নৃশংসতার শিকার শিশু

জানুয়ারি ২৮, ২০১৮ ৪:৪৮ পূর্বাহ্ণ

রোকসানা আক্তার। ফুটফুটে সুন্দর একটি শিশু। তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। কতইবা বয়স হবে। বাবা-মায়ের খুব আদরের সন্তান। প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় সে।

ছুটির পর আবার বাসায় ফিরবে, এমনটাই হবার কথা। কিন্তু সে ফিরে আসেনি। বরং অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ফোন আসে পরিবারের কাছে। ৬ হাজার টাকা চাওয়া হয় রোকসানার মুক্তিপণ বাবদ। তারা রাজিও হন টাকা দিতে। মেয়েকে ফেরত পেয়েছেন ঠিকই, জীবিত নয়, মৃত। শিশুটিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর হাত-পা বেঁধে, মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে বস্তায় ভরে লাশটি ব্রিজের ঢালে ফেলে দেয়া হয়। কতটা অমানবিক আর হিংস্র হলে এমন জঘন্য কাজ করা সম্ভব! তবে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সক্রীয় হলে হয়তো শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা যেত। কারণ অপহরণকারীদের মুক্তিপণের বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পরও তারা তেমন কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এমন অভিযোগ নিহতের পরিবারের। তবে পুলিশের দাবি তারা চেষ্টা করেছেন। গতকাল বিকালে নিহতের বাবা আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার সকালে প্রথমে সোনারগাঁও থানা পুলিশ বস্তাবন্দি অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। লোকমুখে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে আশরাফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী কারি না বেগম ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে। সেখানে গিয়ে তারা লাশটি তাদের মেয়ে রোকসানার বলে শনাক্ত করেন। তিন বোন এক ভাইয়ের মধ্যে রোকসানা সবার ছোট ছিল। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ছাত্রী ছিল সে।
পারিবারিক তথ্য মতে, রোকসানা আক্তার (১০) ২৩ জানুয়ারি স্কুলের উদ্দেশ্যে গোদনাইল আরামবাগের বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে সে বাসায় ফিরে না আসায় শুরু হয় চারদিকে খোঁজাখুঁজি। এলাকায় মাইকংও করা হয়। তবে তার স্কুল ব্যাগটি বাসার পাশে পাওয়ায় যায়। এক পর্যায়ে ২৪ জানুয়ারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করেন রোকসানার বাবা আশরাফুল ইসলাম। ওইদিন রাতে আশরাফুলের কাছে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন আসে। ওইপ্রান্ত থেকে বলা হয় আপনার মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে। তার মুক্তিপন বাবদ ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। এবং টাকাটা নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এসে দিয়ে যেতে হবে। আশরাফুল ইসলাম জানান, আমি টাকা দিতে রাজি হই। এবং বলি আমার মেয়েকে ফেরত দিলে তবেই টাকা দিবো। এ কথা বলার পর ওই ব্যক্তি বলে তাহলে মেয়ের লাশ পাবেন।
এদিকে শুক্রবার সকালে সোনারগাঁও উপজেলার মোগড়াপাড়া কাইকারটেক ব্রিজের পূর্বপাশ্বে বস্তাবন্দি একটি মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত রোকসানার মা কারিনা বেগম জানান, তাদের সঙ্গে কারো কোন শত্রুতা ছিল না যে রোকসানাকে হত্যা করবে। তিনি বলেন, আমাদের কাছে ২৪ জানুয়ারী বিকেলে ফোন করে ৬ হাজার টাকা চেয়েছিল দুর্বৃত্তরা। আমি বলেছিলাম টাকা রেডি আছে। যখন চাইবেন তখনই দিব। এও বলেছিলাম প্রয়োজনে আরো বেশি টাকা দিব। তবুও আমার মেয়েকে ফেরত দিতে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। কিন্তু মেয়েকে আর জীবিত পাইনি।
নিহত রোকসানার মামাতো ভাই কাদির হোসেন জানান, ২৪ তারিখ জিডি করার পর রাতেই আশরাফুল ইসলামের মোবাইলে ফোন আসে এবং মুক্তিপণের জন্য ৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজিও হয়েছিল পরিবার। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও তারা তেমন কোন তৎপরতা দেখায়নি। মোবাইল ট্র্যাকিং করে পুলিশ তৎপর হলে হয়তো রোকসানাকে জীবিত উদ্ধার করা যেত।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার দাবী করেন, জিডির পর তারা কললিস্ট ধরে চেষ্টা করেছেন। তাদের কোন গাফিলতি ছিল না।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) জব্বার জানান, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কাইকারটেক ব্রিজের পূর্বপাশে সকালে (শুক্রবার) এলাকাবাসী বস্তাবন্দি একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ লাগানো এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই আবেদ জানান, মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হয়েছে

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1131 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com