নারীদের পথ চলা সুগম হোক

অক্টোবর ২১, ২০১৭ ২:২১ অপরাহ্ণ

২০১৩ সালে সুযোগ হয়েছিল জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করার। ব্যান এফপি ইউ-১ (বাংলাদেশ ফরম পুলিশ ইফনিট-১), রোটেশন ৭ এ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (DRC) রাজধানী কিনসাসায় কাজ করার সুযোগ আসে। সেটি ছিল একটি স্বপ্নপূরণ। দ্বিতীয় স্বপ্নপূরণ হলো ইতালিতে COESPU (Center of excellence for Stability Police Unit-1) Gender Protection বিষয়ে প্রশিক্ষণে যাবার সুযোগ পেয়ে। আমাদের দেশে জেন্ডার ইস্যু নিয়ে অনেকে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরে ‘বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক’ (BPWN) জেন্ডার ইস্যু নিয়ে কাজ করছে, কর্মক্ষেত্রে নারী পুলিশের সমস্যা নিশ্চিতকরণ, সেগুলো সমাধানের পথ খুঁজে বের করা, নারীদের পথচলা সুগম করা, নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং নানা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করাই মূল লক্ষ্য।

COESPU-তে Gender Protection-এর সঙ্গে Sexual Explotation and abuse এই বিষয়টি সংযুক্ত ছিল। প্রশিক্ষণে পরিষ্কারভাবে বুঝানো হয়েছে নারী ও পুরুষের বিভক্তি শুধু প্রাকৃতিক কাঠামোতে নয়। বরং জেন্ডার ইস্যুটি নারী ও পুরুষের সামাজিক কাঠামোকেও বিশ্লেষণ করে। কোনো একটি সমাজ কতটুকু জেন্ডার ব্যালেন্সড বিভিন্ন সামাজিক ফ্যাক্টর দিয়ে বোঝা যায়। জেন্ডার ইস্যুটির সঙ্গে যখন Sexual Exploytation and abuse এর বিষয়টি সংযুক্ত করে দেখানো হয় এক এক সমাজে নারী এবং পুরুষের নির্যাতনের ধরন ভিন্ন রকম। এশিয়ার দেশগুলোতে নারীরা তুলনামূলক রক্ষণশীল। তারা পারিবারিক কাঠামোতেই বৈষম্যের শিকার। এখানে পুত্রসন্তানের গুরুত্ব বেশি। পুত্রসন্তানের জন্ম হলে সবাই খুশি হয়, যতটা কন্যাসন্তান জন্ম নিলে হয় না। পুত্রসন্তানের পড়াশুনা থেকে শুরু করে তার খেলাধুলা, খাবার-দাবার, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুকে কন্যাসন্তানের চেয়ে অধিকতর গুরুত্ব দেয়া হয়। রক্ষণশীল সমাজে নারীরা পর্দার আড়াল থেকে বাইরে বের হয় কম, তাই বাইরের পরিবেশ থেকে নারীদের নির্যাতনের যে হার তার থেকে পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের দ্বারা নির্যাতিত হবার ঘটনা তুলনামূলক বেশি।

অন্যদিকে আফ্রিকান দেশগুলোতে নারী ও পুরুষের বৈষম্য আছে। কিন্তু নারীরা কিছ ুকিছু ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করে। প্রশিক্ষণকালে বিভিন্ন আলোচনায় দেখা যায় তাদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার আছে। বিয়ে করবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিতে পারে, সম্পত্তিতে অধিকার আছে।

ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে ১৮ বছরের পর থেকে ছেলে-মেয়ে সবাই পূর্ণ-স্বাধীনতা ভোগ করে। শুধু তাই নয়, শিশুদের বোঝার ক্ষমতা হবার পর থেকে তারা স্বাধীন। বাবা-মা অভিভাবক হিসেবে কোনো প্রকার শাসন তাদের করতে পারে না। অভিভাবকদের আশ্রয়ে তারা থাকে তবে তাদের সকল দায়-দায়িত্ব সরকারের। ইতালিতে দেখা গেছে সোশ্যাল সেফটিনেট-এর কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান সরকারের পক্ষ থেকে সকল রকম সাপোর্ট পায়। তেমনি তার মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সে পরিবারের বাইরে থাকতে পারে মেয়রের কাছে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা জানাতে পারে। অভিযোগ প্রমাণ হলে কর্তৃপক্ষ অভিভাবককে শাস্তি প্রদান করে থাকেন।

ইউরোপিয়ান সমাজে জেন্ডার বৈষম্য অনেক কম। নারী-পুরুষের প্রতিযোগিতা আছে সমাজে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে। এটি নির্যাতনের পথকে সংকুচিত করে। বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্য যে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেন্ডার ইস্যু নিয়ে কাজ করেছেন তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু সেটি পর্যাপ্ত নয়। আমাদের টেকনিক্যাল কিছু বিষয়ে বিশেষায়িত হয়েছে যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এতে করে সর্বোত্তম সেবা প্রদান করা সম্ভব। প্রশিক্ষণকালে বিভিন্ন অনুশীলনে উঠে এসেছে জেন্ডার ইস্যুগুলোতে অধিক সংখ্যক নারীকে সংযুক্ত করলে ভালো প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।

লেখক :জয়িতা শিল্পী

এডিশনাল এসপি, ময়মনসিংহ

 
সংবাদটি পড়া হয়েছে 1084 বার
 
 
 
 
বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও তারেক রহমান
 
 
 
 

সব মেনু এক সাথে

 
 

পূর্বের সংবাদ

 
 

অনন্য অনলাইন পত্রিকা

 
 
 

 
Plugin by:aAM
Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com