআইয়ের তদন্তের পরই কেবল কেউ এই ক্যাডারের জন্য সুপারিশ পেতে পারে। অন্যদিকে বেসরকারি কলেজের নিয়োগ নিয়ে কিছু বলার চাইতে আপনাদের অভিজ্ঞতা জানতে চাই, কিভাবে সেখানে, কোন বিবেচনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এমতবস্থায় বেসরকারি কলেজেরে ১৭/১৮ হাজার শিক্ষককে ক্যাডার মর্যাদা দিতে হবে, কেন? শিক্ষা ক্যাডারকে ধ্বংস করার এই দাবী কিভাবে তারা করতে পারেন? পিএসসি আর বেসরকারি নিয়োগের মধ্যে পার্থক্য থাকতে হবে। । কেউ জীবনের সকল আনন্দ উপভোগকে বিসর্জন দিয়ে লেখা পড়া করে বিসিএস পাস করবে, আর কেউ কেউ রাজনীতি, সংসার, ব্যবসা বাণিজ্য, আড্ডা, মস্করা-এসব করে কোনো মতে বেসরকারী কলেজের খাতায় নাম লিখিয়েই রাতারাতি বিসিএস ক্যাডার হয়ে যাবে -এটা কি ন্যায় সঙ্গত, ন্যায্য? ঐ শিক্ষকদের কেউ কি বাংলাদেশের প্রথম বা দ্বিতীয় শ্রেণীর কোনো সরকারি চাকুরীতে পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েও ছেড়ে এসেছে? তারা কি প্রাইমারীর চাকুরীর পরীক্ষাতেও পাস করেছে? তাহলে ক্যাডার মর্যাদা চাওয়াটা কতটা নৈতিক? আজ যখন প্রয়োজন, তখন আপনাদের কাছ থেকে ন্যায়, বিবেচনা, মতামত চাই, নৈতিক সমর্থন চাই। কিংবা আমরা যদি কোনো অন্যায্যতায় থাকি, অনৈতিকতায় থাকি, সেখানেও শুদ্ধতা আনতে চাই আপনাদের সুপরামর্শে। দেশের সচেতন জনগোষ্ঠির অংশ হিসাবে আপনার মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমাদের কাছে। আগামী দিনে শিক্ষাকে বাচাঁতে, ক্যাডার মর্যাদাকে রক্ষা করতে, শিক্ষার ব্যাপক প্রসারে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আজকের আপনার মতামত আগামীর বাংলাদেশকে বহুভাবে উপকৃত করবে, আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মকে উপকৃত করবে। আপনার কথা জানতে চাই….।
আমরা বলছি ‘‘নো বিসিএস, নো ক্যাডার।’’

লেখক : সীমান্ত সাহজাহান, সহযোগী অধ্যাপক, বেগম রোকেয়া কলেজ, রংপুর ।

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1604 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com